মাদাগাস্কারে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট অন্দ্রি রাজোয়েলিনা একজন সেনা জেনারেলকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। ধারনা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে রাজোয়েলিনা তার শাসনের বিরুদ্ধে যুব নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ বন্ধ করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী জেনারেল রুফিন ফর্চুনাত জাফিসাম্বো আগের প্রধানমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান লুই এনসাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা বলেন, দেশে এখন এমন এক নেতার প্রয়োজন, যিনি আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম।
এদিকে, গত তিন সপ্তাহ ধরে জেনারেল জেড মাদা নামে পরিচিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহনকারীরা জেনারেল জাফিসাম্বোর নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাছাড়া, রাজোয়েলিনাকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছে।
‘জেন জি মাদাগাস্কার’ নামের তরুণদের সংগঠনের নেতৃত্বে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এসে ‘রাজোয়েলিনা আউট’, ‘আমরা গরিব, ক্ষুব্ধ ও অসুখী’, ‘মাদাগাস্কার আমাদের’-এ ধরনের স্লোগান দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলমান এই বিক্ষোভ দিন দিন সহিংস আকার নিচ্ছে। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পরও আন্দোলন থামেনি। এখন বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগও দাবি করছেন।
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে সারাদেশে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানি সংকটের কারণে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করছে।
রাজধানী আন্তানানারিভোসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, তবে এতেও উত্তেজনা কমেনি।
এদিকে, ভাষণে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে জনগণের কষ্ট আমি বুঝতে পারছি। তাদের আহ্বানে আমি সাড়া দিচ্ছি এবং তাদের যন্ত্রণাও অনুভব করছি।’ কিন্তু তাতেও জনরোষ কমেনি।
২০০৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজোয়েলিনা প্রথম ক্ষমতায় আসেন। পাঁচ বছর অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনার পর ২০১৮ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হন, যদিও সে সময়ও বিরোধীদের প্রতিবাদ ও নির্বাচন বর্জনের ঘটনা ঘটে।
তার নেতৃত্বে শিল্পায়ন, বিদ্যুতায়ন ও মৌলিক সেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে বিদ্যুৎ ও পানির সংকট দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ শুধু মাদাগাস্কার নয়, বরং আফ্রিকা ও উত্তর আফ্রিকার তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন। মরক্কোসহ আরও কয়েকটি দেশে ‘GenZ’ তরুণদের নেতৃত্বে সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে।
সুলতানা দিনা/