দেশের বাইরে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট থাকতেই হবে। পাসপোর্ট ছাড়া দেশের বাইরে ভ্রমণ অসম্ভব ব্যাপার। প্রায় ১০২ বছর আগেই বিশ্বে পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু হয়েছে। দেশের প্রায় সব নাগরিকের পাসপোর্ট থাকা খুবই জরুরি। রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত, সরকারি কর্মকর্তারা সবাই যখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করেন, তখন তাদের সবাইকে কিন্তু অবশ্যই কূটনৈতিক পাসপোর্ট বহন করতে হয়।
আগেকার যুগে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে এমন কোনো চুক্তি ছিল না যে, এক দেশের নাগরিক যখন অন্য দেশে যাবে, তখন তার কাছে কোনো কাগজপত্র থাকতে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ই প্রতিটি দেশ পাসপোর্টের মতো পদ্ধতি তৈরির গুরুত্ব বুঝতে শুরু করে।
১৯২০ সালে হঠাৎ সবকিছু বদলে যায়। অবৈধ অভিবাসীদের দেশে প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে পাসপোর্টের মতো ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। লিগ অব নেশনসে এটা নিয়ে জোর আলোচনা হয়। এরপর ১৯২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নতুন পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করে।
এখন পাসপোর্ট অন্য দেশে ভ্রমণকারী ব্যক্তির জন্য একটি সরকারি পরিচয়পত্রে পরিণত হয়েছে। এতে তার নাম, ঠিকানা, বয়স, ছবি, নাগরিকত্ব ও স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার এটি একটি সহজ পদ্ধতিও হয়ে উঠেছে। এই অভ্যাসটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সমস্ত দেশ এখন ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে।
পৃথিবীর ২০০টিরও বেশি দেশে ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে, শুধু তিনজন ব্যক্তিরই শুধু কোথাও ভ্রমণে কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই। শুধু তিনজন বিশেষ ব্যক্তির জন্য ছাড়। এই তিন ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণে গেলে তাদের কাছে পাসপোর্টের কথা কেউ জিজ্ঞেসও করে না। তাদের অতিরিক্ত আতিথেয়তা এবং পূর্ণ সম্মানও দেওয়া হয়। এই তিনজন হলেন- ব্রিটেনের রাজা, জাপানের রাজা এবং রানি। চার্লস ব্রিটেনের রাজা হওয়ার আগে রানি এলিজাবেথ এই সুবিধা পেতেন।
চার্লস ব্রিটেনের রাজা হওয়ার পর তার সেক্রেটারি তার দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে সব দেশে একটি বার্তা পাঠান। চার্লস যেহেতু এখন ব্রিটেনের রাজা, তাই তাকে সম্মানের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হোক। এতে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে। এর পাশাপাশি প্রটোকলের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
তবে ব্রিটেনের রাজা এই সুবিধা বা অধিকার পেলেও, তার স্ত্রী কিন্তু তা পান না। অন্য দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার কাছে ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট থাকা আবশ্যক। একইভাবে রাজপরিবারের প্রধান ব্যক্তিদের কাছেও ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট থাকতে হবে। তাদের যেকোনো দেশের বিমানবন্দরে যাওয়া-আসার পথ আলাদা।
এলিজাবেথ যখন রানি ছিলেন তখন তিনি বিনা পাসপোর্টে ভ্রমণের বিশেষ সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপের ছিল কূটনৈতিক পাসপোর্ট। ব্রিটেনে প্রথম সম্মান দেওয়া হয় রাজকীয় সিংহাসনে বসা ব্যক্তিকে। এখন মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, কেন এই তিনজন বিশেষ এই সুবিধা পান।
জাপানিদের ভিসা ফ্রি প্রবেশাধিকার আছে ১৯৩টি দেশে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট জাপানের রয়েছে। জাপানের বর্তমান সম্রাট নারুহিতো ও তার স্ত্রী মাসাকো ওয়াদা জাপানের সম্রাজ্ঞী। তারা উভয়ই এই সুবিধা পেয়ে থাকেন। পিতা আকিহিতো সম্রাট পদত্যাগ করার পর তিনি এই পদ গ্রহণ করেন। ৮৮ বছর বয়সী আকিহিতো ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাপানের সম্রাট ছিলেন। এরপর তিনি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাই এখন বিদেশ ভ্রমণের সময় তাদের কনস্যুলার পাসপোর্ট বহন করতে হবে। জাপানের কূটনৈতিক নথি ঘেঁটে জানা যায় যে, ১৯৭১ সাল থেকে দেশের সম্রাট এবং সম্রাজ্ঞীর জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা শুরু করে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।
বিশ্বের সব প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি যখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে যান, তখন তাদের ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হয়। তবে তারা নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সামনে তাদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয় না। এমনকি নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং অন্যান্য পদ্ধতি থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাদের। ইন্টারনেট অবলম্বনে
তারেক
.jpg)