ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

হিলি চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার কমেছে

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৮ পিএম
হিলি চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার কমেছে

দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার কমেছে। ৬ মাস আগে যেখানে প্রতিদিন এই রুট দিয়ে গড়ে ৫ শতাধিক যাত্রী পারাপার হতো। বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ জনে।

সরেজমিনে হিলি ইমিগ্রেশন চত্বরে পাসপোর্টধারী যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হিলি চেকপোস্ট দিয়ে যেসব যাত্রী ভারতে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে কেউ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে, আবার কেউ ভারতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে কেউ চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে অনেকে ভারতীয় আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে বাংলাদেশে আসছেন।

হিলি চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসা খোরকা চন্দ্র বলেন, ‘ভারতে অনেক আত্মীয়স্বজন আছে। নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। তাই আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে ভারত গিয়েছিলাম। আজ দেশে ফিরে আসলাম।’

অপর এক যাত্রী আকবর হোসেন বলেন, ‘আমরা সপরিবারে ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ভারতের কলকাতা, দার্জিলিং, শিলিগুড়িসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে এসেছি। ভারতে ১৫ দিন ছিলাম।

হিলি চেকপোস্ট দিয়ে ভারতগামী যাত্রী আজমিরি আক্তার বলেন, ‘আমি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছি। হিলি বন্দরে ইমিগ্রেশন নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় না। নিয়ম অনুযায়ী লাইনে দাঁড়িয়ে স্বল্প সময়ে পাসপোর্টের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করেছি। এখন জিরোপয়েন্ট পার হয়ে ভারতে যাব।’

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আশরাফুল আলম বলেন, ‘হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা অন্য সময়ের চেয়ে কিছুটা কমেছে। ৬ মাস আগে এই চেকপোস্ট দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫ শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করতেন। বতর্মানে তা কমেছে। প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন যাত্রী পারাপার করছেন। বাংলাদেশ হিলি ইমিগ্রেশনে খুব দ্রুত সময়ে পাসপোর্টের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। যেন যাত্রীরা স্বল্প সময়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।’ 

৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন এক যুগে সবচেয়ে কম

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩২ এএম
৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন এক যুগে সবচেয়ে কম
ছবি : সংগৃহীত

সরকার চাইলেও উন্নয়নকাজের গতি বাড়ছে না। গত ১২ বছরের সবচেয়ে কম অগ্রগতি হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ। বেশি বরাদ্দ পেয়েও স্থানীয় সরকার বিভাগসহ গুটিকয়েক মন্ত্রণালয় ছাড়া বেশির ভাগ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। 

আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১ শতাংশেরও কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এমনকি গত এক যুগের মধ্যে চলতি অর্থবছরের মতো কখনো এত কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়নি।

গত এক যুগের বিভিন্ন অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। সে সময় এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল মোট বরাদ্দের ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০১৫-১৬, ২০২০-২১ সালে ছিল ২৮ শতাংশের ওপরে। বাকি অর্থবছরগুলো এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের তুলনায় কম হলেও মাসের হিসাবে জানুয়ারিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার গত অর্থবছরের সমান হয়েছে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছর ছাড়া গত এক যুগের মধ্যে জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে চলতি অর্থবছরে। আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, শুধু জানুয়ারি মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এবার খেসারি, ছোলা, অ্যাংকর ডালের দামেও লাফ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০০ এএম
এবার খেসারি, ছোলা, অ্যাংকর ডালের দামেও লাফ
ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, রমজানে খাদ্যপণ্যের সংকট হবে না। যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। তারপরও অন্যান্য পণ্যের মতো ইফতারের আইটেম তৈরির কাজে ব্যবহৃত খেসারি, অ্যাংকর ও ছোলার ডালের দাম বেড়েছে। পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ তৈরিতে এসব ডাল ও বেসন লাগে। রমজান মাস শুরুর আগেই সপ্তাহের ব্যবধানে এসব ডালের কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। খেসারির ডালে ৫ টাকা, অ্যাংকরে ১০ টাকা, ছোলার ডালে ৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি মোকামে তেমন না বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে বেড়ে গেছে দাম। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বেশি হলে এসব পণ্যের দাম আর বাড়বে না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।  

রমজানে ছোটখাটো বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে অভিজাত বাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষঙ্গ হিসেবে পেঁয়াজু, বেগুনির চাহিদা বেড়ে যায়। ইফতারের এসব আইটেমে খেসারি, অ্যাংকর ও ছোলার ডালের বেসন ব্যবহার করা হয়। এ জন্য দামও বাড়তে শুরু করেছে। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি খেসারির ডালের দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকা কেজি দরে। ৭০ টাকার অ্যাংকর ৮০ টাকা ও ১০৫ টাকা ছোলার ডাল ১১০ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে।
 
দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মনির স্টোরের আনোয়ারসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, মসুর ডালের দাম বাড়েনি। আগের মতোই মানভেদে ১১০-১৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডালের দাম মাসখানেক আগেই কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে খেসারি ডালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, অ্যাংকরের ডাল ১০ টাকা বেড়ে ৮০-৮৫ টাকা ও ছোলার ডালে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। 

অন্য বাজারেও এসব ডালের দাম বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানদার মায়ের দোয়া স্টোরের শাহ আলম বলেন, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে পাইকারিতে খেসারির ডালের দাম বাড়তে শুরু করে। এ জন্য খুচরা বাজারেও বাড়ছে। আগে ১০৫ টাকা বিক্রি করা হলেও এখন ১১০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। 

বাড়তি দামের ব্যাপারে কৃষি মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী সিটি এন্টারপ্রাইজের আবু তাহের বলেন, মসুর ডাল ও মুগ ডালের দাম বাড়েনি। আগের মতোই মুগ ডাল ১৬০ টাকা কেজি, ছোলার ডাল ১০৫ টাকা। তবে অ্যাংকর ডালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও এখন ৮০ টাকা। যা গত বছরের রমজানে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজু ও বেগুনির কাজে অনেক বেসন লাগে। এটা ডাল থেকে করা হয়। তাই বাড়ছে চাহিদা, দামও বাড়ছে।  

আমদানিকারকরা বলছেন, রোজায় ছোলার চাহিদা বেশি থাকে। খেসারি ও অ্যাংকর ডালের চাহিদাও বাড়ে। সে জন্য ব্যবসায়ীরা সাধারণত রোজাকেন্দ্রিক এসব পণ্য আমদানিও করেন বেশি। কিন্তু ডলারের দাম বেশি থাকায় এবার আমদানি খরচ বেড়েছে। ছোলা ও বিভিন্ন পদের ডালের দামে ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব পড়েছে। 

বাংলাদেশ পাইকারি ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শফি মাহমুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমদানি খরচ বেশি। এ জন্য এবারের রমজানে অ্যাংকরের দাম বাড়তি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার বাড়েনি। এখন কাস্টমার কমে গেছে। মৌলভীবাজারে খেসারি ৯০ টাকা কেজি, অ্যাংকর ৬১-৬২ টাকা ও ছোলার ডাল ৯৬ টাকা। আশা করি, বাজার যে অবস্থায় আছে, রমজানের মধ্যে সেভাবেই থাকবে। সরবরাহ বাড়াতে হবে। নতুন করে দাম বাড়বে না।’ 

চাহিদার কাছাকাছি দেশে মসুর ডাল উৎপাদন হলেও অন্য ডাল হয় না। এ জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ডাল ও ছোলার মতো ডালজাতীয় পণ্য ১৩-১৪ লাখ টন আমদানি করতে হয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নেপাল থেকে বিভিন্ন ধরনের ডাল আমদানি করা হচ্ছে। করোনার পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বাজারে ডালজাতীয় পণ্যের দাম মোটামুটি কম ছিল। যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বছরের ব্যবধানে অনেক দাম বেড়েছে। সরবরাহ থাকলেও রমজান শুরুর আগেই সপ্তাহের ব্যবধানে ডালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে গেছে।

বাধ্যতামূলক’ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ ৩৩ কোম্পানির পরিচালক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৪৭ পিএম
বাধ্যতামূলক’ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ ৩৩ কোম্পানির পরিচালক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট শেয়ারের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সমন্বিত কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতা থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ম লঙ্ঘন করে কিছু কোম্পানির পরিচালক ওই পরিমাণ শেয়ার সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শেয়ারের কিছু অংশ বিক্রি করে বেআইননিভাবে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ছাড়া নিজ নামে থাকা প্রত্যেকের সর্বনিম্ন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বিধান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সমন্বিতের পাশাপাশি পরিচালকদের অনেকেই এ নিয়ম মানছেন না। তবে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ক্ষেত্রে শেয়ার ধারণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। 

জানা গেছে, ৩৩টি কোম্পানি গত ১৩ বছরে এ আইন মানতে পারেনি। পুঁজিবাজার ধসের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০১১ সালে পরিচালকদের শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাকতার নিয়ম চালু করে। 

পরিসংখানে দেখা গেছে, গত ১৩ বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৩টি কোম্পানি এই নির্দেশনা পরিপালন করেনি। এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের ৭টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৫টি, প্রকৌশল খাতের ৮ টি, আইটি খাতের ২টি, খাদ্য খাতের ২টি, আর্থিক খাতের ৪টি, পাট খাতের ১টি, জীবন বিমা খাতের ২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

কোম্পানিগুলো হচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স লিমিটেড, অ্যাক্টিভ ফাইন, আফতাব অটোমোবাইলস, আলহাজ টেক্সটাইল, আজিজ পাইপস, অ্যাপোলো ইস্পাত, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, সেন্ট্রাল ফার্মা, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ডেল্টা স্পিনিং, রিং শাইন, ইস্টার্ন কেবলস, এফএএস ফিন্যান্স, ফনিক্স ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, ফু-ওয়াং ফুড, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ফাইন ফুড, ইনটেক লিমিটেড, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড, মিথুন নিটিং, নর্দান জুট, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ফার্মা এইড, এএফসি অ্যাগ্রো, সালভো কেমিক্যাল, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড।

জানা গেছে, কোনো কোম্পানির পরিচালক শেয়ার ধারণ ক্ষমতার বাধ্যবাধকতার নিয়ম লঙ্ঘন করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করতে পারে। একটি সূত্র বলেছে, যেসব কোম্পানি ইতোমধ্যে নিয়ম মানেনি, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, যখন কোনো কোম্পানিতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ কমে যায়, তখন তারা ওই কোম্পানির ব্যবসায় মনোযোগ দেন না। নিজেদের শেয়ার কম থাকার কারণে পরিচালকরা ভালো লভ্যাংশও দেন না। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ওই কোম্পানির শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হন। 

তিনি আরও বলেন, বোর্ড পুনর্গঠন করে দেওয়া হলে কোম্পানিগুলোর এ প্রবণতা কমবে। বিএসইসি যদি কোম্পানিগুলোর বোর্ড পুনর্গঠনন করে দেয় তাহলে ওই কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন। এ ক্ষেত্রে যাদের শেয়ার বেশি তাদের বোর্ডে রেখে ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থদের বোর্ড থেকে বিতাড়িত করা উচিত। 

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, যেসব কোম্পানি কমিশনের নির্দেশনা পরিপালন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জানা গেছে, বর্তমান কমিশন দায়িত্বে এসে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ এবং প্রত্যেক পরিচালকের সর্বনিম্ন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের নিয়মের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে ৪৪টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার নির্দেশনা দিয়েছিল বিএসইসি। ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণ না করে পদে থাকায় সেই বছরের সেপ্টেম্বরে ৯টি কোম্পানির ১৭ জন পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে ব্যর্থ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে পুনরায় কঠোর অবস্থান নেয়। যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেনি তাদের সেই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে (১৫ দিনের মধ্যে) এ বিষয়ে পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশনা জারি করে।

ডিএসই সূত্রমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৩৩টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারেনি। 

উল্লেখ্য, বিএসইসি ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের এই নির্দেশনা জারির আগে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বহু অভিযোগ পেয়েছিল। এখন কমিশন মনে করে যে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে অবশ্যই সর্বজনীন নিয়ম মেনে চলতে হবে। যাতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা কোম্পানির বিষয়ে মনোনিবেশ করতে পারেন এবং শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ অনুসারে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সব সময় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।

চট্টগ্রামে ব্রয়লার মুরগির বাজার চড়া

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম
চট্টগ্রামে ব্রয়লার মুরগির বাজার চড়া
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার একটি ব্রয়লার মুরগির খামার। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে দফায় দফায় বাড়ছে মুরগির দাম। ২০ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৪৫ টাকা। বাচ্চার সরবরাহ কম ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করেন চট্টগ্রামের মুরগি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে পবিত্র শবে বরাত ও রোজার মাসকে পুঁজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর। 

চলতি মাসের শুরুতে চট্টগ্রামে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ১৬৫ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে গত ৯ ফেব্রুয়ারি কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১৯০ টাকায়। গত সপ্তাহে কেজিতে নতুন করে আরও ১৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২০৫ টাকায়। বর্তমানে আরও ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ঠেকেছে ২১০ টাকা কেজি। 

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, আজকের বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কিনতে হচ্ছে ২১০ টাকায়।

মহানগরের কর্ণফুলী বাজারে মুরগি বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ফার্মগুলো বাচ্চা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। তাই খামারিরা জোগান দিতে পারছেন না। বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ আছে। দাম বাড়লে সমস্যা আমাদেরই হয়। সব জায়গায় জবাবদিহি করতে হয়। আমাদেরই বা কী করার আছে?’ 

খবরের কাগজ মুরগির খামারি ও ফিড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছে। খামারিরা জানান, বাচ্চার সরবরাহ কম। তার ওপর দামও অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিটি ব্রয়লার বাচ্চা ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। খাবারের দাম বেড়েছে। গত বছর প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) খাবার (ফিড) ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রতি কেজি মুরগিতে উৎপাদন খরচ হয় ১৩০ টাকা। খামার থেকে প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজেই খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ২১০ টাকা হওয়াটা অস্বাভাবিক বলে জানান খামারিরা। তবে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বাচ্চার দাম বাড়েনি। পাশাপাশি খামারিদের চাহিদা অনুসারে বাচ্চা সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। ফিডের দাম তো নতুন করে বাড়েনি।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার মুরগির খামারি লিটন অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ লিটন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার খামারে দুই হাজার বাচ্চা আছে। ৫৫ টাকায় প্রতি পিস বাচ্চা কিনেছি। খাবারের দামও বেড়েছে। মুরগির দাম ওঠানামা করে। আমরা এখন ১৫০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি করছি। খুচরায় ২১০ টাকা বিক্রি হওয়া মানেই দামে কারসাজি চলছে।’ 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার খামারি মোহাম্মদ সাইফুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে মুরগির ব্যবসা করছি। বর্তমানে বাচ্চাসংকটের কারণে আমার তিনটি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। খাবারের দাম কমলে ও বাচ্চার সরবরাহ বাড়লে এ খাতে উদ্যোক্তার সংখ্যা আরও বাড়তে।’ 

লোহাগাড়ার পোলট্রি খামারি জসিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, এক দিন বয়সী ব্রয়লার বাচ্চা এখন বাজারে নেই। খামারিরা ইচ্ছা করলেও বাচ্চা কিনতে পারছেন না। তার খামারেও ব্রয়লারের শেড খালি পড়ে আছে উল্লেখ করে বলেন, কিছু অখ্যাত কোম্পানি এক দিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি করছে প্রতিটি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। তাও সীমিত আকারে। অনেক খামারের শেড খালি পড়ে আছে। 

আসন্ন রমজানে মুরগির অভাব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় কোম্পানিগুলো নিজেরাই মুরগি পালন করছে। পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে তারাই ব্যবসা করবে। বর্তমানে এক দিন বয়সী একটি বাচ্চা কিনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। একটি পূর্ণবয়স্ক মুরগি বাজারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দুই কেজি খাবার খায়। প্রতি কেজি ৭২ টাকা ধরলে দাম পড়ে ১৪৪ টাকা। তার সঙ্গে রয়েছে পরিচর্যা ও ওষুধ খরচ। যে কারণে খামারির খুব একটা লাভ হয় না। এখানে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলে। 

সীতাকুণ্ডের ছকিনা পোলট্রির স্বত্বাধিকারী নাছির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে হ্যাচারিগুলো নির্দিষ্ট কিছু চুক্তিবদ্ধ ফার্মকে বাচ্চা সরবরাহ করছে। এর বাইরে তারা অন্য খামারিকে দিচ্ছে না। ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক খামার। উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়ছে বাজারদরে। 

নাহার অ্যাগ্রোর কর্মকর্তা মোহাম্মদ রানা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা বাচ্চা ৪৯ টাকায় বিক্রি করছি। খাবার (ফিড) বিক্রি করছি ৭২ টাকা কেজি। খাবারের দাম নতুন করে বাড়েনি। পর্যাপ্ত পরিমাণে বাচ্চার সরবরাহ দিচ্ছি। খুচরায় মুরগির দাম বাড়ার কথা না। কেন বাড়ছে, সেটি বলতে পারছি না।’ 

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবির খবরের কাগজকে জানান, চাহিদা ও জোগানের ওপর মুরগির দাম নির্ভর করে। বর্তমানে চাহিদা বাড়ছে, তাই দামও বাড়ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ফিডের দামও। তবে দাম বাড়লেও তাতে কৃষকের কোনো লাভ নেই। সরকার এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চার দাম বেঁধে দিলেও ফিডের দাম সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা নেই। তাই লাভের টাকা বাচ্চা ও ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পকেটেই চলে যায়। 

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে শবে বরাত। এরপর আসছে রোজা। গত বছরও এ সময়ে মুরগির দাম বেড়ে গিয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কাজেই বারবার এটিই প্রমাণিত হচ্ছে, সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। প্রশাসনের অভিযান বা নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ফলে যে যার মতো করে দাম নিচ্ছেন। সরকারের উচিত ভোগ্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘আমরা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছি। কেউ বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আমরা ছাড় দেব না। পাশাপাশি অভিযোগ জানালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মেহেরপুরে ৫ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম
মেহেরপুরে ৫ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
মেহেরপুরের ঝাউবাড়িয়া গ্রামের একটি ভূট্টাখেত। ছবি: খবরের কাগজ

অধিক লাভজনক হওয়ায় গত কয়েক বছরে মেহেরপুরে ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ মৌসুমে জেলার প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার টন।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একসময় যেসব জমিতে কৃষকরা ধান, গম, তামাক চাষ করতেন, এখন সেসব জমিতে ভুট্টার চাষ করছেন। কৃষকরা জানান, ভালো ফলন, ফসলের চাহিদা এবং ভুট্টাগাছ থেকে জ্বালানির চাহিদা পূরণ হওয়ায় তারা দিন দিন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। 

জেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের ভুট্টাচাষি জিল্লুর রহমান জানান, তামাক চাষে মাটির উর্বরা শক্তি কমে যায় এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় বুঝতে পেরে তিনি ভুট্টার আবাদ করছেন। 
সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ভুট্টাচাষি রবকুল হোসেন জানান, বৃষ্টি হলে যেন ভুট্টার পচন না লাগে এবং পাখি ও পোকা যেন ভুট্টা খেয়ে ফেলতে না পারে সে জন্য ভুট্টার মোচা ছোট ছোট পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। আর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আগাম চাষ করা ভুট্টা জমি থেকে সংগ্রহ শুরু করবেন।

উজ্জ্বলপুর গ্রামের ভুট্টাচাষি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ভুট্টা চাষে আমার বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধারণা করছি, ৩৫ থেকে ৪০ মণ ফলন পাব। এতে আমার বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ হবে। ভুট্টার গাছ এবং কাঁদি জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করি।’

বামনপাড়া গ্রামের ভুট্টাচাষি সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভুট্টার ক্রেতা অনেক। গবাদিপশুর উন্নতমানের খাবার হিসেবে ভুট্টার চাহিদা বেড়েই চলেছে। এবার আমি ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। ক্রেতারা এই ভুট্টা থেকে তাদের নিজেদের ফিড মিল কারখানায় মুরগির বাচ্চার, মাছের ও গরুর খাবার তৈরি করে থাকেন।’

গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের ভুট্টাচাষি জাহিদুল হাসান জানান, তাদের এলাকায় ভুট্টা আবাদের তেমন একটি প্রচলন ছিল না। বর্তমানে গোখাদ্য, মাছের খাবার ও পোলট্রি খাবার হিসেবে ভুট্টার চাহিদা বাড়ছে। সে জন্য তাদের এলাকায়ও ভুট্টার আবাদ বাড়ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের মতে, এ বছর ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে ১৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় একজন কৃষকের কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা লাভ থাকছে।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভুট্টা একটি লাভজনক আবাদ হিসেবে মেহেরপুর জেলায় চাষ হয়ে আসছে। সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতা এবং কৃষি প্রণোদনার কারণে এ বছর ভুট্টা আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘মেহেরপুরের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার ফলন ভালো হয়। ভুট্টা চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে ভুট্টা চাষে চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’ সূত্র: বাসস।