চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে সসেজ, চিকেন ডাম্পলিং এবং কেকের মতো বিভিন্ন খাবারে 'মানুষের দাঁত' পাওয়ার একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। গুঞ্জন উঠেছে, এসব খাদ্যদ্রব্যে মানুষের দেহাবশেষ বা মাংস আছে বলে অনেকেই সন্দেহ করছেন।
খাদ্যদ্রব্যে 'মানুষের দাঁত' পাওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে আসার পর জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এই প্রতিবেদনগুলো খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিলিন প্রদেশের (উত্তর-পূর্ব অঞ্চল) একজন মহিলা ১৩ অক্টোবর রিপোর্ট করেছেন যে তিনি তার বাচ্চার জন্য কেনা একটি সসেজের ভেতরে ৩টি সংযুক্ত কৃত্রিম মানব দাঁত পেয়েছেন। তিনি বাইরের একটি স্টল থেকে গ্রিলড সসেজটি কিনেছিলেন।
বিক্রেতা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে শিকার করতে বাধ্য হয় যে, বিক্রির সময় সসেজে দাঁতগুলো ছিল। এরপর স্থানীয় বাজার তত্ত্বাবধান কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের পর সেই বিক্রেতা ক্ষমা চান।
ঠিক একই দিনে, দক্ষিণ গুয়াংডং প্রদেশের ডংগুয়ান শহরের আরেক মহিলা অভিযোগ করেন যে, তার বাবা সানজিন স্যুপ ডাম্পলিংয়ের ভেতরে দুটি মানুষের দাঁত আবিষ্কার করেছেন। মহিলাটি এও নিশ্চিত করেছেন যে, সেই দাঁতগুলো তার বাবার নয়।
রেস্তোরাঁটি জানায়, তাদের ডাম্পলিংগুলো কোম্পানির কেন্দ্রীয় স্টল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এবং থালাটিতে দাঁতগুলো কীভাবে দেখা গেল তা তারা ব্যাখ্যা করতে পারেনি।
এর একদিন পর, সাংহাইয়ের একটি স্যামস ক্লাব আউটলেটে, আরেকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন যে, তিনি আখরোটের কেকে আটকানো অবস্থায় একটি মানুষের দাঁত পেয়েছেন।
২০টিরও বেশি চীনা শহরে স্যামস ক্লাবের ৫০টিরও বেশি শাখা রয়েছে এবং এটি উচ্চমানের খাবার সরবরাহ করে এমন একটি কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত।
তাদের ৫২০ গ্রামের একটি বাক্সের কেকের দাম প্রায় ৪ ডলার। এই গ্রাহক তার মিষ্টিটি দোকানে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার জন্য গেলে দোকানের ব্যবস্থাপনা তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৪০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর এ নিয়ে সাংহাই পুডং নিউ ডিস্ট্রিক্টের বাজার তত্ত্বাবধান বিভাগ একটি তদন্ত শুরু করেছে।
চীনে খাবারে মানুষের কৃত্রিম দাঁত পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০২২ সালে, একজন মহিলা জানিয়েছিলেন যে তার চাচা ফুজিয়ান প্রদেশের স্যাম ক্লাবের স্বাক্ষরযুক্ত সুইস রোলের ভেতরে ৩টি দাঁত আবিষ্কার করেছিলেন।
এই ঘটনাগুলো চীনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। চাইনিজ নেটিজেনরা খাবারে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবোতে একজন ব্যবহারকারী বলেছন, "আমি আশা করি এসব খাবারে মানুষের মাংস মেশানোর কোনও ভৌতিক গল্প নয়।"
এদিকে, পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে খাদ্য বিক্রেতারা শুধু গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমেই এই বিতর্ক শেষর করতে চেয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনও তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেনি।
সুলতানা দিনা/