গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অনুপম বাড়ৈকে মারধরের ঘটনায় সোহেল হাওলাদার নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে অনুপম বাড়ৈকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মৃদুল কুমার দাস জানান, ৩/৪ দিন আগে সোহেল হাওলাদার তার গর্ভবতী স্ত্রীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। এ সময় তার স্ত্রীর গর্ভে তার সন্তান মারা গেছে এমন রিপোর্ট দেওয়া হলে স্ত্রীকে সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ায় তার সন্তান মারা গেছে এমন অভিযোগ এনে জরুরি বিভাগের দরজা বন্ধ করে চিকিৎসক অনুপম বাড়ৈকে রডের পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন সোহেল হাওলাদার। পরে কর্মচারীরা দরজা ভেঙে ওই চিকিৎসককে উদ্ধার করে ও অভিযুক্ত যুবক সোহেল হাওলাদারকে আটক করে পুলিশ দেয়। পরে আহত চিকিৎসককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মচারীরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চিকিৎসা সেবা বন্ধের ঘোষণা দিলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মৃদুল কুমার দাসের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মচারীরা কাজে ফিরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী বদিউজ্জামান বলেন, 'দেখলাম সোহেল হাওলাদার রুমের মধ্যে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। এর পর ভেতর থেকে চিৎকারের আওয়াজ আসলে কর্মচারীরা দরজা ভেঙ্গে ডাক্তারকে উদ্ধার করেছে।'
অভিযুক্ত সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী বলেন, 'বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আমি হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওইদিনও আমার বাচ্চা নড়াচড়া করেছে। হাসপাতালে আসার পর ডাক্তারের খোঁজ করেও পাইনি। পরে নার্সদের বললে তারা বলে স্যাররা কিছু না করলে আমরা কিছু করতে পারব না। পরে আমার স্বামী ডাক্তারের হাত-পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও ডাক্তার আসেনি। পরে নার্সরা আমাকে ইনজেকশন দিলে সঙ্গেসঙ্গে জ্বর হয়। পরে ডাক্তার বলে ২/৩ দিন আগে আমার বাচ্চা মারা গেছে। সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ায় আমার সন্তান মারা গেছে।'
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।' আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছী ওই যুবকের স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ৩/৪ দিন আগেই পেটের মধ্যে মারা গেছে।'
বাদল/রিফাত/মেহেদী/