নরসিংদীর মনোহরদীতে টানা ৪০ দিন ফজরের নামাজ জামাতে পড়ার ভিত্তিতে আয়োজিত ব্যতিক্রমী ‘ফজর ক্যাম্পেইন’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৩৭ শিশুকে সাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের সাভারদিয়া ঈদগাহ মাঠে এ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
জানা যায়, সাভারদিয়া গ্রামের আল-ইহদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় দেড় মাসব্যাপী এ ফজর ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মসজিদমুখী করতে এবং নিয়মিত নামাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। প্রতিদিন ভোরে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতে ফজরের নামাজ আদায়, এ শর্ত পূরণকারীদের মধ্য থেকে ৩৭ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সজিব। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শুকুন্দী নাজিম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ, দশদোনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম, মো. মোবারক হোসেন, নাদিম মিয়া, মো. নূরুল হক, আফসার হোসেন, মাওলানা বাকি বিল্লাহ, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রবাসী, মসজিদ কমিটির সদস্য এবং অভিভাবকরা।
তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় চর্চায় উৎসাহিত করতে এ আয়োজন এলাকাবাসীর জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ।
সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সজিব বলেন, ‘যেখানে আজ অনেক শিশু মোবাইল ফোনে অতিমাত্রায় নিমগ্ন, সেখানে এ ধরনের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।’
ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিশু-কিশোরদের অনেকেই মোবাইল ও গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফজরের নামাজে উপস্থিতি ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা আয়োজন করায় তাদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী কবির হোসেন বলেন, ‘৪০ দিন নিয়মিত ফজরের জামাতে অংশ নেওয়া শিশুদের জন্য এটি একটি উৎসাহপ্রদ পুরস্কার। এতে তারা নামাজের প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে।’
সৌদি আরব-প্রবাসী কয়েকজনও এ কার্যক্রমে আর্থিক ও নৈতিকভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।
অভিভাবকরা জানান, উদ্যোগটি তাদের সন্তানদের নামাজে নিয়মিত করেছে। একইসঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত হয়েছে।
অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন কার্যক্রম চালু হলে কিশোরদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।
প্রবাসী ও আল-ইহদা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় বিজয়ীদের মধ্যে সাইকেল বিতরণ করা হয়।
শাহিন/এসজি/