ঢাকা ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪
Khaborer Kagoj

রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ১০ ডিসেম্বর

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৫৮ পিএম
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ১০ ডিসেম্বর
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমাবেশটি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ ডিসেম্বর বেলা ৩টায় মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি-সন্ত্রাস ও পেট্রলবোমা হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

এমএ/

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে: ইসলামী আন্দোলন

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৭:২৮ পিএম
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে: ইসলামী আন্দোলন

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। 

তারা বলেছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। এর দায় সাধারণ জনগণ নেবে না। 

শনিবার (২ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন। 

তারা বলেন, ‘সরকারের ভুল নীতির কারণেই বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। আর এখন বৈদেশিক ঋণের শর্ত পূরণ করতে ভর্তুকি প্রত্যাহারের নামে জনগণের কাঁধে এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বিদ্যুতের প্রাথমিক জ্বালানি (গ্যাস ও কয়লা) সংগ্রহের জন্য বিনিয়োগ বাড়িয়ে কম খরচের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা উচিত।’

নেতারা বলেন, দেশের প্রখ্যাত জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতামত, দাম না বাড়িয়ে বরং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ও সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। রেন্টাল, কুইক রেন্টাল এখনো বন্ধ করা হয়নি। বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি আইন বাতিল করা হয়নি। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার বোঝা জনগণের কাঁধেই চাপানো হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি, অথচ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কষাঘাতে জনজীবন অতিষ্ঠ। এরপর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হলে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে জনগণের কাঁধে ওই উৎপাদিত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপাবে।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

দেশ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে: ববি হাজ্জাজ

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৫:৪৯ পিএম
দেশ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে: ববি হাজ্জাজ
ছবি : খবরের কাগজ

শুধু বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবন নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে ত্রাসের রাজত্বে পুরো দেশেই এক মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

শনিবার (২ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগে একটি কনভেনশন সেন্টারে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ত্রৈমাসিক সাধারণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের স্বার্থে আঘাত লাগলে এখানে যে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, গুম করে দেওয়া যায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জানমালের উপর ইচ্ছেমতো আঘাত করা যায়।’ 

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সরকারের গণবিরোধী আচরণ আর সিদ্ধান্তে সমগ্র বাংলাদেশেই আজ আগুন লেগেছে। ২০০৯ সাল থেকে অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ৪০০ লোকের প্রাণহানি হয়েছে। এই দায় কার?’

তিনি বলেন, ‘পবিত্র রমজান শুরুর আগেই বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে। বাড়তি মূল্য দিতে হবে গ্যাসের জন্যও। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে যে মন্তব্য করছেন তা কষ্টে থাকা সাধারণ মানুষের সাথে একধরণের স্থুল রসিকতা।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ বিচারহীনতার এক ভয়াবহ যুগে প্রবেশ করেছে। জামিন বা সাজা পাওয়ার বিষয়টি আজ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আর বিচারবিভাগ সংশ্লিষ্ট যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’

এনডিএম চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই সরকারের অবৈধ ক্ষমতা দখলের অংশীদার হয়ে রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। নব্য বাকশালী কায়দায় দেশ পরিচালনা করে সরকার দেশকে এখন রাজনীতিশূন্য করতে চায়। প্রতিটি অপকর্মের জন্য আওয়ামী লীগকে অচিরেই খেসারত দিতে হবে।’

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

সরকারের সমালোচনা করা বিএনপির অভ্যাস: নানক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৪:২০ পিএম
সরকারের সমালোচনা করা বিএনপির অভ্যাস: নানক
ছবি : খবরের কাগজ

নিজের দায়িত্ব পালন না করে সরকারের সমালোচনা করা বিএনপির অভ্যাস বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

শনিবার (২ মার্চ) রাজধানীর লালমাটিয়া মহিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় সকল প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখার তাগিদ দেন মন্ত্রী।

‘দেশে আইনের শাসন নেই তাই বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, নিজের দায়িত্ব পালন না করে, সরকারের সমালোচনা ও বিরোধীতা করা। এটি তাদের একটি অভ্যাস।’

বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে উল্টো বিএনপির সমালোচনা করে নানক বলেন, ‘দেখেন এত বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটল। তারা কি তাদের দায়িত্ব পালন করেছে? করেনি। তারা ঘটনাস্থলে যায়নি। এখন পর্যন্ত যারা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সেখানেও কেউ যাননি। যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি বিএনপি কোনো সহানুভূতিও জানায়নি। আসলে বিএনপি একটি সূত্র বের করে আর সেই সূত্র উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে তারা তাদের সমস্ত দায় দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চায়। এরা আসলে দায়িত্বহীন একটি রাজনৈতিক দল। তাই বিএনপি কি বলছে তাতে মানুষের আর দৃষ্টি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ দলটির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য, মানুষ হত্যার রাজনীতির জন্য বিএনপি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছে। কাজের তাদেরকে নিয়ে খুব বেশি বলার আছে বলে আমি মনে করি না।’

বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি দুর্ঘটনা না নাশকতা বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের পর আসল ঘটনা বের হবে। তবে আমি বলবো, যারা ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট- রেস্টুরেন্ট মালিক থেকে শুরু করে যারা সেখানে নিয়ম বর্হিভূতভাবে কাজ করছে তারা সকলেই সতর্ক হবেন।’  

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ আগুন লাগার পর থেকে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ধানমণ্ডি সাত মসজিদ রোডটি। যেখানে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। সে রেস্টুরেন্টগুলোতে আগুন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা আছে বলে আমার জানা নেই। কাজেই আমি বলেছি, সংশ্লিষ্ট সকলকে নড়েচড়ে বসা দরকার। আর একটি মানুষকেও যাতে আর এভাবে আগুনে পুড়ে মরতে না হয়।’ 

এ সময় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু মুনাফাই করবেন, মানুষের জীবনকে এভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে, এটা মেনে নেওয়া যেতে পারে না। অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা সকল প্রতিষ্ঠানের নিতে হবে এবং নিতে বাধ্য করতে হবে।’ 

শপথ নিয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা সবাই খুবই যোগ্য। তারা দেশকে অনেক কিছু দিতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

জিয়াউদ্দিন রাজু/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

আ. লীগ জনগণের বিজয় বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে: মান্না

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
আ. লীগ জনগণের বিজয় বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে: মান্না
ছবি : খবরের কাগজ

রাজপথের বিজয়, জনগণের বিজয় বোঝার মতো ক্ষমতা আওয়ামী লীগ হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহামুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ভোট দেয়নি। পাঁচ শতাংশ ভোটকে ৪১ শতাংশ দেখিয়ে ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করা উচিত ছিল। একদিন এ পরিস্থিতি বদলাবে। আগামী দিনে মানুষ নিজেরা বাঁচার তাগিদে ভোট, ভাত ও গণতন্ত্রের দাবিতে রাজপথে নামবে, সে লড়াই হবে চূড়ান্ত।’

শনিবার (২ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বিদ্যুৎ-গ্যাসের মুল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে পূর্ণ ব্যর্থতা, ব্যাংক-অর্থনীতি ধ্বংসকারী ও অর্থ পাচারকারী সরকারের পদত্যাগের দাবিতে’ এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ তৃণমুল নাগরিক আন্দোলন।

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে ‘ভবনে একটি অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র ছিল না, এই লোকগুলোকে এত করে বলেছি, তারা সচেতন হয়নি’- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য দেখে আমি খুব অবাক হয়েছি, ব্যথিত হয়েছি। মানে উনি বোঝাতে চেয়েছেন, এ যে দুর্ঘটনা হলো, দোষ সব মানুষের যারা মরেছে, যারা এখানে দোকান, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসা করেছে। যেমন করে দেশে ও বাইরে গিয়ে বলেন এত সুন্দর ভোট ৭৫ এর পরে আর হয়নি। এখনো একইভাবে তিনি জনগণের সঙ্গে নির্দয়-নিষ্ঠুর রসিকতা করছেন বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নগর পরিকল্পনাবিদ ও সমাজ নিয়ে যারা ভাবেন তারা বলেছেন, এটা একটি হত্যাকাণ্ড। এটা নিমতলীর সময় বলা হয়েছিল, এফ আর টাওয়ারের সময় বলা হয়েছিল। আমাদের দেশে মানুষের জীবনের মতো তুচ্ছ আর কিছু নেই অন্তত সরকারের কাছে।’

মান্না বলেন, ‘এ সরকার একটিই কাজ পারে জুলুম, নির্যাতন, ফোরটুয়েন্টি, ঠকবাজি করে ভোটকে নিজের পক্ষে দেখাতে। অথচ জিনিসের দাম বাড়ছে একের পর এক, মানুষের জান বেরিয়ে যায়। ওনারা কোনো জিনিসের দাম কমাতে পারেননি। আজকে সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের গায়ে হাত দিতে পারছেন না সরকার। দুনিয়ার সমস্ত লুটেরা, ব্যাংক ডাকাত, ভোট ডাকাতদের সরকার মদদ ও প্রশ্রয় দেয়। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ি সবাই আওয়ামী লীগের লোকজন। তাতে জিনিসপত্রের দাম কমবে কি করে?’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর আলম সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব প্রকৌশলী দিদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ, সাবেক সংসস সদস্য বিলকিস ইসলাম, অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকি, আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন ব্যাপারী, শফিকুল ইসলাম সবুজ, মুসা ফরাজী প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি’

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৩:২৩ পিএম
নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি’
ছবি : খবরের কাগজ

‘গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি’ নামে দেশে আরও একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তবে এই রাজনৈতিক দলটির নিবন্ধন নেই।

শনিবার (২ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দলের ঘোষণা দেন দলের সমন্বয়ক মেজর অব. আমিন আহমেদ আফসারী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টির আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. সাহেদা ওবায়েদ, সদস্য কমান্ডার (অব.) সাব্বির, ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম, শিক্ষিকা নাদিয়া চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজুল হক, মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এ সময় সাহেদা ওবায়েদ বলেন, ‘আজ থেকে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু হলো। বর্তমান পেক্ষাপটে আমাদের মনে হয়েছে, দেশে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি সমাজে বৈষম্য বিরাজ করছে। দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য না থাকলে আগামী দিনে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচনের আগে থেকেই দলের কার্যক্রম শরু করেছি। কিন্তু নির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি আত্মপ্রকাশ করলে অনেকেই ‘কিংস পার্টি’, ‘হালুয়া-রুটি’র দল হিসেবে আমাদের অভিহিত করতো। হালুয়া-রুটির জন্য আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। বির্তকিত কাউকে আমরা দলে নেব না। আমাদের লক্ষ্য দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের নিয়ে দল গড়ে তুলব।’’

সাহেদা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বাইরে আমরা একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে দাঁড়াবো। আজকে পরিবারতন্ত্র, দলীয়করণ ও সর্বোপরি ‘আওয়ামীকরণ’ করা হয়েছে। দেশের জনগণ একটা রাজনৈতিক ছকে বাঁধা পড়েছে। এই ধারা থেকে দেশকে আমরা মুক্ত করতে চাই। আগামী ৫ বছর দেশ ও রাজনীতিতে অনেক কিছু পরিবর্তন হবে। আমরা মানুষের চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন ঘটাতে চাই।’’

লিখি বক্তব্যে আমিন আহমেদ আফসারী বলেন, আগামী দিনে দেশে গণতন্ত্র সংস্কার এবং পূনঃগঠনে মূখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাই। ঐক্যবদ্ধ, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভুমিকা রাখবো। আগামী ৩০ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে দলের বাকি নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশের সত্য ইতিহাস, সঠিক ইতিহাস সমুন্নত রাখা হবে। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে  জাতীয় ভাবে যথাযথ সম্মানপ্রদর্শন, জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, জেলহত্যার চার জাতীয় নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জেনারেল এম এ জি ওসমানীসহ সকল সেক্টর কমান্ডার এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের উদ্দীপনামূলক বাক্য ‘ভব জবাড়যা ব্যাস’, সকলকে নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরার আহ্বানসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল বীরত্বগাঁথা ইতিহাসকে সমুন্নত রাখা, তা রক্ষা করা ও মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করতে গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।’

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘‘সাধারণত সবাই নির্বাচনের আগে দল গঠন করে, আমরা করছি একটি জাতীয় নির্বাচনের পর। আমরা দল গঠনের আগে গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণের জন্য ‘দেশের মালিক’ জনগণকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ব্যক্তি নেতৃত্বের পরিবর্তে, টিম লিডারশিপ বা একাধিক ব্যক্তির সমষ্টিগত নেতৃত্বের প্রলনে সচেষ্ট থাকব ও ১১ জনের একটি কমিটির ভোটাভুটিতে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রাধান্য দেওয়া হবে দলের মুল চালিকাশক্তি জেলা নেতৃত্বে। রেষারেষি, মারামারি, কাটাকাটি ও দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন দেশের স্বাধীন মুক্ত মেধার রাজনীতি প্রচলনে আমরা সচেষ্ট থাকব।  শাসন নয় সেবা এই মূল মন্ত্রে দলের সকল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদেরকে মোটিভেট করা এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। দল ও সরকারকে পৃথক সত্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। দলকে জনগনের সম্পদে পরিণত করা হবে।’’

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/