ঢাকা ১১ বৈশাখ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

রিকন্ডিশনড গাড়ি কিনতে জানতে  হবে অকশন শিট

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৬ পিএম
কিনতে জানতে  হবে অকশন শিট

রিকন্ডিশনড বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি দেখতে একেবারে ঝা চকচকে নতুন গাড়ির হয় না। তবে দেখেশুনে কিনলে এই গাড়িগুলোও অনেক দিন ব্যবহার করা যায়। যা একদিকে বিলাসিতাও হবে, অপরদিকে পকেটকেও খানিকটা আরাম দেবে। বেশ কিছু সময় ব্যবহারের পর রিপেয়ার করে বাজারে  আসে রিকন্ডিশনড গাড়ি। এসব গাড়ি ১ থেকে ৫ বছরের পুরোনো হয়ে থাকে। আর এই রিকন্ডিশনড গাড়ি কিনতে যাচাই করে নিন অকশন শিট। জানাচ্ছেন আবরার জাহিন

অকশন শিট

জাপান থেকে বাংলাদেশে রিকন্ডিশনড গাড়ির সিংহভাগ আসে। আপসহীন মানের জন্য জাপানি গাড়ির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কয়েক বছর ব্যবহারের পর জাপানিরা গাড়ি পরিবর্তন করে নতুন গাড়ি কেনেন। এর ফলে দেশটিতে নির্দিষ্ট সময় পর অনেক গাড়ি জমে যায়। এসব গাড়িই জাপানে অকশন বা নিলামে তোলা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো রিকন্ডিশনড গাড়ি হিসেবে দেশে আসে।

খুঁটিনাটি তথ্য ও ছবিসহ রিকন্ডিশন গাড়ি অকশন হাউসে রাখা হয়। একটি কাগজেই গাড়ির সব তথ্য থাকে। যেন কাগজগুলো পড়ে যে কেউ গাড়ি সম্পর্কে চটজলদি স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন। গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় একটি গাড়ি দেখতে দু-তিন মিনিটের বেশি সময় পাওয়া যায় না। জাপানিদের তৈরি অকশন শিট দেখে যে কেউ গাড়ি কিনতে পারেন। কারণ অকশন শিটে হুবহু গাড়ির নির্ভুল বর্ণনা দেওয়া থাকে। বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই এসব গাড়ি হাজার হাজার মাইল চালানো যায়। জাপানি রিকন্ডিশনড গাড়ির মান ভালো হওয়ায় ইউরোপ বা আমেরিকার গাড়ির তুলনায় দাম বেশি থাকে।

অকশন শিট দেখলে আপনার রিকন্ডিশন গাড়ি চোখে দেখারও প্রয়োজন পড়বে না। অকশন শিটে একটি গাড়ির সবকিছুর বিশদ বর্ণনা দেওয়া থাকে। যা দেখে আপনি গাড়িটি কিনতে পারবেন। অকশন শিটে গাড়ির মাইলেজের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

যেমন- একটি গাড়ি যদি ১০ হাজার কিমি. চলে তাহলে সেটার দাম বেশি হবে আর ৫০ হাজার কিমি মাইলেজের গাড়ির দাম কম হবে। তবে বাংলাদেশে অকশন শিটগুলো দেখার সময় অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নেবেন। তাহলে ঠকে যাওয়ার চিন্তা থাকবে না।

রিকন্ডিশন গাড়ি গ্রেডের ব্যাখ্যা

সাধারণত অকশন শিটে গাড়ির গ্রেডিং তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। প্রথমত, এক্সটেরিওর বা গাড়ির বাইরের বিষয়; দ্বিতীয়ত, ইন্টেরিওর বা ভেতরের বিষয় ও তৃতীয়ত, মাইলেজ বা গাড়িটি কত কিলোমিটার চলাচল করেছে।
এক্সটেরিওর গ্রেডিং

গাড়ির ডেন্ট, ঘষা খাওয়া বা অন্য কোনো সমস্যা ইংরেজি অক্ষর এ, বি, সি, ডি দিয়ে বোঝানো হয়। এ, বি, সি, ডি দিয়ে যথাক্রমে গাড়ির অল্প সমস্যা থেকে বেশি সমস্যা নির্দেশ করে।

গ্রেড এ- গাড়ির বাইরের একদম নতুনের মতো দেখতে হলে ‘এ’ দিয়ে বোঝানো হয়।
গ্রেড বি- একটু দাগ তবে খুব সহজেই তোলা যাবে এমন হলে ‘বি’ গ্রেড ব্যবহার করা হয়।
গ্রেড সি- যদি গাড়ির এক্সটেরিওরের অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকে, তবে অল্প কোনো পোড়া দাগ থাকে তাহলে এটি হবে ‘সি’ গ্রেড।
গ্রেড ডি- ‘ডি’ গ্রেড দিয়ে বোঝানো হয় গাড়ির বাইরের অবস্থা খুব খারাপ।=

ঝকঝকে নতুনে মতো গাড়ির জন্য গ্রেড ‘এস’ ব্যবহার করা হয়। এই গ্রেডের গাড়ি এতই নতুনের মতো যে, না বলে দিলে বুঝতেই পারবেন না এটি ব্র্যান্ড নিউ না। অকশন হাউস থেকে বলা হয় এই গাড়িটির মাইলেজ সর্বোচ্চ ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাস্তবে এস গ্রেডের গাড়ি সাধারণত কয়েক শ কিলোমিটার মাইলেজের, এমনকি শুধু ডেলিভারি মাইলেজেরও হয়ে থাকে।

এই গ্রেডের গাড়ি বাংলাদেশে খুব কম আসে। বাংলাদেশে মূলত ‘এস’ গ্রেডের গাড়ি ব্র্যান্ড নিউ বলে বিক্রি করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরও কিছু অক্ষর দিয়ে গাড়ির বাইরের অবস্থা বর্ণনা করা হয়-

এ- গাড়ির ওপরের অংশে কোনো দাগ
ইউ- গাড়িতে কোনো প্রকার গর্ত থাকলে
বি- দাগের সঙ্গে কিছু গর্ত দেখা গেলে
ডব্লিউ- গাড়িতে হালকা কাজ করানো হয়েছে এমন
এস- জং ধরা (কমলা রং দেখা যায় এমন)
সি- জং বেড়ে ভেতরের ধাতুর অংশ দেখা যায় এমন
পি- রঙের দাগ
এইচ- রং উঠে যাওয়া
এক্সএক্স- প্যানেল প্রতিস্থাপন করা
এক্স- কোনো পার্টসের প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন
জি- গ্লাসে পাথর টুকরা
ওয়াই- ফাটা কোনো কিছু দেখা গেলে
ই- টোল খাওয়া

ইন্টেরিওর গ্রেডিং

গ্রেড এ- গাড়ির ভেতরে কোনো পার্টস খোয়া যায়নি এমন ক্ষেত্রে এই গ্রেডে ব্যবহার করা হয়। সব পার্টস মজুত রয়েছে।
গ্রেড বি- এই গ্রেডের গাড়িগুলো মোটামুটি ভালো থাকে। কোনো রং, ডেন্ট বা মেরামতের প্রয়োজন পড়বে না।
গ্রেড সি- অল্প কিছু মেরামতের প্রয়োজন পড়তে পারে। যেমন- সিগারেটের পোড়া দাগ, খাবারের দাগ, স্ক্রুর কোনো গর্ত ইত্যাদি থাকতে পারে।
গ্রেড ডি- এই গ্রেডের গাড়িগুলো মোটামুটি খারাপ হয়। দাগ, পোড়া দাগ অথবা অন্য দাগ লক্ষ্য করা যায়।
গ্রেড ই- খুবই খারাপ অবস্থার গাড়ি ‘ই’ গ্রেডের হয়ে থাকে। ড্যাশ বোর্ড ভাঙা, সিটগুলো জীর্ণ এবং অনেক মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে।

মাইলেজ গ্রেডিং

গ্রেড ৭, ৮, ৯ অথবা এস- গ্রেডের গাড়িগুলোর ডেলিভারি মাইলেজে খুব কম হয়ে থাকে। একদম নতুনের মতো গাড়িকে এই গ্রেড দেওয়া হয়। তেমন একটা ব্যবহারই হয় না এসব গাড়ি। বলতে পারেন একদম টপ ক্লাস গাড়ি। এ ধরনের গাড়ি বাংলাদেশর রাস্তায় খুব কম দেখা যায়।
গ্রেড ৬- নতুন গাড়ির জন্য এই গ্রেড দেওয়া হয় তবে ডেলিভারি মাইলেজ আরেকটু বেশি হয়। মাইলেজ সর্বোচ্চ ৩০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হয়। কোনো ধরনের দাগ থাকলে গ্রেড ৬ দেওয়া হয় না। অর্থাৎ খালি চোখে দেখে বোঝা যায় গাড়িটি পুরোনো না নতুন।
গ্রেড ৫- এমন গাড়ির মাইলেজ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার কিলোমিটার হয়। দু-একটা আঁচড়ের দাগ থাকতে পারে। 
গ্রেড ৪.৫- গাড়ির অবস্থা চমৎকার তবে মাইলেজ ১ লাখের ওপর হয়।
গ্রেড ৪- এই গ্রেডের গাড়িগুলোও খুবই নির্ভরযোগ্য ও ভালো হয়। দুই ধরনের গাড়িকে এই গ্রেড দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথমত, কম মাইলেজের ভালো

গাড়ি, তবে যার কিছুটা সামান্য রিপেয়ার (ছোট-খাট স্ক্র্যাচ/ডেন্ট কারেকশন/পেইন্টিং টাইপের) দরকার। অথবা যার অল্প কিছু রিপেয়ার হয়েছে।
গাড়িটি দেড় লাখ কিলোমিটার চলেছে তবে মাইলেজ জনিত স্বভাবিক ক্ষয় ছাড়া আর তেমন কোনো সমস্যা নেই। পাশাপাশি ফিল্ড টেস্টে অভিজ্ঞ পরিদর্শকের চোখে পাশ করা। অনেক সময় দেখা যায় ডেন্ট পেইন্টের কাজ টপ ক্লাস মানের হয়নি তখন এই গ্রেডে চলে আসে।

গ্রেড ৩.৫- অনেকটা গ্রেড-৪ এর মতো গাড়ির মতো তবে রং আর প্যানেলে কিছু কাজ করার দরকার পড়তে পারে।

গ্রেড ৩- জরুরি ভিত্তিতে রং আর প্যানেলের কাজ করাতে হবে। অথবা প্যানেল জরুরিভিত্তিতে পাল্টাতে হবে। এই গ্রেডের মাইলেজ অনেক বেশি থাকে।

গ্রেড ২- খারাপ অবস্থার গাড়িগুলো ২ নম্বর গ্রেডে ফেলা হয়। এই গ্রেডে গাড়ির শোচনীয় অবস্থা বোঝায়। গর্ত, ক্ষয় ইত্যাদি গুরুতর সমস্যা নির্দেশ করে এই গ্রেড।

গ্রেড ১- দুই ধরনের গাড়িকে এই গ্রেড দেওয়া হয়ে থাকে। ইঞ্জিনের মডিফিকেশন বা অটো থেকে ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন পরিবর্তন করা।

গ্রেড ০, এ, আর, আরএ- এই গাড়িগুলো আগে মেরামতের ইতিহাস থাকে। গাড়ির ভেতরের প্যানেল ঠিক করার কথা উল্লেখ থাকবে। এই মেরামত কম হতে পারে আবার বেশিও হতে পারে।

নজর দিতে হয় মাইলেজে

রিকন্ডিশনড গাড়ি বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার বিষয়ে সর্বপ্রথম মাইলেজের ওপরে বেশি জোর দিতে হবে। রিকন্ডিশনড গাড়ি কেনার জন্য প্রথমে গাড়ির মাইলেজ চেক করতে হবে। দেশে বেশির ভাগ রিকন্ডিশনড গাড়ি যেহেতু জাপান থেকে আসে, তাই সেখানে গাড়িটি কত মাইল চলেছে তা যাচাই করতে হবে। গাড়ি কত মাইল চলেছে সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ অকশন পেপারে থাকে।

 অকশন পেপারে লিখিত গাড়ির মাইলেজের ওপর ভিত্তি করে গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। রিকন্ডিশনড গাড়ির মাইলেজের ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে। মাইলেজ কম হলে বা কম সময় রাস্তায় চললে দাম কিছুটা বেশি পড়ে। পাশাপাশি মাইলেজ যদি বেশি হয় বা বেশি সময় ধরে রাস্তায় চলে, তাহলে গাড়ির দাম কিছুটা কম হয়।

অকশন পেপার যাচাই

একজন ক্রেতা চাইলে অর্থ খরচ করে জাপানের আসল অকশন পেপার যাচাই করতে পারেন। এর মাধ্যমে জানা যায় গাড়িটি আসলেই অকশনে ছিল কি না। অকশন পেপার গাড়ির ডকুমেন্টের সঙ্গেই থাকে। আবার অনেক সময় ডকুমেন্টের সঙ্গে না থাকলে ইঞ্জিন চেসিস নম্বর নিয়ে ট্রু রিপোর্ট বের করতে পারবেন। ট্রু রিপোর্টে সব তথ্য পেয়ে যাবেন।

কলি

 

সহজেই করুন ড্রাইভিং লাইসেন্স

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫১ এএম
সহজেই করুন ড্রাইভিং লাইসেন্স

ড্রাইভিং লাইসেন্স কেবল গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র নয়, এটি ব্যক্তি পরিচয় শনাক্তকরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। দেশের যেকোনো স্থানে গাড়ি চালানোর জন্য বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স অপরিহার্য। এটি কেবল চালকের কারিগরি দক্ষতা প্রমাণ করে না বরং পথচারী ও চালকের নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩-এর ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া সর্বসাধারণের ব্যবহৃত গাড়ি রাস্তায় চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই দেশের যেকোনো স্থানে গাড়ি চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পূর্বশর্ত
এখন কেউ চাইলেই ঘরে বসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিআরটিএ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট bsp.brta.gov.bd-তে ঢুকে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে, লগইন করতে হবে। তারপর লার্নার লাইসেন্সের জন্য একটি ফরম আছে, সেটি পূরণ করে সাবমিট করতে হবে। যেকোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হলে প্রথমেই লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। অপেশাদারের জন্য বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৮ বছর। আর পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীর বয়স হতে হবে ন্যূনতম ২১ বছর। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে।

অনলাইন সিস্টেম থেকে তার লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু হবে ও গ্রাহক সঙ্গে সঙ্গেই সিস্টেম থেকেই তার শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। এরপর তাকে দুই থেকে তিন মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ সময় প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র, লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে।

আবেদনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে হয়। এখানে বেশ কিছু ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে। 

আবেদনকারীর ছবি (সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোবাইট)। 
রেজিস্টার্ড ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট (সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোবাইট)।
জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি (সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোবাইট)।
ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান কপি (সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোবাইট, আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা যদি ভিন্ন হয়, তবে বর্তমান ঠিকানার ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত 
করতে হবে)।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের স্ক্যান কপি (সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোবাইট)।

তবে মনে রাখতে হবে, অনলাইনে আবেদন দাখিলের সময় ভুয়া তথ্য দিলে তার লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিআরটিএ।

লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুনরায় একটি নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি দিয়ে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। গ্রাহকের ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ নিয়ে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়। স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে তা গ্রহণের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।

স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।
রেজিস্টার্ড ডাক্তারের কাছ থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট।
জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
নির্ধারিত ফি বিআরটিএর নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেওয়ার রসিদ।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন।
সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট 
সাইজ ছবি

প্রয়োজনীয় ফি
শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন শেষে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। ক্যাটাগরি ১ এবং ২-এর জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় (ডিসিটিসি) উত্তীর্ণ প্রার্থীকে স্মার্ট কার্ডের জন্য ১০ বছর মেয়াদি অপেশাদার লাইসেন্স ও ৫ বছর মেয়াদি পেশাদার লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি বিআরটিএর নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ডাক বিভাগের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স বিতরণ করা হয়, 
তাই ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ৬০ টাকা দিতে হবে।

তথ্য সূত্র: বিআরটিএ

জাহ্নবী

 

স্মার্ট নাগরিকদের হাতে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৩ এএম
স্মার্ট নাগরিকদের হাতে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে দেশের নাগরিকদের জন্য আধুনিক সুবিধার তালিকা দিন দিন বড় হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স সুবিধা। 

আগে রাস্তায় গাড়ি চালাতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কাগজপত্র চালকের সঙ্গে রাখতে হতো। তবে এখন থেকে আর তা করতে হবে না। ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে না রেখেও স্মার্টফোনে সংগৃহীত ই-লাইসেন্স দেখিয়ে গাড়ি চালাতে পারবেন চালকরা। ইতোমধ্যে এর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

গত ২৪ মার্চ বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব মো. মনিরুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে ভিসা প্রসেসিং, বিদেশে ব্যবহার, চাকরিতে নিয়োগ ইত্যাদি প্রয়োজনে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড ও ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স উভয়ই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। এতে থাকা কিউআর কোড দ্বারা সরাসরি ডাটাবেইজ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য যাচাই করা যাবে।

এ বিষয়ে বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপপরিচালক সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী বলেন, দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে মোটরযান চালানো যায়। তবে এখন থেকে ই-লাইসেন্সের মাধ্যমে তা করা যাবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে না রেখেও স্মার্টফোনে সংরক্ষণ করা ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়েও চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য কাজেও স্মার্টফোনের ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করতে পারবেন।

এ.জে/জাহ্নবী

দেশের বাজারে ‘হোন্ডা শাইন ১০০’ মোটরসাইকেল

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩২ এএম
দেশের বাজারে ‘হোন্ডা শাইন ১০০’ মোটরসাইকেল

জাপানি শীর্ষস্থানীয় মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হোন্ডা দেশের বাজারে ১০০ সিসির নতুন মডেলের বাইক এনেছে। মডেলটিকে ‘হোন্ডা শাইন ১০০’ নামে পরিচয় করিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি একটি জ্বালানি সাশ্রয়ী কমিউটার বাইক।

গত মার্চ মাসের ৩১ তারিখে রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোটরবাইকটি প্রদর্শনের পাশাপাশি বাজারে আনার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা শিগেরো মাতসুজাকি। এই মডেল ভারতের বাজারে আসার ঠিক এক বছর পর বাংলাদেশের বাজারে আনল কোম্পানিটি। কোম্পানির দাবি, মোটরসাইকেলটিতে প্রতি লিটার তেলে ৬৫ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া যাবে। এটি কোম্পানির সবচেয়ে উচ্চ মাইলেজ সম্পন্ন বাইক, আবার দামের দিক থেকেও সবচেয়ে কম। দেশের বাজারে এটি ১ লাখ ৭ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে।

হোন্ডা শাইন ১০০ বাইকে রয়েছে ৯৮ সিসি সিঙ্গেল সিলিন্ডার এয়ার কুলড ইঞ্জিন। যা সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ২৮ হর্সপাওয়ার ও ৮ দশমিক শূন্য ৫ নিউট টর্ক তৈরি করতে পারে। এটির সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার। বাইকটিতে রয়েছে ৪ স্পিডের ম্যানুয়াল গিয়ার ট্রান্সমিশন। এর মাঝারি আকারের তেল ট্যাংকে ৯ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি ভরা যায়। একবার সম্পূর্ণ ট্যাংকে জ্বালানি ভরলে ৫৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

বাইকের সামনে রয়েছে টেলিস্কপিক ফর্ক ও পেছনে ডুয়াল শক অ্যাবজর্বার। দুই চাকাতেই পাওয়া যাবে ড্রাম ব্রেক। এতে নেই ডিস্ক ব্রেক। বাইকটির কার্ব ওজন ৯৯ কেজি ও মাটি থেকে বাইকটির উচ্চতা ১৬৮ মিলিমিটার। মাটি থেকে আসনের উচ্চতা ৭৮৬ মিলিমিটার। আসনের উচ্চতা কম হওয়ার কারণে চালক সহজে মোটরবাইকটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। খুবই সাদামাটা ফিচার্সে পাওয়া যাবে অ্যানালগ ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল, অ্যানালগ ওডোমিটার, অ্যানালগ স্পিডোমিটার, হ্যাজার্ড ওয়ার্নিং ইন্ডিকেটর, লো ফুয়েল ইন্ডিকেটর, অটোমেটিক হেডলাইট অন ও হ্যালোজেন লাইটিং।

নতুন শাইন ১০০ এ বসার দীর্ঘ ও আরামদায়ক আসন রয়েছে, যা বাইকের চালক ছাড়াও সহযাত্রীকে ভ্রমণের সময় স্বাচ্ছন্দ্য দেবে। মোটরসাইকেলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাযক্রমে ১৯৯৫, ৭৫৪ ও ১০৫০ মিলিমিটার। লং স্ট্রোকসহ বিশেষভাবে তৈরি সাসপেনশন ইউনিট থাকায় যেকোনো ধরনের রাস্তায় সহজে চলাচল করতে পারে মোটরবাইকটি। মজবুত অ্যালুমিনিয়াম গ্র্যাব রেইল, কালো অ্যালয় হুইল, উন্নত সাইলেন্সার, উজ্জ্বল গাঢ় টেইল ল্যাম্প– সুবিধাযুক্ত মোটরবাইকটি চলতি পথে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঘন ঘন পরিষ্কার ছাড়াই এর এয়ার ফিল্টার দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকে, এমনকি ব্যাটারিও ঘন ঘন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে না।

শাইন ১০০ মডেলটি হালকা ফ্রেমের হওয়ায় এর সামগ্রিক ওজন কম। এর নরম স্টিয়ারিং মোটরসাইকেল চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যেকোনো রাস্তায় চলাচলে ভীষণ কার্যকরী। দেশের বাজারে লাল, নীল ও ধূসর রঙে পাওয়া যাচ্ছে হোন্ডা শাইন ১০০ সিসি। বাইকটিতে দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে।

জাহ্নবী

নকশায় অভিনবত্ব আসছে বিএমডব্লিউর নতুন গাড়ি

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪, ১২:০১ পিএম
আসছে বিএমডব্লিউর নতুন গাড়ি

বিশ্ব বিখ্যাত জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ নতুন একটি ধারণাগত গাড়ি বা কনসেপ্ট কার প্রদর্শন করেছে। এটিকে তারা ‘ভিশন নয়া ক্লাসে-এক্স’ নামে পরিচয় করিয়েছে। এই গাড়ির নকশা ও প্রযুক্তি অনুসরণ করেই বিএমডব্লিউ ভবিষ্যতের বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বাজারে আনবে।

গত বছর জার্মানির বার্লিনে ‘আইএএ শো’তে প্রতিষ্ঠানটি ‘নয়া ক্লাসে’ নামে নতুন ধারার সেডান তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, এটি শুধু তাদের ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক গাড়ির নয়, এটি হবে আরও বেশি দক্ষতা ও গতিশীল ড্রাইভিং প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সেই ধারণায় নতুনত্ব যোগ করে আবার সামনে এনেছে। নামকরণের ক্ষেত্রেও আগের নামের সঙ্গে মিল রেখে নয়া ক্লাসে এক্স রাখা হয়েছে। এসইউভি ধাঁচের এই কনসেপ্ট কারের সামনের অংশে রয়েছে বিএমডব্লিউর চিরায়ত ‘কিডনি গ্রিল’ নকশা। এ ছাড়া গাড়িতে আরও অভিনব ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফিচার রয়েছে।

বিএমডব্লিউ গত কয়েক বছর ধরেই বিদ্যুৎচালিত গাড়ির নকশা ও ফিচারে পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। ভিশন নয়া ক্লাসে-এক্স গাড়িটি এই পরিকল্পনারই অংশ। এ ধরনের গাড়ি আগামী বছর থেকে বাজারে পাওয়া যেতে পারে। এর আগে ফোর, ফাইভ, সেভেন সিরিজ ও আইএক্স নামের বিদ্যুৎচালিত এসইউভি গাড়ি বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভিশন নয়া ক্লাসে-এক্স গাড়িকে বলা হচ্ছে এসএভি গাড়ি। অর্থাৎ এটি হবে স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটি ভেহিকেল। বিএমডব্লিউর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অলিভার জিপসি বলেন, ‘নয়া ক্লাসে শুধু একটি গাড়ি বা ধারণার চেয়ে বেশি কিছু। এর মাধ্যমে আমাদের ব্র্যান্ডকে নতুন করে হাজির করা হবে। তবে এতে বিএমডব্লিউর আগের নকশার ছাপও থাকবে।’

বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে ইঞ্জিন শীতল রাখতে গ্রিলের প্রয়োজন হয় না। তবে নকশায় নতুনত্ব আনতে এই মডেলে বিএমডব্লিউর কিডনি গ্রিল নকশা রাখা হয়েছে। এই নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দেখতে ত্রিমাত্রিক গ্রিল নকশার মতো। পরিবর্তন আনা হয়েছে এ গাড়ির ব্যাটারির আকারেও। এতে ব্যবহার করা হয়েছে গোলাকৃতির ব্যাটারি। বিএমডব্লিউ দাবি করছে, এই আকারের কারণে ব্যাটারি থেকে ২০ শতাংশ বেশি চার্জিং ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। এমনকি গাড়ির ব্যাটারি অন্য গাড়ির ব্যাটারির তুলনায় ৩০ শতাংশ দ্রুতগতিতে চার্জ হবে। ১০ মিনিট চার্জ করে গাড়িটি ৩০০ কিলোমিটার বা ১৮৬ মাইল পর্যন্ত চালানো যাবে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে, এই গাড়িতে শক্তিশালী কম্পিউটারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। কনসেপ্ট কারটিতে যুক্ত কম্পিউটারগুলোকে বলা হচ্ছে সুপার ব্রেনস। এসব কম্পিউটার ও প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি চালানোর উন্নত অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। গাড়ির অভ্যন্তরে পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। ভিশন নয়া ক্লাসে-এক্স গাড়িটির আকার বিএমডব্লিউ এক্স থ্রির মতোই হবে। সূত্র: দ্য ভার্জ

জাহ্নবী

 

সহজে গাড়ি পার্ক করার কৌশল

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৯ এএম
সহজে গাড়ি পার্ক করার কৌশল
পার্কিংয়ের কৌশল

গাড়ি চালাতে সবারই ভালো লাগে। তবে গাড়ি পার্কিং অনেকের কাছে জটিল বিষয় মনে হয়। গাড়ি চালানো শেখা সহজ হলেও, অনেকের গাড়ি পার্কিংয়ের হাত পাকাতে সময় লাগে। বিশেষ করে নতুন চালকদের অনেক এটি অনেক বেশি ঝামেলা মনে হতে পারে।

গাড়ি চালানোর সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদে পার্কিং করাও গুরুত্বপূর্ণ। সোজা পথে গাড়ি চালানো যতটা সহজ মনে হতে হয়, তেমনি কৌশলে পেছনে বা সমান্তরালভাবে পার্কিং করা যায়। পার্কিংয়ের এই কৌশল ব্যবহার করে নিরাপদে ও দ্রুত গাড়ি পার্ক করা যায়।

সমান্তরাল পার্কিং
যখন কোনো পার্কিং স্থানের সামনে ও পেছনে গাড়ি থাকে এবং মাঝখানের জায়গায় আরেকটি গাড়ি পার্ক করার জায়গা থাকে, তখন এই পার্কিংকে সমান্তরাল বা প্যারালাল পার্কিং বলে। প্রথমে পার্কিংয়ের জায়গাটি গাড়ির দৈর্ঘ্যের চেয়ে কমপক্ষে দেড় গুণ বড় কি না, তা নিশ্চিত করুন। পার্কিংয়ের জন্য পেছনের গাড়ির সঙ্গে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন। সামনের গাড়ির রিয়ারভিউ মিররে সমান্তরালে নিজের গাড়ির মিরর আসার পর থামুন। স্টিয়ারিং হুইল পুরোপুরি ডান দিকে ঘোরান। ধীরে ধীরে পেছনে যান। বাঁ পাশের আয়নায় পেছনের গাড়ির ডান পাশের হেডলাইট পুরোপুরি দেখা না যাওয়া পর্যন্ত পেছনে যান। এবার ব্রেকে পা রেখে স্টিয়ারিং যতটা ডানে ঘোরানো হয়েছিল, তার বিপরীতে ততটা বাঁয়ে ঘোরাতে হবে। এবার গাড়িকে ধীরে ধীরে পেছনের নিয়ে যান। ডান পাশের রিয়ারভিউ মিররে চালকের দিকের দরজার হাতল যখন রাস্তার ফুটপাতের সমান্তরাল হবে তখন স্টিয়ারিং হুইল সোজা অবস্থানে আনতে হবে। এবার পিছিয়ে নিলেই গাড়ি সোজাভাবে খালি স্থানে পার্ক হয়ে যাবে। বাঁ পাশে গাড়ি রাখার ক্ষেত্রে এই কৌশল বিপরীতভাবে প্রযোজ্য।

গাড়ির পেছনে গাড়ি রাখার ক্ষেত্রে
গাড়ি চালানোর সময় চালকের আসন থেকে সামনের দিকের দূরত্ব অনুমান করা কঠিন হতে পারে। ইঞ্জিন বে বা হুড দৃষ্টির বাইরে থাকায় সঠিক দূরত্ব বোঝার জন্য অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে অন্য গাড়ির পেছনে থাকার সময় সামনের গাড়ির বাম্পার দেখে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যখন চালকের আসন থেকে সামনের গাড়ির বাম্পারের নিচ পর্যন্ত দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে গাড়িটি এক মিটার দূরত্বে রয়েছে। এই দূরত্বের সামনে গাড়ি থাকলেও নিজের গাড়ি সহজে বের করা সম্ভব। যখন ট্রাংক ওপেনার বা বুট স্পেস খোলার পাটাতনের সমান্তরাল দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে গাড়ির সামনে মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার জায়গা আছে। এ অবস্থায় সামনে না যাওয়ায় নিরাপদ।

সোজাসুজি পার্কিং
গাড়ি সোজা পার্ক করার ক্ষেত্রেও গাড়ির আকার সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো রাস্তায় ফুটপাতের সামনে গাড়ি পার্ক করা হয়, তবে রিয়ারভিউ মিররের নিচের অংশ ও রাস্তার মাপ যদি সমান্তরাল মনে হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক ধরে থামতে হবে। এ অবস্থায় ফুটপাত বা রাস্তা থেকে গাড়ির দূরত্ব হবে মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার। যদি সামনাসামনি গাড়ি ঘোরাতে হয়, তবে গাড়ির হুড এবং ফুটপাতের সামনের অংশ সমান হলে গাড়ি ও ফুটপাতের দূরত্ব হবে তিন মিটার। এ অবস্থায় ডানে বা বাঁয়ে যেকোনোভাবেই গাড়ি নিরাপদে ঘোরানো যাবে।

আড়াআড়িভাবে গাড়ি ঘোরাতে হলে
যদি সামনের গাড়ি আড়াআড়ি অবস্থায় থাকে, গাড়ির হুড এবং সামনের গাড়ির চাকার অ্যালয়ের মাঝখানটা সমান্তরাল হয়, তখন বুঝতে হবে গাড়ি ঘোরানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা আছে। এই অবস্থায় স্টিয়ারিং পুরোপুরি ডান বা বাঁদিকে ঘুরিয়ে যেকোনো পাশেই নিরাপদে গাড়ি ঘুরাতে পারবেন।

গ্যারেজে গাড়ি পার্ক করার ক্ষেত্রে
গ্যারেজে গাড়ি রাখার জায়গা অনেক বেশি সংকীর্ণ হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে গাড়ি পার্ক করার জন্য বিশেষ সতর্কতা হতে হয়। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলের ডান পাশে যতটুকু জায়গা রয়েছে, সেই জায়গার পরিমাপ স্টিয়ারিং হুইলের ডান পাশের সমান্তরাল। একটি সমান্তরাল রেখায় চিন্তা করলে ডান পাশের স্টিয়ারিং হুইলের প্রান্তভাগে গাড়ির চাকা ও গাড়ির শেষ প্রান্ত অবস্থিত। বাঁ পাশের মাপের ক্ষেত্রে গাড়ির ডান পাশের ওয়াইপারের শেষ প্রান্তের সমান্তরাল হলো গাড়ির ডান পাশের চাকা ও বডির শেষ প্রান্ত। পার্ক করার ক্ষেত্রে এ দুটি মাপ সম্পর্কে ধারণা থাকলেই গাড়ি সহজে পার্ক করা যায়। গাড়ি পেছনে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই পাশের লুকিং গ্লাসগুলো এমনভাবে সেটিং করা উচিত, যাতে চালকের আসন থেকে পেছনের দুটি চাকা সহজে দেখা যায়। তাহলে গাড়ি আশপাশে ঘষা খাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।

পার্কিং থেকে ব্যাক গিয়ারে গাড়ি বের করার ক্ষেত্রে
সোজাসুজিভাবে পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার পর দুই পাশে যদি দুটি গাড়ি থাকে, সে অবস্থায় গাড়ি বের করার জন্য প্রথমে সোজাসুজিভাবে গাড়িকে পেছনে নিয়ে আসতে হবে। যখন গাড়ির লুকিং গ্লাসগুলো দুই গাড়ির সীমানা অতিক্রম করবে, তখন স্টিয়ারিং ডানে বা বাঁয়ে ঘুরিয়ে যেদিকে বের হওয়া দরকার, সেদিকেই অন্য গাড়ির সঙ্গে দূরত্ব রেখে গাড়ি বের করা যাবে। আধুনিক গাড়িগুলোয় ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাক ক্যামেরা ও পার্কিং সেন্সর রয়েছে, যেগুলোর সাহায্যে গাড়িতে থাকা মনিটর দেখে সহজে গাড়ি পার্ক করা যায়।

এ.জে/জাহ্নবী