ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

আপিলেও জামিন পেলেন না ডেসটিনির রফিকুল আমীন

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৪, ০৯:৪৪ পিএম
আপডেট: ২৭ মে ২০২৪, ০৯:৪৪ পিএম
আপিলেও জামিন পেলেন না ডেসটিনির রফিকুল আমীন
ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন

ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনকে জামিন দেননি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তার আবেদনের শুনানি ৬ মাসের জন্য মুলতবি করা হয়েছে। 

সোমবার (২৭ মে) আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৪ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

শুনানিতে রফিকুল আমীনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জরুল হক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে অর্থ পাচারের মামলায় রফিকুল আমীনের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন রফিকুল আমীন। সেটি আংশিক শুনানি নিয়ে ৬ মাসের জন্য মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। ৬ মাস পর আবার আবেদনটি কার্য‌তালিকায় এলে শুনানি হবে।’

২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় রফিকুল আমীনসহ ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। দুই মামলায় মোট ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ট্রি প্ল্যান্টেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৪ মে রফিকুল আমীনসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। আসামিদের মধ্যে কারাগারে আছেন ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, এমডি রফিকুল আমীন ও পরিচালক কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম। জামিনে আছেন তিনজন। বাকিরা পলাতক। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশনের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাড়ে ১৭ লাখ বিনিয়োগকারী। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই টাকার মধ্যে এলসি (ঋণপত্র) হিসেবে ৫৬ কোটি ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৪০ টাকা এবং সরাসরি পাচার করেছে আরও ২ লাখ ৬ হাজার মার্কিন ডলার।

আজিজ ও তার ভাইদের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্তের অপেক্ষায় দুদক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
আজিজ ও তার ভাইদের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্তের অপেক্ষায় দুদক
আজিজ আহমেদ

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তার দুই ভাইয়ের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করতে পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে এখনো মাঠে কাজ করছে দুদকের নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট। ঈদের পর তাদেরও প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হতে পারে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করতে দুদককে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। আগামী ২৯ জুনের মধ্যে অনুসন্ধান শুরু না হলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে জানিয়েছেন নোটিশকারী আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। 

তিনি শনিবার (১৫ জুন) খবরের কাগজকে বলেন, ‘সাবেক সেনাপ্রধান ও তার দুই ভাইয়ের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করতে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ৯ জুন আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছে। এরপর ১১ জুন আরেকটি আবেদন করা হয়েছে। যেখানে গণমাধ্যমে গত ৫ মে প্রকাশিত ‘জেনারেল আজিজের তেলেসমাতি’ শিরোনামে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করতে দুদককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর পরও দুদক যদি অনুসন্ধান শুরু না করে, সে ক্ষেত্রে হাইকোর্টে রিট করা হবে। ঈদের ছুটি ও অবকাশ (ভ্যাকেশন) শেষে আগামী ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্ট খুলবে। ফলে ৩০ জুন কিংবা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের যে কোনো দিন এই রিট করা হবে।’ 

দুদকের একটি সূত্র জানায়, আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো যাচাই করেছে অভিযোগ যাচাই-বাছাই কমিটি (যাবাক)। যাবাকের সুপারিশে পাসপোর্ট ও এনআইডি জালিয়াতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী দুদক থেকে ইসি ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইসি ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর তদন্তও শুরু করে দিয়েছে। সেসব তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ ও তার দুই ভাইয়ের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দুদক। এছাড়া, দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের প্রতিবেদনে আজিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ বা দুদকের তফসিলভুক্ত কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর সেনাপ্রধান ছিলেন আজিজ আহমেদ। ২০১২ সাল থেকে চার বছর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেনাপ্রধান থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আল-জাজিরায় ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শিরোনামে দুর্নীতিসংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে অবসরের পর গত ২০ মে ‘তাৎপর্যপূর্ণ দুর্নীতিতে’ জড়িত থাকার অভিযোগে আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। 

আজিজ আহমেদের ভাই হারিছ দুটি এবং আরেক ভাই আনিস একটি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ তাদের সাজা মওকুফের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন আরেক ভাই জোসেফ। এ মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এই রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পান।

ধর্মান্তরিত করে বিয়ের নামে প্রতারণা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:১৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০৪:৪৫ পিএম
ধর্মান্তরিত করে বিয়ের নামে প্রতারণা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি : খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নারীকে ধর্মান্তরিত করার পর বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। 

অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের নাম নজরুল ইসলাম প্রধান। তিনি উপজেলা চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। 

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পঞ্চগড় আমলি আদালত ২-এ মামলা করেছেন ওই ভুক্তভোগী নারী। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই ভুক্তভোগী নারী খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তার স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসারও ছিল। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ হলে সুযোগ নেয় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার আশ্বাসে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান তিনি। একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে নিজের প্রেমের ফাঁদে ফেলেন এই চেয়ারম্যান। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করানো হয় ওই নারীকে। এরপর বিয়ে করে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা দেবীগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মে রাতে তাদের পারিবারিক কলহ হলে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন এবং বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি তোর বৈধ স্বামী নই। আমাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়নি। যেখানে নিয়ে গিয়েছিলাম সেটি কোনো কাজী অফিস ছিল না। সেটি ওমরা, হজ, এয়ার ট্রাভেলস এবং ভিসা প্রসেসিংয়ের অফিস ছিল। বিয়ের কোনো ডকুমেন্টস নেই।’ এই প্রতারণার কারণ জানতে চাওয়ায় ভুক্তভোগীকে মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। 

এ বিষয়ে ওই ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমাকে প্ররোচনা দিয়ে আগের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে নজরুল চেয়ারম্যান। পরে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে দিনাজপুরে নিয়ে যান। সেখানে আরাফাত নামে এক হুজুরের মাধ্যমে আমাদের বিয়ে হয়। এরপর থেকে দেবীগঞ্জে ভাড়া বাসায় আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকতে শুরু করি। তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে তার স্ত্রী হিসেবে গিয়েছি। এক সঙ্গে রাত যাপন করেছি। কিন্তু এখন আমাকে অস্বীকার করছে। ভাড়া বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি তার স্ত্রী হিসেবে থাকতে চাই। তার সঙ্গে ঘর-সংসার করতে চাই। ন্যায়বিচার পেতে আদালতে মামলা করেছি, এখন বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে আমাকে। আমার কিছু হলে নজরুল চেয়ারম্যান দায়ী থাকবে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। 

এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবির ওসি অথবা পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার একজনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন।

রনি মিয়াজী/অমিয়/

বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা জুলাইয়ে!

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ১২:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা জুলাইয়ে!
বেনজীর আহমেদ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে এসেছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা করতে বাধা নেই। তবে মামলা করতে আইনি বাধ্যবাধকতায় আরও একটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সেটি হচ্ছে বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করা। এই নোটিশের প্রক্রিয়া শেষে মামলা করবে দুদক। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান খবরের কাগজকে বলেছেন, ‘বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন দুদক চাইলে মামলা করতে পারে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একাধিক কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য যথেষ্ট এভিডেন্স (তথ্য-প্রমাণ) পাওয়া গেছে। 

দুদক কর্মকর্তারা খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, মামলার আইনি ভিত্তি শক্ত রাখার জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখনো সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করা বাকি আছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী ২৩ ও ২৪ জুন ধার্য রয়েছে। তারা হাজির হন কিংবা না হন, এর পরের ধাপেই তাদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ করা হবে। সে ক্ষেত্রে এ মাসের শেষ দিকে (২৪ জুনের পর) তারা দেশে না থাকলেও তাদের বাসার ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হবে। এই নোটিশের প্রক্রিয়া শেষ করতে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশের প্রক্রিয়া শেষ হতে অন্তত ১০ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কমিশন অনুমোদন দিলে মামলা দায়ের হবে। 

বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে গত ২১ এপ্রিল অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী অনুসন্ধানের জন্য নির্ধারিত ৪৫ কর্মদিবসের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৭ জুন। তবে এই সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ১৫ কর্মদিবস পাওয়া যাবে। ফলে অতিরিক্ত সময়সহ অনুসন্ধানকাজ শেষ করতে ২১ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিলের পর কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে মামলা করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে মামলা হতে পারে। 

বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে এখন পর্যন্ত ঢাকায় ১২টি ফ্ল্যাট, দেশের বিভিন্ন জেলায় ৬৯৭ বিঘা জমি, একাধিক মৎস্য ও গরুর খামার, রিসোর্ট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, বিও অ্যাকাউন্টসহ ৩৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সিটিজেন টেলিভিশনসহ ৫টি পূর্ণ মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৮টি ব্যবাসায়িক শেয়ার পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে এসব অর্থ-সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে। 

অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে বেনজীর আহমেদ গত ৪ মে সপরিবারে দেশ ছাড়েন। তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। 

হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদে স্থিতাবস্থা হাইকোর্টে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৩৩ পিএম
হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদে স্থিতাবস্থা হাইকোর্টে
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৩নং ওয়ার্ডভুক্ত বংশালের মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে বাসিন্দাদের উচ্ছেদপ্রক্রিয়ার ওপর ৩০ দিনের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা এলেও সেখানকার ২০০ পরিবার আতঙ্কে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। 

পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদপ্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ বিষয়ে পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ সময়ের মধ্যে হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের জন্য ফাঁকা জায়গার ব্যবস্থা করতে ডিএসসিসিকে বলা হয়েছে। জায়গার ব্যবস্থা হলে তাদের (হরিজন সম্প্রদায়) সেখানে চলে যেতে হবে। এরপর আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

মিরনজিল্লায় চারতলাবিশিষ্ট আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণ করতে চায় ডিএসসিসি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে ডিএসসিসির প্রায় ৩ দশমিক ২৭ একর জমি আছে। হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন প্রায় ৪০০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করেন। কলোনির এক পাশে ২৭ শতাংশ জমিতে আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণ করতে হলে সেখানকার কিছু বাসাবাড়ি ভেঙে দিতে হবে। আগে বিদ্যমান কাঁচাবাজারটি ১৭ শতাংশ জমিতে ছিল। বাকি জমি থেকে স্থাপনা সরাতে এই অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

গত মঙ্গলবার সকালে এই এলাকায় ডিএসসিসির ম্যাজিস্ট্রেট উচ্ছেদ অভিযানে যান। তবে এলাকাবাসী ও শিশুদের সম্মিলিত প্রতিবাদে সে দিন আর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারেননি তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরনজিল্লা হরিজন কলোনির মন্দিরে শিশুরা পোস্টার, ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি জারি রাখে।

ডিএসসিসির ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আউয়াল হোসেন জানান, হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য ২টি ১০তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সব পরিবারকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে কিছু সময় লাগবে। যে পরিবারগুলো ফ্ল্যাট পাবে না এখন, তারাই এখন প্রতিবাদ করছেন উচ্ছেদের। ৬০টি পরিবারকে ইতোমধ্যে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক পরিবার নতুন ফ্ল্যাটে উঠে যাচ্ছেন।

কিন্তু মিরনঝিল্লার হরিজন সেবক সমিতির নেতারা অভিযোগ করছেন, মিরনজিল্লার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা অনেকে ফ্ল্যাট পাননি। রাজনৈতিক বিবেচনায় যারা ফ্ল্যাট পেয়েছেন তাদের অনেকে হরিজন সম্প্রদায়ের নন। কমপক্ষে ২০০ পরিবার নতুন ফ্ল্যাট পাবে না। এই পরিবারগুলো উদ্বাস্তু হয়ে যাবেন।

সংখ্যালঘু অধিকারবিষয়ক সংগঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও এখন এই ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছে। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বৃহস্পতিবার দুপুরে এ এলাকায় গিয়ে হরিজনদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানান। 

তিনি বলেন, ‘আজ হরিজনদের পাশে থাকার লোক নেই, এদের দিয়ে ব্যবসা করা বা ভালো থাকার লোকের অভাব নেই। এই গরিবদের উচ্ছেদ করে বিল্ডিং করে ভাগবাটোয়ারা করলে তা হবে সবচেয়ে অন্যায় এবং লজ্জার।’

এ দিন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা। দলটির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলনের একটি প্রতিনিধিদল এদিন দুপুরে মিরনজিল্লা কলোনিতে যান।

সাবেক ভ্যাট কমিশনার ওয়াহিদার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:২১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:২১ পিএম
সাবেক ভ্যাট কমিশনার ওয়াহিদার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সাবেক ভ্যাট কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী

চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানিকে দেড় শ কোটির বেশি টাকার অবৈধ সুবিধা দেওয়ার মামলায় সাবেক ভ্যাট কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আস্সামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেলকে প্রায় ১৫২ কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) সাবেক ভ্যাট কমিশনার ওয়াহিদার বিরুদ্ধে এই মামলা করে দুদক। তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক শাহ আলম শেখ। 

নিষেধাজ্ঞা চাওয়া আবেদনে তিনি বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী দেশ ত্যাগ করার চেষ্টা করছেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্তকাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি আছে। তাই তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।