সারা দেশের মতো কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত যমুনা পাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জের হাসপাতালগুলোয় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
শীত বাড়ায় জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে ঠান্ডা, ডায়রিয়াসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে জেলা সদর হাসপাতাল ১২০টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দুদিন ধরে গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় পাঁচ শতাধিক রোগী নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। সদর হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দুই বছর বয়সি আলফাতার মা হাফিজা খাতুন বলেন, ‘শীতের কারণে আমার মেয়ের দুদিন যাবৎ ডায়রিয়া। এখনো ভালো হয়নি। বেড না পেয়ে রুমের বাইরে বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
অন্য শিশুর বাবা মমিন বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স আড়াই বছর। শীতের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে সিট ফাঁকা নেই এ জন্য বারান্দায় আছি। ডাক্তার বলছেন সুস্থ হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।’
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে ঠান্ডায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এই শীতে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্নই পারে রোগ থেকে রক্ষা করতে।’
শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে এ জন্য বাড়তি যত্ন ও সচেতন হতে অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সিরাজুল ইসলাম/জোবাইদা/অমিয়/