নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই এ দেশের জন্ম হয়েছে। খবরের কাগজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী।
খবরের কাগজ: আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি তরুণ ছিলেন। তরুণ বয়সে কোন ভাবনা বা অনুপ্রেরণা থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: দেশপ্রেম থেকেই মুক্তিযুদ্ধ করেছি। বাংলাদেশকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। দেশ স্বাধীন করতে নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত ছিলাম, আছি এবং থাকব।
খবরের কাগজ: মুক্তিযুদ্ধকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: মহান মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।
খবরের কাগজ: মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে অনেকে বিভিন্ন উদ্দেশ্য হাসিল করেছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: অনেক সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার এত বেশি অপব্যবহার হয়েছে যে তরুণ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা অসীম ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন, যা আমাদের নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো অন্যতম দায়িত্ব বলে আমি মনে করি। তা না হলে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে কীভাবে?
খবরের কাগজ: অভিযোগ রয়েছে, অনেকে মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করতে কী পদক্ষেপ নেবেন?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: মুক্তিযুদ্ধই এই রাষ্ট্রের জন্মের মূল ভিত্তি। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত এবং সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অল্প দিন হলো আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করব। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
খবরের কাগজ: মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কী ধরনের উদ্যোগ নিবেন?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: আমার চেষ্টা থাকবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করা এবং তাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। স্বাধীনতার পর সব ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত হয়নি। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে এলে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস সংরক্ষণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।
খবরের কাগজ: মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছু বলুন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: সে সময় এ দেশের মানুষ বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েও অসীম সাহসিকতায় স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বিপুলসংখ্যক ছাত্র-যুবক ও সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। পাকিস্তানি বাহিনী একটি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিল, আর জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখেই তাদের পরাজয় ঘটে।
খবরের কাগজ: আপনি এর আগেও জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারে নির্বাচিত হওয়ার পর কোন খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: ভোলা-৩ এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ এলাকার উন্নয়ন করার চেষ্টা করব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি মানুষ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
খবরের কাগজ: সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ শোনা যায়, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জীবনে অনেক কিছু দিয়েছেন। মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছি। বিলাসী জীবন আমি পছন্দ করি না। এক জীবনে এত সম্পদ দিয়ে কী হবে?