আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অসংখ্য মামলা করা হয়। সেই মামলায় ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়। কারাভোগকালে তিনি তার মা ও স্ত্রীকে হারান। জামিনে মুক্তি পেয়ে স্ত্রীর জানাজায় অংশ নিতে পারলেও মায়ের কবরে মাটি দিতে পারেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৬ আসনে (বাঘা-চারঘাট) দলীয় মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি।
বিজয়ের পর শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। এ সময় তিনি অতীতে তার ওপর হওয়া অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতনের জবাব জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এনায়েত করিম।
দৈনিক খবরের কাগজ: নির্বাচনে বিজয়ের পর আপনার অনুভূতি কী?
আবু সাঈদ চাঁদ: আলহামদুলিল্লাহ। এই বিজয় আমার একার নয়, চারঘাট-বাঘার সাধারণ মানুষের। অতীতে আমার সঙ্গে যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে, দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলাম। মানুষ সেটা মেনে নেয়নি। তারা ভোটের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিয়েছে। আমি যখন জেল থেকে বের হয়ে গ্রামগঞ্জে গেছি, সাধারণ মানুষ আমাকে বলেছে–আপনি নির্যাতিত, আমরা আপনার পাশে আছি। এই ভালোবাসার প্রতিফলনই এ বিজয়।
দৈনিক খবরের কাগজ: কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলবেন?
আবু সাঈদ চাঁদ: বিগত আওয়ামী সরকারের সময় প্রায় ছয় বছর আমাকে বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়। হাতকড়া-শিকল পরিয়ে এক জেল থেকে আরেক জেলে নেওয়া হয়েছে। পরিবার থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন ছিলাম। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়– কারাবন্দি অবস্থায় আমার মা ও স্ত্রী মারা যান। আমি তাদের শেষ সময়ে পাশে থাকতে পারিনি। বিজয়ের পর তাদের কবর জিয়ারত করেছি। এটা আমার জীবনের গভীর বেদনা।
দৈনিক খবরের কাগজ: নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন নিয়ে আপনার অগ্রাধিকার কী?
আবু সাঈদ চাঁদ: আমি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ঘোষিত ২১ দফা কর্মসূচির আলোকে কাজ করতে চাই। যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করব। চারঘাট-বাঘার মানুষের জীবনমান উন্নয়নই হবে আমার মূল লক্ষ্য।
দৈনিক খবরের কাগজ: আম শিল্প নিয়ে আপনি বিশেষভাবে কথা বলেছেন। কেন?
আবু সাঈদ চাঁদ: বাঘা-চারঘাটের আম আমাদের গর্ব। এখানে আমের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সঠিকভাবে ব্র্যান্ডিং করা যায় এবং বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা জোরদার করা যায়, তাহলে কৃষক লাভবান হবেন, দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। তাই এই অঞ্চলে আমকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
দৈনিক খবরের কাগজ: অবকাঠামো উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
আবু সাঈদ চাঁদ: নদীভাঙন ও যোগাযোগ সমস্যা এ অঞ্চলের বড় চ্যালেঞ্জ। চাকরাজাপুর এলাকায় একটি সেতুর প্রয়োজন রয়েছে, যা নদীপথে যোগাযোগ সহজ করবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি। সেটাও করতে চাই। এ ছাড়া ক্রীড়া উন্নয়নে দুটি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দৈনিক খবরের কাগজ: দলীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে আপনার প্রত্যাশা কী?
আবু সাঈদ চাঁদ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। এ দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের জন্য যে জাতীয় প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে দাঁড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
দৈনিক খবরের কাগজ: দলের কাছে আপনার কোনো ব্যক্তিগত প্রত্যাশা আছে কী?
আবু সাঈদ চাঁদ: দলীয় মনোনয়ন দিয়ে দল আমাকে যে সম্মান দিয়েছে তা আমি সারাজীবন স্মরণে রাখব। দলের আস্থার প্রতিদান হিসেবে বিজয়ী হয়ে রাজশাহী-৬ আসনটি দলীয় চেয়ারম্যানকে উপহার দিতে পেরেছি এটাও আমার জন্য গর্বের। তবে বিগত আওয়ামী সরকারের সময় নানা জুলুম-নির্যাতনের পরও দলের আদর্শের প্রতি অটুট থেকেছি। আমার এই ত্যাগ-তিতীক্ষার প্রতিদান হিসেবে এই আসনের জনগণ আমাকে মন্ত্রিপরিষদে দেখতে চান।
দৈনিক খবরের কাগজ: ভোটারদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
আবু সাইদ চাঁদ: আমি সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাই। কারণ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এই বিজয় জনগণের। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে আগামী দিন মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আস্থা রাখায় আমার ও দলের পক্ষ থেকে চারঘাট-বাঘার সর্বস্তরের মানুষকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।