একজন ক্ষুদ্র খামারি তার সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না। ভালোভাবে চলতে পারেন না। সরকারের উচিত অন্তত ১৫ দিন অন্তর মুরগি এবং মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। তাহলে কেউ রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন, ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।
খবরের কাগজ: খামার করতে এসে অনেকেই টিকতে পারছেন না কেন?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: খামার করতে এসে টিকতে না পারার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে সঠিক সময়ে উৎপাদন করতে না পারা। খামার ব্যবস্থাপনায় অজ্ঞতা, সঠিক পরিচর্যার অভাব। খামার রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ। এখানে বাজারজাত করার একটি ব্যাপারও রয়েছে। বাজারে মূল্য পেতে হলে সঠিক সময়ে বিক্রি করতে হবে।
খবরের কাগজ: খাবারের দাম বেশি, বাচ্চার দাম বেশি কীভাবে সামাল দিচ্ছেন?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বর্তমানে মুরগির পাইকারি দাম কেজি ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। তবে খাবারের দাম আর একটু কম থাকলে ভালো হতো। পর্যাপ্ত খাবার, টিকা ওষুধ দিয়ে উৎপাদনের দেখা গেল বাজারে মূল্য কম। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে ১৫ দিন অন্তর বাচ্চা এবং মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিতে তাহলে সবাই উপকৃত হতো।
খবরের কাগজ: সরকার আর কী করলে খামারিদের উপকার হবে?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বেসরকারিভাবে খামার তৈরি হচ্ছে। খামারিরা কীভাবে উৎপাদন করছে, সেটিও দেখাশোনার কেউ নেই। এতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যান। খামার টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বাচ্চা ক্রয় থেকে লালনপালন ও বিক্রি সব ক্ষেত্রে যদি সরকারি নজরদারি রাখে তাহলে সবার জন্য মঙ্গল। কেউ রাতারাতি যা খুশি তা করতে পারবে না।
খবরের কাগজ: রোগবালাই নিরসনের ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: আমার খামারে যেকোনো রোগবালাই নিজেই চিকিৎসা করি। একজন খামারি হিসেবে খামার সম্পর্কে রোগবালাই সম্পর্কে জ্ঞান রাখা খুবই দরকার। খামারে সমস্যা দেখা গেলে কেন সৃষ্টি হচ্ছে সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এই যে সমস্যা নির্ণয় করা, সেটি একজন খামারি ছাড়া বেশি কেউ বুঝবে না। তাই বলছি, খামারিকে ট্রেনিং নিতে হবে। রোগ বালাইয়ের লক্ষণ বুঝতে হবে।
খবরের কাগজ: যারা নতুন খামার করতে আসছে তাদের উদ্দেশে কিছু বলেন।
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। খামার করতে হলে আধুনিকভাবে করতে হবে। অর্থাৎ কাজ জেনে খামারে নামতে হবে। কিছু জানাশোনা থাকলে বাকি কাজটা করতে গিয়ে শিখতে পারবে।
খবরের কাগজ: একসময় অনেক খামার ছিল, এখন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে কেন?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: এই ব্যবসাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না। এখানে ঝুঁকি বেশি। অনেকে না বুঝে এসে আটকে যান। সামনেও যেতে পারেন না, পেছনেও যেতে পারেন না। অনেকে ৬ মাস এক বছর খামার করে বন্ধ করে দেন। লাভ করতে না পেরে অনেকেই অন্য ব্যবসায় চলে যান। খামার ব্যবসায় মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি উন্নতি করেন, খামারিরা করতে পারেন না।
খবরের কাগজ: আপনিতে নিজেই অনেক অভিজ্ঞ, আপনার কতটুকু উন্নতি হয়েছে?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: ঠিক বলেছেন, সেভাবে উন্নতি করতে পারিনি। বিগত ১০ বছর ধরে এ ব্যবসায় রয়েছি। একজন খামারি তার ছেলেমেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না, ভালো কিছু খেতে পারেন না। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছেন। আমরা লাভ করতে পারি না।