জলপ্রপাত এক প্রাকৃতিক বিস্ময় এবং সৌন্দর্য। পৃথিবীতে অনেক বিখ্যাত জলপ্রপাত আছে। মানুষ সেসব জলপ্রপাত দেখতে যায়। বিস্ময়ের সৃষ্টি করে কিছু কিছু জলপ্রপাত। কিন্তু মরিশাস দ্বীপের এই জলপ্রপাত মানুষের মনে বিস্ময়ের চেয়ে বেশি কিছু জাগাবে। কেননা মরিশাসে আছে অত্যাশ্চর্য জলপ্রপাত ‘আন্ডারওয়াটার ওয়াটারফল’। অর্থাৎ পানির নিচেই জলপ্রপাত। এই ডুবন্ত জলপ্রপাত ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে স্থান পেয়েছে।
আফ্রিকার পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ২০০০ মাইল পূর্বে কিছু মহাসাগরীয় দ্বীপ আছে। পানির নিচে একটি সাবমেরিন মালভূমি টিকে আছে, যা মাসকারিন মালভূমি নামে পরিচিত। উত্তরে সেশেলস এবং দক্ষিণে ম্যাসকারিন দ্বীপপুঞ্জ। দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মরিশাস। মরিশাস প্রজাতন্ত্র আফ্রিকার একটি দ্বীপদেশ। প্রজাতন্ত্রের জনসংখ্যা ১.৩ মিলিয়ন, যাদের অধিকাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বাকি লোকেরা ক্রেওল, চাইনিজ, ফ্রেঞ্চ, ইংরেজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। দেশটির সরকারি ভাষা ইংরেজি। এই দ্বীপে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক নিদর্শনগুলোর একটি। পানির নিচে আছে জলপ্রপাত।
জলপ্রপাতটি মরিশাসের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে লে-মরনে ব্রাবান্টের সুন্দর উপকূলে অবস্থিত। দক্ষিণ উপকূলটি মরিশাসের সবচেয়ে বিলাসবহুল অংশ হিসেবে পরিচিত। কারণ এর আকর্ষণীয় সাদা সৈকত, বিশ্বমানের হোটেল এবং সুন্দর পাহাড়ে ঘেরা। মরিশাস দ্বীপ ভ্রমণ করতে গেলে অবশ্যই পানির নিচের জলপ্রপাত দেখা উচিত। কিন্তু জলপ্রপাতটি দেখতে হলে উঁচু জায়গা থেকে দেখতে হবে। হেলিকপ্টার বা বিমান থেকে দেখতে হবে কিংবা পাহাড়ে উঠতে হবে।
এই ডুবন্ত জলপ্রপাত দেখতে বিশাল জলপ্রপাতের মতো মনে হলেও আদতে এটি সম্পূর্ণ চোখের বিভ্রম। দেখতে বাস্তব মনে হলেও, এটি আসলে বালু এবং পলি জমার ফলে ঢাল বেয়ে পানি নিচে নেমে যাওয়ার কারণে এমন দেখায়। বালু এবং পলি জমার ফলে ঢাল বেয়ে নিচে নেমে যাওয়ার কারণে মনে হচ্ছে- কোনো ড্রেন সৃষ্টি হয়েছে কিংবা পানি জলপ্রপাতে দ্রুত বেগে ছুটছে। এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা হেলিকপ্টারে করে প্রাকৃতিক এই বিস্ময় উপভোগ করেন। হেলিকপটারে শুধু ডুবন্ত জলপ্রপাত নয়, মরিশাস দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করা যাবে। এই ডুবন্ত বিভ্রম জলপ্রপাতটি প্রায় ৪০০০ মিটার গভীর, তবে এখানে সাঁতার কাটা যায়।
তারেক
.jpg)