বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতি। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনাও বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকটকে তীব্র করে তুলেছে।
এর প্রভাব শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নয়; এশিয়া ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। অনেক দেশকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশও এ পরিস্থিতির বাইরে নয়। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে।
কোথাও কোথাও পেট্রল-ডিজেল পাওয়ার আশায় মোটরসাইকেল, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি মিলছে না। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পত্রিকা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও টকশো- সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পেট্রল ও ডিজেল।
আরো পড়ুন: কাচের বোতলে বন্দি সিরিয়াল কিলারের মাথা
চারদিকে পেট্রল-ডিজেল নিয়ে এত এত আলোচনা। কিন্তু এই পেট্রল-ডিজেলের বাংলা অর্থ কী জানেন? বেশির ভাগ মানুষই জানেন না। হয়তো কখনো মনে হয়েছে কিংবা কখনো খেয়ালই করেননি যে এগুলো ইংরেজি শব্দ। চলুন পেট্রল-ডিজেলের বাংলা অর্থ জেনে নেওয়া যাক।
পেট্রল ও ডিজেল দুটিই মূলত ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত খনিজ তেল থেকে তৈরি হয়। এই তেল ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হয় এবং পরে শোধনাগারে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আলাদা করা হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় রিফাইনিং। রিফাইনিংয়ের সময় একই তেল থেকে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাসসহ নানা ধরনের জ্বালানি উৎপন্ন হয়।
১৮৫৯ সালে যখন কর্নেল এডউইন ড্রেক পেনসিলভেনিয়ার টাইটাসভিলে প্রথম সফল তেল কূপের সন্ধান পান। তখন খুব কম লোকই বুঝতে পেরেছিল যে পেট্রোলিয়াম কীভাবে বিশ্বকে বদলে দেবে। কিন্তু ড্রেক এবং তার সমর্থকরা কেরোসিনের উৎস খুঁজছিলেন, যা আলো জ্বালানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। আমেরিকান বিজ্ঞানী জর্জ ব্রেইটন ১৮৭২ সালে প্রথম বাণিজ্যিক তরল-জ্বালানিচালিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন।
ডিজেল ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন রুডলফ ডিজেল। একজন প্রখ্যাত জার্মান যন্ত্র প্রকৌশলী, রুডলফ যানবাহনের জন্য ডিজেল ইঞ্জিন তৈরি করেন। বর্তমানে ট্রাক, ট্রেন, ট্র্যাক্টর, জেনারেটর এবং আরও অনেক কিছুতে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়।
একাধিক প্রতিবেদন ও অভিধান-অর্থ বিশেষজ্ঞ সূত্র অনুসারে, পেট্রলকে বাংলায় শিলাতৈল বলা হয়। এ ছাড়া পেট্রলের অন্যান্য বাংলা নাম যা প্রচলিত আছে তার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, তেল, পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, পরিশোধিত কেরোসিন। তবে পেট্রলকে সর্বাধিক পেট্রল নামেই অভিহিত করা হয়ে থাকে।
অন্যদিকে ডিজেলকে বাংলায় কী বলা হয় তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। সার্বিকভাবে ডিজেলকে বাংলায় সাধারণত ডিজেল বা ডিজেল তেল বলা হয়। এটি খনিজ তেল থেকে উৎপন্ন এক ধরনের জ্বালানি যা ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়। একদিকে যদিও পেট্রলকে অনেকে ‘শিলাতৈল’ বলে থাকেন, ডিজেলের জন্য সেরকম সুনির্দিষ্ট কোনো বহুল প্রচলিত বাংলা প্রতিশব্দ নেই, এটি ডিজেল নামেই পরিচিত। কেউ কেউ এই তেলকে রক অয়েল বা ধ্রুবস্বর্ণও বলেন।
ডিজেল দেখতে কালো এবং এটি যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর গভীর থেকে উত্তোলন করা হয়। যখন ডিজেল উত্তোলন করা হয়, তখন এটি বিশুদ্ধ অবস্থায় থাকে, পরে এটিকে যন্ত্রের সাহায্যে আরও বিশুদ্ধ করা হয় এবং তার পরেই এটি ব্যবহার করা হয়।
তারেক/
.jpg)
.jpg)