নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ মনজুর এলাহী। নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নরসিংদী প্রতিনিধি শাওন খন্দকার শাহিন।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের প্রচারে কেমন সাড়া পাচ্ছেন। বিভিন্ন দল থেকে অনেক দিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই ‘ভালো’ নির্বাচনের পরিবেশ কি দেখছেন এখন?
মনজুর এলাহী: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি। অতএব বিএনপির পতাকাতলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার পর সব দিক থেকেই আমি সন্তুষ্ট। প্রচারে ভালো সাড়া পাচ্ছি। অবশ্যই নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। আশা করি, আগামী ১২ তারিখে শিবপুরবাসী তাদের পছন্দের প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করে তাদের খাদেম হওয়ার সুযোগ দেবেন। আমি চাই–সহিংসতামুক্ত একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
খবরের কাগজ: নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি? নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কি তৈরি হয়েছে?
মনজুর এলাহী: সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সভা-সমাবেশ ও প্রচারে কোনো ধরনের বাধা থাকা চলবে না। বর্তমানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আংশিক তৈরি হয়েছে, তবে এটি পুরোপুরি হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
খবরের কাগজ: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই। নির্বাচনের আগে এ ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি কি হয়েছে? কোথায় আরও কাজ করতে হবে?
মনজুর এলাহী: এই মুহূর্তে অন্যান্য সময়ের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো বলে মনে করছি এবং আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র ও প্রচারের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেমন দেখছেন?
মনজুর এলাহী: নির্বাচনের আগে ও বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন দেখছি না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রশাসনের অবস্থান মোটামুটি একই রয়েছে। নির্বাচন কমিশন যে আইন ও বিধিনিষেধ নির্ধারণ করেছে, তা যেমন প্রার্থীদের জন্য ভালো, তেমনি ভোটারদের জন্যও উপকারী বলে আমি মনে করি।
খবরের কাগজ: নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?
মনজুর এলাহী: গণভোট নিয়ে আমার অভিমত হলো, এই নির্বাচনটি দলীয় পক্ষ থেকে হচ্ছে না। তবে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর। এই দুটি নির্বাচন যদি আলাদা দুই দিনে হতো, তাহলে রাষ্ট্রের অনেক অর্থ অপচয় হতো। এক দিনে হওয়াটা ভালো সিদ্ধান্ত। জনগণ বুঝেশুনে যেখানে ইচ্ছা সেখানে ভোট দেবেন।
খবরের কাগজ: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন?
মনজুর এলাহী: যারা বেশি জনপ্রিয়, তাদের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ থাকে, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা। প্রায় ১৭ বছর ধরে মানুষ ভোট-প্রক্রিয়া থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন। ভোট না দেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে, এবার অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হবে, আপনার ভোট আপনি দিতে পারবেন। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
খবরের কাগজ: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
মনজুর এলাহী: ১৭ বছর পর ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সে ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিএনপি যে আন্দোলন করেছে, সেটি জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। ভোটারদের উদ্দেশে প্রচার করতে হবে যে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।