ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের দুর্গম, ঝোড়ো হাওয়ায় পরিপূর্ণ দ্বীপগুলোয় একটি ছোট অন্যরকম পাখি দেখতে পাওয়া যায়। যেটি ভ্যাম্পায়ার গ্রাউন্ড ফিঞ্চ নামে পরিচিত। পাখিটি তার এক অদ্ভুত আচরণের জন্য ‘ড্রাকুলা ফিঞ্চ’ ডাকনাম পেয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, এই পাখিটি অন্য পাখিদের রক্ত পান করে!
প্রথম দর্শনে ভ্যাম্পায়ার গ্রাউন্ড ফিঞ্চকে সাধারণ পাখি মনে হয়। এটি ছোট ও বাদামি রঙের এবং অন্যান্য রঙিন পাখিদের তুলনায় সাদামাটা। কিন্তু এর আচরণই একে অন্যদের থেকে আলাদা করে। যখন খাবারের অভাব দেখা দেয়, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এই ছোট্ট পাখিটি বড় সামুদ্রিক পাখিদের কাছে গিয়ে আলত করে তাদের চামড়ায় ঠোকর দেয়। রক্ত বের হতে শুরু করলে, ফিঞ্চটি পুষ্টির জন্য তা পান করে।
এই আচরণটি নিষ্ঠুর ও ভয়ংকর মনে হতে পারে কিন্তু গ্যালাপাগোসের কঠোর পরিবেশে টিকে থাকার জন্য প্রায়শই অস্বাভাবিক অভিযোজনের প্রয়োজন হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই অভ্যাসটি সম্ভবত ফিঞ্চের বড় পাখিদের শরীর থেকে পরজীবী পরিষ্কার করার পূর্ববর্তী আচরণ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নিরীহ কাজটি হয়তো রক্তপানে রূপান্তরিত হয়েছে।
আরো পড়ুন: ৩ হাজার বছর বন্ধ ছিল যে দরজা!
ভ্যাম্পায়ার গ্রাউন্ড ফিঞ্চ শুধু রক্তের ওপর নির্ভর করে না। এর নিয়মিত খাদ্যের মধ্যে বীজ, পোকামাকড় এবং এমনকি ফুলের মধুও অন্তর্ভুক্ত। রক্তপান মূলত টিকে থাকার একটি কৌশল। পাখিটি তখনই এ আচরণ করে যখন প্রচলিত খাদ্যের উৎস সীমিত থাকে।
মজার ব্যাপার হলো, যেসব বড় পাখির দেহ থেকে এরা রক্ত পান করে তারা প্রায়শই এই আচরণটি সহ্য করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ফিঞ্চটির উপস্থিতিতে কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং খুব কমই আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই অস্বস্তিকর সম্পর্কটি দ্বীপের বাস্তুতন্ত্রের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে তুলে ধরে।
ড্রাকুলা ফিঞ্চের গল্পটি ভয়ের নয়, বরং টিকে থাকার গল্প। গ্যালাপাগোসের বিচ্ছিন্ন জগতে যেখানে খাদ্য সীমিত এবং প্রাণীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা সেখানে একটি ছোট ফিঞ্চও অসাধারণ অভ্যাসের অধিকারী এক প্রাণীতে বিবর্তিত হতে পারে।
তারেক/
.jpg)
.jpg)