শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা এবার হাসিমুখে ঈদ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে কারখানা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তিন মন্ত্রীর মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির।
মতবিনিময় সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন।
মতবিনিময় সভা শেষে তিন মন্ত্রী প্রেস ব্রিফিং করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রথম দু’একদিন লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অহেতুক বেড়ে গিয়েছিল। এখন আবার আগের অবস্থায় চলে এসেছে।
এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির বলেন, পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রবাসীকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বাইরে বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
স্পেনে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড শিগগির চালু হবে।
আগামী ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিক নির্দেশনা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, কিভাবে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়াসহ যেসব জায়গায় বন্ধ আছে তা পুনরায় চালু করা যায় আমরা সেভাবে কাজ করছি। আগামী মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে পারবেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা পরিদর্শন করে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
তিনি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সিলেটে পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে সিলেট অঞ্চলে প্রতিনিয়তই ঢলের পানি আসে। এ কারণে বর্ষায় এখানে বন্যা হয়ে যায়। এটি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের কিছু প্রকল্প চলমান আছে। নতুন আরও কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যৌথ নদী কমিশনেও আলোচনা হচ্ছে। এখানে দ্রুত যেসব কাজ করা প্রয়োজন তা করা হবে।
মতবিনিময় শেষে বাণিজ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী নদী ভাঙনকবলিত সুরমা ও চেঙ্গার নদী এলাকা পরিদর্শন করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সভায় সিলেটের দুই মন্ত্রী ছাড়াও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অমিয়/