বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার কেন এসব বিনিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে তা জানতে চান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ।
শনিবার (২১ জুন) সকালে ঢাকার বিজয়নগরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা কেন ঝুঁকিপূর্ণ’ শিরোনামে আলোচনা সভায় তিনি বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে এ প্রশ্ন তোলেন। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক-গবেষক প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, গবেষক-শিক্ষক মাহা মীর্জা ও চট্টগ্রাম বন্দরের সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লা বাহার।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিদেশি চুক্তি, বিনিয়োগের ব্যাপারে শেখ হাসিনার কেন এত আগ্রহ ছিল সেটা আমরা জানি। এখন মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সেই চুক্তিগুলো অব্যাহত রাখার বিষয়ে কেন এত আগ্রহ?’ আনু মুহাম্মদের ভাষ্যে, এ চুক্তিগুলো ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’।
দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যদি সেসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তার বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপনের দায় সরকারের রয়েছে বলে সভায় মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি এসব চুক্তির বিষয়ে জানতে পারে তাহলে দুর্নীতি, অপচয় আর জাতীয় স্বার্থবিরোধী অপতৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই চুক্তির বিষয়ে সরকার গোপনীয়তা বজায় রাখতে চায়।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের হয়ে আনু মুহাম্মদ গত বছরের আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিদেশি নানা চুক্তির বিষয়ে আপত্তি তুলে ধরেছিলেন। তিনি দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, প্রাণ-প্রকৃতি বিধ্বংসী সব প্রকল্প বাতিলের পথ তৈরি করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
কিন্তু শনিবারের সভায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সরকার তা না করে সেসব প্রকল্প অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।’
বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করলে এখন সরকার রুষ্ট হয় বলে সভায় মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এখন সরকার বলছে দেশে বিনিয়োগ এলে প্রশ্ন করার কিছু নেই। বিদেশি পুঁজির কাছে পদাবনত লোক কেমন বেয়াদব হয়, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মুখের কথা তার প্রমাণ। তার কাছে যারা প্রশ্ন তুলছেন তারা নাকি বাংলাদেশকে বনসাই বানাতে চায়। আর যারা বাংলাদেশকে অন্য কারও পায়ের নিচে ফেলবে তারা হচ্ছে দেশ পরিচালনার অংশ।’
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে যারা আপত্তি তুলবে তাদের প্রতিহত করার কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার এমন বক্তব্যকে ‘স্বৈরতন্ত্রের ভাষা’ বলে উল্লেখ করেছেন আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ড. ইউনূস আছেন। তিনি সব দেখছেন। চুক্তির পর কোনো টেন্ডার হল কি না, সে প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হল এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। আর বিদেশি চুক্তির বিষয়ে টেন্ডার করা যাবে না- এমন কথা সবসময় বলছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা, বলেছে বিশ্বব্যাংকও। বাংলাদেশের বাইরে থেকে কোনো একজন লোক কেন, কী শর্তে এ দেশে এলেন তার কোনো ব্যাখ্যা থাকবে না?
১৯৯৭ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের তেল, গ্যাস রপ্তানি ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি কোম্পানির ইজারা প্রক্রিয়ায় সরকারগুলোকে চাপের মুখে রেখেছে বলে মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ। তবে সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনেক প্রক্রিয়া বন্ধ করা গেছে বলে জানান তিনি।
জয়ন্ত সাহা/সুমন/