ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

গর্ভকালীন মায়ের যত্ন

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৪, ১১:১৫ এএম
গর্ভকালীন মায়ের যত্ন
গর্ভাবস্থায় মায়ের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। ছবি: বিং আই

মাতৃত্ব একজন নারীর সবচেয়ে বড় সার্থকতা। একজন নারী যখন প্রথমবার গর্ভধারণ করেন তখন অনেক কিছুই তার অজানা থাকে। তাই সন্তান ধারণ থেকে শুরু করে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত একজন মাকে অনেক বিষয়ে সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করতে হয়। একজন গর্ভবতী মায়ের যথাযথ যত্ন নিশ্চিতে পরিবারের সদস্য ও কাছের মানুষই প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। মায়ের সুস্থতার ওপর আগত সন্তানের সুস্থতা নির্ভরশীল। লিখেছেন স্কয়ার হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড আইভিএফ বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. ফারজানা রশীদ

গর্ভকালীন একজন মাকে যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় তা-ই গর্ভকালীন সেবা। গর্ভধারণের সময় থেকে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত মা ও শিশুর যত্নকে গর্ভকালীন যত্ন বা Antinatal Care বলে। এই গর্ভকালীন যত্নের লক্ষ্য হলো মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং গর্ভজনিত কোনো জটিলতা দেখা দিলে তার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা।

একজন গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গর্ভধারণের পরপরই একজন নারীর যত্নের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে অথবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রথম ভিজিটের পর একজন গর্ভবতীকে সাধারণত ২৮ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি মাসে একবার, ৩৬ সপ্তাহ পর্যন্ত ১৫ দিনে একবার এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একবার এই গর্ভকালীন যত্নের জন্য ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। এ ছাড়া পাঁচ থেকে আট মাসের মধ্যে দুটি টিটি টিকা নিতে হয়। বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার ও প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হয়। পাশাপাশি গর্ভকালীন ভারী কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হয়। হাসিখুশি থাকতে হয় এবং দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিশ্রাম ও রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হয়। 

যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা ক্লিনিকে ডেলিভারি করানো নিরাপদ। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী দ্বারা ডেলিভারি করাতে হবে। তবে গর্ভকালীন কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। 

বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা / চেকআপের সময়সূচি-

প্রথম: চতুর্থ মাসের মধ্যে (১৬ সপ্তাহ)

দ্বিতীয়: ষষ্ঠ মাসে (২৪ সপ্তাহ)

তৃতীয়: অষ্টম মাসে (৩২ সপ্তাহ)

চতুর্থ: নবম মাসে (৩৬ সপ্তাহ)

গর্ভকালীন সেবা/চেকআপে যা যা করা হয়-

গর্ভকালীন ইতিহাস নেওয়া হয়। শারীরিক পরীক্ষা করা। স্রাব পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা। প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা। মাকে পরামর্শ প্রদান করা। 

স্বাস্থ্য শিক্ষা

বর্তমানে কোনো জটিলতা আছে কি না, যেমন- যমজ গর্ভ, গর্ভস্থ শিশু ও প্ল্যাসেন্টা (গর্ভফুল) এর অবস্থান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, জন্ডিস, হৃদরোগ ইত্যাদি।

সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা 

গর্ভবতী মায়ের ওজন বাড়ছে কি না, রক্তচাপ কত, হাত-পা ফোলা আছে কি না, রক্তস্বল্পতা আছে কি না ইত্যাদি।

পেট পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ুর উচ্চতা, বাচ্চার অবস্থান ও বাচ্চার হৃৎস্পন্দন ঠিক আছে কি না জানা হয়।

কীভাবে বুঝবেন গর্ভের সন্তান সুস্থ আছে-

গর্ভধারণের ১৮-২০ সপ্তাহ পর একজন মা, বাচ্চার নড়াচড়া বুঝতে পারেন। পেটে বাচ্চার নড়াচড়া বাচ্চার সুস্থতা সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে। একটি সুস্থ বাচ্চা স্বাভাবিক পরিমাণ নড়াচড়া করে থাকে। এই নড়াচড়ার সংখ্যা হলো ১২ ঘণ্টায় ১০ বার।

গর্ভবতী মায়ের খাবার-

এ সময় মা ও গর্ভের শিশু দুজনের সুস্থতার জন্য একটু বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু বেড়ে ওঠার জন্য আমিষ জাতীয় খাবার যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ বেশি করে খেতে হবে। 

এ ছাড়া সবুজ ও রঙিন শাকসবজি, তরকারি ও ফল ছাড়াও যেসব খাবারে আয়রন বেশি আছে যেমন- কাঁচাকলা, পালংশাক, কচু, কচুশাক, কলিজা ইত্যাদি বেশি বেশি খেতে হবে। আর বেশি পরিমাণে পানি (দিনে ৮-১০ গ্লাস) খেতে হবে এবং রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করতে হবে।

গর্ভে থাকাকালীন শেষ তিন মাস শিশু খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। যে কারণে প্রসূতির পায়ে পানি আসতে পারে। এ ছাড়া শেষ তিন মাসে পেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণে গর্ভবতী মায়ের অনেক কষ্ট হয়। এ সময়ে কিছু জটিলতাও দেখা দিতে পারে, যেমন অস্বাভাবিক পেট বড় বা ছোট হওয়া, হঠাৎ রক্ত ভাঙা, খুব বেশি জ্বর আসা, রক্তচাপ অতিরিক্ত বেশি হওয়া। এমন পরিস্থিতিতে অনতিবিলম্বে চিকিৎসককে দেখাতে হবে।

গর্ভাবস্থায় যা খাবেন, যা খাবেন না

জীবনের সব পর্যায়েই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গর্ভাবস্থায় এটা বিশেষভাবে জরুরি। সুষম খাবার সন্তানের বেড়ে ওঠা, তার বিকশিত হওয়া এবং সঠিক ওজন বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

একটি পুষ্টিকর খাবার তালিকা তখনই নিশ্চিত হয় যখন মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সবগুলো খাদ্য উপাদানযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকে। যেমন- ফলমূল, শাকসবজি, গ্রেইনস বা শস্য, আমিষ, ডেইরি, তেল। 

গর্ভাবস্থায় কোন কোন ভিটামিন ও খনিজ দরকার?

গর্ভধারণের শুরু থেকেই নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়। যেমন- ক্যালসিয়াম, আয়রন, আয়োডিন, কোলিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-বি৬, ভিটামিন-বি১২ এবং ফলিক অ্যাসিড।

গর্ভাবস্থায় কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত?

গর্ভবতীদের নির্দিষ্ট কিছু খাবার থেকে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর তা গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে। যেমন- কাঁচা, পাস্তুরায়ন ছাড়া দুধ এবং ওই ধরনের দুধ থেকে তৈরি কোমল পনির। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার। কাঁচা ও পুরোপুরি রান্না না হওয়া মাংসজাত পণ্য যেমন সসেজ ও কোল্ড কাট।

কাঁচা মাছ ও সিফুড। স্মোকড কিন্তু রান্না না করা মাছ যেমন- স্মোকড স্যামন। রান্না না করা অঙ্কুরিত বীজ, খাদ্যশস্য ও শিম। কাঁচা মুলা, শিম ও আলফালফার বীজ এবং রেডি-টু-ইট সালাদ এসব খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কাঁচা বা কম সেদ্ধ ডিম। যকৃত (লিভার) ও অন্যান্য অঙ্গের মাংস। যকৃতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকলেও এটা অন্তঃসত্ত্বাদের খেতে বলা হয় না। কারণ এতে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ থাকে এবং এই মাংসে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। 

সূত্র: ইউনিসেফ

কলি 

শিরায় ব্যথা হলে কী করবেন

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ পিএম
শিরায় ব্যথা হলে কী করবেন
ছবি: বিং আই

শিরায় ব্যথা এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে স্নায়ুকলায় আঘাত বা ক্ষতির ফলে ব্যথা সৃষ্টি হয়। ওয়েব এমডি অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব

ব্যথাটি শরীরের যেকোনো অংশে হতে পারে। যেমন- পেলভিক অঞ্চলে বা শ্রোণী অঞ্চলে ব্যথা, পেশিকঙ্কালে ব্যথা এবং চোয়ালের আশপাশের অংশে ব্যথা। প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র ব্যথা। এ ছাড়া আক্রান্ত অঞ্চলের চারপাশে কাঁটা ফোটার মতো অনুভূতি, যেখানে ব্যথার কারণ ঘটেনি সেখানেও ব্যথার অনুভূতি এবং উচ্চ সংবেদনশীলতা।

কারণ
শিরায় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রোপচার বা আঘাতের কারণে স্নায়ুর মধ্যে চাপ সৃষ্টি। এর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণ, বিকৃত রক্তবাহী শিরা এবং বিপাকীয় অবস্থা এই ব্যথার জন্য দায়ী। মেরুদণ্ড বা মস্তিষ্কের ক্ষত বা রোগগ্রস্ত অবস্থাও শিরায় ব্যথার কারণ হতে পারে।

কীভাবে এটি নির্ণয় করা হয়
প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসাগত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার ফলাফল জানতে চাইতে পারেন। ব্যথার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ণয় করা হতে পারে। চিকিৎসা নির্ভর করে ব্যথার ধরনের ওপর ভিত্তি করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্ষত স্থানগুলোর স্নায়বিক পরীক্ষা করা হতে পারে। ব্যথা নির্ধারক গণনা পদ্ধতিও ব্যবহার করা হতে পারে। অন্যান্য যন্ত্রপাতি যেমন টুথপিক ব্যবহার করা হতে পারে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করার জন্য, ইমেজিং বা প্রতিবিম্বকরণ পদ্ধতি যেমন এমআরআই অথবা ত্বকের বায়োপসি করা হতে পারে স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য।

চিকিৎসা
শিরায় ব্যথা কার্যকরীভাবে দূর করা যায় না। তবে প্রাথমিক যত্ন নেওয়া যেতে পারে। প্রাথমিক চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত হলো ব্যথা উপশম এবং পরবর্তীকালীন জটিলতা এড়ানো। প্রাথমিক চিকিৎসার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস ব্যবহারের পর অ্যানেস্থেটিকস এবং আফিমজাতীয় ওষুধ সেবন। যদিও এগুলো সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওষুধ ছাড়া অন্যান্য যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি আছে সেগুলো হলো শারীরিক থেরাপি। এ ছাড়া জ্ঞান সম্বন্ধনীয় আচরণগত থেরাপি, চিত্তবিনোদন ও ধ্যান।

কলি

ভিটামিন কে-এর অভাব

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৫ এএম
ভিটামিন কে-এর অভাব

ভিটামিন ‘কে’ শরীরে গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরি করে, যা রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভিটামিন কে-এর অভাব হলো এমন একটি অবস্থা যাতে শরীর এই রকমের গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরিতে অক্ষম হয়ে পড়ে, যা রক্তপাতের ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেয়। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছে ফখরুল ইসলাম

ভিটামিন কে-কী?
ভিটামিন কে হলো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, অর্থাৎ এই রকমের ভিটামিন মানব শরীরে শোষণের জন্য চর্বির দরকার পড়ে। ভিটামিন কে দুই ধরনের হয়ে থাকে। ভিটামিন কে-১ (ফাইলোকুইনন), যার উৎস হলো উদ্ভিদ এবং কে-২ (মেনাকুইনন), যা প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রের মধ্যে সংশ্লেষিত হয়। ফাইলোকুইনন ভিটামিন কে-এর প্রধান খাদ্য উৎস এবং পালংশাক, ব্রকোলি ও বাঁধাকপির মতো সবুজ পাতাওয়ালা সবজিতে পাওয়া যায়। আর মেনাকুইনন সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু পশুজাত খাদ্য এবং ফারমেন্টেড বা গাঁজানো খাদ্যবস্তু থেকে পাওয়া যায়। গাঁজানোর জন্য দায়ী ব্যাক্টেরিয়াই মূলত এটি উৎপাদন করে এবং অধিকাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রেই শরীরের অন্ত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয়।

লক্ষণ এবং উপসর্গ
ভিটামিন কে-এর অভাব দেখা দিলে নানা ধরনের লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে রয়েছে অত্যধিক রক্তপাত। এ ছাড়া সহজে কালশিটে পড়া, নখের তলার চামড়ায় রক্তপাত এবং পাচননালীর যেকোনো স্থান থেকে রক্তপাত। পাশাপাশি ফ্যাকাসেভাব ও দুর্বলতা, গাঢ় রঙের মল অথবা রক্ত পায়খানা, প্রস্রাবে রক্ত, হাড় দুর্বল, ফুঁসকুড়ি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন দেখা দেয়।

প্রধান কারণ
ভিটামিন কে-এর অভাব যেকোনো বয়সে হতে পারে, কিন্তু সদ্যোজাতদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি। ভিটামিন কে-এর ঘাটতির অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে অপুষ্টি, লিভারের রোগ। এ ছাড়া অপর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণ, ফ্যাটের শোষণে দুর্বলতা ও সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এবং অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট ওষুধ।

রোগ নির্ণয়
ভিটামিন কে-এর অভাব চিহ্নিত করতে রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত ইতিহাস জেনে নেওয়া হয়। রক্তপাতের সময় চিহ্নিত করার জন্য কোয়াগুলেশন টেস্ট করা হয়। ভিটামিন কে-এর ঘাটতির সমস্যা নির্ণয়ের জন্য নানা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রোথ্রম্বিন টাইম, ব্লিডিং টাইম, ক্লটিং টাইম এবং অ্যাক্টিভেটেড পার্শিয়াল প্রোথ্রম্বিন টাইম।

যা খাবেন
ব্রকলি: আধা কাপ ব্রকলিতে ৮৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে থাকে। এটা রান্না করার নানান উপায় আছে। তবে ক্যানোলা বা জলপাইয়ের তেল দিয়ে রান্না করা ভালো। এতে খাবারে ভিটামিন কে যোগ হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি স্বাদও যোগ হয়।

কপি: কপিকে ভিটামিন কে-এর রাজা বলা হয়। এটাকে সুপার ফুড বলা যায় কারণ এটা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফোলাট সমৃদ্ধ। এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ। ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সমস্যা আছে এমন রোগীদের জন্য উপকারী।

পালংশাক: কাঁচার চেয়ে আধা কাপ রান্না করা পালংশাক থেকে তিন গুণ বেশি ভিটামিন কে পাওয়া যায়। এ ছাড়া পালংশাক নানা রকমের পুষ্টি উপাদান যেমন- ভিটামিন-এ, বি, ই, ম্যাগনেশিয়াম, ফোলাট এবং লৌহ সমৃদ্ধ।

লেটুস: লেটুসের এক পাতায় ৩.৬২ এমসিজি ভিটামিন কে থাকে। এ ছাড়া এতে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে যা মূলত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরকে রোগমুক্ত ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

সয়াবিন: দুই ধরনের ভিটামিন কে রয়েছে যথা- ভিটামিন কে-১ ও কে-২। ভিটামিন কে-১ উদ্ভিদ থেকে আসে এবং ভিটামিন কে-২ সামান্য পরিমাণে প্রাণিজ উৎস এবং গাঁজানো খাবার যেমন- পনির থেকে আসে।

কলি

 

প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার এখনই সতর্ক হোন

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫০ এএম
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার এখনই সতর্ক হোন

প্যানক্রিয়াসে অতি ক্ষতিকর (ক্যানসার রোগাক্রান্ত) কোষের বৃদ্ধি পাওয়াকেই প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার বলা হয়। এটি প্যানক্রিয়াসের এক্সোক্রিন (ডাক্টস) বা অ্যান্ডোক্রিন (হরমোন বা এনজাইম উৎপাদক) অংশে ঘটে। এটি সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গ
প্রাথমিক অবস্থায় প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার ধরা পড়ে না। ক্যানসারে পরিণত হলে রোগীর মধ্যে লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন বমি বমি ভাব। এ ছাড়া পিঠে ব্যথা এবং পেটে ব্যথা, লিভার বৃদ্ধি পাওয়া বা গলব্লাডার বৃদ্ধি পাওয়া, ক্ষুধামান্দ্য। পাশাপাশি বদহজম, খাবার গিলতে সমস্যা, রক্ত বমি, বমি, ক্লান্তিভাব। এ ছাড়া রোগীর জ্বর এবং কাঁপুনি থাকে। এই রোগে কখনো কখনো জন্ডিসের মতো কিছু উপসর্গও দেখা যায়।

কারণ
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার হওয়ার নানা কারণ আছে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। এ ছাড়া লিভারে ক্ষত, প্যানক্রিয়াসে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিস)। পাশাপাশি পেটে সংক্রমণ, রক্তশূন্যতা, হাইপারগ্লাইসিমিয়া, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, প্যানক্রিয়াস, লিভার বা পেট সম্পর্কিত বংশগত রোগ। এ ছাড়া স্থূলতা, ধূমপান বা তামাক ব্যবহার, উচ্চ পরিমাণে ফ্যাটজাত খাদ্যগ্রহণ, স্তন ক্যানসার অথবা ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার হতে পারে।

রোগ নির্ণয়
চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষার দ্বারা প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার নির্ণয় করতে পারেন, যেমন রক্ত পরীক্ষা। এর দ্বারা বিলিরুবিন, যা লিভারে উৎপাদিত হয়, তার মাত্রা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এর দ্বারা ডাক্তার লিভারের সক্রিয়তা বা জন্ডিসের লক্ষণগুলো আছে কি না, তা জানতে পারবেন। এটি প্যানক্রিয়াটিক হরমোন এবং এনজাইমের মাত্রায় বৃদ্ধিও শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

বায়োপসি: প্যানক্রিয়াসে ক্যানসার কোষের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য করা হয়।
আল্ট্রাসাউন্ড: তলপেটে ক্যানসারের আকার এবং বিস্তার জানার জন্য।
সিটি স্ক্যান: এটি ক্যানসার শনাক্ত করতে সাহায্য করে, যা প্যানক্রিয়াসের আশপাশের অঙ্গগুলোয় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এমআরআই: ডাক্তারকে পিত্ত এবং প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টসের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সহায়তা করে।
টিউমার মার্কার পরীক্ষা: কয়েকটি টিউমার মার্কার হলো সিএ-১৯-৯ এবং কার্সিনোএম্ব্রায়োনিক অ্যান্টিজেন (সিইএ)।
রোগ নির্ণয়ের পর এই রোগের চিকিৎসা হয় নিম্নলিখিত পদ্ধতির মাধ্যমে। যেমন-
অস্ত্রোপচার: যদি সম্ভবপর হয়, এটাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। ক্যানসার যখন খুব একটা ছড়িয়ে পড়ে না তখন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসারযুক্ত কোষগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
কেমোথেরাপি: ক্যানসারযুক্ত কোষগুলো মেরে ফেলার জন্য সেবনের মাধ্যমে বা শিরায় প্রদানের মাধ্যমে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে যেমন- চুল পড়া, অবসাদ, কালশিটে পড়া, মুখে ঘা ইত্যাদি।
অন্যান্য উপায়: কিছু অপসারণ পদ্ধতি (যে পদ্ধতিগুলো টিউমারকে সরিয়ে দেওয়ার বদলে ধ্বংস করতে সাহায্য করে) - ক্রায়োসার্জারি, মাইক্রোওয়েভ থার্মোথেরাপি, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (আরএফএ) ইত্যাদি।
যা খাবেন
ক্যানসার প্রতিরোধক খাবারের তালিকায় প্রথমেই আসে মাশরুম। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কোলিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি যেমন- ব্রকোলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শর্ষেশাক, মুলা ইত্যাদি খাওয়া ভালো। এ ছাড়া এপিজেনিন যৌগসমৃদ্ধ খাবার যেমন- চেরি, আঙুর, ধনেপাতা, পার্সলে পাতা, আপেলের মতো খাবারগুলোয় প্রচুর পরিমাণে এপিজেনিন যৌগ রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব খাবার ক্যানসারের আশঙ্কা কমায়।

ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ কিউয়ি ফল খেতে পারেন। এই ফল প্রাকৃতিকভাবে ডিএনএ মেরামত করতে করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমোথেরাপির পর কিউয়ি ফল রোগীর শরীরে খুব ভালো কাজ করে। কিউয়ি ফল ছাড়া কমলালেবু, পাতিলেবু, আঙুর ডায়েটে প্রাধান্য দিন। গ্রিন টি শরীরের কোষগুলোর সুরক্ষার জন্য পান করতে পারেন গ্রিন টি। এতে রয়েছে ইজিসিজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের প্রদাহ দমন করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

কলি 

 

এই গরমে সুস্থ থাকতে করণীয়

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
এই গরমে সুস্থ থাকতে করণীয়
গরমের সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে। ছবি: রিং আই

গরমে হাঁসফাঁস গোটা দেশ। গরমের সময় কমন কিছু রোগের পাশাপাশি হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যায়ও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ঘামাচি, পানিস্বল্পতা ছাড়াও জ্বর, অবসাদ, অ্যালার্জি, সূর্যরশ্মিতে চামড়া পুড়ে যাওয়া, ফুড পয়জনিং বা বদহজমের কারণে বমি বা ডায়রিয়া ইত্যাদি সমস্যাও বাড়ছে। লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

পানিস্বল্পতা
গরমের সময় পানিস্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা বেশি হয়। এই সময় ঘামের কারণে পানির সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়। এতে রক্তচাপ কমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পানিশূন্যতার জন্য মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করে। এ ধরনের সমস্যাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি, যাদের রোদের মধ্যে বা গরমের মধ্যেই বাইরে কাজ করতে হয়। যারা প্রয়োজনমতো পানি পান করে না বা করার সুযোগ পায় না, তাদের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তীব্র পানিস্বল্পতায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলা কিংবা কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

তাই এ সময়ে মাঝেমধ্যে পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাব, তরমুজ বা পানিজাতীয় ফলমূল বেশি খাওয়া উচিত। এতে পানিশূন্যতা রোধসহ শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা হয়।

অ্যালার্জি
গরমের সময় ত্বকে ঘামাচি ও অ্যালার্জি হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়ে ঘর্মগ্রন্থি ও নালি ফেটে ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে। ঘামাচি হয়। আবার ঘাম ও ময়লা জমে ঘর্মনালির মুখ বন্ধ হয়ে ইনফেকশনও হতে পারে। অনেকের ঘামে প্রচুর গন্ধও হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও ঘাম ও ময়লার কারণে ছত্রাকজনিত রোগও এ সময় বেশি হয়।

যারা সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে বেশিক্ষণ থাকে, তাদের ত্বক পুড়ে যেতে পারে। এতে ত্বক লাল হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে, চুলকায় ও ফোসকা পড়ে। মূলত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিই এর জন্য দায়ী। যারা একটু ফরসা বা যাদের ত্বক অতিসংবেদনশীল বা সেনসিটিভ, তাদের এ সমস্যা বেশি হয়।

ফুড পয়জনিং
খাবার খেয়ে বারবার বমি করা, পাতলা পায়খানা হওয়া, জ্বর, পেট ব্যথা ইত্যাদি বেশি হলে ধরে নেওয়া যায় ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে। গরমের সময় ফুড পয়জনিং বেশি হয়। এ সময় খাবার দ্রুত পচে যায় বলে এতে জীবাণু সহজে সংক্রমিত হয়। এ জন্য বাসি বা পচা খাবার, অস্বাস্থ্যকর ও জীবাণুযুক্ত খাবার, গরমে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার খাওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি হাত-মুখ, থালা-বাটি ভালোভাবে ধুয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খেলে ফুড পয়জনিংয়ের আশঙ্কা কমে। কারও ফুড পয়জনিং হলে সময়মতো এর চিকিৎসা করা না হলে তীব্র পানিস্বল্পতা, এমনকি রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়েও জটিলতা বাড়তে পারে।

এ ধরনের সমস্যা হলে ডাবের পানি, স্যালাইন, শরবত ইত্যাদি বেশি বেশি খাওয়া যেতে পারে। রোগী মুখে না খেতে পারলে এবং জটিল পরিস্থিতি মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে অথবা ভালো কোনো হাসপাতালে ভর্তি করে শিরায় স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।

হিটস্ট্রোক
হিটস্ট্রোক মানে হচ্ছে, যখন শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে বেড়ে যায়। কখনো কখনো এই তাপমাত্রা বেড়ে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার কাছাকাছিও যেতে পারে। এটা একটা জটিল পরিস্থিতি, যা হঠাৎ ঘটে। সাধারণত চার বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধরা, যাদের গরমে সহ্যক্ষমতা কম, কিডনি, হার্ট, লিভার, ডায়াবেটিসের রোগী, যথেষ্ট পানি পান করেন না বা যারা ক্রীড়াবিদ, ব্যায়ামবিদ এবং প্রচণ্ড রোদে কাজ করেন— এমন লোকেরা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।

হিটস্ট্রোকে দেহে পানির পরিমাণ কমে যেতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ অনেক বেড়ে যায় (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে)। এ সময় তেমন ঘাম হয় না এবং ত্বকের বর্ণ লালচে হয়, নিঃশ্বাস দ্রুত হয়, মাংসপেশির খিঁচুনি হয়, হাত-পা কাঁপে, হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা ক্ষীণ হয় এবং রক্তচাপ কমে যায়, বমি বমি ভাব অথবা বমি হয়, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা মাথা ঝিমঝিম করে, পেশি দুর্বল হয়ে আসে, অনেক সময় রোগী পুরো নিস্তেজ হয়ে পড়ে যায়, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি কোমা বা শকে চলে যেতে পারে।

হিটস্ট্রোককে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত ও সঠিকভাবে হিটস্ট্রোকের চিকিৎসা না করালে মৃত্যুও হতে পারে। কেউ যাতে এতে আক্রান্ত না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত। যেমন-

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ঠান্ডা বা বরফ মিশ্রিত পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন। বিশেষ করে রোগীর বগল, কুঁচকি, ঘাড়সহ নানা স্থান মুছে দিন।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুইয়ে দিন, পা একটু উঁচু করে দিন। মাথা একটু নিচের দিকে থাকা ভালো।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বা ফ্যানের কাছে অর্থাৎ শীতল পরিবেশে আনুন।

শরীরের কাপড় খুলে দিন বা আলগা করে দিন। মোজা-জুতা অবশ্যই খুলে দিন।

রোগীর জ্ঞান থাকলে পানি, ডাবের পানি, শরবত, জুস বা খাবার স্যালাইন দিন। রোগীকে গোসল করতে বলুন। শরীরে পানি ঢালার ব্যবস্থা করুন।

যদি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তবে দ্রুত হাসপাতালে নিন। এ অবস্থায় ঘরে চিকিৎসা করার সুযোগ নেই।

অন্যান্য সমস্যা
গরমের সরাসরি প্রভাব ছাড়াও অন্য কিছু সমস্যা হতে পারে। গরমে পানির তীব্র অভাব থাকায় পানিদূষণ বেশি হয়। মানুষ বাধ্য হয়েও দূষিত পানি গ্রহণ করে। অনেক সময় অজান্তেই জীবাণুযুক্ত পানীয় পান করে। এ কারণে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-ই ইত্যাদি বেশি হতে দেখা যায়। ডায়রিয়া ও পেটের অন্যান্য পীড়ায়ও অনেকে আক্রান্ত হয়। এসব রোগ থেকে বাঁচতে যেখানে-সেখানে শরবত, পানি ইত্যাদি পান করবেন না। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে তৈরি শরবত মোটেই পান করবেন না। বরং বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

কিছু করণীয়

প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি রোদে যাবেন না। যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।

বাইরে বের হলে যতটা সম্ভব সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন। পরনের কাপড় হতে হবে হাল্কা, ঢিলাঢালা ও সুতি। শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখতে হবে। সম্ভব হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এটা রোদে পোড়া থেকে সুরক্ষা দেবে।

প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করতে হবে। যেহেতু ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়, সেহেতু লবণযুক্ত পানীয়, যেমন, খাবার স্যালাইন পান করতে হবে। অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।

অন্য সময়ের চেয়ে এখন পানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। দিনে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। পানির সঙ্গে সামান্য লবণ, চিনি, লেবুর রস মিশিয়েও খেতে পারেন, যা শরীরে এনার্জি বাড়িয়ে দেবে। বাইরে বেরোলে কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে ডাবের পানি পান করুন।

খাবার যেন টাটকা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। গরু, খাসির মাংস বা রেড মিট এড়িয়ে মাছ খান।

খাদ্যতালিকায় রাখুন টকজাতীয় খাবার, সবজি ও ফল। ফলমূলের মধ্যে তরমুজ, কলা, আঙুর, সবেদা খেতে পারেন।

রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখুন টক দই, যা রোদের তাপ থেকে শরীরকে সুস্থ রাখবে।

ক্যাফিনযুক্ত পানীয় একেবারে নয়। কফি বা চায়ের পরিবর্তে শরবত খান।

প্রতিদিন গোসল করার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে একাধিকবার। শরীর ঘাম ও ময়লামুক্ত রাখুন।

শ্রমসাধ্য কাজ যথাসম্ভব কম করার চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নিন এবং প্রচুর পানি ও স্যালাইন পান করুন।

গ্রন্থনা: হৃদয় জাহান

কলি 

বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর নির্দেশ

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৮ এএম
বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রুত পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। 

শনিবার (৬ এপ্রিল) এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন। 

সভায় আন্তর্জাতিকমান বজায় রেখে দেশে শ্রেষ্ঠতম চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্নের তাগিদ দেন উপাচার্য। সে সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগ্য ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা, সামগ্রিক যন্ত্রপাতির যোগানসহ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল সঠিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন তিনি। 

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন, উপ-পরিচালক (প্রকল্প) সহযোগী অধ্যাপক ডা. নূর-ই-এলাহী মিম প্রমুখ।