পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সদস্যদের হাতে জিম্মি ৩৪৬ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ মার্চ) রাতে উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিএলএ’র হামলাকারীদের সংঘর্ষে ৮২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ৩৩ জন হামলাকারী, ২৮ জন সৈন্য ও ২১ যাত্রী রয়েছেন।
দেশটির সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জিম্মি করা ট্রেনের সব যাত্রীকে মুক্ত করা হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনীর অন্তত ২৮ সৈন্য নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ট্রেনের জিম্মি ৩৪৬ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে ৩৩ জন সন্ত্রাসীও নিহত হয়েছেন। জিম্মি করা ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত ২৭ সৈন্যকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছেন; যারা ওই ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া অভিযান পরিচালনার সময় অপর এক সেন্য নিহত হয়েছেন।
যদিও বালোচ লিবারেশন আর্মির দাবি, তারা অন্তত ৫০ জন সেনাকে খুন করেছে। প্রথম থেকেই তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, পণবন্দিদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেই গলা কেটে সেনাকর্মীদের খুন করা হবে। সেই মতোই অন্তত ৫০ জনকে খুন করা হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে তারা। ড্রোন অভিযান চালিয়ে বালোচ বিদ্রোহীদের নিকেশ করার পরিকল্পনা করেছিল পাক প্রশাসন। সেই কারণেই সেনাকর্মীদের খুন করা হয়েছে বলে দাবি বালোচ লিবারেশন আর্মির।
গত মঙ্গলবার জাফর নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন জিম্মি করে একদল সন্ত্রাসী। তারা পুরো ট্রেনের সব যাত্রীকে জিম্মি করে। পরে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী একটি ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী ট্রেনটিতে ৯টি বগি রয়েছে। যাতে ৪৫০ জনের মতো যাত্রী ছিল। কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে যাওয়ার পথে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করেছে। জানা গেছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানে তাদের মাস্টারমাইন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং নারী-শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ছাড়া এলাকার কঠিন ভূ-প্রকৃতি অভিযানকে আরও জটিল করে তুলছে। হামলাকারীরা ট্রেনের ওপর আক্রমণ করার আগে রেলপথে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীরা লোকোমোটিভে গুলি চালিয়েছে, ফলে চালক আহত হন। ট্রেনটি একটি সুড়ঙ্গের ঠিক আগে থেমে যায়। আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একটি দুর্গম, পর্বতাঞ্চলীয় এলাকায় ট্রেনটির দখল নেয় তারা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ডন