জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ খাতে ওঠা যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়ন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত বছরের ৪ নভেম্বর ‘বিগত ১৪ বছরে ২ হাজার ১১০ কোটি টাকার দুর্নীতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে তহবিলের অর্থায়নে প্রকল্প গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে।”
তিনি জানান, ট্রাস্ট ফান্ডের ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত বাস্তবায়িত প্রকল্পের তথ্য ইতোমধ্যে দুদকের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। জলবায়ু ট্রাস্টের কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা, পিপিএস সফটওয়্যারের আওতায় আনা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প বাছাইয়ের জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন এবং ১২ সদস্যবিশিষ্ট কারিগরি সাব-কমিটি গঠন। এ ছাড়া অনুমোদিত প্রকল্পের জন্য ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ট্রাস্ট ফান্ড ব্যবহারের নীতিমালা সংশোধন (২০২৫) করা হয়েছে এবং স্থায়ী তহবিলের আমানত ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক গাইডলাইন প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এলিস/এসজি/