ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

আন্তর্জাতিক তদন্তে সরকারের অপকর্ম-হত্যার বিচার হবে : রিজভী

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৫৭ পিএম
আন্তর্জাতিক তদন্তে সরকারের অপকর্ম-হত্যার বিচার হবে : রিজভী
ছবি : খবরের কাগজ

আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের সব আমলের অপকর্ম ও হত্যার বিচার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ শিরোনামে লিফলেট বিতরণ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘৭২ থেকে ৭৫ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে সিরাজ সিকদারসহ জাসদ ও বিরোধী দলের ২০ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল, বর্তমান আওয়ামী সরকারের আমলে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য মানুষকে গুম করা হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন জিয়াউর রহমানের সময় নাকি সেনাবাহিনীর অফিসারদের দমন করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে তো সেখানে বিচার হবেই। জিয়াউর রহমান তো আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করেছেন, সেনা আইনে তাদের বিচার হয়েছে। আর আপনি সামরিক কর্মকর্তাদের গায়েব করে দিয়েছেন, অদৃশ্য করে দিয়েছেন। আজকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমী কোথায়? তিনি কি গায়েব হননি। আপনার সরকারের সময় তারা গায়েব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এর বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে। সরকার পতনের লক্ষ্যে সবাই এখন মাঠে আছে, আন্দোলনে আছে। গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারের পতন ঘটানো হবে ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, আমিনুল ইসলাম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহিদ হোসেন, যুবদলের মেহেবুব মাসুম শান্ত, বিএনপি নেতা আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ছাত্রদলের ডা. আউয়াল প্রমুখ।

শফিক/সালমান/

খুলনায় দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৭ এএম
খুলনায় দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও প্রার্থিতা নিয়ে এখন দ্বন্দ্বে ভুগছে খুলনা আওয়ামী লীগের তৃণমূল। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

গত দুই দিনে খুলনা-৪ আসনে রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সহসভাপতির পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ‘মীর জাফর’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ করেছেন রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. কামালউদ্দিন বাদশা।

অন্যদিকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কামালউদ্দিন বাদশাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক ফ ম আব্দুস সালাম। 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন পোশাক রপ্তানিকারক আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা। দুই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তখন বিভক্ত হয়ে পড়েন। ওই নির্বাচনকে ঘিরেই এলাকায় বিভক্তির রাজনীতি শুরু হয়েছে বলে নেতা-কর্মীরা জানান।

রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কামালউদ্দিন বাদশা বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বিঘ্নে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারাভিযানে নির্বাচন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী গণভবনে স্বতন্ত্র নির্বাচিত প্রার্থী ও বর্ধিত সভায় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিলেও খুলনা-৪ আসনে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্ত্তজা রশিদী দারা প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পান। তবে ফলাফলে নৌকার প্রার্থী সালাম মুর্শেদী বিজয়ী ঘোষিত হন। বিজয়ী ঘোষণার পরপরই সালাম মুর্শেদীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে খুলনা-৪ আসনের বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অত্যাচার, নির্যাতন, রক্তাক্ত জখম এবং তাদের সম্পদ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুট করা হয়।

একই সঙ্গে দলের যেসব নেতা-কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন, তাদের পদপদবি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে আইচগাতি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বভার বদল করা হয়েছে। গত সোমবার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কামালউদ্দিন এসব কথা বলেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে খুলনা-৪ আসনে সংসদ সদস্যসহ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রতিবাদে কামালউদ্দিন বাদশাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি অধ্যাপক ফ ম আব্দুস সালাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে থেকেও মো. কামালউদ্দিন বাদশা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনয়নকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষাবলম্বন করেন। একইভাবে গত জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ফলে তার এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। 

তিনি বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী শুধু রূপসা উপজেলায় ১০২৯২ ভোটে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মতো বিজয় লাভ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর নামে যে ভোটের হিসাব দেখানো হয়েছে, তা মূলত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কাল্পনিক অভিযোগ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বক্তব্যের মাধ্যমে কামালউদ্দিন বাদশা মূলত আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শকেই ভূলুণ্ঠিত করেছেন।

এদিকে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত পছন্দের লোক নিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরির রাজনীতি করায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শাসকগোষ্ঠী মধ্যযুগীয় রাজার শাসন কায়েম করেছে: ফখরুল

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫০ পিএম
শাসকগোষ্ঠী মধ্যযুগীয় রাজার শাসন কায়েম করেছে: ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীন দেশে মানুষের সংবিধানস্বীকৃত অধিকারগুলোকে হরণ করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী মধ্যযুগীয় রাজার শাসন কায়েম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেছেন, গত ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীদের দৌরাত্ম্য সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে কর্তৃত্ববাদ চিরস্থায়ী করার জন্য শেখ হাসিনা এক নির্দয়-হিংসাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন করেছেন। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধা দলের পুরানা পল্টনের কার্যালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে ডামি আওয়ামী সরকার। গুম-খুন-হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার ও ফরমায়েশি সাজা প্রদানের দ্বারা বিরোধী নেতা-কর্মীদের নাজেহাল করা হচ্ছে। দেশের মানুষের রক্ত নিংড়ে নিয়ে আগ্রাসী ফ্যাসিবাদ এখন ভয়াল মূর্তি ধারণ করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠলেও আওয়ামী সরকার জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর তামাশা করছে। সরকারের অনাচার থেকে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে নিতেই মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের হিড়িক থামছে না।’ 

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ইশতিয়াক আজিজ উলফাতই কেবল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তার পুরো পরিবারও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি তার বড় ভাই শহিদ হয়েছেন। আজকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে প্রকারান্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অবমাননা করা হলো।’ তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।

কারও দাসত্ব না মানাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০৯ পিএম
কারও দাসত্ব না মানাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি : ওবায়দুল কাদের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ফিরে গিয়ে কী বলবে, আমরা বিদেশি বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই। তবে বন্ধুর পরিবর্তে যারা প্রভুর ভূমিকায় আসতে চান, সে প্রভুর দাসত্ব আমরা মানি না। এটাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি।’

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কোনো প্রয়োজন কি আমাদের আছে? আমরা বুঝব কী বলে গেছেন। আবার আমেরিকায় গিয়ে কী বলবেন- সেটা নিয়ে এত মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন তো আমাদের নাই।’ 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। 

বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল বৈঠক করলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক না করার বিষয়টি ‘সংকট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে তাদের মতামত বা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের কি ওপিনিয়ন, তাদের কি ভিউজ, সেটা জানাটা তারা (মার্কিন প্রতিনিধিদল) যৌক্তিক মনে করেছে। সে কারণে বৈঠক করেছে। তারা তো আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছে, কাজেই এখানে কোনো ঘাটতি আছে বলে আমরা মনে করছি না।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারা (বিএনপি) বলেছিল নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হলে পাঁচ দিনও সরকার টিকবে না। তারা ওয়াশিংটনের কাছে যা চায়, সেই চাওয়াটা পাওয়া হয়নি। তারা শুনতে চেয়েছিল সরকারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আসবে।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকারবিরোধী অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এত উসকানি এত আন্দোলনেও ওই পিকনিক পার্টি সমাবেশের নামে জনগণকে প্রলুব্ধ করতে পারেনি। দেশের মানুষ প্ররোচিতও হয়নি। দেশের জনগণ সারা বিশ্বের খবর রাখে। বিশ্বের সব খবর নিয়ে গ্রামে চায়ের দোকানেও রীতিমতো গবেষণা হয়। মানুষ বোঝে, এখানে (দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি) সরকারের দোষ নেই। অর্থনীতিতে যখন সংকট হবে তখন দ্রব্যমূল্য, বাজার ওঠানামা করে। অপেক্ষা করুন, আপনাদের তো না খাইয়ে রাখিনি, দেশের মানুষ খেতে পারছে। একটা মানুষও না খেয়ে মরেনি। দেশের মানুষ অনেক ভালো আছে।’

‘চাঁদাবাজির কারণে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে’ এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চাঁদাবাজি একটা বিষয় অবশ্যই আছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠিন বক্তব্য রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। একটা বিষয় শুরু হলে রাতারাতি বন্ধ হয়ে যাবে, এমন তো ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলার পর সবাই নড়েচড়ে বসেছেন।’

গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঋণ পরিশোধ করতে হবে। বিশ্ব সংকটের কারণে সারা দুনিয়াতেই এখন অর্থসংকট প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময় ঋণ আগের তুলনায় বাড়তে পারে কিন্তু বাংলাদেশ এ যাবৎ ঋণখেলাপি হওয়ার কোনো রেকর্ড রাখেনি। আমরা সে ব্যবস্থা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন। 

রমজানের আগেই গাজায় যুদ্ধ বন্ধে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জামায়াতের

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০২ পিএম
রমজানের আগেই গাজায় যুদ্ধ বন্ধে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জামায়াতের

আসন্ন রমজানের আগেই যেকোনো মূল্যে গাজায় ফিলিস্তিনদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর অন্যায় ও অমানবিক যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে জাতিসংঘ, ওআইসি, সব আন্তর্জাতিক সংস্থা, গণতান্ত্রিক দেশ এবং শান্তিকামী বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এ আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। ফলে রমজানের আগেই ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলা ও রক্তপাত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া বিশ্ববাসীর পবিত্র দায়িত্ব।’

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধের জন্য জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও শান্তিকামী রাষ্ট্র প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর একগুঁয়েমির কারণে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে না। ফিলিস্তিনের বিরাজমান পরিস্থিতিতে শান্তিকামী বিশ্ব উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলি সৈন্যরা ত্রাণের খাদ্যের জন্য অপেক্ষমান ফিলিস্তিনি ক্ষুধার্ত শিশু, নারী ও পুরুষের ওপর নির্বিচারে গুলি এবং বোমা বর্ষণ করে অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও আহত করে মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে।’ এ মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান তিনি। 

শফিকুল/সালমান/

ক্ষমতাসীনদের পরাজয়ে বাধ্য করা হবে : নোমান

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৪৭ পিএম
ক্ষমতাসীনদের পরাজয়ে বাধ্য করা হবে : নোমান
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি হতাশ নয়। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি দিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের পরাজয়ে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। 

তিনি বলেন, ‘আজকে দেশ হায়েনার মুখে। দেশে যদি রাজনীতি না থাকে, রাজনীতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে হায়েনাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। আমাদের অন্য প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এগিয়ে যেতে হবে।’ 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার-ভোটের অধিকার চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এই বৈঠক আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন। 

নোমান আরও বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, যার মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটবে। এখন কথা কম, সামনের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ভোটাধিকার সংরক্ষণে মানবকল্যাণের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য জাতীয় নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে।’

এ সময় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সরকার কিংবা তাদের দেশি-বিদেশি মদদদাতাদের কারোরই সঙ্গে আপসের সুযোগ নেই। দেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব মাথায় রেখে পরবর্তী আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। শুনেছি, আমেরিকার কর্মকর্তারা নাকি সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়ার জন্য বলেছে। তবে আমাদের যুগপৎ আন্দোলন চলছে, চলবে। যখন সবাই মিলে রাজপথে নামবে তখন সরকার যেতে বাধ্য হবে। আমাদের খুবই ন্যায্য দাবি- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া হোক।’

দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ম. ফারুক রহমান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।