ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন বাজারের খোঁজে নেমেছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। এসব বাজারে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার নতুন বাজারে তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা বাড়ছে। বাংলাদেশের নিট পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম খবরের কাগজের ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনীর কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
খবরের কাগজ: পোশাক শিল্পের এখন কি অবস্থা চলছে?
মো. হাতেম: চীন থেকে উৎপাদন স্থানান্তরের সুবাদে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও নতুন পণ্যের জন্য নতুন বাজার অপরিহার্য। তাই পোশাক মালিকরা নতুন বাজারের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে খোঁজ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের গুণগতমান যথেষ্ট ভালো। তাই আমাদের কথা নতুন ক্রেতারা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সময়ে আমাদের দেশের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
খবরের কাগজ: নতুন বাজারের খোঁজে পোশাক শিল্পের মালিক হিসেবে আপনারা কি কি উদ্যোগ নিচ্ছেন?
মো. হাতেম: ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকরণে জোর দিয়েছি। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত প্রায় ৭০ শতাংশ নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমাতে ল্যাটিন আমেরিকা, ভারত, জাপান, রাশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।
খবরের কাগজ: পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এখন বিশ্ব বাণিজ্যে জরুরি। এক্ষেত্রে আপনারা কি চিন্তা করছেন?
মো. হাতেম: আমাদের পোশাক শিল্পের মালিকরা সাধারণ টি-শার্ট বা জিন্সের বাইরে হাই-ভ্যালু বা উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছে। যেমন- স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং নন-কটন পোশাকে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।
খবরের কাগজ: উন্নত বিশ্বের ক্রেতা আকৃষ্ট করতে কি করছেন?
মো. হাতেম: টেকসই উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন’ কারখানা লিড সার্টিফাইড কারখানার সংখ্যা বাড়িয়ে ৯২টি প্লাটিনাম, ১২৪টি গোল্ডসহ ২৩০টি করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের ক্রেতা (বায়ার) আকর্ষণ করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
খবরের কাগজ: প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কি করছেন?
মো. হাতেম: সাশ্রয়ী শ্রমব্যয় আমাদের ব্যবসার অন্যতম পুঁজি। কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকের দক্ষতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ, ভূরাজনীতি। বিশ্ব রাজনীতির ওপর নির্ভর করে আমাদের ক্রেতা পাওয়া, না পাওয়া নির্ভরশীল।
খবরের কাগজ: ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব?
মো. হাতেম: একটি একক বাজারের ওপর দেশের পোশাক খাত নির্ভরশীল হলে সহজে ভূরাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন– সব কিছুই আমাদের তৈরি পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন কোনো একক বাজারের ওপর আমদের নির্ভরশীল হতে না হয়। যেমন, ইইউ-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি না হলে বা গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে শুল্ক আরোপের ঝুঁকি রয়েছে।
খবরের কাগজ: নতুন বাজারে প্রবেশ করতে কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?
মো. হাতেম: নতুন বাজারের খোঁজে বিভিন্ন দেশের মানুষের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করাই এখন পোশাক শিল্পের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন বাজারের খোঁজে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ দিচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং এশিয়ার নতুন বাজারগুলোতে সম্ভাবনা বাড়ছে।