মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি খোদ মেঘনা পেট্রোলিয়ামের অফিসেই কানাঘুষা চলছে।
সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় ১৪৭ জন লোকবল নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মেঘনা পেট্রোলিয়াম। এরপর চলতি মাসের ৪ জুলাই বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য লিখিত নিয়োগ-পরীক্ষা নেওয়া হয়। পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম টাইপিস্ট, টেলিফোন অপারেটর কাম রিসেপশনিস্ট, কম্পাউন্ডার/ফার্মাসিস্ট, পাম্প অপারেটর, ইলেকট্রিশিয়ান, ড্রাইভার, অদক্ষ শ্রমিক/হেলপার, পিয়ন, ক্লিনার, সিকিউরিটি গার্ড, ফায়ার ফাইটার। পরীক্ষার ছয় দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষা না দিয়েই কেউ কেউ নিয়োগ পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। ৪ জুলাই নিয়োগ-পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একাধিক চাকরিপ্রার্থী এ অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিকার পেতে কেউ কেউ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথা ভাবছেন।
তাদেরই একজন মো. জিহাদ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রতি টেবিলে চারজন করে পরীক্ষার্থী বসার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু যে টেবিলে আমি পরীক্ষা দিয়েছি সেখানে আমিসহ দুজন ছিলাম। বাকি দুজন ছিলেন অনুপস্থিত। কিন্তু পরীক্ষার ফল দেখে অবাক হয়েছি। কারণ অনুপস্থিত থাকা দুই ব্যক্তি চাকরির জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন।’
খবরের কাগজের প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় তার। তিনি দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ওই দিনের পরীক্ষাকেন্দ্রের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ফুটেজ যাচাই করার পরামর্শ দেন।
মো. জিহাদ একা নন। একই অভিযোগ তুলেছেন মো. মাসুদুল হক এবং মো. মুন্নাফ হোসেন নামে আরও দুই চাকরিপ্রার্থী। এ ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রফিকুল ইসলাম নামে একজন জানিয়েছেন, প্রতিকার পেতে তিনিসহ কয়েকজন উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতানকে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। জেনারেল ম্যানেজার ইনাম ইলাহী চৌধুরী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)। বিষয়টি নিয়ে তারা ভালো বলতে পারবে।’
বিআইএম-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম দাবি করেন, ‘কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।’ বিস্তারিত কথা বলার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন) প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে পরিচালক (প্রশাসন) ফোন রিসিভ করেননি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী বলেছেন, ‘নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। এর থেকে বের হতে হলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শুদ্ধ হতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলেই আমাদের দেশে এ ধরনের অভিযোগগুলো সব সময় শোনা যায়। তাই যেকোনো অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার রেওয়াজ চালু করতে হবে।’