মেক্সিকোর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী সঙ্গে মেক্সিকোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা মার্কাদো পেরেজের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা ও সম্ভাব্য নতুন সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
শুক্রবার (২১ মার্চ) মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজলকে সম্প্রতি মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি ড. ক্লাউডিয়া শেইনবামের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে মেক্সিকোর সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উভয় নেতা উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ-মেক্সিকো কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের একটি সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল এই উপলক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ ও উদ্যাপনের প্রস্তাব দেন, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বকে প্রতিফলিত করবে।
বৈঠকে ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে মেক্সিকোতে তৃতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (FOC) আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এই আলোচনার লক্ষ্য বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা এবং কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া।
এ সময় রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল কৃষি, প্রতিরক্ষা, ভিসা অব্যাহতি, ফুটবল এবং দ্বৈত কর পরিহার সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিনিময়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ঢাকায় একটি মেক্সিকান দূতাবাস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা মার্কাদো পেরেজ রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজলকে মেক্সিকোর সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনায় শেষ হয়, যেখানে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-মেক্সিকো সম্পর্কের আরও অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
বিজ্ঞপ্তি/সুমন/