ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

ছয় মাসে সামিট পাওয়ারের আয় কমেছে ৯২৭ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২০ পিএম
ছয় মাসে সামিট পাওয়ারের আয় কমেছে ৯২৭ কোটি টাকা
গাজীপুরে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের বিদ্যুত কেন্দ্র। ছবি : সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের (এসপিএল) ব্যবসায় দেখা দিয়েছে মন্দা। এতে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কোম্পানিটি দাবি করেছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হারে তারতম্যের কারণে মুনাফা কমেছে। এ ছাড়া স্থানীয় ব্যাংকের মাধ্যমে বিল পরিশোধে বিলম্বের কারণে ঘাটতিতে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিলম্বে বিল পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে কোম্পানিটি। তাদের আপত্তি ছিল, অনেক দেরিতে যখন বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, তখন ডলারের দর আর আগের অবস্থায় থাকে না। দেরিতে বিল পরিশোধ করায় ডলারের দামের সঙ্গে তারতম্য দেখা দেয়। এতে বড় অঙ্কের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় তাদের মুনাফা কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩০৮ কোটি টাকা। কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে ছয় মাসে কোম্পানিটির আয় কমেছে ৯২৭ কোটি টাকা বা ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৮২৯ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১৫২ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭১ পয়সা, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ৭৭ পয়সায়।

বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠানটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৪৬ শতাংশ। একই হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ১৮ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টায় সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ২০২২-২৩ অর্থবছরে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস কমেছে ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৪ পয়সা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯১ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ২ পয়সায়, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩৫ টাকা ৭২ পয়সা।

২০২১-২২ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে সামিট পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৫ টাকা ২৫ পয়সা। ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৭২ পয়সায়, আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সা।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২১ শেষে সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সায়। এ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৮ টাকা ৫৩ পয়সা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তার আগে ১৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল সামিট পাওয়ার। ফলে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০ অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে।

২০০৫ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার কোটি ৯৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৯। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ১৮ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের আশুলিয়া, মাধবদী এবং চান্দিনায় অবস্থিত গ্যাসভিত্তিক তিনটি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়েছে সরকার।

আশুলিয়া, মাধবদী ও চান্দিনায় ১০ (+১০%) মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ট্যারিফ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্পন্সর কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে সরকারের ১৫ বছর চুক্তির মেয়াদ ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট উত্তীর্ণ হয়। পরে সময় আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হয়। তার মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট উত্তীর্ণ হয়। নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে দ্বিতীয়বার আরও পাঁচ বছর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) সুপারিশ করে। বাপবিবো এবং নেগোসিয়েশন কমিটি কর্তৃক স্পন্সর কোম্পানির সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করে তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর থেকে পাঁচ বছর বৃদ্ধির জন্য সামিট পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে ট্যারিফ কিলোওয়াট ঘণ্টা ৫ দশমিক ৮২ টাকা হিসেবে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে সংশোধিত চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্ধিত মেয়াদে (৫ বছরে) স্পন্সর কোম্পানিকে ৫৪৬ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। সামিট পাওয়ার সিঙ্গাপুরভিত্তিক হোল্ডিং কোম্পানি সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে তাদের ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানা আছে।

বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ দরে পেঁয়াজ-আলু বিক্রি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৭ এএম
বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ দরে পেঁয়াজ-আলু বিক্রি
ছবি : সংগৃহীত

ঈদের আগে ৫৫-৬০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। ভরা মৌসুমেও কমছে না দাম। গত বছরের এই সময়ে পেঁয়াজ ৩০-৪০ টাকা কেজি ছিল। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭৫-১১৬ শতাংশ। বিক্রেতারা বলছেন, দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। একই দশা আলুর। গত বছরের এ সময়ে ২৮-৩০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ৫০-৫৫ টাকায় ঠেকেছে। বছরের ব্যবধানে ৮০-৮৩ শতাংশ বেড়েছে। ঈদের পর মুরগি, গরুর মাংসের দাম কমেছে। তবে ডিমের ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা হয়ে গেছে। ঈদের পর বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। সরকার চালের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলেও কমেনি এক পয়সাও। 

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর টাউন হল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের পর সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাবে দামও বাড়ছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের তথ্য যাচাই করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির ওয়েবসাইটেও দেখা গেছে, গতকাল ৬৫-৭০ কেজি পেঁয়াজ। আলুর কেজি ছিল ২৮-৩০ টাকা। বর্তমানে ভরা মৌসুমেও সেই আলু ৫০-৫৫ টাকা কেজি। সরকার বুধবার বোতলজাত তেলের লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৬৭ টাকা নির্ধারণ করলেও আগের দরেই ১৬৩ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মিলগেট থেকে নতুন রেটের তেল না আসা পর্যন্ত এই দরেই বিক্রি হবে। আগের মতোই আদার কেজি ২০০-২২০ টাকা, আমদানি করা রসুন ২০০-২২০ টাকা ও দেশি রসুন ১৩০-১৫০ টাকা কেজি।

এক পয়সাও কমেনি চালের দাম

সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও কমেনি চালের দাম। রমজান মাসে কেজিতে ৫-৬ টাকা বাড়ার পর আর কমেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ২১ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চালের বস্তায় জাত ও মূল্যসহ ৭ নির্দেশনা দেওয়া হয়; যা ১৪ এপ্রিল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা ছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, কোনো দোকানে নতুন বস্তার চাল আসেনি। কারওয়ান বাজারের হাজি রাইস এজেন্সির মালিক মাঈন উদ্দিন বলেন, আগের বস্তাতেই চাল বিক্রি করা হচ্ছে। কোনো দাম কমেনি। প্রতি কেজি নাজিরশাইল মানভেদে ৭০-৮০ টাকা, মিনিকেট ৭২-৭৫ টাকা, আটাশ চাল ৫৫-৫৮ টাকা ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকা কেজি। অন্য খুচরা চাল বিক্রেতারাও বলছেন, কমেনি চালের দাম। নামিদামি ভালো মানের পোলাওয়ের প্যাকেট চাল ১৭০-১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বস্তার পোলাওয়ের চাল ১৪০-১৪৫ টাকা কেজি। 

গরু ও খাসির মাংসের বাজারে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। যা ঈদে ছিল ৮০০-৮২০ টাকা পর্যন্ত। ঈদের সময় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া খাসির মাংস বর্তমানে প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা। গতকাল ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৮০ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। 

ঈদের পর সবজির দাম কমলেও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। আগে কম দামে বিক্রি হলেও গতকাল বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে টমেটোর কেজি ৫০-৭০ টাকা, করলা ৬০-৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০-৬০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০ টাকা, শসা ৪০-৬০ টাকা, শজনে ডাঁটা ৮০-১০০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, পটোল ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০-১৪০ টাকা।

চট্টগ্রামে ঈদের পরই ডিমের দাম বেড়েছে দুই দফা 

চাহিদা কম থাকা ও ক্রেতাসংকটে রোজার মাসে নিম্নমুখী ছিল ডিমের বাজার। কিন্তু ঈদ শেষ হতেই এখন পর্যন্ত পণ্যটিতে দুই দফা দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মার্চ মাসের শুরুতে পাইকারিতে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হয় ৯ টাকা ৩০ পয়সায়। পরবর্তী সময়ে ক্রেতাসংকটে রোজার মাসে দাম আরও কমে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হয় ৮ টাকা ৬০ পয়সায়। গত ১১ এপ্রিল ঈদ উদযাপনের পরই বাড়তে থাকে পণ্যটির দাম। গত ১৫ এপ্রিল প্রতি পিস ডিম বিক্রি হয় ৯ টাকা ৪০ পয়সায়। বর্তমানে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা ৫০ পয়সায়। 

এদিকে ঈদের আগে ক্রেতাসংকটে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে নিম্নমুখী ছিল পেঁয়াজের বাজার। কিন্তু ঈদ শেষ হতেই আবারও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি হালি পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

পতনের বৃত্তে বন্দি পুঁজিবাজার

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৪ পিএম
পতনের বৃত্তে বন্দি পুঁজিবাজার
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ঈদের পর টানা দরপতনের মধ্যে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল বুধবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে কমেছে সবকয়টি মূল্যসূচক। এর মাধ্যমে ঈদের পর লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই সূচক কমল। এ তিন কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স  ১০০ কমেছে। 

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের চেয়ে ব্যাংকে  টাকা রাখছেন। পাশাপাশি  ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে পুঁজিবাজারে এমন দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সুদের হার বাড়লে পুঁজিবাজারে এর  প্রভাব পড়ে এটা স্বাভাবিক। এর মধ্যে আবার নতুন বৈশ্বিক সংকটের কারণে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আশা করা যায় শিগগিরিই এ আতঙ্ক কেটে যাবে। 

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল পাল্টা হামলা করলে নতুন করে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বেধে গেলে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। আর এমনটি হলে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল সরবরাহ আটকে যেতে পারে। ফলে সৃষ্টি হবে নতুন সংকট।

তারা আরও বলছেন, টনা দরপতন থেকে দেশের পুঁজিবাজার যখন বেরিয়ে আসার আভাস দিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে আবার নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করল। 

এর আগে দেশের পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন এক লাখ কোটি টাকার ওপরে কমে যায়। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ফলে ঈদের পর পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

তবে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ইসরায়েলে হামলা করে ইরান। দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার জবাবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েক শ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। ইসরায়েলের মাটিতে এটিই প্রথমবার ইরানের সরাসরি হামলার ঘটনা। ইরান এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’ বা ‘সত্য প্রতিশ্রুতির অভিযান’।

এর আগে দেশের পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের মধ্যে পড়লে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে যায় এক লাখ কোটি টাকার ওপরে। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগে টানা তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ফলে ঈদের পর পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা ছিল বিনিয়োগকারীদের।

কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে আবার পুঁজিবাজারে টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে প্রথম দুই কার্যদিবস দরপতনের পর বুধবার লেনদেন শুরুর দিকে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে।

তবে লেনদেনের শেষদিকে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায়। এতে দাম বাড়ার তালিকা থেকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে একদিকে দাম কমার তালিকা বড় হয়, অন্যদিকে সবকয়টি মূল্যসূচক কমে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

গতকাল বুধবার লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৬টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২২২ প্রতিষ্ঠানের। আর ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে নেমে গেছে।

অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট কমে এক হাজার ২৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সবকয়টি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৮২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৪০ কোটি ২৩ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বেশি অবদান রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিসের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ২৭ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে গোল্ডেন সন।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ফু-ওয়াং ফুড, ফু-ওয়াং সিরামিকস, বেস্ট হোল্ডিং, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং প্যরামাউন্ট টেক্সটাইল।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৬টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

রাশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত বাড়বে

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪০ পিএম
রাশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত বাড়বে
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব উন্নত অর্থনীতির দেশের চেয়ে রাশিয়ার অর্থনীতি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বাড়বে। ছবি: সংগৃহীত

প্রভাবশালী বৈশ্বিক সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব উন্নত অর্থনীতির দেশের চেয়ে রাশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত বাড়বে। আইএমএফ আশা করছে, চলতি বছর রাশিয়ার অর্থনীতি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বাড়বে, যা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। খবর বিবিসির।

রাশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত বাড়ার কারণ উল্লেখ করে আইএমএফ বলছে, দেশটির তেল রপ্তানি এখনো স্থির রয়েছে এবং সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি উচ্চ স্তরে রয়ে গেছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। সংস্থাটি বলছে, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, বিশ্ব অর্থনীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে স্থিতিশীল ছিল।

আইএমএফ বলছে, অনেক মন খারাপ ভবিষ্যদ্বাণী সত্ত্বেও মন্দা এড়িয়ে গেছে বিশ্ব, ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেকাংশে স্থিতিশীল প্রমাণিত হয়েছে এবং বড় উদীয়মান বাজার অর্থনীতিগুলো হঠাৎ করে থেমে যাওয়ার ভোগান্তিতে পড়েনি।

আইএমএফ হলো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার ১৯০টি সদস্য দেশ রয়েছে। কোথায় বিনিয়োগ করতে হবে তার পরিকল্পনা করতে বা ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে সদস্য দেশ ও তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আইএমএফের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে। যেমন- ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার নির্ধারণ করতে আইএমএফের নির্দেশনা মেনে থাকে।

এই গোষ্ঠীটি বলেছে, অগ্রসর অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই পরের বছরের বৃদ্ধির ব্যাপারে আইএমএফ যে পূর্বাভাস দেয়, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সাধারণত সেটির তারতম্য হয়ে থাকে দেড় শতাংশের মতো। সংস্থাটি বলেছে, আইএমএফ পরের বছরের প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেয়, বেশির ভাগ উন্নত অর্থনীতির দেশের ক্ষেত্রে সচরাচর বাস্তবে যা ঘটে তার থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান হয়।

ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য ক্রেমলিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সত্ত্বেও, আইএমএফ এই বছর রাশিয়ান অর্থনীতির জন্য তার জানুয়ারির পূর্বাভাসকে হালনাগাদ করেছে এবং সংস্থাটি বলেছে যে, ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি কম হবে। তবে আগে প্রত্যাশিত ১ দশমিক ৮০ শতাংশের থেকে প্রবৃদ্ধি এখন আরও বেশি হবে বলে মনে করছেন সংস্থাটির অর্থনীতিবিদরা।

আইএমএফের ডেপুটি ডিরেক্টর পেটিয়া কোয়েভা ব্রুকসের মতে, করপোরেট ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগের বিনিয়োগ এবং রাশিয়ার মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ের জ্বালানি তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি- দেশটির জ্বালানি তেলের শক্তিশালী রপ্তানির পাশাপাশি প্রবৃদ্ধিকেও উন্নীত করেছে।

রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারকদের মধ্যে একটি। ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি প্রকাশ করেছে যে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার তেল থেকে তৈরি কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, রাশিয়ার কথা বাদ দিলেও, আইএমএফ চলতি বছর গোটা ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের জন্য তার দেওয়া পূর্বাভাস কমিয়েছে। এ বছর আইএমএফ যুক্তরাজ্যের জন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা জি৭-ভুক্ত উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জার্মানির পরে যুক্তরাজ্যকে দ্বিতীয় দুর্বলতম পারফরমার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

জি৭-এ ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুসারে, জি৭ভুক্ত দেশগুলোকে ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ ছাড়া জি৭-এর শীর্ষ তিন সেরা পারফরমারদের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে স্থান দেওয়া হয়েছে।

আইএমএফ বলেছে, যুক্তরাজ্যে সুদের হার অন্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বেশি থাকবে। দেশটির সুদহার ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৪ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে বলেও জানানো হয়।

এর আগে সংস্থাটি আশা করেছে যে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যেকোনো জি৭ অর্থনীতির মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি হবে ইউকেতে।

চ্যান্সেলর জেরেমি হান্ট বলেন, আইএমএফের পরিসংখ্যান দেখায় যে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে মূল্যস্ফীতি পূর্বের তুলনায় ১ দশমিক ২০ শতাংশ কম হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী ছয় বছরে জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো বৃহৎ ইউরোপীয় অর্থনীতির তুলনায় আমাদের অর্থনীতি দ্রুত বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে দুটি দেশেরই অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি বৃদ্ধির তুলনায় ইউকের থেকেও উল্লেখযোগ্যভাবে বড় ধরতের পতন হয়েছে।

জয়পুরহাটে কমেছে সবজির দাম

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৮ পিএম
জয়পুরহাটে কমেছে সবজির দাম
জয়পুরহাটে সরবরাহ বেশি থাকায় সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। ছবি: খবরের কাগজ

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটের হাটবাজারগুলোতে সরবরাহ বেশি থাকায় বেগুন, শসা, করলাসহ অন্যান্য সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে সবজিগুলোর দাম এখন এতই কম যে বিক্রি করে হাটের খাজনা ও ভ্যান ভাড়া উঠছে না কৃষকদের। ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

জেলা শহরের নতুনহাট সবজির পাইকারি বাজারে নিজেদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে আসা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের দাম কিছুটা পাওয়া গেলেও বেগুন, শসা, করলার বাজার দর এখন খুবই নিম্নমুখী। কথা হয় সবজি বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার ধারকী চৌধুরীপাড়ার মফিজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার ১৫ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছেন। নতুনহাটে এক মণ শসা বিক্রি করেন ১০০ টাকায়। কেজি হিসাবে যার দাম পড়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা। 

হাটে শসার প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা মণ পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে সেই শসা বিক্রি হচ্ছে এখন ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি। দোগাছী ইউনিয়নের চকভারুনিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘শসা বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি, পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। কিন্ত এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত শসা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়।’

বর্তমানে শসা বাজারে নিয়ে গেলে ভ্যান ভাড়াও উঠছে না বলে মন্তব্য করেন কৃষক আবদুল লতিফ। পাঁচবিবি উপজেলার কাঁশড়া গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে আসা কৃষক দিলিপ কুমার জানান, এবার ২৫ শতাংশ জমিতে উন্নতমানের নবাব জাতের করলা চাষ করেছেন। সেই করলা ৫০০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করছেন। কেজি হিসাবে যার দাম পড়ছে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ খুচরা বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে সেই করলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। 

সদর উপজেলার চকমোহন গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, এক মণ বেগুন পাইকারি বিক্রি করেন ৮০ টাকা। যা কেজি হিসাবে পড়ে ২ টাকা। বাড়ি থেকে হাটে আসার জন্য ৬০ টাকা ভ্যান ভাড়া এবং হাটের খাজনা দিতে হয়েছে ২০ টাকা। খুচরা বাজারে এই বেগুন এখন ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। নিজের শ্রমের কোনো দামই নেই বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে পটোলও প্রতি মণ ৫৬০ টাকা বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা লোকসান গুনছেন বলে জানান বিষ্ণুপুর গ্রামের পটোল চাষি এনামুল হক। গতকাল বুধবার সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৮০ টাকা কেজির বেগুন ২০ টাকা, ১০০ টাকা কেজির পটোল ৬০ টাকা, ৭০ টাকা কেজির করলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, প্রতিটি লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ৬০ টাকা কেজি গাজর ৩০ টাকা, ৮০ টাকার টমেটো ২০ টাকা, ৭০ টাকার ঢেঁড়শ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ৮০ টাকার বরবটি ৬০ টাকা, ৫০ টাকার পেঁপে ৪০ টাকা, ৮০ টাকার কাঁকরোল ৬০ টাকা, ৭০ টাকার লতিরাজ কচু ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ৪০ টাকার মিষ্টি লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ১০০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সবজির দাম কমছে বলে জানান বিক্রেতারা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে ২০২৩-২৪ রবি মৌসুমে শাকসবজি চাষের প্রস্তুতি শেষ করেন জেলার কৃষকরা। জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যার মধ্যে আগাম জাতের সবজিও রয়েছে। এতে সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। জয়পুরহাট জেলার হাটবাজারগুলোতে করলা, শসা ও বেগুনের অতিরিক্ত সরবরাহ থাকার কারণে দাম কমেছে বলে মন্তব্য করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাহেলা পারভীন। সূত্র: বাসস

পেঁয়াজের বীজ চাষ করে সফল ঠাকুরগাঁওয়ের মোয়াজ্জেম

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৩ পিএম
পেঁয়াজের বীজ চাষ করে সফল ঠাকুরগাঁওয়ের মোয়াজ্জেম
মোয়াজ্জেম হোসেনের খেতে হাতের স্পর্শেই কৃত্রিমভাবে পেঁয়াজবীজের পরাগায়ন হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

কালো সোনা নামে পরিচিত পেঁয়াজ বীজ চাষ করে লাখপতি ঠাকুরগাঁওয়ের মোয়াজ্জেম হোসেন। এক সময়ের বেকার  মোয়াজ্জেম এখন হয়েছেন অন্যের অনুপ্রেরণা। তার উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজের চাহিদা থাকায় সেটি সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন গত বছর ৩৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করে লাভ করেছিলেন প্রায় ১০ লাখ টাকা। এ বছর চাষের পরিমাণ বাড়িয়ে  ৪৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন। আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও এ বছর ১৫ লাখ টাকা মুনাফার আশা করছেন তিনি।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমি একজন প্রান্তিক কৃষক। আমার বাবা কৃষি কাজ করতেন। কৃষি কাজ লাভজনক হওয়ায় আমি কৃষি কাজে ঝুঁকেছি। আমরা সবাই চাকরির পেছনে ছুটি। কৃষিতেও যে ভালো কিছু করা যায় বা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে যে ভাগ্যের পরিবর্তন করা যায় আমি তার উদাহরণ। এক সময় আমার কিছুই ছিল না। পেঁয়াজের বীজ চাষ করে এখন আমি লাখপতি। নিজের টাকায় জমি কিনেছি। ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমি এখন সচ্ছল।’ 

ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন জেলার অন্য  কৃষকরাও।  উন্নতমানের বীজ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে তার উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজের চাহিদা বাড়ছে। উপকারী পোকা কমে যাওয়ায় হাতের স্পর্শেই কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন ঘটানোর জন্য তার খেতে কাজ করছেন এলাকার অনেকেই। এতে করে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। 

মোয়াজ্জেমের জমিতে কাজ করা শ্রমিক ফখরুল আলম বলেন, ‘মোয়াজ্জেমের জমিতে হাতের স্পর্শে কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন ঘটানোর কাজ করি। আগে বেকার ছিলাম এখন আমার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে আমার সংসার খুব ভালোভাবে চলে যায়। শুধু আমি নয় এখানে আমার মতো আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।’ 

কলেজছাত্রী হাফিসা বলেন, ‘আমি পড়াশোনা করার পাশাপাশি পেঁয়াজ বীজের খেতে কাজ করি। যা আয় হয় তা দিয়ে আমার পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসারেও কিছু দিতে পারি।’ 

মোয়াজ্জেমের পেঁয়াজের বীজের খেত দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক কৃষক বীজ আবাদ শুরু করেছেন। কৃষক মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমার খেতে আমি অন্য ফসল আবাদ করতাম। মোয়াজ্জেম ভাইয়ের পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা দেখে এবং লাভের কথা শুনে তার পরামর্শে আমি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছি। ভালো ফলন পেয়েছি; আশা করছি ভালো দাম পাব। 

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছাম্মৎ শামীমা নাজনিন জানান, ভালোমানের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। অন্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজের বীজ চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ১০২ মেট্রিক টন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদিত হবে বলে আশা করছি। যার মূল্য প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। 

এ বছর  জেলায় ১১৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ হয়েছে। এ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে পেঁয়াজের যে ঘাটতি রয়েছে সে ঘাটতি  পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।