ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন—সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ পোড়া ক্ষত সারাতে তেলাপিয়া মাছের চামড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০

মোটা হওয়া যেখানে অপরাধ!

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
মোটা হওয়া যেখানে অপরাধ!
ছবি: সংগৃহীত

জাপান- প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতার এক অনন্য প্রতীক। কিন্তু দেশটির সাফল্যের আরেকটি শক্ত ভিত হলো নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু। যখন বিশ্বের বহু উন্নত দেশ স্থূলতার মহামারিতে আক্রান্ত, তখন জাপান নিয়েছে এক ভিন্ন পথ। ২০০৮ সালে তারা চালু করে বহুল আলোচিত ‘মেটাবো আইন’, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

‘মেটাবো’ শব্দটি এসেছে ‘মেটাবলিক সিন্ড্রোম’ থেকে। একটি জটিল শারীরিক অবস্থা, যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। জাপান সরকার বুঝতে পেরেছিল, নাগরিকদের গড় আয়ু দীর্ঘ হলেও যদি তারা জীবনের শেষভাগে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগে, তবে তা রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর বিপুল চাপ তৈরি করবে। তাই তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দেয়।

২০০৮ সালে জাপানে প্রবর্তিত এ স্বাস্থ্যনীতি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত ‘স্পেসিফিক হেলথ চেকআপ অ্যান্ড স্পেসিফিক হেলথ গাইডেন্স’ কর্মসূচি নামে। এটি মূলত ৪০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক বার্ষিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা। এর উদ্দেশ্য কেবল রোগ নির্ণয় নয়; বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ আইনের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো কোমরের মাপ নির্ধারণ। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরুষদের জন্য সর্বোচ্চ ৮৫ সেন্টিমিটার এবং নারীদের জন্য ৯০ সেন্টিমিটার সীমা নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক কঠোর। জাপানিদের বিশ্বাস, পেটের ভিসারাল ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে রাখলেই অধিকাংশ জীবনযাপনজনিত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- জাপানে মোটা হওয়া কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। ব্যক্তিকে সরাসরি জরিমানা বা কারাদণ্ড দেওয়া হয় না। বরং এটি একটি নজরদারি ও পরামর্শভিত্তিক ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শে পাঠানো হয় এবং তাকে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রথম ধাপে তিন মাসের জন্য নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট ও ব্যায়াম পরিকল্পনা অনুসরণ করতে বলা হয়। নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। উন্নতি না হলে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালু হয়। অর্থাৎ শাস্তির পরিবর্তে সচেতনতা ও আচরণগত পরিবর্তনই এখানে মূল কৌশল।

তবে দায়বদ্ধতার বিষয়টি ব্যক্তির চেয়ে বেশি আরোপ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির ওপর। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক জরিমানা বা স্বাস্থ্যবিমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে করপোরেট জাপানে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, অফিসে ব্যায়াম বিরতি এবং পুষ্টিকর খাবারের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

এ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যনীতি বাস্তব ফলও দিয়েছে। জাপানে স্থূলতার হার উন্নত বিশ্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম- প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বহু দেশে এ হার বহু গুণ বেশি। সুস্থ কর্মশক্তি জাপানের উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করেছে।

অবশ্য সমালোচনাও কম নয়। অনেকে মনে করেন, কেবল কোমরের মাপ দিয়ে স্বাস্থ্য বিচার করা বৈজ্ঞানিকভাবে সবসময় যথাযথ নয়। কারও পেশির গঠন বা উচ্চতার পার্থক্য উপেক্ষিত হতে পারে। আবার কেউ কেউ একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বা ‘বডি শেমিং’-এর শামিল বলেও অভিহিত করেছেন। তবুও রাষ্ট্রীয় নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি প্রিভেনশন-ভিত্তিক সামাজিক প্রকল্প।

জাপানের মেটাবো আইন শাস্তিমূলক নয়; বরং সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো। এখানে বার্তা একটাই- স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ। কোমরের মাপ নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও ব্যয়সংকোচী রাষ্ট্র গঠন। জাপান দেখিয়েছে, সুস্থ নাগরিকই একটি সমৃদ্ধ জাতির আসল ভিত্তি।

 

তারেক/

পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প
ছবি: এআই

আমাদের এলাকায় গত বর্ষায় ডেঙ্গুর মহা প্রকোপ যেন শুরু হয়েছিল। এমন কোনো ঘর নেই যেখানে ডেঙ্গু হয়নি। একই ঘরের বড় ছেলেকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ভালো করে নিয়ে আসতে আসতে আবার ছোট ছেলেকে নিয়ে দৌড়াতে হচ্ছে হাসপাতালে। সে ভালো হলে আবার তার মা এ মহামারির কবলে পড়ছেন। চারদিকে ডেঙ্গু মশা যেন মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা শুরু করেছে। 

এবার আসল কথায় আসা যাক। আমার ঘরে প্রথমে বড় ছেলের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। ফার্মেসিতে বসা এমবিবিএস ডাক্তার দেখালে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়। রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। ডেঙ্গু প্রথম অবস্থায় রোগ শনাক্তকরণ করা গেলে তেমন জটিলতা তৈরি হয় না। তাতে সামান্য চিকিৎসাতেই ভালো হয়ে যায়। তবে ডেঙ্গু রোগীর যদি বেশি বমি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তখন হাসপাতালের অক্সিজেন ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আমার ছেলের অক্সিজেনের প্রয়োজন হলো। দুবার দেওয়ার পরই জটিলতা অনেকাংশে কমে গেল। এবার শুরু হলো বমি। তার জন্য ইনজেকশন অতি আবশ্যক। ইনজেকশন দেওয়া হলে বমির উপসর্গও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তখন খাবার খেতে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। যারা জটিলতার জন্য মুখে খাবার খেতে পারেন না তাদের স্যালাইন দেওয়া হয় খাবারের বিকল্প হিসেবে। 

রোগ যখন মহামারি আকার ধারণ করে তখন চারদিকে রোগীর খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। তখন হাসপাতালের গেটে ডাব আর ফলের দোকানের মালিকরা যেন সিন্ডিকেটের পসরা সাজিয়ে বসেন।

আরো পড়ুন: বরফ রাজ্যে বেঁচে থাকা আশ্চর্য ব্যাঙ

হাসপাতালের নানাবিধ সংকটের মধ্যে মানুষের মাঝে আতঙ্ক আর দুর্ভোগ যেন পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাচ্ছিল তখন। সরকারি হাসপাতালে থেকে নাপা আর গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হচ্ছিল না। স্যালাইনসহ যাবতীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। আবার যে খাবার বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে তাও খাবার উপযোগী নয়। 

একদিন হঠাৎ করেই আমার চোখে পড়ল অনেক সময় ধরে আমার পাশের বেডে রোগী নেই। তিনি আবার ছুটি নিয়ে বাড়িতেও যাননি। তাহলে তিনি গেলেন কোথায়? আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। ডাক্তার ভিজিট করা পর্যন্ত রোগী তার বেডে থাকেন তারপরই বেড থেকে সারা দিনের জন্য কোথায় যেন উধাও হয়ে যান। বিষয়টি আমার কাছে একটা খটকা লাগল। তবে রোগী উধাও হলেও তার স্ত্রী মাঝে মাঝে এসে বেডের ওপর শুয়ে থাকেন। 

কয়েকদিন হলো আমি হাসপাতালে এসেছি। ছেলের প্লাটিলেট উন্নতির দিকে। ডাক্তারের ভাষায় প্লাটিলেট বাড়তে থাকলে তা আর কমে না। তখনই ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়েছেন বলে ধরা হয়। 

সেদিন বড় ডাক্তার এসেছেন ভিজিটে। আজকে পাশের সেই বেডের রোগীকে ডাক্তার দেখছেন। তার একটা পরীক্ষার রিপোর্টে দেখে তো তিনি অবাক হলেন। রিপোর্টে দেখলেন, এ রোগীর ডেঙ্গু হয়নি। এবার ডাক্তারকে চিন্তিত দেখা গেল। তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি বললেন, যদি ডেঙ্গুই না হয় তাহলে দিন দিন তার প্লাটিলেট কমছে কেন? তার ডেঙ্গু, রিপোর্টে বিষয়টি ধরা পড়ছে না। প্লাটিলেট কমে মাত্র ১৬ হাজার রয়েছে তার। ১০ হাজারের নিচে নামলেই বিপজ্জনক ধরা হয়ে থাকে। এ রোগীর অবস্থাও এখন জটিল ও কঠিন।

এবার ডাক্তার চলে যাওয়ার পর আমি সে রোগীকে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলাম, কেন তিনি সারা দিন বাইরে থাকেন। উত্তরে যা জানলাম, তিনি অনেক গরিব মানুষ। হাসপাতাল থেকে ওষুধ আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেওয়া হলেও তা করানোর জন্য যে টাকা দরকার তা তার কাছে নেই। তিনি মৌসুমি কদবেল বিক্রেতা। বেলের গাছ কিনে তা পেড়ে পাইকারি আড়তে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন তিনি। অনেক কদবেল গাছ তার কেনা রয়েছে কিন্তু অসুখের জন্য তা পেড়ে বিক্রি করতে পারছেন না। হাতে যা টাকা ছিল তা আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন বিপদের সময় সারা দিন আড়তে আড়তে ঘুরছেন কিছু টাকার জন্য। কিন্তু বেল দিতে পারছেন না বলে কোনো আড়ত থেকেই অ্যাডভান্স পাচ্ছেন না। সেখান থেকে ব্যর্থ হয়ে এবার দিনভর আত্মীয়স্বজনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন রোগী মুজিবর মিয়া। এ কথাগুলো বলার সময় তার চোখের পাতা পানিতে ভিজে উঠছে। আমি তার পাশের সিটে থেকেও তার এমন দুর্দশার কথা বুঝতে পারিনি। আর তিনিও কিছু বলেননি। জেলা শহরের হাসপাতালে একজন গরিব রোগী ভর্তি হলেই যে তার টাকা ছাড়া চিকিৎসা মিলবে এ কথা ভাবা যায় না। এ গরিব রোগী হয়তো ভেবেছিলেন, টাকা ছাড়াই তিনি চিকিৎসা নিতে পারবেন। 

অবশেষে আমার ছেলের ডেঙ্গু সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে গেছে। এবার আমার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু গরিব রোগী মুজিবের কী হবে এমন কথাই এখন আমি ভাবছি। আমার বেঁচে যাওয়া কিছু খাবার তাকে দিলাম। কিছু টাকাও রেখে আসলাম তার জন্য। কিন্তু পরে রোগী মুজিবরের কী হলো তা আর জানতে পারলাম না। মনের ভেতর একটা কষ্টবোধ রয়েই গেল। দেশের গরিব মানুষরা এভাবেই চিকিৎসার জন্য কি ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে? এখানে কী রাষ্ট্র গরিবদের জন্য আর একটু বাড়তি বাজেট দিতে পারে না? এ প্রশ্নই এখন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

তারেক/

গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয়

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয়
ছবি: সংগৃহীত

রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর গোড়ায় সাদা রং দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কিন্তু এই সাদা রং শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। রয়েছে বিভিন্ন সুরক্ষামূলক উদ্দেশ্য, যা গাছের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

গাছের গায়ে সাধারণত চুন বা বিশেষ ধরনের সাদা রং ব্যবহার করা হয় গাছকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। দিনের বেলায় সূর্যের তাপ গাছের গায়ে পড়ে গাছের কাণ্ড দ্রুত গরম হয়ে যায়। আবার রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে কাণ্ড দ্রুত ঠাণ্ডা হয়। এই হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে গাছের বাকল ফেটে যেতে পারে। সাদা রং সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে, ফলে গাছ অতিরিক্ত গরম হয় না এবং কাণ্ড সুরক্ষিত থাকে।

আরো পড়ুন: মরুভূমিতে জীবন রক্ষাকারী লেজার টাওয়ার

এছাড়া সাদা রং অনেক ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ কমাতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে চুনের প্রলেপ পিঁপড়া, উইপোকা বা কিছু রোগজীবাণুকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই ফলজ ও শোভাবর্ধক গাছে এই পদ্ধতি বেশি দেখা যায়।

গাছের গায়ে সাদা রং দেওয়ার আরও কিছু কারণ হলো–

১. রাত্রিকালীন দৃশ্যমানতা: 
রাতের বেলা গাড়ি চালকদের জন্য রাস্তার ধারের গাছগুলো সহজে দৃশ্যমান হয়, যা দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।

২. সৌন্দর্য বৃদ্ধি:
সাদা রং শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং পরিচ্ছন্নতার ধারণা দেয়।

৩. গাছ চিহ্নিতকরণ:
বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চিহ্নিত করার জন্যও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

তবে সব গাছে সাদা রং করা হয় না। সাধারণত যেসব গাছ বেশি রোদে থাকে বা যেগুলোকে বিশেষ যত্নে রাখা হয়, সেসব গাছেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই গাছের গায়ে সাদা রং শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়; এর পেছনে রয়েছে গাছের সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তার মতো বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক কারণ।

তারেক/

অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির বিস্ময়কর প্রাণীদের মধ্যে শুবেল এক রহস্যময় নাম। বিশাল দেহ, অদ্ভুত জুতার মতো ঠোঁট এবং গম্ভীর চেহারার কারণে এই পাখি সহজেই সবার দৃষ্টি কাড়ে। আফ্রিকার জলাভূমিতে বসবাসকারী এই বিরল পাখিকে প্রথম দেখায় ভয়ংকর মনে হলেও, এর জীবনযাপন অত্যন্ত শান্ত ও ধীরস্থির। অদ্ভুত গঠন ও আচরণের জন্য শুবিলকে প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময়কর পাখি বলা হয়।

শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য: শুবেল আকারে বড় ও শক্তিশালী পাখি। একটি পূর্ণবয়স্ক শুবেলের উচ্চতা প্রায় চার থেকে পাঁচ ফুট, আর ডানা মেলে ধরলে বিস্তার হয় প্রায় সাত থেকে আট ফুট। এদের দেহের রং ধূসরাভ, যা জলাভূমির পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে।

তবে শুবেলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল ঠোঁট। জুতার মতো আকৃতির এই ঠোঁট প্রায় এক ফুট লম্বা এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। এই ঠোঁট দিয়েই শুবিল দক্ষতার সঙ্গে শিকার ধরে। বড় মাথা, লম্বা পা এবং তীক্ষ্ণ চোখ তাকে এক রাজকীয় ও রহস্যময় চেহারা দিয়েছে।

আরো পড়ুন: মরুভূমিতে জীবন রক্ষাকারী লেজার টাওয়ার

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা: শুবেল মূলত মাংসাশী পাখি। মাছ, ব্যাঙ, জলজ সাপ, টিকটিকি এমনকি ছোট কুমিরও এদের খাদ্যতালিকায় থাকে। শিকার ধরার সময় এরা পানির ধারে দীর্ঘক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। শিকার কাছে এলেই দ্রুত ঠোঁটের আঘাতে ধরে ফেলে।

শুবেল সাধারণত একাকী থাকতে পছন্দ করে এবং খুব কম শব্দ করে। শান্ত ও ধৈর্যশীল স্বভাবের কারণে এরা নিঃশব্দ শিকারি হিসেবে পরিচিত। ধীর চলাফেরার আড়ালে লুকিয়ে আছে অসাধারণ শিকার দক্ষতা, যা তাকে জলাভূমির সফল শিকারিতে পরিণত করেছে।

বাসস্থান ও পরিবেশ: শুবেল মূলত পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার বিস্তৃত জলাভূমিতে বসবাস করে। উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া ও জাম্বিয়া অঞ্চলের জলাভূমিতে এদের বেশি দেখা যায়। কাদা, পানি ও ঘন জলজ উদ্ভিদপূর্ণ পরিবেশ এদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত।

এই জলাভূমিগুলো শুধু আশ্রয়ই দেয় না, বরং খাদ্যের উৎসও জোগায়। জলাভূমির পরিবেশ নষ্ট হলে শুবিলের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। তাই এই বিরল পাখিকে টিকিয়ে রাখতে জলাভূমি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

প্রজনন: প্রজনন মৌসুমে শুবেল জলাভূমির ঘাস, শুকনো ডালপালা ও উদ্ভিদ দিয়ে বড় বাসা তৈরি করে। স্ত্রী শুবেল সাধারণত এক থেকে তিনটি ডিম পাড়ে। মা ও বাবা উভয়েই ডিমে তা দেয় এবং ছানার যত্ন নেয়।

ছানা জন্মের পর মা-বাবা তাকে খাদ্য জোগায় এবং সুরক্ষা দেয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি ছানাই বড় হয়ে বেঁচে থাকে। শুবেল ধীরে বড় হয় এবং দীর্ঘজীবী পাখি হিসেবে পরিচিত। এরা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

অদ্ভুত ঠোঁট, বিশাল দেহ এবং রহস্যময় জীবনযাপনের কারণে শুবিল প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়। পৃথিবীর প্রাণিজগৎ কত বৈচিত্র্যময় ও রহস্যে ভরা। এই বিরল পাখিকে রক্ষা করা মানে প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্যকে রক্ষা করা। 

তারেক/

পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার
ছবি: এআই জেনারেট
ঢাকা শহর ছেড়ে এখন গ্রামের বাড়িতে অবসর জীবনযাপন করছি। সময় কাটানোর জন্য বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ করছি। এতে টাটকা কিছু সবজি খাওয়ার সুযোগ মিলছে আমার। তবে তা উৎপাদন করতে গিয়ে পোকার আক্রমণের শিকার হচ্ছি প্রতিনিয়তই। আমার গাছ যখনই একটু সতেজ হয়ে উঠতে থাকে, তখনই অমনি দলবেঁধে পোকারা আক্রমণ শুরু করে গাছের পাতা আর ফল খেয়ে সর্বনাশ করছিল।
 
এমতাবস্থায় কাছেরই একটি বাজারে গিয়েছি বিষ কিনতে। তবে বিষ এখন গাছে যেভাবে প্রয়োগ করা হয় তাতে মানুষের বেঁচে থাকার কথা নয়। কোনো কৃষকই মূলত নিয়ম মেনে বিষ প্রয়োগ করেন না। বিষের গায়ে লাল, সবুজ ও হলুদ দিয়ে চিহ্নিতকরণ করে দেওয়া হয়েছে কোন বিষ কতটা মারাত্মক। কোন বিষ গাছে দেওয়া হলে কতদিন পর তা হার্ভেস্ট করা যাবে। যেটা একেবারে সাধারণ বিষ তার ফল এক সপ্তাহের আগে কাটা সম্ভব নয়। কোন কোন বিষ রয়েছে আবার প্রয়োগের ১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় হার্ভেস্টের জন্য। কিন্তু কোনো কৃষকই তা মেনে ফসল হার্ভেস্ট করছেন না। আর এ বিষয়টা দেখভাল করার মতো কেউ নেইও।
 
 
আমরা শুধু ভেজাল খাদ্যে নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শহর আর জেলায় কিছু পদক্ষেপ দেখি। কিন্তু বিশাল একটা জনগোষ্ঠী গাছে ফসল থাকা অবস্থায় খাদ্যকে বিষময় করে তুলছেন তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা দেখছি না। পরীক্ষা ছাড়াই ভোক্তা পর্যায় তা চলে যাচ্ছে। সে বিষ মানুষের দেহে প্রবেশ করে তিলে তিলে মানুষের কিডনি এবং লিভার অকেজো করে দিচ্ছে। সে কারণে মানুষ এখন নানাবিধ জটিলতায় পড়ে ব্যাপক হারে চিকিৎসকের কাছে তাদের ধরনা দিতে হচ্ছে। এই গুপ্ত বিষ সম্পর্কে কৃষককে যদি সচেতন করা না যায় তাহলে মানুষের মধ্যে মহামারি আকারে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়বে। 
 
এমনই বালাইনাশক কিনে দোকানে মাত্র দাঁড়িয়েছি আমি, অমনি এক মহিলা দেখি আমার বিষের বোতলের দিকে বারবার তাকাচ্ছে। একবার বিষের বোতলে দিকে তাকাচ্ছে আবার তার কোলে থাকা ছোট বাচ্চার দিকে তাকাচ্ছে। বিষয়টা আমি যতটা না বুঝতে পারছি তার চেয়ে বেশি বুঝতে পারছেন দোকানদার।
 
ভাই আমাকে এক বোতল বিষ দেওয়া যাবে?
দোকানি বলল, আমার তো বিষ নিয়েই কারবার। কেন দেওয়া যাবে না? 
তয় বিষ নিয়ে কী করবেন, দোকানি মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল।
এ কথায় মহিলা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে থাকল।
দোকানি আবার মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল–বিষ নিয়ে কী করবেন। 
এবার মহিলা বলল, খাব। 
বিষ খাবেন ভালো কথা। তয় কম দামি খাবেন না বেশি দামি খাবেন। বেশি দামি খাব। একবারে খেয়ে মরতে চান নাকি বিষের জ্বালায় চিৎকার-চেঁচামেচি করে মরতে চান? 
এবার মহিলা বলল, ভাই খেয়েই যাতে মরে যাই। 
আচ্ছা তাহলে আপনাকে খুবই দামি বিষ দিতে হবে। মহিলা বলল, তা-ই দেন। 
 
আমি বিষের দোকানি আর মহিলার কথোপকথন শুনে অবাক না হয়ে আর পারলাম না। বিষের দোকানদার এ কী বলছেন। বিষ খেয়ে একটি মহিলা মরে যাবে আর সে নির্দ্বিধায় তা বিক্রি করবে? এটা আমি যেন কোনোমতেই ভাবতেই পারছি না। আবার দোকানিকে দেখে আমার খুবই সিরিয়াস মনে হলো। এ যেন মহিলাকে না মেরে সে ক্ষান্ত হবেন না। মহিলার পারিবারিক কষ্টে সে যেন নিজেই কষ্ট পাচ্ছে। এবার মহিলাকে লেবেল ছাড়া বিষের একটি বোতল দিল দোকানি। আর বলল, লেবেল ছাড়া এ বিষ আপনাকে দেওয়ার কারণ হলো–কেউ যাতে বুঝতে না পারে কার দোকান থেকে এমন বিষ আপনি কিনেছেন। আপনি তো বিষ খেয়েই খালাস। কিন্তু পুলিশ যখন বিষের দোকানদারকে খুঁজবে তখন তো আমাকে এসে ধরবে। আপনার মৃত্যুর জন্য আমাকে ফাঁসি দেবে। 
 
এবার মহিলা জিজ্ঞাসা করল–এটার দাম কত দিতে হবে। 
 
দোকানি বলল, আপনি খেয়ে মারা যাবেন, আপনার কাছ থেকেও তো আর আমি বেশি রাখতে পারব না। ১০০ টাকা দেন। অনেক দামি বিষ। তয় দিনের বেলা খাবেন না। রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকবে তখন একা একা খেয়ে ঘুমিয়ে যাবেন। সকালে দেখবেন আপনি এ জগতে আর নেই। 
 
পুরো ঘটনাটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো যেন লাগছে। আমি মনে মনে ভাবলাম দোকানি কি শেষমেশ মহিলাকে মেরেই ছাড়বে? একবার ভাবছিলাম, শেষে মনে হয় মহিলার হাত থেকে বোতলটা কেড়ে নেবেন দোকানি। দোকানির দিকে আমার চাহনি দেখে সে আকার-ইঙ্গিতে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে আমাকে। 
 
আমি আবার আগ বাড়িয়ে বললাম। আপনার বাসা কোথায়? তিনি বললেন, রঘুরামপুর। আপনার কি স্বামী নিয়ে সমস্যা?
 
বিষের বোতল নিয়ে মহিলা নির্বিকভাবে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে। আমি পলকহীনভাবে তার দিকে তাকিয়েছিলাম। এবার দোকানি আমাকে ফিসফিস করে বলল, এটা আদতে কোনো বিষয় নয়। এটা শুধু পানি। এমন কাস্টমার আমাদের কাছে মাঝে মাঝেই আসে। তাদের কথা-বার্তায় অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারি কে গাছে বিষ দিতে কিনছে আর কে খাওয়ার জন্য নিচ্ছে। 
 
হাসপাতালের বারান্দায় মাঝে মাঝে বিষ খাওয়া রোগীদের আমি তাদের পেট ওয়াশ করতে দেখেছি। চার হাত-পা চেপে ধরে মুখের ভেতর পাইপ ঢুকিয়ে পুরো পেট ভরে পানি ভর্তি করে তার পর ওয়াশ করা হয় সেখানে। তখন নরকের দরজা দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না বিষ খাওয়া রোগীকে। যত রোগীই দেখেছি বিষ খাওয়ার পর সে কী আকুতি-মিনতি বেঁচে থাকার জন্য। আবেগের বশে বিষ খায় তারপর সে বিষেরই যখন বিষক্রিয়া যখনই শুরু হয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি জ্বলতে থাকে তখনই বাঁচার আকুতি করতে থাকে তারা। অনেক বাড়িতে বিষ খাওয়া রোগীকে বমি করানোর জন্য মলমূত্র পর্যন্ত খাওয়ানো হয়। এমন দৃশ্য নিজের চোখে দেখেছি। 
 
তবে কেউ বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে চায় আবার আমরা আত্মহত্যা করা ছাড়াই বিষের গোলা গলাধঃকরণ করছি। এ থেকে আমাদের বের হতে হবে। খাদ্য নিরাপদ করতে কৃষি অধিদপ্তরকে কৃষক পর্যায় সচেতনতাবোধ তৈরিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে হবে। নইলে বিষের নীরব ঘাতক আমাদের প্রজন্মেও পর প্রজন্মকে তিলে তিলে শেষ করে দেবে।
 
 
মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ
 
তারেক/

 

গরম গরম শিঙাড়া

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
গরম গরম শিঙাড়া
ছবি: সংগৃহীত

সকালের নাশতা থেকে শুরু করে অফিসের ব্যস্ত সময়ের ছোট্ট বিরতি কিংবা বিকেলের প্রাণবন্ত আড্ডা–শিঙাড়া যেন সব মুহূর্তেরই প্রিয় সঙ্গী। ঝুমবৃষ্টি হোক বা প্রচণ্ড রোদ, এই জনপ্রিয় মুখরোচক খাবারের আবেদন কখনো ফিকে হয় না। মচমচে ও খাস্তা আবরণে মোড়া আলু, বাদাম ও সুগন্ধি মসলার পুর, আর তার সঙ্গে টক-মিষ্টি চাটনির দারুণ সমন্বয় তৈরি করে অনন্য এক স্বাদ। এমন স্বাদের শিঙাড়া খেতে বসলে অনেক সময় নামি রেস্তোরাঁর বাহারি খাবারও যেন হার মানতে বাধ্য হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, শিঙাড়ার প্রাচীন রূপ ছিল ‘সাম্বোসা’ বা ‘সাম্বুসাক’ যা পারস্য অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রায় দশম থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যে এই খাবারের উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন পারস্য ও আরবি সাহিত্যে। সে সময় এটি ছিল মাংস, বাদাম ও মসলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের ভাজা পিঠা, যা রাজদরবার ও ধনী সমাজে পরিবেশন করা হতো।

আরো পড়ুন: অদ্ভুত এক কবরের গল্প

পরবর্তী সময়ে মুসলিম শাসকদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে শিঙাড়ার আগমন ঘটে। দিল্লি সালতানাতের সময় (১৩০০ শতাব্দী) মধ্য এশিয়া থেকে আগত ব্যবসায়ী ও শাসকরাই এই খাবার নিয়ে আসেন। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তার ভ্রমণকাহিনিতেও ‘সাম্বুসাক’-এর উল্লেখ করেছেন, যা সে সময়ের রাজকীয় ভোজে পরিবেশন করা হতো।

বাংলায় এসে শিঙাড়া সম্পূর্ণ নতুন এক পরিচয় পায়। এখানে মাংসের পরিবর্তে আলু, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ, বাদাম ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি পুর ব্যবহার শুরু হয়। 

কম খরচে পেট ভরানোর উপযোগী হওয়ায় এটি দ্রুতই সাধারণ মানুষের প্রিয় খাবারে পরিণত হয়। বিশেষ করে কলকাতা ও ঢাকার মতো শহরে শিঙাড়া হয়ে ওঠে বিকেলের নাশতার প্রধান আকর্ষণ।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে শিঙাড়ার কিছু আঞ্চলিক বৈচিত্র্যও দেখা যায়। ঢাকার শিঙাড়া সাধারণত ছোট আকারের এবং ভেতরে থাকে আলু, মটরশুঁটি ও কখনো ডিম বা কলিজার কিমা। অন্যদিকে কলকাতার শিঙাড়া তুলনামূলক বড় এবং এতে কাজুবাদাম, কিশমিশ বা ফুলকপিও ব্যবহার করা হয়। আবার কোনো কোনো জায়গায় শিঙাড়ার সঙ্গে পরিবেশন করা হয় টক-ঝাল তেঁতুল চাটনি, সরিষা-তেঁতুলের তৈরি টক বা টমেটো সস, যা এর স্বাদকে বাড়িয়ে তোলে কয়েকগুণ।

শিঙাড়ার জনপ্রিয়তার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো এর সহজলভ্যতা ও বহুমুখিতা। এটি যেমন ঘরে সহজে তৈরি করা যায়, তেমনি রাস্তার পাশের দোকানেও সহজে পাওয়া যায়। আর তাই শিঙাড়া দিন দিন হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের খাবারের অন্যতম অনুষঙ্গ।

তারেক/