বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) অন্যতম সবুজ ও নীরব ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে শব্দদূষণের মতো অসহনীয় পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দিন দিন ক্যাম্পাসের নীরবতা যেন কোলাহলে রূপ নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর, প্যারিস রোড, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হল এলাকায় শব্দদূষণ বেড়েই চলেছে। শব্দ দূষণের অনেকগুলো উৎস চিহ্নিত করা যায়। যেমন মাইক ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছাত্র সংগঠনের সভা-সমাবেশ, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের হর্ন। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে কনসার্ট হওয়ার কারণে মারাত্মক শব্দদূষণ হচ্ছে। কনসার্টে ব্যবহৃত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সাউন্ড সিস্টেম থেকে উৎপন্ন শব্দ অনেক সময় ৮০-১০০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যায়, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এসব কনসার্ট সাধারণত সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলায় আশপাশের হল ও আবাসিক এলাকায় পড়াশোনা ও বিশ্রাম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্ত শব্দের ফলে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি ও রিডিং রুমে পড়াশোনা করতে পারছেন না। বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যেও সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মনোযোগ কমে যায় এবং চাপ বেড়ে যায়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি ও আবাসিক হলের আশপাশে নো হর্ন জোন ঘোষণা করতে হবে। বিভিন্ন যানবাহনের শব্দমাত্রা পরীক্ষা ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে উচ্চ আওয়াজে মাইকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাকসু প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা করতে হবে।
লোটাস জাহাঙ্গীর
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]