পৃথিবীতে বিচিত্র অনেক পাখি আছে। হাজার হাজার প্রজাতির পাখি। একেক পাখির একেক বৈশিষ্ট্য। তেমনি অস্ট্রেলিয়ান কিছু পাখির বৈশিষ্ট্য আছে, যা মানুষকে অবাক করে। কেননা এসব পাখি আগুনের সঙ্গে খেলা করে। যারা ‘ফায়ারহক’ নামে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ার বন্য অঞ্চলে এসব পাখি দাবানল ছড়িয়ে দেয়। এই পাখিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই দাবানল ছড়িয়ে দেয় ও আগুন ধরায়। তিন প্রজাতির পাখি এই কাজ করে। হাজার হাজার বছর ধরেই তারা এই কাজ করে আসছে। তবে তাদের আগুন ধরানোর পেছনেও আছে এক উদ্দেশ্য।
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল এক সাধারণ বিষয়। সাভানা নামে বন্য অঞ্চলে তিন প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। যারা সেখানে দাবানল ছড়িয়ে দেয়। দাবানল সেখানে স্বাভাবিক বিষয়, এটি জমিকে পরিষ্কার করে, পুরোনো গাছপালা পরিষ্কার করে নতুন গাছের জন্ম দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন তিন প্রজাতির পাখি এই দাবানল ছড়াতে সাহায্য করে। ব্ল্যাক কাইট, হুইসলিং কাইট এবং ব্রাউন ফ্যালকন। হাজার হাজার বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রদায়গুলো এই পাখিগুলোর কথা বলে আসছে। লোককথায় বলা হয় এসব পাখি আগুনের সঙ্গে নাচে। আগুনকে শিকারের কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। পাখিরা মূলত তাদের শিকারকে তাড়া করে আগুনের লাঠি নিয়ে। লাঠি দিয়ে তৃণভূমিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। যাতে ছোট প্রাণী, পোকামাকড়, সরীসৃপ, ইঁদুর, এমনকি ছোট পাখির মতো শিকার বেরিয়ে আসে। এসব পাখির আগুন দেওয়াতে শিকার পালিয়ে আসে। আর এতেই সহজে শিকার ধরতে পারে তারা।
আগুন ছড়ানো তিনটি পাখিই দক্ষ শিকারি। তারা সক্রিয় দাবানল থেকে আগুন সংগ্রহ করে। সক্রিয় দাবানলের কাছাকাছি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ব্ল্যাক কাইট নামক পাখিকে। হুইসলিং কাইটও একই রকম আচরণ করে। প্রায়শই আগ্নেয়গিরি ও দাবানলের ওপর দিয়ে আগুন নিতে উড়তে দেখা যায়। ব্রাউন ফ্যালকন যদিও এসব পাখির তুলনায় ছোট এবং কম প্রভাবশালী, তবুও এটি আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে অংশগ্রহণ করে বলে জানা গেছে।
কিছু পর্যবেক্ষক বর্ণনা করেছেন যে, বাদামি ফ্যালকনরা ইচ্ছাকৃতভাবে শিকারের ওপর জ্বলন্ত লাঠি ফেলে দেয়। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত (অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চল, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া এবং কুইন্সল্যান্ডে) পরিচালিত একটি গবেষণায় অগ্নিনির্বাপক, আদিবাসী, ভূমি ব্যবস্থাপকদের কাছ থেকে ২০ জনেরও বেশি প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ সংকলিত হয়েছে- পাখিরা জ্বলন্ত লাঠি বা অঙ্গার বহন করে তাজা গাছপালায় নিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন আগুন লাগাচ্ছে এমন নজির দেখা গেছে। তবে, সন্দেহ রয়েই গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ফায়ারহক আসলে আগুন ছড়াচ্ছে এমন কোনো প্রকাশ্যে যাচাই করা ছবি বা ভিডিও নেই। প্রমাণগুলো এখনো বিতর্কিত।
তবুও অনেক বিজ্ঞানী এখন পাখিদের এই আচরণটিকে যুক্তিসংগত বলে মনে করেন। এই ঘটনাটি আগুন, বন্যপ্রাণী এবং বাস্তুতন্ত্রের গতিবিদ্যা কীভাবে পারস্পরিকভাবে জড়িত তা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সাভানার মতো দাবানল প্রবণ অঞ্চলে।
তারেক/
.jpg)
.jpg)