ঢাকা ১১ বৈশাখ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

বিএনপির রাজনীতি বিদেশিদের আঙুলের ইশারায় চলে না : মঈন খান

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম
বিএনপির রাজনীতি বিদেশিদের আঙুলের ইশারায় চলে না : মঈন খান
ছবি: খবরের কাগজ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি কোনো বিদেশি শক্তির আঙুলের ইশারায় চলে না, সরকার চলতে পারে। আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করি, বিদেশকে নিয়ে রাজনীতি করি না।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা ও সূরা ফাতিহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মঈন খান বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঐক্যের রাজনীতি করেছেন, বিভাজনের রাজনীতি করেননি। যেটা আজকে আওয়ামী লীগ করছে। তারা ক্ষমতার লোভে বিভাজনের মাধ্যমে এই জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকার দেশে ২২০টি পরিবার সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের পরিবর্তে একটি অলিগার্ক (লুটেরা-চোর) সৃষ্টি করেছে। যারা দেশের সম্পদ কুক্ষিগত করে বিদেশে পাচার করেছে। তাই দেশকে ভবিষ্যতে সত্যিকারভাবে একটি গণমানুষের দেশ হিসেবে পুনরায় সৃষ্টি করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে যেতে হবে। এ অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই।’

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আসুন আমরা নতুন করে একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হানাহানি এবং দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যে আদর্শ, সেটিতে দীক্ষিত হয়ে এ দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যে আদর্শ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল, সেই আদর্শ থেকে সরকার অনেক দূরে সরে গেছে। ২৮ অক্টোবরের পর আমাদের ২৬ হাজার নেতা-কর্মীকে কারারুদ্ধ করে সরকার একদলীয়ভাবে সাজানো নাটক মঞ্চায়িত করেছে।’

এর আগে সকাল থেকে মৎস্যজীবী দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে মাজারে যান মঈন খান। এ সময় বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জেড রিয়াজ উদ্দিন নসু, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব মো. আবদুর রহিম, কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুক পাটোয়ারী, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, নাদিম চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

শফিকুল ইসলাম/সাদিয়া নাহার/

ফরিদপুরে শ্রমিক হত্যা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: আজিজুল হক ইসলামাবাদী

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ এএম
ফরিদপুরে শ্রমিক হত্যা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: আজিজুল হক ইসলামাবাদী
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। ছবি : সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালীতে মন্দিরে আগুন লাগানোর অভিযোগে দু'জন মুসলিম শ্রমিক হত্যার ঘটনাকে ‘আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। 

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি তিনি এ মন্তব্য করেন। 

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে, ফরিদপুরের মুসলিম শ্রমিক হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেয় সেখানকার ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামান তপন। হাত পা বাঁধা নিরীহ শ্রমিকদের ওপর সেই প্রথম আক্রমণ চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ সংঘবদ্ধভাবে তাদের নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারে।

তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল চেয়ারম্যানের উচিত ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়া। তা না করে নিজেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত হল। এটাকে আমরা আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছি।    

তিনি আরও বলেন, মন্দিরে আগুন লাগানোর কোনো প্রমাণ না পেলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত লোক দুজন নিরীহ শ্রমিককে স্রেফ মুসলিম পরিচয়ের কারণে হাত পা বেঁধে পিটিয়ে মেরে ফেলল। অথচ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা নির্বিকার! এখন পর্যন্ত কোনো নিন্দা বা প্রতিবাদ জানান নি। 

আজিজুল হক ইসলামাবাদী আরও বলেন, গত বেশ কয়েক বছরে গণমাধ্যমের অসংখ্য সংবাদে দেখা গেছে, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় হিন্দু যুবকরা ধরা পড়েছে। কখনও কখনও স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনও দাঙ্গা বাঁধানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে। অথচ ঘটনা ঘটার পর মুসলমানদের ওপর কৌশলে দায় চাপানোর রাজনীতি করা হয়েছে। এই অপচর্চা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সবুজ/এমএ/

ইস্যু না পেয়ে বিএনপির নেতারা পাগলের প্রলাপ বকছে: নানক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১১ পিএম
ইস্যু না পেয়ে বিএনপির নেতারা পাগলের প্রলাপ বকছে: নানক
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি নেতাদের ভারতবিরোধী বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেছেন, যখন দেশবিরোধী সব ইস্যু বিএনপির নাগালের বাইরে চলে গেছে, তখন তাদের নেতারা পাগলের প্রলাপ বকছে। এ দেশে পাকিস্তানের চিন্তা-চেতনা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান। কিন্তু তখনো এই অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের জনগণ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। 

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) আয়োজিত ‘বহুমুখী পাট পণ্যের একক মেলা’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন পাটমন্ত্রী। 

এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। পাটপণ্যের উৎপাদন খরচ যেসব দেশে সবচেয়ে কম, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। পাটের তৈরি গৃহসজ্জার পণ্যের চাহিদার পাশাপাশি পাটের তৈরি শপিং ব্যাগ, জিও টেক্সটাইল ও ফ্লোর কভারের চাহিদাও বাড়ছে। এ ছাড়া পাটকাঠির তৈরি চারকোলের চাহিদাও রয়েছে চীনসহ বিভিন্ন দেশে। এ ছাড়া পাটভিত্তিক জিও টেক্সটাইলের বৈশ্বিক বাজারের আকার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এসব সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’ 

মন্ত্রী নানক বলেন, ‘আমরা পাটের উৎপাদনের দিকে যেমন গুরুত্ব দিচ্ছি, তেমনি মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য উৎপাদনে আরও জোর দিচ্ছি। এ জন্য  জেডিপিসি বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উদ্ভাবন, ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব সোনালি আঁশ পাট বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। শুধু তাই নয়, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে পাটের ভূমিকা একটি স্বীকৃত ইতিহাস। স্বাধীনতার পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাটশিল্পের উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সদয় নির্দেশনায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাট খাতে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।’ 

মন্ত্রী পর্যায়ক্রমে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান এবং সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ রকম মেলার আয়োজন করে পাট পণ্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য জেডিপিসিকে নির্দেশনা দেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে জেডিপিসি পাটপণ্য উৎপাদনকারী, বিপণনকারী, ব্যবহারকারী এবং বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে অধিক যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। 

বস্ত্র ও পাটসচিব মো. আব্দুর রউফ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নুরুজ্জামান, জেডিপিসির পরিচালক (যুগ্ম সচিব) গোপাল চন্দ্র দাশ প্রমুখ। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলা ২৩ এপ্রিল শুরু হয়, যা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ডামি সরকারের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ঘুম হারাম: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৫ পিএম
ডামি সরকারের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ঘুম হারাম: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনীতির গজব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ট। রাষ্ট্রীয় সীমাহীন দুর্নীতি ও জুলুমের কারণে অনাবৃষ্টি ও তীব্র দাবদাহ চলছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনীতির দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। ফলে দেশের মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। দেশের জনগণকে উপজেলা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচারপত্র বিলি কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। ডামি সরকারের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, নতুন কারিকুলামে ট্রান্সজেন্ডার বিয়ষক বিতর্কিত শরীফার গল্প বিষয়ক কমিটির প্রকাশিত রিপোর্ট জাতিকে হতবাক করেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সচেতন দেশবাসির দাবির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তদন্ত কমিটি সরকারের ইচ্ছা পূরণ করেছে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্র দলীয়করণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এদেশে ট্রান্সজেন্ডারকে প্রমোটকারী শরীফার গল্প বাদ দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে পুরানা পল্টনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের চলমান  রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারি মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, অর্থ সম্পাদক আলহাজ হারম্নন অর রশিদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মাওলানা নূরুল ইসলাম আলআমিন, জিএম রুহুল আমিন, অধ্যাপক নাসির উদ্দিন খান, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, আব্দুল আউয়াল মজুমদার।

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ফরিদপুরের মধুখালীতে মন্দিরে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদিদের গণপিটুনিতে কুরআনের দুই হাফেজ নির্মাণ শ্রমিক নিহত ও পাঁচজনকে আহত করার ঘটনা আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। ঘটনার কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত ঘটনার কোন কুলকিনারা করতে না পারা সরকারের চরম ব্যর্থতা। 

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ আমলা ও অসৎ রাজনীতিক এই তিন চক্র সিন্ডিকেট মিলে দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। এই দানবদের রুখতে না পারলে দুর্নীতি বন্ধ হবে না। আর নিত্যপণ্যের দাম কমবে না। তেল, নুন, পেঁয়াজ, চিনি, আদা-রসুন, মরিচ যেটাতেই হাত দেয়, হাত পুড়ে যাচ্ছে। সকালে এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। এটা তো অর্থনীতি না। 

দেশ গরমে পুড়ছে, সরকার মিথ্যা উন্নয়নের বেসুরো বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছে: এবি পার্টি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৭ পিএম
দেশ গরমে পুড়ছে, সরকার মিথ্যা উন্নয়নের বেসুরো বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছে: এবি পার্টি
ছবি : সংগৃহীত

তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্থ। কৃষি, শিল্পসহ সব খাতে মারাত্মক মন্দা। বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ে মানুষ দিশাহারা। দরিদ্র মানুষ আছে অবর্ণনীয় কষ্টে। রোগ শোকের প্রকোপে হাসপাতালে জায়গা নাই- এক কথায় দেশ গরমে পুড়ছে। কিন্তু ফাইভ পার্সেন্ট সরকারের কোন বিকার নেই। এ অবস্থায়ও তারা মিথ্যা উন্নয়নের বেসুরো বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আমার বাংলাদেশ পার্টি ‘এবি পার্টি’ আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

তীব্র তাপদাহ, পরিবেশ ও জনজীবনে বিপর্যয়, দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের মৌনতা ও নিস্ক্রিয়তার প্রতিবাদে বিজয় নগরস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল)  বিকেল ৪টায় মিডিয়া ব্রিফিং এসব কথা বলেন দলের নেতৃবৃন্দ। 

যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় ও প্রফেসর ডা. আব্দুল ওহাব মিনারের সভাপতিত্বে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু। 

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক তাপদাহের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলোই মূলত দায়ী। কিন্তু দিন শেষে আমাদের নিজেদের বাঁচার ব্যবস্থা নিজেদের উদ্যোগেই করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ ছিলো সুজলা সুফলা, আজ কি এমন হলো! কেন প্রকৃতি, পরিবেশ এত বিরূপ আচরণ করছে তা আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশের নদী, খাল, বিল সবই নিঃশেষ হওয়ার পথে। প্রধান নদীগুলোর উৎসমূখে বাঁধ নির্মাণ করে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রটি বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার প্রক্রিয়া করছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা খাল, বিল দখল করে অবৈধভাবে দালান কোঠা নির্মাণ করেছে। বনের গাছ শুধু নয় রাস্তাঘাটের গাছ পর্যন্ত কেটে উজাড় করা হয়েছে। দেশকে বাঁচাতে, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে আমাদের এখনই ভূমিকা নিতে হবে।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, গত ৩ দশকে রাজধানী থেকে ২৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জলাধার উধাও হয়ে গেছে এবং প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার সবুজ কেটে সাফ করে ফেলা হয়েছে। এগুলোর পেছনে হয়েছে সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী মহল। তিনি বলেন, আজকে তীব্র তাপদাহে রাজধানীবাসীর জনজীবন যে বিপর্যস্থ এর সিংহভাগ দায় ক্ষমতাসীনদের। তীব্র গরমে কৃষি, শিল্পসহ সব খাতে মারাত্মক মন্দা চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার নাকি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সয়লাব করে ফেলেছে অথচ বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিংয়ে মানুষ দিশাহারা।

দরিদ্র মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের বর্ণনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, রোগ শোকের প্রকোপে হাসপাতালগুলোতে তিল পরিমাণ জায়গা নাই। জনগণের এই চরম দুর্ভোগ ও কষ্টকর অবস্থায়ও ফাইভ পার্সেন্ট ডামি সরকার মিথ্যা উন্নয়নের বেসুরো বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মেজর (অব.) মিনার বলেন, তীব্র তাপদাহে সবাইকে সচেতন হতে হবে। হিটস্ট্রোকের ব্যাপারে খেটে খাওয়া মানুষকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরাও সামর্থ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি উপস্থিত সকল সংবাদকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্রিফিং সমাপ্ত করেন।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, এম আমজাদ খান, এবি পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কবির, সদস্য সচিব সেলিম খান, দক্ষিণের যুগ্ম সদস্যসচিব সফিউল বাসার, আহমাদ বারকাজ নাসির, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, যুবপার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন রমিজ, সদস্যসচিব মাহমুদ আজাদ, উত্তরের আহ্বায়ক হাদিউজ্জামান খোকন, সদস্য সচিব শাহিনুর আক্তার শীলা, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফেরদৌসী আক্তার অপি, ছাত্রপক্ষের সহকারী সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান মিলু, যাত্রাবাড়ি থানা সমন্বয়ক সিএমএইচ আরিফসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি 

 

দেশবিরোধী অপশক্তি লাগাতার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৪ পিএম
দেশবিরোধী অপশক্তি লাগাতার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত

দেশবিরোধী অপশক্তি লাগাতার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার বঞ্চিত করতে নির্বাচনবিরোধী কাজ করছে তারা। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি আয়োজিত প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘হত্যার রাজনীতি আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না। প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদী তৎপরতা চালিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে খুনের রাজনীতি বন্ধ করেছে। আওয়ামী লীগ সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। ১৫ বছর স্থিতিশীল সরকার ছিল বলে দেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। খুনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল বন্ধ হয়েছে। গণতন্ত্র স্থিতিশীলতা ছিল বলে এমন উন্নয়ন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র, শান্তি, উন্নয়ন নির্বাচনবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ও প্রগতিশীল শক্তির কাছে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তি আমাদের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে যাচ্ছে। তাদের আমাদের প্রতিহত করতে হবে। সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যার সূচনা হয়। ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোস্তাক-জিয়া। বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র দেশের পাশাপাশি বিদেশেও আছে। সরকার হটানোর ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি অপশক্তি ষড়যন্ত্র করছে।’

কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যে দলটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। তার আগে খালেদা জিয়ার অধীনে ছিল নির্বাচন কমিশন। গুন্ডা দিয়ে নির্বাচন করা হত। ভুয়া ভোটার দিয়ে ভুয়া নির্বাচন করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগই দেশের একমাত্র দল, যারা নির্বাচনব্যবস্থাকে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ করেছে।’

উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাধ্যমে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের জন্য জনগণকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভোট দিয়ে আপনার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে জনগণ সব শক্তির উৎস। দেশবিরোধী অপশক্তি জাতির পিতার পরিবারকে হত্যা করে জনগণকে সামরিক স্বৈরশাসনের জাঁতাকলে দীর্ঘকাল পিষ্ঠ করেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে হত্যার রাজনীতি বন্ধ করেছেন।’

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফরউল্লাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

সালমান/