ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬ হরিণাকুণ্ডুতে আ.লীগ–বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৬ ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’ চট্টগ্রামে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান মনিরুল, মহাসচিব আমান কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে?

মধুমতীতে কচুরিপানার স্তূপ, ৫ জেলার নৌ চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ১০:২৯ এএম
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩৩ এএম
মধুমতীতে কচুরিপানার স্তূপ, ৫ জেলার নৌ চলাচল বন্ধ
গোপালগঞ্জ সদরের মানিকহার ব্রিজের নিচে কচুরিপানার স্তূপ জমে যাওয়ায় পাশেই একটি কার্গো নোঙর করে রাখা হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী শহীদ মোল্লা। প্রতি সপ্তাহে তিনি মধুমতি নদী দিয়ে নৌকায় করে উপজেলার উফরির হাটে মাছ বিক্রি করতে আসেন। গত শনিবারও একই পদ্ধতিতে হাটের দিকে রওনা দেন। কিন্তু এবার তিনি হাট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। অন্তত এক কিলোমিটার আগের একটি ঘাটে তাকে থেমে যেতে হয়েছে। মূলত মানিকহার সেতুর নিচে থাকা কচুরিপানার স্তূপের কারণেই তার নৌকাটি আর এগুতে পারেনি।

শহীদ মোল্লার ভাষ্য, ‘আমাকে এক কিলোমিটার দূরে নৌকা থামাতে হয়েছে। পরে কিছুদূর মাথায় নিয়ে, কিছুপথ ভ্যানে করে উফরির হাটে পৌঁছেছি। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আমার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কচুরিপানাগুলো পরিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।’ শুধু শহীদ মোল্লাই নন, তার মতো শত শত ব্যবসায়ী ও হাজারও মানুষকে কচুরিপানার কারণে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধুমতি নদীতে কচুরিপানার স্তূপ জমায় গত ১৫ দিন ধরে পাঁচ জেলার নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাগেরহাট, পিরোজপুর, নড়াইল, বরিশাল ও খুলনার মধ্যে খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি, কৃষি পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী আনা-নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে।

গত শনিবার উপজেলার উরফি ইউনিয়নের মানিকহার ব্রিজ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ছয় গুচ্ছ পিলারের মাধ্যমে মধুমতি নদীর ওপর সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি গুচ্ছে ফাঁকা ফাঁকা করে ছয়টি পিলার রয়েছে। মোট পিলারের সংখ্যা ৩৬টি। এর মধ্যে পাঁচ সেট পিলারের অবস্থান নদীর পানিতে। এসব পিলারের ফাঁকে ফাঁকে কচুরিপানা আটকে গেছে। জমতে জমতে তা স্তূপে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের নিচ থেকে এই স্তূপগুলো প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলোর কারণে আটকে যাওয়া অসংখ্য নৌকা, ট্রলার ও কার্গো আশপাশে নোঙ্গর করে আছে।

এদিকে কচুরিপানার স্তূপে জমে থাকা পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ওই পানি যারা ব্যবহার করছেন তারা বিভিন্ন চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বদ্ধ পানিতে মশা-মাছির পাশাপাশি সাপের উপদ্রপ দেখা দিয়েছে। গত শুক্র ও শনিবার এই দুই দিনে স্থানীয়রা ৯টি সাপ পিটিয়ে হত্যা করেছে। এলাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে সাপ আতঙ্ক। এ ঘটনা জানার পর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন উদ্দীন ও গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী শাহাদাত ফকির বলেন, ‘নৌকায় করে মাছ বিক্রি করতে এসেছিলাম। কিন্তু মানিকহার এলাকার বাজারের এক কিলোমিটার দূরে নৌকা রাখতে হয়েছে। এখন মাথায় করে মাছ নিয়ে হাটে যেতে হচ্ছে।’

বরিশালের সবজি ব্যবসায়ী শাওন মোল্লা বলেন, ‘এখন শীতের সবজির চারা বিক্রির ভরা মৌসুম। বরিশাল ও পিরোজপুর থেকে নৌকায় করে বিভিন্ন সবজির চারা এনে গোপালগঞ্জে বিক্রি করি। কিন্তু কচুরিপানার কারণে নৌকা গোপালগঞ্জ শহর ও আশপাশের গ্রামের হাট বাজারে নিতে পারছি না। এতে ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।’

স্থানীয় যুবক জাহিদুল খান বলেন, ‘আগে সরাসরি নৌকায় করে উরফি হাটে আসা-যাওয়া করা যেত। কিন্তু কচুরিপানার কারণে প্রায় ২৫ কিলোমিটার ঘুরে যোগানিয়া হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’ উরফি গ্রামের গাজী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘এ নদী দিয়ে আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য, নির্মাণসামগ্রী কম খরচে পরিবহন করতে পারি। কিন্তু কচুরিপানার কারণে দৈনন্দিন কাজ-কর্ম ব্যাহত হচ্ছে। পণ্য বাজারজাত করতে পারছি না।’

কার্গোচালক বশির মিয়া বলেন, এই নদী দিয়ে আমরা ধান, চালসহ বিভিন্ন পণ্য খুলনা ও বরিশালে পরিবহন করি। কিন্তু মানিকহার ব্রিজের নিচে কচুরিপানার স্তূপের ওপর দিয়ে কার্গো চালাতে পারছি না। তাই মানিকহার ঘাটে কার্গো নোঙর করে বসে আছি। এতে আমাদের জীবন-জীবিকা অচল হয়ে পড়েছে।’

উরফি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘গুচ্ছ পিলারের ওপর ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে পিলারের ফাঁকে ফাঁকে কচুরিপানা ঢুকে এ অবস্থার সৃষ্টি করে। দুই বছর আগেও এমন অবস্থা হয়েছিল। তখন সরকারি উদ্যোগে সেগুলো অপসারণ করা হয়। এখন আবার একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।’ 

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রিফাত জামিল বলেন, বিষয়টি আমি লিখিত ও মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কচুরিপানা অপসারণে ছয় থেকে সাত লাখ টাকার প্রয়োজন। বরাদ্দ বা অনুমোদন পেলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারব।’

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান মনিরুল, মহাসচিব আমান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান মনিরুল, মহাসচিব আমান
মো. মনিরুল ইসলাম (মনির)-আমানতউল্লাহ আমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)-এর ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন ২০২৬ তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনে আগত কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে মো. মনিরুল ইসলাম (মনির) চেয়ারম্যান এবং আমানতউল্লাহ আমান মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এছাড়াও কো-চেয়ারম্যান কাজী আদনান তাজীম, ভাইস চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, হারুন আল রশীদ খান, মো. আরব আলী ও হাবিব; যুগ্ম মহাসচিব ফরহাদ রেজা, মো. হেদায়েত উল্লাহ জামালী, ইসরাত জাহান বিথী ও মো. খালেদুল ইসলাম; দপ্তর সম্পাদক মো. জুয়েল আকন এবং আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান নির্বাচিত হন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন চৌধুরী, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়কারী ডা. সামছুল আলম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড ডা. এম. এ. সামাদ, জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন সম্রাট, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক খান নুরে আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল কলেজ গেট (মাইজগাঁও) এলাকায় একটি তেল উৎপাদনকারী কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিটের প্রায় আধ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে অটো গ্রীন অয়েল কোম্পানি নামের কারখানাটিতে এ ঘটনা ঘটে । 

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে কারখানার একটি বয়লার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার ম. সবুজ মিয়া বলেন, বয়লার বিস্ফোরণে কারণে কারখানায় আগুন লাগে। আমাদের ৩টা ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। আগুনে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একইস্থানে অবস্থিত কারখানাটিতে এর আগেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি তখনকার স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের কারখানাটিতে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন শ্রমিক নিহত হন। পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটিতে পুরোনো টায়ার প্রক্রিয়াজাত করে তেল উৎপাদন করা হয়।

পলাশ/রিফাত/

তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’
ছবি: খবরের কাগজ

তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসে ক্ষুব্ধ তিস্তা পাড়ের মানুষ এবার সরাসরি কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। চলতি বাজেটের সংশোধিত বরাদ্দে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু না হলে রংপুর বিভাগ থেকে রাজধানী ঢাকায় খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধ এবং প্রয়োজনে ‘ঢাকা ঘেরাও’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের নেতারা।

শনিবার (২০ জুন) রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম সরকার বলেন, “তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগের কথা সবাই জানে। বছরের পর বছর ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এখন আর আশ্বাস নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু দেখতে চায় মানুষ। সরকারের সংশোধিত বাজেটেই এ প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, নদীভাঙন ও পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে মহাপরিকল্পনাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবিকে আর উপেক্ষা করা যাবে না।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান আরিফ। বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা ও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আযম খান, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল রংপুর ইউনিটের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপি নেতা আল মামুন, ডা. মো. হোসেন, ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট তারেকুজ্জামান তারেক, অ্যাডভোকেট উমর ফারুক এবং আব্দুল মান্নান তালিবসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, তিস্তা নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন ছাড়া উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে অবিলম্বে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।

এদিকে একই সময়ে রংপুর মহানগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত দশটি পয়েন্টে একযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংক মোড়, ডিসি মোড়, কাচারীবাজার, পুলিশ লাইন্স মোড়, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব চত্বর, ওয়ালটন মোড় ও শাপলা চত্বরে শত শত মানুষ অংশ নেন।

প্রেসক্লাব পয়েন্টে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান মাজেদ। এছাড়া শিক্ষাবিদ আবু বক্কর সিদ্দিক, আজহার আলী শাহ, আমিনুর রহমান, হাফিজ উদ্দিন, ফরহাদ হোসেন মণ্ডল, ইঞ্জিনিয়ার মামুন মিয়া, ব্যবসায়ী শাহনৎ মিয়া ও ড. আজিজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

শুধু রংপুর নয়, শনিবার একযোগে তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায়ও একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গঙ্গাচড়ার বুড়িরহাট থেকে মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু পর্যন্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন রায়হান সিরাজী এমপি। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী চর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এমপি ও আনোয়ারুল ইসলাম এমপি।

নীলফামারীর জলঢাকার কাঁকড়া এলাকা থেকে তিস্তা ব্যারেজ পর্যন্ত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি, আল ফারুক আব্দুল লতিফ এমপি, ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও আব্দুল মুনতাকিম এমপি। অপরদিকে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড থেকে তিস্তা সেতু পর্যন্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি ও মওলানা নুরুল আমিন এমপি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তিস্তা অববাহিকা পরিদর্শন করে গেলেও বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে তিস্তা পাড়ের মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

তাদের ভাষ্য, আগামী দিনগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরাঞ্চলের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

সেলিম সরকার/এসএন

মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশীদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৃতীয় জানাজার নামাজ শেষে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশীদের মরদেহ। 

শনিবার (২০ জুন) জোহর নামাজ শেষে জেলা শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হারুন আল রশীদের মরদেহের তৃতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিক হারুন আল রশীদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।

হারুন আল রশীদের জানাজার নামাজে আসেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও দলীয় নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। নামাজের আগে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জেলা বিএনপির নেতারাসহ পরিবারের সদস্যরা।

জানাজার নামাজে অংশ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. মান্নান, জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপল প্রমুখ।

পরে জানাজার নামাজ শেষে শহরের শেরপুর কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন হারুন আল রশীদ।

আজিজুল/রিফাত/

রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের তারাগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া শিক্ষার্থী সানজিদার (৯) চোখ দাবানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির অদূরেই পাটখেতে থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতনদের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে সানজিদাকে শুক্রবার দুপুর থেকে থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যা পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজ করা হয়। তাকে না পেয়ে রাতে মাইকিংও করা হয়। শনিবার সকাল ১১টার দিকে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বাড়ির ২০০ মিটার দূরে ডালিয়া সেচ ক্যানেলের ধারে থাকা পাট খেতে ওই শিশুর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে বেলা দেড়টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। পরিবারে আহাজারি ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ। দূর দুরন্ত থেকে লোকজন ঘটনাস্থল ও সানজিদার বাড়িতে ভিড় করছে।

কোরানীপাড়া গ্রামে সুমন ইসলাম বলেন, 'গতকালকেও বাচ্চাটা খেলাধুলা করল। আজ তার চোখ উল্টানো মরদেহ পাওয়া গেল। নিষ্পাপ শিশুটি কি এমন শত্রু হইল, যে তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করতে হলো। আমরা হত্যার কারণ ও হত্যাকরীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার চাই।'

ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'সানজিদা আমার মেয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।
বাচ্চাটিকে না পেয়ে তার বাবা-মা গতকাল মাইকিং করেছে। আজ তার মরদেহ পাওয়া গেল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা তার হত্যাকারীকে শনাক্ত করে দ্রুত আইডির আওতায় এনে বিচার কার্যকর দেখতে চাই।'

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, '৯ বছর বয়সী শিশু সানজিদার  মরদেহ উদ্ধার করে ময়নতন্ত্রের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে তার চোখ দুটি দাবানো ছিল।'

সেলিম সরকার/রিফাত/