এক নারী চিকিৎসকের হিজাব টেনে নামিয়ে তীব্র বিতর্কে নিজের নাম জড়িয়েছেন ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলগুলো একে নারীর মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিহার সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১২০০-এর বেশি নবনিযুক্ত চিকিৎসকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় হিজাব পরিহিত এক নারী চিকিৎসক নিয়োগপত্র নিতে এগিয়ে গেলে ৭৫ বছর বয়সী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার হঠাৎ তার হিজাব টেনে নিচে নামান। ঘটনাটির ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, মুখ্যমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী তাকে থামানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে সেখানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্যসচিব দীপক কুমার ও রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পান্ডেকে হাসতে দেখা যায়। এ দৃশ্য নিয়েও আলাদা করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নীতীশ কুমার নিজেই একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে ১২৮৩ জন আয়ুষ চিকিৎসকের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিয়েছেন। তবে হিজাব সংক্রান্ত ঘটনার কোনও উল্লেখ তিনি করেননি।
এই ঘটনার পর বিরোধী দলগুলো নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সমালোচনায় নামে। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দল সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) এক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছে।
দলটির দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে যদি ন্যূনতম নীতিবোধ ও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে, তবে তার অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এমন আচরণ করলে রাজ্যে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে।
সুলতানা দিনা/