ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

ময়দানে সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা পালন করতে হবে: জামায়াত

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:১৬ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:১৬ পিএম
ময়দানে সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা পালন করতে হবে: জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আখেরাতের সফলতায় মুমিন জীবনের প্রকৃত সফলতা। এজন্য একজন ঈমানদার হিসেবে দুনিয়ার সুযোগ সুবিধা আমাদের জন্য অগ্রগণ্য নয়। আমাদের মূল টার্গেট হবে আখেরাতে চূড়ান্ত সফলতা। তাই জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের আখেরাতকে প্রাধান্য দিয়ে জীবন পরিচালনা করতে হবে। সকল কাজে আল্লাহ, তাঁর রাসুল নিকট আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদান করতে হবে। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে ময়দানে সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমান সময়ের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদেরকে কুরআনের রঙে রঙিন করতে হবে। জামায়াতের রুকনদের কুরআনে বর্ণিত গুণাবলীসমূহ নিজেদের চরিত্রে ফুটিয়ে তুলে সমাজের মানুষের মধ্যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। 

শুক্রবার (২৪ মে) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে দিনব্যাপী সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যথাক্রমে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আব্দুল হালিম। 

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করতে হবে, বিনয়ের সঙ্গে পথ চলতে হবে, আমিত্ব পরিত্যাগ করতে হবে। ইকামাতে দ্বীনের কাজ একটি ফরজ ইবাদত। ইকামাতে দ্বীনের কাজকে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য জামায়াতের সদস্যদের (রুকন) তাদের কৃত শপথের আলোকে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আল কোরআন নাজিল করা হয়েছে মানবজাতির হেদায়াতের জন্য। আমাদের জীবনে উত্থান-পতন, সফলতা-বিফলতা, বিপদ-আপদ অনেক কিছুই আসবে, এসব ধৈর্য্যের সাথে মোকাবেলা করে আল্লাহর গোলাম হবার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমাদেরকে আনুগত্যের সর্বোচ্চ নজির স্থাপন করতে হবে। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতেও ইকামাতে দ্বীনের কাজে সক্রিয় থেকে ইসলামের বিজয়কে তরান্বিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী ও বিজয়ী আন্দোলনে পরিণত করতে নিজেদের গণমুখী চরিত্রকে উদ্ভাসিত করতে হবে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণকে ইসলামী আন্দোলনের রাজধানীতে পরিণত করতে মহানগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সংগঠনকে সম্প্রসারণ ও মজবুত করতে হবে। নিজেদের পরিশুদ্ধ করে জান-মালের কুরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

সবুজ/এমএ/

প্রধানমন্ত্রী ভারতকে শুধু দিয়ে আসেন, কিছুই আনতে পারেন না : জামায়াত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী ভারতকে শুধু দিয়ে আসেন, কিছুই আনতে পারেন না : জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

প্রধানমন্ত্রী যখনই ভারতে যান তখন শুধু দিয়েই আসেন, কিছুই আনতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

তিনি বলেন, ‘এটা তার নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফসল। আওয়ামী লীগ সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা প্রতিবারই প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করে ভারতের হস্তক্ষেপে বারবার ক্ষমতায় আসে। ফলে জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে বরাবর ভারতকে তুষ্ট করে ক্ষমতায় থাকতে হয়।’ 

সোমবার (২৪ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু তিস্তাসহ ভারত-বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর পানির বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ব্যর্থতা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য পাওনা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এ অধিকারের সঙ্গে কৃষি, শিল্প, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ জড়িত। বাংলাদেশ সরকার অনির্বাচিত হওয়ার কারণেই অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ব্যাপারে দর-কষাকষিতে বারবার নতজানু নীতি ও দুর্বলতা প্রকাশ করে আসছে। প্রকৃত পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারত সরকারের অনীহার কারণেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে না।’ 

জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের পানি-সংরক্ষণের যে প্রস্তাব ভারত দিয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ভারতের নদী-সংযোগ প্রকল্প সম্পর্কে অবিলম্বে ভারতের নিকট বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবাদ জানানো উচিত। পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সুস্পষ্ট অভিমত হলো, ভারত-বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যাসহ আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত ভারতকে ট্রানজিটসহ যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা বন্ধ রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কলকাতা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন সার্ভিস এবং কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর জন্য ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে চুক্তি করেছেন তাতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন করেছেন।’ 

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে ৭১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৮:২০ পিএম
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে ৭১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন দেশের ৭১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে সোমবার (২৪ জুন) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতিতে সরকারের কাছে এ দাবি জানান তারা। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, মিথ্যা-বানোয়াট মামলায় সরকারের হয়রানির শিকার হয়ে বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্দি জীবনযাপন করার ফলে নানাবিধ স্বাস্থ্য জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন। যা বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। ৭৯ বছর বয়সী বেগম জিয়ার মেডিকেল টিম জানিয়েছেন, তার বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় যে ধরনের চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন তা দেশে সম্ভব নয়।

তারা আরও বলেন, মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছেন যে, খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।  ফলে তাকে বাঁচাতে হলে বিদেশে ‘অ্যাডভান্সড সেন্টার’-এ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। তার জীবনের এই সংকটকালে আমরা সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। 

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ, প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ, কবি আল-মুজাহেদী, প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, প্রফেসর ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার চৌধুরী, প্রফেসর এম রফিকুল ইসলাম, কবি আবদুল হাই শিকদার, এরশাদ মজুমদার, রুহুল আমিন গাজী, প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, প্রফেসর ড. সদরুল আমীন, অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, কাদের গনি চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, আলমগীর মহিউদ্দিন, প্রফেসর ড. ওবায়দুল ইসলাম (ঢাবি), প্রফেসর ড. মোহা. এনামুল হক (রাবি), ডা. ওয়াসিম হোসেন, প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান (ঢাবি), প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবীর (ঢাবি), প্রফেসর ড. ফজলুল হক (বাকৃবি), প্রফেসর ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান (ঢাবি), প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান (জাবি), প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ (রাবি), প্রফেসর ড. মীর্জা গোলাম হাফিজ কেনেডী (বাকৃবি), প্রফেসর ড. শামছুল আলম (জাবি), প্রফেসর ড. আল মোজাদ্দেদ আলফ সানী (ঢাবি), প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন (ইবি), আমিরুল ইসলাম কাগজী, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, খুরশীদ আলম, কবি হাসান হাফিজ, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, প্রফেসর ড. নছরুল কাদের (চবি), প্রফেসর ড. রেজাউল করিম (খুবি), প্রফেসর ড. সাজেদুল করিম (শাবিপ্রবি), অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান পান্না,  এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক (রুয়েট), প্রফেসর ড. দিল আরা হোসেন (রাবি), প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক (শাবিপ্রবি), প্রফেসর ড. নূর মহল বেগম (শেকৃবি) প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

খালেদা জিয়াকে সিসিইউ সুবিধা সম্বলিত কেবিনে স্থানান্তর

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৫৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম
খালেদা জিয়াকে সিসিইউ সুবিধা সম্বলিত কেবিনে স্থানান্তর
ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সিসিইউর সব সুবিধা সম্বলিত কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। 

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। বিএনপি চেয়ারপারসন সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। 

এর আগে গতকাল রবিবার (২৩ জুন) বিকেলে খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার সফলভাবে বসানো হয়। এরপর তাকে সিসিইউতে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পেসমেকার বসানোর পর তার শারীরিক অবস্থার আর অবনতি হয়নি। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের নতুন কিছু পরীক্ষার পর সোমবার দুপুরে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের গত ১২ ঘণ্টার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেন। এরপর বোর্ড সদস্যরা সিসিইউতে বেগম জিয়াকে দেখতে যান। আবার বৈঠকে করে তাকে কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। মেডিকেল বোর্ডের এই বৈঠকে লন্ডন থেকে বেগম জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিং পরানো হয়েছিল। সবকিছু পর্যালোচনা করে বিদেশি চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে পেসমেকার বসানো হয়েছে বলে তার চিকিৎসক গণমাধ্যমকে জানান। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মিজানুর রহমান/সালমান/

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন মঙ্গলবার

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৫ পিএম
বিএনপির সংবাদ সম্মেলন মঙ্গলবার
বিএনপি

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) সংবাদ সম্মেলন করবে বিএনপি। এদিন বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৪ জুন) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাসহ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরবেন বিএনপি মহাসচিব।

মিজানুর রহমান/সালমান/

রেল চলাচলের চুক্তি সার্বভৌমত্ববিরোধী : এবি পার্টি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৩ পিএম
রেল চলাচলের চুক্তি সার্বভৌমত্ববিরোধী : এবি পার্টি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন এবি পার্টির নেতারা। ছবি : সংগৃহীত

জনগণের সম্মতি ছাড়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর দিয়ে অন্য একটি দেশের ট্রেন চলাচলের চুক্তিকে সার্বভৌমত্ববিরোধী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। 

অভিযোগ করে দলটি বলছে, ‘একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনে ভারতের অনৈতিক সমর্থনের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ প্রতিদান হিসেবে গোপন প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দাসখত লিখে দিতে সরকার ভারতের সঙ্গে অন্যায্য চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এসব চুক্তিতে দেশের মানুষের কী লাভ বা স্বার্থ তা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।’

সোমবার (২৪ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে দলটির শীর্ষ নেতারা।

দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম প্রমুখ। 

লিখিত বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে গণবিরোধী চুক্তি করেছে সরকার। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে ভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা সংসদে তুলে ধরতে হবে কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনো তা করেনি। এই সংসদ যে ডামি সংসদ তাই সরকারের কাছেও কোনো গুরুত্ব নেই। সংসদে কেউ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নও করছে না। ব্লু ইকোনমির নামে দেশের সম্পদ ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

ভারতের সঙ্গে স্যাটেলাইট চুক্তির মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে স্পর্শকাতর তথ্য বিনিময়ের যে চুক্তি হয়েছে, সে সম্পর্ক জনগণকে অবহিত করতে হবে। বাংলাদেশ কারও পৈত্রিক সম্পত্তি নয়, দেশের স্বার্থরক্ষা হয়েছে কি না জনগণ জানতে চাই।’

লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, ‘ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া ও ট্রেন চলাচলের সুবিধা দিয়ে দেশের মানুষের কী লাভ বা স্বার্থ তা পরিষ্কার করতে হবে। নদীর পানি প্রবাহের আন্তর্জাতিক আইন কখনোই ভারত মানেনি। আমাদের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার। এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ 

মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, ‘এই সরকার গোপনে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ভারত বাংলাদেশ যত চুক্তি হয়েছে কোনোটাই ভারত বাস্তবায়ন করেনি। আমরা বেরুবাড়ি দিয়ে দিলাম কিন্তু আঙ্গোরপোতাহ পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়েছে। কাজেই ভারত কখনো বন্ধুত্বের কোনো পরিচয় রাখেনি।’ 

সভাপতির বক্তব্যে এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ‘অনির্বাচিত সরকার যে অন্যায় চুক্তি করেছে আমরা সেজন্য ধিক্কার জানাই। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করি, নিজেদের আত্মমর্যাদা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করি।’ 

সম্প্রতি কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠন বিবৃতি দিয়ে দুর্নীতিবাজদের পক্ষ নেওয়ার বিষয়টি অনৈতিক।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম নাজমুল হক, দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক মোহাম্মদ প্রিন্স, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী নাসির, উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কবির, সদস্যসচিব সেলিম খান প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/