ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি নাটোরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ ৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
Nagad desktop

কুমিল্লায় বন্যায় ঘরহারা মানুষের হাহাকার

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:০৩ এএম
কুমিল্লায় বন্যায় ঘরহারা মানুষের হাহাকার
বানের পানিতে ধসে যাওয়া ঘর। সোমবার ফেনী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়নের পর্ব কাছাড় গ্রামে। ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এতে বন্যায় ক্ষতির চিত্র ভেসে উঠছে। স্মরণকালের ভয়াবহ এ বন্যায় গোমতী নদীর ভাঙনের ফলে বুড়িচং উপজেলার বেড়িবাঁধসংলগ্ন অন্তত ছয়টি গ্রামের মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তা ছাড়া দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় ঘরের মালামাল সব নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরহারা এসব মানুষ হাহাকার করছেন। অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তারা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না। 

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বুড়িচং উপজেলায় গোমতীর ভাঙনকবলিত বুড়বুড়িয়া, বেড়াজাল, মহিষমারা, ইন্দ্রাবতী, খাড়াতাইয়া, নানুয়ার বাজারসহ আশপাশের এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে বন্যার ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। এসব এলাকার বেশির ভাগ সড়কই ভেঙে গেছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে আছে। ধসে পড়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। কিছু ঘর টিকে আছে। কিন্তু সেগুলোরও পড়ো পড়ো অবস্থা। বেশির ভাগ ঘরই কাত হয়ে আছে। আর ঘরের ভেতর থাকা আসবাব নষ্ট গেছে। ঘরে পলি মাটির স্তূপ। 

সোমবার দুপুরে বেড়াজাল গ্রামের বাসিন্দা বিলকিস বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বানের তোড়ে তার ভেঙে পড়া ঘর। বুক চাপড়াতে চাপড়াতে তিনি বলেন, ‘রাক্ষুসী বন্যায় আমার সব শেষ হয়ে গেল। ঘর নাই। ভেতরের মাল-সামনা সব নষ্ট। আমি ঘর পামু কই, থাকমু কই!’

একই চিত্র দেখা গেছে পার্শ্ববর্তী ইন্দ্রাবতী গ্রামের ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়ে। বন্যার পানিতে তার বসতঘরটিও মাটিতে মিশে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে বিশ্বজিৎ বিদেশে থাকে। তার পাঠানো সব টাকা দিয়ে ঘরটা বানাইছিলাম। বন্যায় ধইস্যা পড়ল। আমি বেকার মানুষ। এখন নতুন ঘর কেমনে বানাই! ছেলের বউ আর দুই নাতিকে নিয়ে যাব কোথায়?’

বিলকিস বেগম ও ধীরেন দাসের মতো বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অসংখ্য মানুষ এখন ঘরহারা। বন্যার পানি তো নামল, কিন্তু এই ক্ষত তারা সারাবেন কেমন করে? নতুন করে ঘর তুলতে হবে। ঘরের ধান-চাল সব নষ্ট হয়ে গেছে। 

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহিদা আক্তার বলেন, গোমতী নদীর ভাঙনের শিকার বুড়িচংয়ের ছয়টি গ্রাম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব গ্রামের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পুনর্বাসন করতে হবে দ্রুত। এই এলাকার মানুষের একসময় সবই ছিল। এখন তাদের অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তাদের মনোবলও ভেঙে পড়েছে। অনেকেই আগ্রাসী আচরণ করছেন। পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব দিয়ে মানসিকভাবেও প্রশান্তি দিতে হবে। বিষয়টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টার কাছে জানানো হয়েছে। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

জানা গেছে, চলমান বন্যায় কুমিল্লার ১৪ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। বুড়িচং অংশে গোমতী নদীর ভাঙন, ব্রাহ্মণপাড়া অংশে সালদা নদীর ভাঙন এবং সদর উপজেলা অংশে ঘুংঘুর নদীর ভাঙনের ফলে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ১৫ দিন পর পানি কিছুটা কমেছে। তাতেই ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। তা ছাড়া এখনো অনেক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।

মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে নিঃস্ব হাসিনা
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে অসংখ্য পরিবার। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।

এদের মধ্যে অন্যতম ফেনীর সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের পর্ব কাছাড় গ্রামের রুস্তম মিস্ত্রিবাড়ির হাসিনা আক্তার। গত ২১ আগস্ট জীবন বাঁচাতে বসতবাড়ি ছেড়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে অন্যের দোতলা বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরদিন সেখান থেকে এসে দেখেন তার শেষ সম্বল মাটিতে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। দিনমজুর স্বামী অটোরিকশা চালিয়ে পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনো রকম জীবিকা নির্বাহ করতেন। বন্যায় পরিবারের শেষ আশ্রয়স্থলটুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। গত ৮ দিন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন পার করছেন তারা।

হাসিনা আক্তার বলেন, ‘ঘর থেকে এক কাপড়ে বের হয়েছি। কোনো কিছু নিতে পারিনি। এসে দেখি পুরো ঘর মাটিতে ধসে গেছে। অনেক কষ্ট করে ঘরের জিনিসপত্র কিনেছি। কিন্তু আমার স্বপ্নের সংসার বন্যায় ভেসে গেছে।’ 

এদিকে বাড়িঘর হারানো মানুষদের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ শাহিনা আক্তার।

সরকারি বাসে বেসরকারি থাবা, পকেট ভরছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:১৫ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
সরকারি বাসে বেসরকারি থাবা, পকেট ভরছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) এখন যেন একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের অবাধ লুটপাটের চারণভূমি। সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও আধুনিকায়ন নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, স্রেফ পকেট ভারী করতে রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল পজ মেশিনের টিকিট বুকিং ব্যবস্থা। অ্যানালগ পদ্ধতিতে হাতে লিখে টিকিট বিক্রি করে যাত্রীপ্রতি বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার শাটল বাস থেকেও প্রতিদিন গায়েব করা হয়েছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।

এই প্রাতিষ্ঠানিক হরিলুটের পেছনে খোদ বিআরটিসি চেয়ারম্যান, পরিচালক ও অপারেশন্‌স বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের সরাসরি যোগসাজশ ও সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। 

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দায়িত্বশীলরা পুরো বিষয় সম্পর্কে ‘ওয়াকিবহাল’ এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও মাঠপর্যায়ে বহাল তবিয়তে রয়েছে এই চক্র।

বিতর্কিত পিএসের ‘ঘনিষ্ঠ’ মাহতাব সিন্ডিকেটের তাণ্ডব

রাজধানীর গুলিস্তান এবং ফুলবাড়িয়ায় এখন নির্দিষ্ট কোনো ডিপো নেই। সে কারণে কখনো মতিঝিল, কখনো যাত্রাবাড়ী বা অন্য ডিপো থেকে বাস এনে রুট পরিচালনা করা হচ্ছে। ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকে সেই বাসগুলো বিভিন্ন কোম্পানির ব্যানারে পরিচালনা করা হচ্ছে। এই বাসগুলোর মেরামত ও যন্ত্রাংশ সংযোজন; তেল নেওয়ার কাজগুলো দেখভাল করেন মতিঝিল বা যাত্রাবাড়ী ডিপোর কর্মকর্তারা। অথচ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বিআরটিসির কর্মকর্তাদের কাছে। রুটে বাস চলাচলে যে লভ্যাংশ অর্জিত হচ্ছে, তারও সঠিক হিসাব দিচ্ছে না ইজারাদার। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিআরটিসির অপারেশন্‌স বিভাগের ব্যবস্থাপক নূর-ই-আলম এবং উপ-ব্যবস্থাপক (নির্মাণ) মো. মনিরুজ্জামানের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় সেখানকার সি-ক্যাটাগরির চালক মো. মাহতাবুল ইসলাম ওরফে মাহতাব গড়ে তুলেছেন এক বিশাল সিন্ডিকেট। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত পিএস হাফিজুর রহমান লিকুর ‘ঘনিষ্ঠজন’ পরিচয়ে মাহতাব এখন গুলিস্তান-দাউদকান্দি এবং গুলিস্তান-নারায়ণগঞ্জ রুট একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। মাহতাবের সঙ্গী হিসেবে রনি ও বিল্লাহর নাম জানিয়েছেন একাধিক পরিবহন মালিক। বিআরটিসির শ্রমিক-কর্মচারী লীগের একসময়ের সহ-সম্পাদক মাহতাব এখন বিএনপি-সমর্থিত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এভাবেই তিনি বিআরটিসিতে চাকরি করেও সেই প্রতিষ্ঠানের বাসই ইজারা নিয়ে ‘সব মহলকে’ সন্তুষ্ট করে আলাদাভাবে ব্যবসা করছেন।

এখানেই শেষ নয়। গুলিস্তান-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস পরিচালনা করে ঢাকা নগর পরিবহন। মাহতাব সিন্ডিকেটের কারণে এই রুটে নির্বিঘ্নে বাস পরিচালনা করতে পারছে না ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ।

মাহতাব ও তার সঙ্গীরা একাধিকবার ঢাকা নগর পরিবহনের কাউন্টারে ভাঙচুর ও হামলা চালিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিসির আইডি কার্ড ধারণ করে এই হামলা চালানো হয়। এর কিছু ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করেছে খবরের কাগজ। নারায়ণগঞ্জে ঢাকা নগর পরিবহনের কাউন্টারে ভাঙচুরের পর ফতুল্লা থানায় জিডিও করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে মাহতাব খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঢাকা নগর পরিবহন কাউন্টারের কারণে আমরা বিআরটিসির বাস পরিচালনা করতে পারছি না। বিআরটিসির বাসের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে এই বাস। আমরা যাত্রী নেব না?’ ভাঙচুরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মধ্যে কোনো গ্যাঞ্জাম নাই। সব ঠিক আছে।’

বিআরটিসির বাস ইজারা নিয়ে পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো তো আমরাই (বিআরটিসির কর্মচারী) পরিচালনা করছি।’ এ সময় মাহতাবকে রনি ও বিল্লাহর মতো আরও ক’জন সঙ্গীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘তারাও আমাদের সঙ্গে থাকে। দাউদকান্দি ও নারায়ণগঞ্জ রুট চালাতে (পরিচালনা) একার পক্ষে কতটা সম্ভব?’ বিআরটিসির স্টাফ হয়ে কীভাবে নিজেই বাস ইজারা নিয়ে রুট পরিচালনা করছেন, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করেও তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।

ইজারার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি রুটে বাস পরিচালনা করছে বিআরটিসি। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত নিয়ম লঙ্ঘন করছে। যে রুটে এসব বাস পরিচালনা করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে (যাত্রী ও পণ্যপরিবহন কমিটি বা আরটিসি) কিছুই জানাচ্ছে না সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি। 

গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার অনিয়ম নিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিআরটিসির ম্যানেজার নূর-ই-আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি কোনো মন্তব্য করব না। কারণ আমি এই সেক্টরের (গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নই। বিআরটিসির নানা বিষয় নিয়ে যে অভিযোগ করছেন, তা নিয়ে বলার জন্য আমি যথোপযুক্ত ব্যক্তি নই। আমার মনে হচ্ছে, কেউ আপনাদের ভুল তথ্য দিচ্ছে। গত ৩৩ মাস ধরে বিআরটিসিতে আমি কোনো ডেস্কেই নেই।’ আরেক অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খবরের কাগজের বার্তার কোনো উত্তর দেননি।

ডিজিটাল সিস্টেম অচল করে অ্যানালগে ডাকাতি, জিম্মি সাধারণ যাত্রী

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যেখানে সরকারি গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জোর চেষ্টা চলছে, সেখানে বিআরটিসির ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তান সিবিএস-২ কাউন্টারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ডিজিটাল পস মেশিনের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি সচল থাকলেও হঠাৎ করে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

বর্তমানে সম্পূর্ণ অ্যানালগ পদ্ধতিতে হাতে লিখে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাতে লেখা টিকিট খবরের কাগজের হাতে এসেছে।

ফুলবাড়িয়ার বাস মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রা উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের অতিরিক্ত চাপকে কেন্দ্র করে কাউন্টারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিতেই এই কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা। 

বিআরটিসির অফিশিয়াল চার্ট অনুযায়ী ঢাকা-বরিশাল রুটে সর্বোচ্চ ভাড়া ৭৩০ টাকা নির্ধারিত। তবে কাউন্টারে টিকিট প্রতি ৮০০ টাকা বা তারও বেশি আদায় করা হচ্ছে। পস মেশিন সচল থাকলে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই অসৎ উদ্দেশ্য থেকে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি গাড়ি থেকে গড়ে ১৩ থেকে ১৪ হাজার অতিরিক্ত টাকা যাত্রীদের পকেট থেকে জোর করে নেওয়া হচ্ছে। এই টাকা কাউন্টারের লোকজন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে। এর ফলে সরকারি কোষাগার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। 

বিআরটিসির পরিচালক (প্রশাসন) রাহেনুল ইসলাম এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। বিআরটিসির বাসে শিগগির ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু হবে। 

বাণিজ্য মেলার শাটল বাসে ‘টিকিট জালিয়াতি’, রাজস্ব লুট 

৩০তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার দর্শনার্থীদের জন্য নিয়োজিত শাটল বাস সার্ভিস থেকে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিআরটিসির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এই চোর সিন্ডিকেটের পেছনে বিআরটিসির দুজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম ঘুরেফিরে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দায়িত্বপালনকারী বিআরটিসির বিভিন্ন বাসের ট্রিপ-শিট এবং টিকিট বিক্রির খতিয়ানও এসেছে খবরের কাগজের হাতে। 

এরপর বিআরটিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে খবরের কাগজ। তারা জানান, বাণিজ্য মেলার টিকিট জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেখভাল করছেন রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তারা মেলা প্রাঙ্গণ এবং কুড়িল বিশ্বরোড কাউন্টারে যান। সেখানে পজ মেশিন জালিয়াতি করে টাকা চুরি করেন। 

সাধারণ দিনগুলোতে ৬-৭টি মেশিন সারানো হলেও শুক্র, শনি এবং অন্য সরকারি ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়কে কাজে লাগিয়ে ৮ থেকে ১০টিরও বেশি পজ মেশিন এন্ট্রি ছাড়াই পরিবর্তন করা হয়।

এখানেই শেষ নয়, বাণিজ্য মেলায় বিশেষ শাটল বাস সার্ভিস চালু করতে ৫৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল। ব্যয়ের খতিয়ান থেকে দেখা যায়, বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করা হয়েছিল ডেকোরেশন ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনায়। এর মধ্যে লাইটিং ও ডেকোরেটর খাতে ১০ লাখ টাকা, বিবিধ খরচ ৮ লাখ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে বিআরটিসির সাধারণের মধ্যেও কৌতূহল রয়েছে।

বিআরটিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘২৯তম বাণিজ্য মেলায় ১৫ লাখ টাকার মতো উত্তোলন করা হয়েছিল। তাতেও টাকা বেঁচে গিয়েছিল। ৫৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে–এটা জেনে আমরাও অবাক হয়েছি।’

সব ভুয়া, সব মিথ্যা: বিআরটিসির চেয়ারম্যান

এসব অনিয়ম সম্পর্কে জানতে বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করে খবরের কাগজ। তাকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন পাঠানো হয়। এর তিন দিন পরে ফোনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা। কেউ আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এমন অভিযোগ দিচ্ছে।’ প্রতিবেদক তাকে এসময় জানান, বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ নথিতেই এসব অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে। তখন আব্দুল লতিফ মোল্লা রাগত স্বরে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘সব ভুয়া। ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে আপনি প্রশ্ন করছেন।’ পরে এই প্রতিবেদক তার কার্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে বার্তা পাঠান। কিন্তু তিনি তাতে সাড়া দেননি।

উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্প দুর্যোগে নিশ্চিত হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
দুর্যোগে নিশ্চিত হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়
ছবি: সংগৃহীত

আশ্রয়কেন্দ্রগুলো দুর্যোগকালে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করে প্রাণহানি ও সম্পদহানি কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জীবনরক্ষা সহজ হয়েছে। শুধু তাই নয়, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো স্কুল, মাদ্রাসা ও কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ফলে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় নিরাপদ ও আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে। তবে সব সৌরবিদ্যুৎ অকেজো হয়ে পড়েছে। ৩ বিভাগের ১৬ জেলার ৮৬টি উপজেলায় ‘উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ছয় বছরে অর্থাৎ ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এতে খরচ হয়েছে ৪৪৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আইএমইডি সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র ও সহায় সম্বলহীন জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগকালে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে বিগত শেখ হাসিনার সরকার ২০১৬ সালের ২০ জুলাই প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।

প্রধান প্রধান কাজ ধরা হয়– ২২০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পানি সরবরাহের জন্য প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১টি করে মোট ২২০টি গভীর নলকূপ স্থাপন, প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে দেড় হাজার ওয়াটের করে ২২০টি সোলার সিস্টেম স্থাপন, আশ্রয়কেন্দ্রে সহজে যাতায়াতের জন্য ২৯ কিলোমিটার আরসিসি অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ, প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রের পাশে দুর্যোগকালে গবাদি পশুর আশ্রয়ের জন্য ক্যাটল শেল্টার নির্মাণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রথমে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে খরচ ধরা হয়েছিল ৫৩৩ কোটি টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৩ বিভাগের ১৬ জেলার ৮৬টি উপজেলায় কাজও শুরু হয়।

জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলানা, বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ফেনী। পরে দুই বার সংশোধন করে ৩ বছর সময় বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুনে তা শেষ করা হয়। একই সঙ্গে খরচ বাড়িয়ে ধরা হয় ৫৫৬ কোটি টাকা।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সব কাজ শেষ হয়েছে। এতে ৩০৫টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রকৃত খরচ হয়েছে ৫৪৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৯৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। প্রকল্পটির এই আর্থিক বাস্তবায়ন সন্তোষজনক। প্রকল্পটি গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হলেও যথাযথ গভীরতা, বাস্তব চাহিদা নিরূপণের দিক থেকে পর্যাপ্ত ছিল না। আবার সময়মতো বাস্তবায়িত না হওয়ায় উপকারভোগী জনগণ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রত্যাশিত সুরক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আইএমইডি সম্প্রতি ১৬টি উপজেলায় সরেজমিন পরিদর্শন করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ১ হাজার জনের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পটির প্রভাব নিরূপণ করে খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ৯৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ফলে দুর্যোগকালে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হয়েছে, যা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল। ৫৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এগিয়েছে শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্র

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো স্কুল, মাদ্রাসা ও কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি একটি বহুমুখী সামাজিক অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হয়েছে। প্রায় ৭৯ শতাংশ পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্থানীয়ভাবে শিক্ষাগ্রহণ করেছে।

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমার প্রবণতা দেখা গেছে। ২৫০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে কোনো কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

এ ব্যাপারে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পল্লী জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক মো. হালিম উদ্দিন বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মিত হওয়ায় এলাকায় উল্লেখযোগ্য উপকার সাধিত হয়েছে। তবে সোলার প্যানেল অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অন্য আশ্রয়কেন্দ্রের শিক্ষকরাও একই মত প্রকাশ করেন।

ক্যাটল শেল্টার ব্যবস্থার মাধ্যমে গবাদি পশু ও গৃহস্থালির মূল্যবান সম্পদ সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পানিতে ভেসে যাওয়া, মৃত্যু, চুরি বা কম দামে বিক্রি করার মতো আর্থিক ক্ষতি তুলনামূলকভাবে অনেক কমেছে। কোন নেতিবাচক পরিবেশগত প্রভাব সৃষ্টি হয়নি। ১০০ শতাংশ মানুষই জানিয়েছেন তারা ঘূর্ণিঝড় ও অন্য দুর্যোগের সময় নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত একবার হলেও আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রে স্কুল ও মাদ্রাসা কার্যক্রম চলাকালে ফুচকা, ঝালমুড়ি, চা ও ছোট খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে।

৯১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন দুর্যোগকালে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তারা বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। ৯৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে গভীর নলকূপ কার্যকর রয়েছে। এটা নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে কাজ করছে। ৫৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন সামগ্রিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারে তারা অনেক সন্তুষ্ট।

৪ বছরেই সোলার প্যানেল অকার্যকর

১০০ ভাগ মানুষ জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপিত সব সোলার বিদ্যুৎব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোনো আলোর সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। চাঁদপুর সদরের চরফতেজংপুর ছালেহীয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কাম বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমেছে।

সোলার প্যানেল অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দেওয়ালে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এই জেলার দক্ষিণ মতলবের লামচরী উচ্চবিদ্যালয় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, রসুলপুর আন-নিছা দক্ষিণ মাদ্রাসার আশ্রয়কেন্দ্র, কালিকাপুর আদর্শ দাখিল বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, উত্তর মতলবের দুর্গাপুর জনকল্যাণ উচ্চবিদ্যালয় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের সোলার প্যানেলও অকার্যকর হয়ে গেছে।

এভাবে সব আশ্রয়কেন্দ্রের সোলার প্যানেল অকার্যকর হয়ে গেছে। অনেক আশ্রয়কেন্দ্রের পাম্পমোটর নষ্ট হয়ে গেছে। দেওয়াল স্যাঁতসেঁতে হয়ে প্লাস্টার উঠে গেছে। অতিবৃষ্টিতে জানালা দিয়ে রুমে পানি ঢুকে পড়ে। দেওয়ালে ফাটল।

পরিচালক নিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব

প্রকল্পটি ৫০ কোটি টাকার উপরে হওয়া সত্ত্বেও সরকারি পরিপত্র মেনে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ জন যুগ্ম ও অতিরিক্ত সচিবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় তিন তলাবিশিষ্ট এসব আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে।

এর ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তদারকি ও আন্তসংস্থার সমন্বয় কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৯টি অডিট আপত্তির একটি– চাঁদপুর জেলার আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়েছে।

প্রকল্পের সার্বিক ব্যাপারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘কোন প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় জনগণের জন্য এবং তাদের স্বার্থে। উপকূলীয় এলাকার জনগণের জন্য এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হয়েছে, শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে। এসব ভালো দিক। তবে কয়েক বছর যেতে না যেতেই সোলার প্যানেল অকার্যকর হয়ে গেছে। এটা নেতিবাচক দিক। দ্রুত তা সক্রিয় করা দরকার।’

চট্টগ্রাম নগরীর উন্মুক্ত নালা-খাল যেন মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
চট্টগ্রাম নগরীর উন্মুক্ত নালা-খাল যেন মৃত্যুফাঁদ
চট্টগ্রাম নগরীতে নিরাপত্তাবেষ্টনীবিহীন মহেশখাল। ছবিটি হালিশহরের বড়পোল এলাকা থেকে গতকাল তোলা। মোহাম্মদ হানিফ

চট্টগ্রাম নগরীর ৫৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ নালা ও খালের পাড়ে গত বছর বাঁশের বেষ্টনী দিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। লক্ষ্য ছিল বর্ষায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো। কিন্তু এক বছরের মাথায় সেই বেষ্টনীর বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় এর কোনো চিহ্নও নেই। ফলে বর্ষা শুরুর আগেই আবারও মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে এসব খাল ও নালা।

বাঁশের এসব বেষ্টনী ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। তবুও গত বর্ষায় তা নগরবাসীকে কিছুটা নিরাপত্তা দিয়েছিল। অনেকের মতে, স্থায়ী সমাধান না হলেও এগুলো কিছুটা কাজে এসেছিল। অন্তত দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমেছিল। কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমে সেই অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থাও আর নেই। ফলে খাল ও নালার পাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পথচারী, শিশু ও স্থানীয় বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। নগরবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার সময় আবারও দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে দ্রুত স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরে একের পর এক নালা-খালে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। গত বছর নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ নালা ও খালের তালিকা তৈরি করে চসিক। তখন ৫৬৩টি স্থানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব স্থানে বাঁশের বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছিল। কোথাও কোথাও বাঁশ ও লাল ফিতা দিয়ে অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তাতেও প্রাণহানি পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। এ পদক্ষেপের এক বছরের মাথায় নষ্ট হয়ে হারিয়ে গেছে সেই বেষ্টনীগুলো।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের হালিশহরের বড় এলাকায় খালের পাড় ঘেঁসে দেওয়া হয়েছিল বাঁশের বেষ্টনী। বুধবার সকালে গিয়ে সেই বেষ্টনীর অস্তিত্ব দেখা যায়নি। বর্ষার সময় নগরের খাল-নালাগুলো পানিতে ভরে যায়। অনেক সড়ক ও খাল পানিতে একাকার হয়ে যায়। তখন কোনটি রাস্তা আর কোনটি খাল, তা বোঝা যায় না। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

বায়েজিদ থানা সড়কের শেরশাহ খালের সেতু থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায় বাঁশের বেষ্টনী ছিল। রহমান নগর এলাকাতেও একই ব্যবস্থা  ছিল। এখন সেগুলো আর নেই। খালটির পশ্চিম পাশে একটি সড়ক রয়েছে। বায়েজিদ শিল্প এলাকার কারখানা ছুটি হলে সড়কটি খুব ব্যস্ত হয়ে ওঠে। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা দ্রুতগতিতে চলাচল করে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষায় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি এড়ানো কঠিন হবে।

বায়েজিদ এলাকার পোশাককর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘ঝুঁকি কমাতে বাঁশের বেড়া ছিল। এখন সেটিও নেই। জলাবদ্ধতা হলে মানুষ অন্তত বাঁশের খুঁটি দেখে চলাচল করতে পারত। এতে কিছুটা উপকার পাওয়া গিয়েছিল। এখন ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।’

একই এলাকার মুদির দোকানদার মোহাম্মদ সেলিম বলেন, খালের পাশে রাস্তার উন্নয়ন করে স্থায়ী বেষ্টনী দেওয়া দরকার। নালা-খাল নিরাপদ করা দরকার। রহমান নগর এলাকায় বৃষ্টি হলেই খালের পানি সড়কের ওপর উঠে আসে। আগে বাঁশ থাকায় মানুষ তা ধরে পার হতে পারত। এখন সেই সুযোগও নেই। নালা সংস্কারও হয়নি। উন্মুক্ত খালটি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, উন্মুক্ত খাল ও নালাকে নিরাপদ করতে হবে। লোহার রেলিং দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে প্রাণহানি না ঘটে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত বছর আমরা চট্টগ্রামের নালা ও খালে ৫৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান খুঁজে পাই। এর মধ্যে অনেক স্থানে স্থায়ী বাঁধ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ খাল বা নালা এখনো রয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবারও নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে চকবাজার এলাকায় মায়ের কোলে থাকা ছয় মাস বয়সী শিশুসহ তিনজনকে নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হিজড়া খালে পড়ে যায়। শিশুটির মা সালমা বেগম ও দাদি আয়েশা বেগম খাল থেকে উঠতে পারলেও শিশু সেহরিশকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে সিটি করপোরেশন। বৃষ্টির পানি বা জোয়ারের সময় অরক্ষিত খাল, নালা ও ড্রেনে পড়ে প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর তালিকা করা হয়। এরপরও একই বছরের ৯ জুলাই হালিশহর এলাকায় নালায় পড়ে হুমায়রা নামে তিন বছরের আরেক শিশু মারা যায়।

চসিকের তালিকা অনুযায়ী, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৫৬৩টি জায়গাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ১ নম্বর জোনে ৪৭টি, ২ নম্বর জোনে ৭৮টি, ৩ নম্বর জোনে ৬৮টি, ৪ নম্বর জোনে ৭৪টি, ৫ নম্বর জোনে ৩৩টি এবং ৬ নম্বর জোনে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত হয় ২৬৩টি। তালিকা অনুযায়ী, দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে ৮৬৩টি স্ল্যাব বসাতে হবে। এ ছাড়া বেষ্টনী নেই ১৫৬টি জায়গায়। সেখানে নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত নগরের খাল, নালা ও নর্দমায় পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে একজন, ২০১৮ সালে একজন, ২০২১ সালে পাঁচজন, ২০২২ সালে একজন, ২০২৩ সালে তিনজন, ২০২৪ সালে তিনজন এবং ২০২৫ সালে দুজন মারা গেছেন।

এর আগে ২০২১ সালের অক্টোবরে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ খাল, নালা-নর্দমার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিল সিটি করপোরেশন। সেই তালিকায় দেখা যায়, ৪১টি ওয়ার্ডে খাল, নালা ও নর্দমার মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৩৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়া খালের পাড় রয়েছে ১৯ হাজার ২৩৪ মিটার। এ ছাড়া ৫ হাজার ৫২৭টি উন্মুক্ত নালা রয়েছে। সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এখনো অনেক জায়গায় নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মজুমদার বলেন, খাল ও নালাকে নিরাপদ করার দায়িত্ব মূলত সিটি করপোরেশন ও সিডিএর। প্রাণহানি রোধে উন্মুক্ত স্থানগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণ করা জরুরি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলেন, নগরের নালা ও খালগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। বর্ষাকালে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, এটিও সত্য। এ বিষয়ে চসিক মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে আবারও নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। কিছু কাজ চসিক করবে, কিছু কাজ আমরা করব।

জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশ: গরম বাড়বে বৃষ্টি কমবে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:১০ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ এএম
জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশ: গরম বাড়বে বৃষ্টি কমবে
ছবি: খবরের কাগজ

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের আগুনে ঘি ঢালতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সক্রিয় হচ্ছে ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিপজ্জনক ধাপ ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ থেকে উঠে আসা এই উষ্ণ জলরাশি এবার ‘সুপার এল নিনো’ বা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

বৈশ্বিক এই মহাবিপর্যয়ের সমান্তরালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে বন উজাড় ও জলাশয় ভরাটের মতো আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ আবহাওয়া, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডব্লিউএমওর সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে (নভেম্বর পর্যন্ত) এই এল নিনো প্রবল শক্তিশালী থাকবে, যার ফলে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে চরম তাপমাত্রা বিরাজ করবে। তবে ডব্লিউএমওর তীব্র সতর্কতার বিপরীতে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু চক্রের চেয়েও দেশের ভেতরের মানবসৃষ্ট স্থানীয় বিপর্যয়গুলোই এই দাবদাহকে মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।

দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের পেছনে বৈশ্বিক কারণগুলোর চেয়ে স্থানীয় কারণ তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে বন উজাড় ও জলাশয় ভরাটকেই প্রধান দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের আবহাওয়া ও অর্থনীতির ওপর তাপপ্রবাহের প্রভাব নিয়ে গতকাল খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৈশ্বিক ‘এল নিনো’র প্রভাবে দেশে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমতে পারে।

স্থানীয় কারণ ও ‘হিট আইল্যান্ড’ সংকট

অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে ঋতুগত পরিবর্তন অনেক বেশি চরম রূপ ধারণ করেছে। এর পেছনে বৈশ্বিক কারণ থাকলেও বাংলাদেশের জন্য স্থানীয় কারণগুলোই বড় সংকট।’ তিনি জানান, গত ৩০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৩০০ কোটি বেড়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর আবাসন ও শিল্পায়নের জন্য নির্বিচারে বনাঞ্চল ধ্বংস করায় স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী ‘মাইক্রো ক্লাইমেট’ হারিয়ে গেছে।

রাজধানী ঢাকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা এখন একটি ‘হিট আইল্যান্ড’ বা তাপদ্বীপে পরিণত হয়েছে। পুরো শহর কংক্রিটে ঢেকে যাওয়ায় এবং জলাশয় না থাকায় দিনের বেলা এগুলো মরুভূমির মতো তাপ শুষে রাখছে। ফলে থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৩৩-৩৫ ডিগ্রি হলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ‘ফিলিং টেম্পারেচার’ বা অনুভূত তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির মতো দেখায়, যা মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় মানুষ অনবরত ঘামছেন এবং গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে মেগাসিটির বস্তিবাসী ও রিকশাচালক, হকার বা দিনমজুরের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

তবে চলতি বছরের আবহাওয়াকে পুরোপুরি ‘অস্বাভাবিক’ বলতে নারাজ অধ্যাপক কবির। তার মতে, এপ্রিল-মে মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে অনুভূত হওয়া আমাদের দেশের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

তবে এবারের ব্যতিক্রম ছিল বৃষ্টির ধরনে–জুনের বর্ষা শুরুর আগেই গভীর রাত বা ভোরে কালবৈশাখীর কারণে গ্রীষ্মের নির্ধারিত ১৫ শতাংশ বৃষ্টির কোটা ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বর্ষা শুরু হলে এই গরমের চক্র কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অর্থনীতি ও কৃষিতে দ্বিমুখী আঘাত

তাপপ্রবাহের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, এই পরিস্থিতি দেশের কৃষি ও শিল্প খাতকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আগে কেবল দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরাপ্রবণ থাকলেও এখন মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও প্রচণ্ড গরম পড়ছে, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।

তীব্র গরমের কারণে এসি ও ফ্যানের ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি ও লোডশেডিং হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদনের ওপর।

অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরও এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘দেশের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। তীব্র গরমে শ্রমজীবী মানুষ অসুস্থ হলে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়, যা অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি ডেকে আনে।’

কৃষি খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, অনাবৃষ্টির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে গভীর নলকূপ ব্যবহার করছেন। এতে সরাসরি উৎপাদন হয়তো ব্যাহত হচ্ছে না, তবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে এবং সেচ দিতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এল নিনোর প্রভাবে কমতে পারে বৃষ্টি: আবহাওয়া অধিদপ্তর

‘এল নিনো’র কারণে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম গতকাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘এল নিনো পরিস্থিতির কারণে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে বৃষ্টিপাত একেবারে বন্ধ হবে না, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশে স্বাভাবিকভাবে ১০০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত প্রত্যাশা করা হলে এল নিনোর প্রভাবে তা হয়তো ৮০০ বা ৯০০ মিলিমিটার হতে পারে।’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই বায়ুমণ্ডলীয় চক্রকে আবহাওয়াবিজ্ঞানের ভাষায় ‘এনসো’ বলা হয়। এর তিনটি ধাপ রয়েছে। শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘এল নিনো সক্রিয় থাকলে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত কমে লা নিনা সক্রিয় থাকলে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রচুর বৃষ্টি হয় এবং নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ অবস্থায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ একদম স্বাভাবিক থাকে।’

বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু: হতভম্ব নাগরিক সমাজ

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু: হতভম্ব নাগরিক সমাজ
ছবি: ভিডিও থেকে

৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে এবং এক কন্যাসন্তান। চার সন্তানই উচ্চশিক্ষিত। কেবল তা-ই নয়, পেশায় উচ্চপদস্থ অবস্থানের পাশাপাশি সমাজের উঁচুস্তরে তাদের বসবাস। ছেলেদের একজন বুয়েটের অধ্যাপক, একজন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) এবং অন্যজন কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। একমাত্র মেয়ে স্কুলশিক্ষিকা। কিন্তু গর্ভধারিণী মা মরে ঘরে পড়ে রইলেন, দেখলেন না তার কোনো সন্তান। এমনকি মরদেহ পচে-গলে যখন পোকায় খাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে–তখনো হতভাগ্য মায়ের অবস্থা সম্পর্কে জানেন না সন্তানরা। অবশেষে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে নুরজাহান বেগমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

গত রবিবার দিনগত রাতে রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার নিজ বাড়ির একটি ফ্ল্যাটের কক্ষ থেকে পুলিশ ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, আনুমানিক ৮ থেকে ১০ দিন আগে নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ওই বৃদ্ধার প্রতি সন্তানদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ধিক্কার জানাতে দেখা যায় অনেক সাধারণ মানুষকে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নুরজাহান বেগমের তিন ছেলের মধ্যে একজন হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, আরেকজন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) ড. এ কে এম আনিসুর রহমান এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী এ কে এম আতিকুর রহমান। একমাত্র মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা ঢাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন পদস্থ কর্মকর্তা গতকাল খবরের কাগজকে বলেন, বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু তার মৃত্যু যে ধরনের পরিবেশে হয়েছে এবং মরে যেভাবে কয়েক দিন ধরে পড়ে ছিলেন, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কেননা, স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই বৃদ্ধার চার সন্তানই উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে রয়েছেন। অথচ তাদের গর্ভধারিণী মায়ের এভাবে মৃত্যুর বিষয়টি কষ্টদায়ক। 

এ প্রসঙ্গে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির গতকাল মঙ্গলবার খবরের কাগজকে বলেন, অনেক বছর আগেই স্বামী হারিয়েছেন বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম। তিনি এবং তার মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা পল্লবীর ওই বাসায় থাকতেন। মেয়ে ফাতিমার স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, তিনিও কিছুদিন আগে মারা গেছেন। মা-মেয়ে পাশাপাশি দুই কক্ষে থাকলেও মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নাকি মেয়ে টের পাননি–পুলিশের কাছে এমনই মন্তব্য করেন ফাতিমা নাসরিন। তা ছাড়া নুরজাহান যে কক্ষে থাকতেন বা মরদেহ পড়ে ছিল, সেখানকার স্যাঁতসেঁতে ও পরিত্যক্ত আবর্জনার মতো পরিবেশ দেখে মেয়ে ফাতিমা নাসরিনকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা মারা যাওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘরে পচছিলেন, অথচ পাশের কক্ষে থেকেও তিনি কোনো গন্ধ পাননি কিংবা মায়ের খোঁজ নেননি, বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এমন পরিবেশে কীভাবে তাদের মা বসবাস করছিলেন বা মেয়েও সেখানে থাকলেন, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটে কোনো পুরুষ মানুষ থাকতেন না। বৃদ্ধা মা ও মেয়ে একসঙ্গেই এই ফ্ল্যাটে আলাদা দুটি কক্ষে থাকতেন। বৃদ্ধার কক্ষটি ছিল অনেকটাই বসবাসের অযোগ্য। কক্ষজুড়ে ময়লা-আবর্জনা ও মেঝেতে শেওলা জন্মেছিল। বিছানার ওপরই পড়ে ছিল বৃদ্ধার মরদেহ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত বৃদ্ধার চার সন্তানই উচ্চপদস্থ ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলেও ছেলেরা মায়ের কোনো খোঁজখবর রাখতেন না। বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েটের শিক্ষক ছেলে একবার ঘটনাস্থলে এবং একবার থানায় গেলেও মোংলা বন্দরে কর্মরত যুগ্ম সচিব ছেলেটি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আসেননি। বৃদ্ধার সন্তানদের নিজেদের মধ্যেও ভালো সম্পর্ক ছিল না বলেও জানা যায়। 

গতকাল বৃদ্ধার সন্তানদের বিস্তারিত পরিচয় জানার পর দুই ছেলে আশিকুর রহমান এবং আনিসুর রহমানের সঙ্গে তাদের মুঠোফোন নম্বরে কল দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বারবার কল করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। অন্যদিকে গতকাল পল্লবীর ওই বাসায় গিয়ে নুরজাহানের মেয়ে ফাতিমা নাসরিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কারোর সঙ্গেই কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি বাসার ভেতরেও কাউকে প্রবেশ করতে দেননি।