তপ্ত দুপুরে মাঠ-ঘাটের পানিশূন্যতা আর গাছের পাতার নিশ্চলতা যেন এক অদ্ভুত নীরবতার কাব্য তৈরি করে। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ কেবল তীব্র গরম নয়, বরং এটি প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে এক ভিন্নধর্মী কাব্যিক রূপ নিয়ে আসে। বৈশাখের রৌদ্রময় দুপুরে আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরে। বাতাস যেন আগুনের হলকার মতো আর মাটির বুক ফেটে চৌচির। চারপাশ যেন এক অদৃশ্য যজ্ঞকুণ্ড, যেখানে প্রকৃতি নিজেই নিজেকে দগ্ধ করে চলছে অবিরত। এই তাপপ্রবাহ মানুষের অহংকার ও অসহায়ত্বের এক অসহ্য পরীক্ষা।
গ্রীষ্মের রোদ যেন প্রকৃতির গায়ে আগুনের পরশ বুলিয়ে দেয়, যা মাঠ-ঘাট ও নদী-নালাকে এক নতুন রুক্ষতায় সজ্জিত করে। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ মানেই কাঠফাটা গরম, প্রখর সূর্যতাপ, কালবৈশাখী ঝড় আর তৃষ্ণার্ত প্রকৃতি। প্রকৃতি যেন এক নিস্তব্ধ রূপ ধারণ করে এসময়।
আরো পড়ুন: বিভিন্ন দেশে বখশিশ দেওয়ার যত প্রথা
গ্রীষ্ম শুধু জনজীবনে রুক্ষতাই ছড়িয়ে দেয় না, একই সঙ্গে অকৃপণ হাতে দান করে সব রকমের রসালো ফল। ফলের রাজা আম পেকে সুবাস ছড়ায়, মাঠের ফাটল বুকে নিয়ে কৃষক সোনালি ফসলের স্বপ্ন দেখে। প্রাণ ও প্রকৃতি যখন প্রখর রোদে পুড়ে চলেছে, ঠিক তখন থোকা থোকা কৃষ্ণচূড়া জানান দেয় সৌন্দর্যের এবং পৌঁছে দেয় শুভ্রতার বার্তা। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে, বৈশাখের রুক্ষ দুপুরে যখন প্রকৃতি তৃষ্ণার্ত, তখন আগুনের শিখার মতো জ্বলে ওঠে এই কৃষ্ণচূড়া। কাঠফাটা রোদ্দুরকে সহনীয় করে তুলতে প্রকৃতি যেন কৃষ্ণচূড়ার আবির ছড়িয়ে দেয় সবার মাঝে। পত্রহীন ডালপালায় রক্তের মতো লাল, কমলা আর হলুদের মিশেলে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া যেন কোনো দক্ষ শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক শিল্পকর্ম। বৈশাখের খরাদীর্ণ আকাশ আর নিষ্প্রাণ রুক্ষতাকে ছাপিয়ে কৃষ্ণচূড়া তার রক্তিম আভা নিয়ে সৌন্দর্যের ডালা সাজিয়ে বসে।

গ্রামের মেঠোপথ থেকে শহরের ব্যস্ত রাস্তা সবখানেই কৃষ্ণচূড়ার মোহনীয় সৌন্দর্য চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ঝরা ফুলের গালিচায় ঢাকা পথ দিয়ে হাঁটলে মনে হয়–প্রকৃতি যেন লাল, হলুদ, কমলা রঙের এক উৎসবের আয়োজন করেছে। ঘাম আর ধুলোয় মিশে যাওয়া শরীর নিয়ে প্রকৃতির লড়াই, যা এক ধরনের আদিম ও সাহসী কাব্য তৈরি করে। গ্রীষ্মের এই প্রাণহীন রুক্ষতা ছাপিয়ে কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে করে তোলে সুন্দর ও সতেজ। যেন গ্রীষ্মের এই অলস রৌদ্রদুপুর জীবনের রুক্ষতাকে আলিঙ্গন করে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে দেয়।
গ্রীষ্মের এই তাপপ্রবাহে যখন জনমন অতিষ্ঠ তখন রাস্তার পাশে ঝুলে থাকা থোকা থোকা কৃষ্ণচূড়া যেন একমুঠো প্রশান্তির ছোঁয়া। তবে আজকাল মাত্রাতিরিক্ত বৃক্ষনিধনের ফলে হারিয়ে যেতে চলেছে এই কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো। যার ফলে গ্রীষ্মের রৌদ্রতাপে আকাশের বুকে জ্বলজ্বল করা লাল, হলুদ ও কমলা রঙের কৃষ্ণচূড়ার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় এই অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা ফুলটিকে আমরা হারিয়ে ফেলব। তাই আমাদের সবার উচিত বৃক্ষনিধনের হাত থেকে এই ফুল গাছগুলোকে রক্ষা করা, পাশাপাশি বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করা। তাহলেই গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় গা জুড়িয়ে আমরা নিজেদের শরীর-মন শীতল করতে পারব।
তারেক/
.jpg)
.jpg)