ঢাকা ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

শিকলে বেঁধে ২৫ দিন ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪ জন রিমান্ডে

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৬ পিএম
শিকলে বেঁধে ২৫ দিন ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪ জন রিমান্ডে
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় শিকলে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে টানা ২৫ দিন ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করার অপরাধে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এ চার আসামিকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত এই আদেশ দেন। 

গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন সান (২৬), হিমেল (২৭), রকি (২৯) ও সালমা ওরফে ঝুমুর (২৮)।

পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাসূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক ফারুকুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আর আসামিপক্ষ এর বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও জামিনের বিরোধিতা করেন। সব পক্ষের শুনানি নিয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আদালতে আসামি সান ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে আইনজীবীর মাধ্যমে দাবি করেন। আইনজীবী বলেন, আসামির সঙ্গে বাদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করতে না চাওয়ার কারণে এই মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বিচারক বলেন, ‘যত বড় ব্যক্তি হোক না কেন, জড়িতদের নামগুলো যেন অভিযোগপত্রে আসে।’

এর আগে সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক। তিনি জানান, মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের একটি ভবন থেকে ৯৯৯-এর কলে শিকলবন্দি অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণী জানান, তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ এবং পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করায় ওই তরুণী তার বড় বোনের বাসায় থাকতেন। সে সময় ভগ্নিপতির মাধ্যমে মাসুদ নামের এক ব্যারিস্টারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ব্যারিস্টার মাসুদ বেশির ভাগ সময় বিদেশে অবস্থান করতেন এবং দেশে এলে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর সঙ্গে থাকতেন। পরে মাসুদের মাধ্যমে আরেক প্রবাসীর স্ত্রী সালমা ওরফে ঝুমুরের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে সালমার সঙ্গে নবীনগরের ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠেন ওই তরুণী। তাদের সব খরচ বহন করতেন মাসুদ।

উপপুলিশ কমিশনার আরও জানান, আসামি সালমার মাধ্যমে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিচয় হয় আসামি হিমেল ও সানের সঙ্গে। একপর্যায়ে সানের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সুবাদে হিমেল ও সান ভিকটিমের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। এ বিষয়টি ব্যারিস্টার মাসুদকে সালমা জানিয়ে দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ভুক্তভোগী তরুণীকে শিক্ষা দিতে তার পর্নো ভিডিও ধারণ করতে বলেন সালমাকে। মাসুদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী সালমা ভুক্তভোগী তরুণীকে আটক এবং পর্নো ভিডিও ধারণ করার বিষয়টি হিমেল, সান ও রকিকে জানান। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই তরুণীর বাসায় আসামি সান তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের ঘটনাটি সালমা রুমে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সান একাধিকবার ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ মার্চ আসামিরা ভুক্তভোগী তরুণীর হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেন এবং সেদিন হিমেল তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর সালমা বাইরে গিয়ে শিকল ও তালা কিনে এনে তরুণীর হাতে ও পায়ে লাগিয়ে রুমের দরজা ও বাথরুমের দরজার সঙ্গে আটকে রাখেন। শুধু খাওয়ার সময় তরুণীর হাতের শিকল খুলে দিতেন তারা। এরপর গত ৭ মার্চ রাতে আসামি রকি ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। আর এর পর থেকে ব্যারিস্টার মাসুদের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামি সান, হিমেল, রকি ও সালমা বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী নারীকে নির্যাতন করে তাদের দেখানো পর্নো ভিডিওর মতো করে আলাদা আলাদা ভিডিও ধারণ করেন। প্রতিদিনের ধারণ করা ভিডিও আসামি সালমা ব্যারিস্টার মাসুদের কাছে পাঠাতেন। আসামিরা ওই তরুণীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান ও অমানুষিক আচরণ করেন।

তিনি আরও জানান, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় সালমা ভুক্তভোগী তরুণীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাইরে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তার ঘুম ভেঙে গেলে বাসায় কেউ নেই বুঝতে পেরে তিনি জানালা দিয়ে চিৎকার দেন। তার চিৎকার শুনে এক পথচারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে সংবাদ দেন। পরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তাকে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। বর্তমানে ওই তরুণী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন।

দুর্নীতির মামলায় খালাস পেলেন ভূমির কুতুব

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৮:২৪ পিএম
দুর্নীতির মামলায় খালাস পেলেন ভূমির কুতুব
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদ

ভুয়া আমমোক্তারনামা দেখিয়ে ১০ কাঠার প্লট শ্বশুরকে পাইয়ে দেওয়ার মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদ। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে শুনানি শেষে বুধবার (২৯ মে) তাকে খালাস দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর একক বেঞ্চ। 

শুনানিতে কুতুব উদ্দিনের বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। এ মামলায় কুতুব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছিল দুদক। বিচার শেষে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কুতুব উদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন।

এমপি আনার হত্যা মামলার বিচার হবে দুই দেশেই

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
এমপি আনার হত্যা মামলার বিচার হবে দুই দেশেই
নিহত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে ভারতে হত্যার ঘটনায় দুই দেশেই তদন্ত চলছে। ভারতে হত্যা ও বাংলাদেশে অপহরণ মামলায় উভয় দেশেই গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৫ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশে তিনজন এবং ভারতে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ভারতে এমপি আনার নিখোঁজের অভিযোগ গড়িয়েছে হত্যা মামলায়। তেমনি বাংলাদেশে অপহরণ মামলাটি গড়াবে হত্যা মামলায়। ফলে এমপি আনার হত্যা মামলায় উভয় দেশেই আলাদাভাবে বিচার হবে।

একইভাবে বিচারে দুই রকম সাজা বা ভিন্নতর রায় হলেও কোনো অসঙ্গতি হবে না। কারণ দুই দেশের আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার বিচারে রায় হয়ে থাকে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেছেন, ‘মূল অপরাধটি হচ্ছে হত্যা। এমপি আনার যখন ভারতে নিখোঁজ হয়েছিল, সেই সময় ঘটনাস্থল কলকাতায় নিখোঁজের বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পরে যখন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে এসেছে। তখন সেটা হত্যা মামলায় গড়িয়েছে। তেমনিভাবে এমপি আনারের মেয়ে বাংলাদেশে একটি অপহরণ মামলা করেছে। যেহেতু এটা প্রতীয়মান হয়েছে যে ভারতে গিয়ে এমপি আনার হত্যার শিকার হয়েছেন, ফলে অপহরণ মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। এক্ষেত্রে উভয় দেশে হত্যা মামলার বিচার হতে কোনো বাধা নেই। একইভাবে বিচারে দুই রকম সাজা বা ভিন্নতর রায় হলেও কোনো অসঙ্গতি হবে না।’

সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী তাপস কান্তি বল জানান, যেকোনো ধরনের অপরাধের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহায়তার লক্ষ্যে একটি চুক্তি রয়েছে। চুক্তির অধীনে দুই দেশই এই হত্যা মামলার বিচার করতে পারে। 

এ ছাড়া বাংলাদেশে ২০১২ সালে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল এসিসটেন্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই আইনের অধীনে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কনভেনশনও আছে। এই কনভেনশনের অধীনে ২০১৩ সালে দুই দেশ একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ওই চুক্তির ফলে ভারতের কোনো নাগরিক যদি বাংলাদেশে এসে কোনো অপরাধ করে বা শিকার হয় সেক্ষেত্রে ভারতেও এর বিচার হতে পারে। সেক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের শারীরিক বা দালিলিক প্রমাণ, অভিযোগপত্র বা কোনো সাক্ষ্য প্রয়োজন হলে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করতে পারবে।

যদি বাংলাদেশের নাগরিকরা ভারতে কোনো অপরাধ করে বা শিকার হয় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ মামলা করতে পারবে। এক্ষেত্রে যেসব দালিলিক বা বস্তুগত প্রমাণ আছে তা ভারতের কাছে চাইতে পারবে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী মুখ্য ভূমিকা পালন করবে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশে অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম
দেশে অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের কর্মরত কতজন বৈধ ও অবৈধ শ্রমিক আছে, তার তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। এই তালিকা প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। শুনানিতে রিটের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। 

বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে কতজন বৈধ ও অবৈধ শ্রমিক কাজ করছেন তার তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে এই রিট দায়ের করেন অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন রিগ্যান। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে ১০ লাখের বেশি অবৈধ বিদেশি শ্রমিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত। এর ফলে এ দেশের নাগরিকরা যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ‘অবৈধ বিদেশি খেদাও আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন এসব তথ্য দিয়েছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু গত দেড় দশকে বাংলাদেশে বেকার সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। দেশে বর্তমানে বেকারত্বের হার ১২ শতাংশ, যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ। এ দেশের নাগরিক কর্মসংস্থান খুঁজতে গিয়ে বঙ্গোপসাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুবরণ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে কর্মরত অবৈধ বিদেশিরা ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এ দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। অবৈধ হওয়ায় তারা ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রদান না করে টাকা পাচার করছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে ধ্বংস হচ্ছে আর মানবাধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। তার পরও আমাদের রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।’

 

 

বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন ১৯ জুন

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ০৯:২২ পিএম
বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন ১৯ জুন
গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী ১৯ জুন নতুন দিন ধার্য করে মঙ্গলবার (২৮ মে) আদালত এ নির্দেশ দেন। 

আদালতে দায়িত্বরত তুরাগ থানার (নারী ও শিশু) নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্যই মঙ্গলবার ধার্য ছিল। তবে পুলিশ এদিন প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে গত ২৯ মার্চ রাতে পুলিশ রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় বড় মনিরের ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণীকে উদ্ধার করে। তরুণী অভিযোগ করেন, তাকে জোর করে ওই বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এই অভিযোগে তুরাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তিনি। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী প্রবাসী। তিনি বাবার সঙ্গে দক্ষিণখান এলাকায় বসবাস করতেন। দুই মাস আগে বড় মনিরের সঙ্গে তার ফেসবুকে যোগাযোগ হয়। পরিচয়ের সুবাদে বড় মনির তাকে ‘ছোট বোন’ বলে ডাকতেন। এরপর থেকে বড় মনির ফোনে তার সঙ্গে কথা বলতেন। গত ২৮ মার্চ রাত ১০টায় উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় এসে ভিকটিমকে ফোন করে বড় মনির বলেন, ‘আপু আমি তো ঢাকায় এসেছি? তুমি কি আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবা? আমি সকালে টাঙ্গাইল চলে যাব।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে তরুণী মাসকট প্লাজার কাছে বড় মনিরের সঙ্গে দেখা করেন। বড় মনির তার গাড়িতে তরুণীকে ওঠান ও পরে বাসার সামনে নামিয়ে দেন। পরদিন বিকেলে ওই তরুণীকে উত্তরা জমজম টাওয়ারের সামনে থাকতে বলেন। সেই অনুযায়ী তরুণী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জমজম টাওয়ারের সামনে আসেন। সেখান থেকে তিনি ও বড় মনির রিকশায় তুরাগ থানা এলাকার প্রিয়াংকা সিটি নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় যান। সেখানে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বড় মনির।

প্রসঙ্গত, গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের বড় ভাই। এর আগেও এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বছর টাঙ্গাইল সদর থানায় বড় মনিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল। 

জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ০৬:১০ পিএম
জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন
ছবি : খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে জমিজমাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে সাইদুল হত্যা মামলায় তিন ভাই ও বাবা-ছেলেসহ ১০ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম এ রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সেরেস্তা সহকারী শাকিল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কালাই উপজেলার আওড়া কালীমোহর গ্রামের মৃত তফিজ উদ্দীনের তিন ছেলে ছেলে জয়নাল মণ্ডল, মোফাজ্জল হোসেন ও মোজাম্মেল হক; মোফাজ্জলের ছেলে মোস্তফা ও মোসফর আলী; মোজাম্মেলের ছেলে মাহফুজার ও মাসুদ, বাদশার ছেলে মামুনুর রশীদ, মৃত লসির উদ্দীনের ছেলে সামসুদ্দিন এবং আলমগীরের ছেলে বেলাল। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ জুলাই বিকেলে কালাই উপজেলার আওড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের পৈতৃক দখলীয় সম্পত্তিতে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। জমি দখল করতে তারা সেই জমির মাটি কেটে তাদের অন্য জমি ভরাট করছিল। তখন সামাদের দুই ছেলে সাইদুল ও শরীফুল তাদের বাধা দিলে আসামিরা সাইদুলের মাথায় কোদালের আঘাতসহ তাদের দুজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালাই হাসপাতালে ভর্তি করান। এর মধ্যে সাইদুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৪ জুলাই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইদুল মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, তৎকালীন কালাই থানার ওসি (তদন্ত) বিশ্বজিত বর্মণ। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন।