যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আলোচিত ‘লিফটকাণ্ড’ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল করিমের করা রিট পিটিশনে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসাইন এই নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রিটের সার্টিফাইড কপি পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী মোস্তফা গোলাম কিবরিয়া।
এর আগে গত বছর মে মাসে যবিপ্রবিতে ১৪টি লিফট স্থাপন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সাড়ে ১০ কোটি টাকার এই কাজে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দরপত্রের একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করে লিফটের মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম ছিল, ‘মেশিনরুম টাইপ’-এর পরিবর্তে ‘মেশিনরুম লেস টাইপ’ লিফট সরবরাহ। দরপত্র অনুযায়ী সরবরাহ করা লিফট তিনটি ক্যাটাগরিতে ‘নন কমপ্লাই’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয় লিফট বুঝে নেওয়া কমিটি।
মামলার বাদী ঝিকরগাছা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, যবিপ্রবিতে ১৪টি লিফট স্থাপন নিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। দুর্নীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং লিফটের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট তার রিট পিটিশনের তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।
বাদীর আইনজীবী মোস্তফা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘যবিপ্রবিতে ‘মেশিনরুম টাইপ’ লিফট স্থাপনের দরপত্র আহ্বান করা হলেও সেখানে ‘মেশিনরুম লেস টাইপ’ লিফট কেনা হয়েছে। এখানে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকায় হাইকোর্ট রিটটি আমলে নিয়েছেন। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসাইন গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত আদেশ দিয়েছেন।’
এ আদেশে দুদককে সুষ্ঠু তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ইউজিসির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
যবিপ্রবির লিফট বুঝে নেওয়া কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গালিব বলেন, ‘লিফট স্থাপন নিয়ে হাইকোর্টে রিটের বিষয়টি শুনেছি। তবে রুলের কোনো কপি এখনো পায়নি। কপি পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র এখনো হাতে পায়নি।’