ঢাকা ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪
Khaborer Kagoj

নারায়ণগঞ্জে  রাজস্ব আদায়  ১০ কোটি টাকা

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:০৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জে  রাজস্ব আদায়  ১০ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেই শেষ হচ্ছে আয়কর মেলা। মাসব্যাপী জেলা আয়কর অফিসে করদাতা ও রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য আয়োজিত এ মেলার শেষ হবে আজ। এবার আয়কর মেলায় পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। সেবা নিয়েছে ৪২ হাজার ৯২৯ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। 

গতকাল কর অঞ্চল নারায়ণগঞ্জে সকাল থেকে করদাতার ভিড় দেখা যায় মেলাতে। ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গেই তারা আয়কর দিতে এসেছেন। করদাতাদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রেখেছেন আয়োজকরা। কর কর্মকর্তাদের সেবায় অনেকটা খুশি সেবাগ্রহীতারা। তবে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ব্যবসায়ী করতাদা নানা সংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চলের তথ্যমতে, এখানে চলতি ২০২২৩-২৪ অর্থবছরে ১২০০ কোটি টাকা আয়কর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে মাসব্যাপী এ মেলাতেই আদায় করা হয়েছে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মেলায় করদাতার এসেছেন ৪২ হাজার ৯২৯ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে রিটার্ন জমা করেছেন ২৯ হাজার ২৯১ জন। এ ছাড়া চলতি বছরের জুলাই থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত করদাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৭৬৯ জন।

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরেও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের আয়কর ও রিটার্নের নির্ধারিত লক্ষ্য মাত্রা পূরণ করে নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চল। ওই অর্থবছরে ৯৫০ কোটি টাকা লক্ষ্য ধরা হলেও রাজস্ব আদায় করা হয় ১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। সেরা করদাতাদের দেওয়া হয় পুরস্কার। প্রতিবারের মতো এবারও সেরা ভ্যাটদাতা ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে সেরা পুরস্কার।

কর অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের উপকর কমিশনার (সদর দপ্তর প্রশাসন) সোনালী বিশ্বাস জানান, মাসব্যাপী মেলায় নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের করদাতারা এসেছেন। মেলায় তাদের জন্য সুবিধাধার্থে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাজ করেছেন। বুঝিয়ে দিচ্ছেন কোথায় কী করতে হবে। আলাদা আলাদা সেবার জন্য অনেক বুথ বানানো হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের সব ধরনের ভোগান্তি এড়ানোর লক্ষ্য রেখেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমরা প্রত্যাশা করি, গতবারের মতো এবারও কর আদায়ের লক্ষ্য পূরণ হবে।

সোনালী বিশ্বাস জানান, আশা করছি আজ মেলার শেষ দিনে করতাদাতার ভিড় আরও বেশি থাকবে। আগামী ডিসেম্বর মাসে এ কর অঞ্চলের সেরা করদাতাদের পুরস্কৃত করা হবে।

এদিকে কর অঞ্চলের সেবায় খুশি সেবাগ্রহীতারা। সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে গতকাল দুপুরে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ‘এখানে আয়কর প্রদানে তেমন কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। মেলায় অনেক বুথ থাকায় যেকোনো বুথে গিয়ে সেবা মিলছে। ফলে ভোগান্তি দূরে থাক, সেবা পেয়ে আমরা খুশি।’ তবে রাজনৈতিক এ পরিস্থিতিতে চলমান হরতাল ও অবরোধের কারণে অনেকে শেষ দিকে আয়কর অফিসে রিটার্ন দাখিল করতে আসছেন বলে জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে যুদ্ধেও কারণে বিভিন্ন ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়ছে বলে দাবি করেন করতাদারা। বলেন, আয় কমে এলে কর প্রদানও কমে আসবে।

ডলারসংকটে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪, ০২:৫২ পিএম
ডলারসংকটে  ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব

ডলারসংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের নন-লাইফ বা সাধারণ বিমা খাতে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ডলারের অভাবে অধিকাংশ ব্যাংক এলসি খুলতে পারছে না। আমদানি মূল্য মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। যদিও এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন বছরে ডলারসংকট কাটতে শুরু করবে। কিন্তু সংকটের কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এলসি খুলতে না পারায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সাধারণ বিমা ব্যবসায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারসংকটে এলসি খোলা অনেক কমে গেছে। এতে নৌ-বিমার ব্যবসা অনেক হ্রাস পেয়েছে। আইন অনুযায়ী, যেকোনো আমদানি করা পণ্যের এলসি খুলতে বাধ্যতামূলক বিমার ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয়। সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর আয়ের অন্যতম একটি উৎস হচ্ছে নৌ-বিমা। বর্তমানে ব্যাংকগুলোয় এলসি খোলার হার কমে যাওয়ায় নৌ-বিমা খাত থেকে প্রিমিয়াম আয় কমে গেছে ব্যাপকভাবে। যা সামগ্রিকভাবে বিমা ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানির নৌ-বিমা ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে দেশের বাইরে পুনঃবিমার প্রিমিয়াম ডলারে পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কোম্পানিগুলো।

বিমা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা বলেন, ডলারসংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভোগ্যপণ্যের আমদানিতে। ডলারের অভাবে ভোগ্যপণ্যের আমদানিকারকরা চাহিদা অনুযায়ী এলসি খুলতে পারছেন না। ফলে তাদের প্রিমিয়াম আয় কমে গেছে। 

যোগাযোগ করা হলে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাম শাহীন খবরের কাগজকে বলেন, ডলারের মূল্য বৃদ্ধিতে দুটি প্রভাব পড়েছে বিমা খাতে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে নৌ-বিমা ব্যবসা আকস্মিকভাবে কমে গেছে। এটা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এলসি খোলা কমে যাওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। যখন থেকে বাজারে ডলারসংকট শুরু হয়েছে, তখন থেকেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদেশে পুনঃবিমা প্রিমিয়াম পাঠাতে গিয়েও লোকসান গুনতে হচ্ছে বিমা কোম্পানিগুলোকে। বিশেষ করে যেসব পলিসির আন্ডাররাইটিং আগে হয়েছে, সেসব পলিসিতে এই লোকসানের মাত্রা বেশি। তবে ডলারের মূল্য বৃদ্ধিতে বিমার মূল্যও কিছুটা বেড়েছে। তবে যোগ-বিয়োগ শেষে দেখা যায় কোম্পানিগুলোর লোকসানই বেশি হয়েছে।

রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এ কে এম সারোয়ার জাহান জামীল খবরের কাগজকে বলেন, ডলারের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বিমা খাতে। নৌ-বিমা ব্যবসা ইতোমধ্যে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ও বিলাসী পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় অনেকটাই বন্ধ রয়েছে এলসি খোলা। যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ বিমা ব্যবসায়।

তাছাড়া বিদেশে পুনঃবিমা করতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমা কোম্পানিগুলো। বিশেষ করে যেসব বিমা পলিসির আন্ডাররাইটিং করা হয়েছে আগে এবং প্রিমিয়াম পরিশোধ করা হচ্ছে এখন। এক্ষেত্রে পুনঃবিমার প্রিমিয়াম বিদেশে পাঠাতে বেশি দরে ডলার কিনতে হচ্ছে। অথচ প্রিমিয়াম হার আগেরটাই রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, দেশের বাইরে থেকে আমাদের টাকা আসছে। অর্থাৎ ক্লেইম বা দাবি রিকভারির ক্ষেত্রে যে ডলার আসছে সেখানে আবার আমরা কিছুটা সুবিধা পাই। আগের সিদ্ধান্ত অনুসারেই তো পুনঃবিমা কোম্পানিগুলো ক্লেইম রিকভারির টাকা পাঠাচ্ছে। আমাদের দেশে প্রিমিয়ামের চেয়ে ক্লেইম রিকভারি আসে অনেক বেশি। তাই অনেক পুনঃবিমা কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করতে চায় না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডলারসংকটে বড় সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশের বিমাশিল্প। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি পুনঃবিমাকারীদের প্রিমিয়াম জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে স্থানীয় বিমাকারীদের জন্য। 

বিমা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, তারা যদি প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে বিদেশি পুনঃবিমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যারা স্থানীয় বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেশি বড় ঝুঁকিগুলোর ভাগাভাগি ও ব্যবস্থাপনা করে থাকে তারা বাংলাদেশ থেকে কোনো ঝুঁকি কাভারেজ নিতে রাজি হবে না। পাশাপাশি বিদ্যমান চুক্তিও বাতিল করে দেবে। এ ধরনের ঘটনায় গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রিমিয়াম আটকে রয়েছে। ফলে দেশের বিমাকারীদের মধ্যে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের একমাত্র নন-লাইফ বিমাকারী এবং পুনঃবিমাকারী সংস্থা সাধারণ বিমা করপোরেশন (এসবিসি) সর্বোচ্চ ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তির পুনঃবিমা করতে পারে। এ কারণে স্থানীয় বিমা কোম্পানিগুলোকে কেপিআই, মেগা প্রকল্প ও ৪০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের কারখানার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুনঃবিমা নিতে বাধ্য হয়। পুনঃবিমা টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের বিদেশি পুনঃবিমাকারীদের কাছে নিয়মিত প্রিমিয়াম পাঠাতে হয়।

প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহেদুল ইসলাম (জাহিদ) খবরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিনিষেধের কারণে চার মাসের বেশি সময় ধরে আমরা একটা ডলারও পাঠাতে পারিনি। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে একটা বিপর্যয় ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, যখন বিদেশি পুনঃবিমাকারীদের সঙ্গে পলিসি পুনঃবিমা করা হয় তখন প্রিমিয়াম পরিশোধের জন্য তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় ৬০ থেকে ৯০ দিন বেঁধে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রিমিয়াম পরিশোধ করা না হলে বিমা পলিসি বাতিল হয়ে যাবে।

পুনঃবিমা হলো একটি বিমা কোম্পানির ঝুঁকি অপর একটি বিমা কোম্পানিতে স্থানান্তর করা। এতে প্রিমিয়ামের বদৌলতে বিমা কোম্পানি দুটি ক্ষতির ঝুঁকি ভাগাভাগি করে নিতে পারে। 

বাংলাদেশের আইন অনুসারে, সব বেসরকারি বিমাকারীর নিজেদের ব্যবসার ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সাধারণ বিমা করপোরেশনের সঙ্গে পুনঃবিমা করা বাধ্যতামূলক। আর বাকি অর্ধেক দেশের বাইরে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে পুনঃবিমা করতে হয়। কিন্তু দেশের সব কোম্পানির বিদেশি পুনঃবিমাকারীর সঙ্গে ব্যবসা নেই।

বাংলাদেশের ৪৬টি নন-লাইফ বিমা কোম্পানির মধ্যে প্রায় ১২টি যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও ভারতের কোম্পানির সঙ্গে তাদের ব্যবসা পুনঃবিমা করে। বাকি কোম্পানিগুলো সাধারণে বিমা করপোরেশনের সঙ্গে পুনঃবিমা করে। সাধারণ বিমা করপোরেশন পরবর্তী সময়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ঝুঁকি ভাগাভাগি করে নেয়।

বাজারসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুসারে, কোম্পানিগুলো ২০২২ সালে বিদেশে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার (প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার) পুনঃবিমা করেছে। যেসব কোম্পানি তাদের পলিসি বিদেশে পুনঃবিমা করে, সেগুলোর মধ্যে আছে গ্রিন ডেল্টা, পাইওনিয়ার ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স। ডলারসংকটের জন্য প্রিমিয়াম পাঠাতে না পারায় এই কোম্পানিগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিমা খাত বিকাশে বাধা আস্থাহীনতা

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪, ০২:২১ পিএম
বিমা খাত বিকাশে বাধা আস্থাহীনতা
ছবি : সংগৃহীত

অনেক কোম্পানিই বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়মতো বিমার অর্থ ফেরত বা বিমার সুবিধা দেয় না। পাওনা অর্থ বা সুবিধা আদায় করতে সাধারণ মানুষের অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। অনেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর বিমার টাকা ফেরত পেয়েছেন। আর এতে বিমার প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

সফলতার সঙ্গে বিমা খাতের আওতা বাড়াতে সাধারণ মানুষের অনাস্থা দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে বিমার সমগ্রিক কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করার কথা জানিয়েছেন তারা। এই সংকটগুলো দূর করা সম্ভব হলে বিমা খাতের জটিলতা কমে আসার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তারা মনে করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বিমা পলিসি করার ক্ষেত্রে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে সামাজিক মতামত। অর্থাৎ বিমা করার ক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মানে আশপাশের মানুষ বা সমাজ যদি বিমা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখে, তাহলে বিমার গ্রাহক বাড়বে। শিশুশিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সমস্যা, সম্পদ ক্রয়, ভ্রমণ এবং অবসর-পরবর্তী অর্থায়নের জন্য সঞ্চয় বিষয়ে বিমা খাতের বড় ধরনের সম্ভাবনা আছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে জীবন বিমার গ্রাহক বাড়ছে না। ২০০৮ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে জীবন বিমার গ্রাহক ছিল দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৯ সালে সেটি কমে দশমিক ৩৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে সেটি আরও কমে দশমিক ২২ শতাংশে নেমে যায়। একইভাবে সাধারণ বিমা গ্রাহকের সংখ্যাও কমেছে। অথচ বিমার গ্রাহক ১ শতাংশ বাড়লে দেশের জিডিপিতে ২ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়।

আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলমগীর শামসুল আলআমিন বলেন, গ্রাহকদের আস্থাহীনতার বড় কারণ, অনেক কোম্পানি তাদের প্রত্যাশা মেটাতে বা বিমা দাবি পরিশোধ করতে পারছে না। সব কোম্পানি যে দাবি পরিশোধ করছে না তা কিন্তু নয়। ১৯টি কোম্পানি ৮০ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত বিমা দাবি পরিশোধ করছে। ১০টি কোম্পানি ৭০ শতাংশের ওপর দাবি পরিশোধ করছে। যারা দাবি পরিশোধ করে না, সেই সংখ্যাটা আরও কম। পুরো বিমা খাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোতে সুশাসনের অভাবের কারণেই দাবি পরিশোধ হচ্ছে না।

বিমা খাতের উন্নয়নে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, বিমা কোম্পানিগুলোকে স্বচ্ছতার সঙ্গে চালানো সম্ভব হলে যারা বিমা করবেন তারা উপকৃত হবেন। আবার সরকারও উপকৃত হবে। অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাধ্যতামূলক বিমার পাশাপাশি কঠোর নজরদারি করতে হবে। তা না হলে বিমা খাত সফল হবে না।

ড. আতিউর রহমান আরও বলেন, সরকারি সম্পত্তি, গণপরিবহনের বিমা করার কথা থাকলেও অনেকে তা করেন না। একটি বড় ভবন নির্মাণের আগে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন, মাটি পরীক্ষা, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশের বিষয়গুলো অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। একইভাবে বিমা করতে হবে। অনেকে বিমা করে না। এ বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে।

বিমার আওতা বাড়াতে এর অংশ হিসেবে দেশের গণপরিবহনগুলোকেও বাধ্যতামূলক বিমার আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন রিকন্ডিশন গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সভাপতি হাবিবউল্লাহ ডন। তিনি বলেন, তৃতীয় পক্ষের বিমা থাকলে বিমা পলিসি ছাড়া রাস্তায় গাড়ি বের হওয়ার কথা না। এখন অনেক গাড়িই বিমা ছাড়া বের হচ্ছে। উন্নত দেশে এমন নেই। একসময় বাসে লেখা থাকত ‘যাত্রীদের জীবন বিমাকৃত’। এখন তেমন দেখা যায় না। বাধ্যবাধকতা থাকলে ঠিকই দেখা যেত। 

বিশ্লেষকরা বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে জীবিত অবস্থায় কী সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য নিয়ে আসতে হবে। ডিজিটাল-ব্যবস্থা করা গেলে বিমা খাত নিয়ে গ্রাহকের মধ্যে আস্থা আসবে।

সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক খাতের মধ্যে বিমা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। জিডিপির আকার যেভাবে বড় হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় হতে পারছে না বিমা খাত। বাংলাদেশে বিমা খাতের প্রসারে অর্থ মন্ত্রণালয়, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষভাবে আইডিআরএর কাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারলে বিমা খাতের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি বাড়বে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যেমন অভিযোগ আছে, একইভাবে সাধারণ মানুষদেরও অনেকে সময়মতো বিমা দাবি পরিশোধ করতে চান না। এর বদনাম গিয়ে পড়ে গোটা বিমা খাতের ওপর। আইডিআরএর লোকবলের সংকট আছে। এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। সবকিছু বিমার আওতায় আনতে হবে এবং এগুলো যথাযথ নজরদারির মধ্যেও রাখতে হবে। বিমা খাত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

অগ্রগতি নেই শস্যবিমায়

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪, ০২:১৮ পিএম
অগ্রগতি নেই শস্যবিমায়

কৃষকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বিভিন্ন দুর্যোগে ফসলহানির পরও সুরক্ষা পায় না। শস্যবিমা কৃষকের একমাত্র রক্ষাকবচ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ বছর আগে কৃষকদের জন্য কৃষিবিমা চালুর উদ্যোগ নেন। তারপরও আগ্রহ দেখাচ্ছে না বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো। ৪৭টির বিমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখন পর্যন্ত শস্যবিমার আওতায় এসেছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডেল্টা ইন্সুরেন্স এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে শস্যবিমার প্রিমিয়াম বেশি, অন্যদিকে বীমাকারিদের ক্ষতিপূরণ দাবিও বেশি। সিস্টেমের ত্রুটির কারণে ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক না হওয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নিলে শস্য বিমার আওতা বাড়বে। এতে উদ্বুদ্ধ হবে কৃষক, তাদের আগ্রহও বাড়বে।    

প্রতিবছর মৌসুমি বন্যা, আগাম বন্যা, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষককে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই ফসলডুবি বা নদীভাঙনে ডুবে যাওয়া কৃষকের কথা চিন্তা করে তথা কৃষকের আর্থিক উন্নতি, সামাজিক অস্থিরতা রোধ ও কৃষির উন্নয়নে সরকার শস্যবিমা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথমে হাওর অঞ্চলের ৭টি জেলা- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিমা প্রকল্পটি চালু করা হয়। ১০ ধরনের সুবিধা নিয়ে শস্যবিমা প্রকল্পটি চালু করা হয়। ২০১৪ সালে শুরু করে ২০১৮ সালে শেষ হয়ে গেছে। তেমনভাবে কৃষকদের মধ্যে আলোচনায় আসেনি। কত কৃষক এর আওতায় এসেছেন বা বিমা দাবি করে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে তার কোনো তথ্য নেই বিমা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে। 

অথচ কৃষকরা বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিমা আওতায় থাকলে ক্ষতির টাকা পাবেন। এই টাকা দিয়ে তারা আবার ফসল লাগাতে পারবেন। তারা ক্ষতির ধকল কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য কৃষিবিমা চালু করার উদ্যোগের কথা জানান। ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর বিমা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যারা বসবাস করে, তাদের ক্ষতি কীভাবে মেটানো যায় এবং তাদের জীবন কীভাবে নিরাপদ করা যায়, সে জন্য তাদের বিশেষ বিমাব্যবস্থা করে দিলে তারা নিরাপদ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ২০২১ সাল থেকে কৃষিবিমা চালু করার উদ্যোগ নেয় সাধারণ বিমা করপোরেশন।
 
সাধারণ বিমা করপোরেশন সূত্র জানায়, সীমিত আকারে নওগা, রংপুর, গাইবান্ধা ও শেরপুর জেলার ৭টি উপজেলায় শস্যবিমা চালু রয়েছে। এখানে কৃষি বিভাগ, আবহাওয়া বিভাগ, অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন। কারণ কৃষক বিমার সুবিধা সম্পর্কে জানেন না বা সচেতন নন। এই সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ একা করা সম্ভব হবে না। সরকারের অন্য বিভাগগুলোর সহায়তাও প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই বিমাতে আগ্রহী হবেন কৃষক। ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে কৃষিবিমা চালু আছে। এতে সরকার বা দাতা সংস্থা কৃষকের বিমার কিস্তির টাকা দেয়। বাংলাদেশেও এভাবে চালু করা গেলে এটি জনপ্রিয় হবে। সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে ২৯ কোটি কৃষক এখন শস্যবিমার আওতায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সেভাবে বিকশিত হয়নি। 

শস্যবিমার ব্যাপারে জানতে আইডিআরএ যোগাযোগ করা হলে এর মুখপাত্র ও উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, কৃষকের স্বার্থে শস্যবিমার আওতা বাড়ানো দরকার। কিন্তু বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ পর্যন্ত গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিমা করপোরেশন শস্যবিমা চালু করেছে। বিভিন্ন কারণে বিমার আওতা বাড়ছে না। এখানে প্রিমিয়াম বেশি। আবার অন্যান্য বিমার চেয়ে দুর্যোগে ক্ষতি বেশি হওয়ায় শস্যবিমায় ক্ষতিপূরণও বেশি দিতে হয়। তাই ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করে বিমা কোম্পানিগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই কৃষি মন্ত্রণালয়কে আগ্রহী হতে হবে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগ্রহী হওয়ায় সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিমা করপোরেশন সীমিত পরিসরে শস্যবিমা চালু করেছে। বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. হারুন-অর-রশিদ ব্যস্ত থাকায় ব্যবস্থাপক মো. আবদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তার কথা অনুযায়ী আবদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০২১ সালে সীমিত পরিসরে আমরা শস্যবিমা চালু করেছি। এ পর্যন্ত রংপুরের পীরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, শেরপুর জেলা সদর, নলিতাবাড়ী শ্রীবরদী ও নওগা জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে শস্যবিমা চালু করা হয়েছে। এই সাতটি উপজেলার ৫০ হাজার কৃষককে শস্যবিমার আওতায় আনা হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিমার প্রিমিয়াম রেট বেশি, ৩-৫ শতাংশ। তাই কৃষকদের আগ্রহও কম। আবার বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে ক্ষতিপূরণ দাবিও বেশি করা হয়। এ জন্য বিমা কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে না। কারণ লোকসান করে কেউ ব্যবসা করতে চায় না। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে ব্যাপকভাবে প্রচার বাড়লে কৃষকের আগ্রহও বাড়বে। কারণ তারা কৃষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।  

‘ব্যাংকান্স্যুরেন্স’ উদ্বোধন আজ

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
‘ব্যাংকান্স্যুরেন্স’ উদ্বোধন আজ

দেশের বিমা খাতে জনগণকে উন্নত সেবা দিতে ‘ব্যাংকান্স্যুরেন্স’ প্রবর্তন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংকের শাখায় শাখায় বিমা কোম্পানির পলিসি বিক্রি হবে। বিমা গ্রাহককে পলিসি বিক্রয় থেকে শুরু করে কিস্তি ও বিমা দাবি পরিশোধসহ সব সেবা দিবে ব্যাংক কর্মকর্তা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার (১ মার্চ) জাতীয় বিমা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যুগান্তকারী এই বিমা সেবা উদ্বোধন করবেন।

ব্যাংকান্স্যুরেন্স পাশ্চাত্য দেশগুলোতে প্রবর্তন হয়েছে অনেক আগেই। গত বছর জুলাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ দেশে প্রথম ব্যাংকান্স্যুরেন্স প্রবর্তনের নীতিগত ঘোষণা দেয়। তারই আলোকে গত ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি আইনগত দিকনির্দেশনা বা গাইডলাইন দিয়ে সে অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে বিমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কার্যক্রম শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে। এ নীতিমালায় বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ব্যাংকান্স্যুরেন্স সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা বলা হয় একটি বিমা কোম্পানি সর্বোচ্চ ৩টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। একইভাবে একটি ব্যাংকও সর্বোচ্চ ৩টি বিমা কোম্পানির পলিসি বিক্রির চুক্তি করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এটি প্রবর্তনের ফলে ব্যাংকে তারল্য প্রবাহ বাড়বে, বিমা কোম্পানির ব্যবসার ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং দুই খাতের চুক্তিবদ্ধ কোম্পানিরই ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়াও ব্যাংকগুলো বিমা গ্রাহকের জন্য ভবিষ্যতে পৃথক ঋণ ও সঞ্চয় বা আমানত সংশ্লিষ্ট পণ্য সূচনার মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবসাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে, সুযোগ তৈরি হবে।

বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বিমা পলিসি বিক্রয়ের নতুন এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক ও বিমা কোম্পানি দুই পক্ষই লাভবান হবে।

তিনি বলেন, ‘এখন বিমা খাতে মানুষের একটি আস্থার সংকট আছে। ব্যাংক যখন বিমা পণ্য বিক্রি করবে তখন এ আস্থার সংকট কাটবে। গ্রাহকের কাছে বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংক বেশি নির্ভরযোগ্য।’

ইউরোপের দেশ ফ্রান্স ১৯৭০-এর দশকে প্রথম ব্যাংকান্স্যুরেন্স সূচনা করে। এরপর পর্যায়ক্রমে স্পেনসহ অন্যান্য দেশে ব্যাংকের মাধ্যমে বিমা বিক্রির এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়। ভারত সরকার ২০০০ সালে এর প্রবর্তন করে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পদ্ধতির ওপর গ্রাহকের আস্থা বেশি। কারণ, প্রথাগত পদ্ধতি অনুযায়ী, গত ৫০ বছর ধরে দেশে বিমা কোম্পানিগুলো এজেন্ট, দালাল বা ব্যক্তির মাধ্যমে বিমা পলিসি বিক্রি করেছে। এতে কখনো কখনো গ্রাহকের টাকা তার পলিসিতে জমা হয়নি। আত্মসাৎ হয়েছে। আবার বিমা কোম্পানিগুলো পলিসির মেয়াদপূর্তি বা ম্যাচুরিটি অর্জনের পর গ্রাহককে টাকা দিতে হয়রানি করছে। নতুন পদ্ধতিতে ব্যাংকের মাধ্যমে বিমা পলিসি বিক্রি হলে ব্যাংক তার মাধ্যমে বিক্রীত বিমা গ্রাহকের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হবে। এটি ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির চুক্তির আলোকেই হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনে বলা হয়েছে। এতে করে গ্রাহক তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ আর থাকবে না।

ব্যাংকান্স্যুরেন্সে অংশগ্রহণকারী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) থেকে লাইসেন্স অর্জন করতে হবে। তার পরই শুধু বিমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে পলিসি বিক্রির কাজ করতে পারবে ব্যাংক। এ জন্য বিক্রীত বিমা পলিসির বিপরীতে কমিশন পাবে ব্যাংক।

রমজানের আগে বেগুনে সেঞ্চুরি

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪, ১১:০৬ এএম
রমজানের আগে বেগুনে সেঞ্চুরি

রমজান মাস আসতে ১২ দিন বাকি। তার আগেই বেগুনের কেজি ১০০-১১০ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে বেগুন ছিল ৬০-৭০ টাকা কেজি। সরবরাহ ভালো হাওয়ার পরও বাজারে বেগুনের দাম দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এদিকে বাড়তে শুরু করেছে মরিচের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে গেছে।

পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করলেও কমছে না দাম। আগের মতোই ক্রেতাদের পেঁয়াজ ১১৫-১২০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। তবে চাল, মাছ, মাংস, ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শীতের সবজির দাম তেমন না বাড়লেও সজনে ডাটা ডাবল সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। করলা পটোলও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। তবে বাজারভেদে একই পণ্য কেজিতে ১০-২০ টাকা কমবেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। শ্যামবাজারের আড়তে পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সেই পেঁয়াজ বিভিন্ন খুচরা বাজারে ১১৫-১২০ টাকা। টাউনহল বাজারের খুচরা বিক্রেতা অলি ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, পাইকারিতে দাম বেশি। ১১০ টাকা কেনা। লোকসান করে ব্যবসা করা যায় না। ১১৫-১২০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। অন্য বিক্রেতারা জানান, ভারতের পেঁয়াজ না এলে কমবে না দাম। এ ছাড়া আলু ৩০-৩৫ টাকা কেজি। আদা ২২০-২৮০ টাকা, দেশি রসুন ১৭০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ২২০-২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 

রমজান মাস ঘনিয়ে আসায় বেগুনের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে বেগুন ৬০-৭০ টাকা কেজি ছিল। এখন ৭০-১২০ টাকা কেজি। এত দাম কেন, জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা কালু বলেন, সামনে রমজান আসছে। চাহিদা বাড়ছে। এ জন্য দাম বেশি। এগুলো কলাতিয়ার বেগুন ১০০-১২০ টাকা। কম দামেরও আছে। ৭০-৮০ টাকা কেজি। 

গত সপ্তাহ থেকে শসার দামও বাড়তে শুরু করেছে। হাইব্রিড শসা ৭০-৮০ ও দেশিটা ১২০-১৩০ টাকা, খিরার কেজি ৫০-৬০ টাকা। টমেটো ৪০-৫০ টাকা। মরিচের দামও বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের ৮০-১০০ টাকার মরিচ বর্তমানে ১০০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কপির পিস ৩৫-৪০ টাকা, শাকের আটি ১০-১৫ টাকা, লেবুর হালি ৩০-৫০ টাকা। সজনের ডাটা ২২০ টাকা, করলার কেজি ১৮০, ঢেঁড়স ১২০ টাকা, পটোলও বেশি দামে ১৭০-১৮০ টাকা কেজি। 

আজ থেকে কম দামে মিলবে সয়াবিন তেল

সরকার তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, যা বাজারে আজ (১ মার্চ) থেকে পাওয়া যাবে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কম দামের সয়াবিন তেল এখনো কোম্পানি থেকে দেয়নি। তারা দিলে বিক্রি করা হবে। ১ মার্চ এলে দেখা যাবে। কারওয়ান বাজারের রব স্টোরের মালিক আব্দুর রব বলেন, ১ লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের মূল্য ১৭৩ টাকা। সেই দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। ৫ লিটারের মূল্য আছে ৮৪৫ টাকা। এটা একটু কম দামে ৮২০-৮২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চিনির কেজি ১৪০-১৪৪ টাকা। ডাল ১১০-১৩৫ টাকা, ছোলার কেজি ১০৫-১১০ টাকা। বস্তার খোলা খেজুর ২৫০ টাকা, প্যাকেটের ভালো মরিয়ম খেজুর ১২০০-১৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কমেনি। টাউনহল বাজারের কুমিল্লা রাইস এজেন্সির জাহেদ বলেন, বর্তমানে ৬৮ টাকা কেজি মিনিকেট, ২৮ চাল ৫৩ টাকা ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। অন্য চাল বিক্রেতারাও বলছেন, চালের দাম কমেনি। 

কমেনি মাংসের দাম 

সপ্তাহের ব্যবধানে কমেনি কোনো মাংসের দাম। কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে পোলট্রি মুরগি ২০০-২২০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি কর্ক ৩১০-৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০-৫৮০ টাকা কেজি বলে বিক্রেতারা জানান। গত সপ্তাহের মতোই ডিম ১৩৫-১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। ৭৩০-৭৫০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না গরুর মাংস। টাউনহল বাজারের আজিজ দেওয়ান মাংস বিতানের আজিজ ও খুরশিদ মাংস বিতানের খুরশিদ বলেন, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, খাসির ১১৫০ টাকা কেজি।