দুই দফায় সোমবার (১৩ অক্টোবর) ২০ ইসরায়েলি জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। ইসরায়েলি কতৃপক্ষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানিয়েছে তাদের সবার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।
বিপরীতে, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় একই দিন দুই ব্যাচে মোট ৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। এদিন গাজায় যেসব কারাবন্দি এসে পৌঁছেছেন, তাদের সবার প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষা করেছে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের নাসার মেডিকেল কমপ্লেক্স।
ফিলিস্তিনের বন্দী বিষয়ক কমিশন এবং প্রিজনার্স ক্লাব জানিয়েছে, অনেক মুক্তিপ্রাপ্তদের শরীরে নির্যাতন এবং মানসিক আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন রয়েছে। দলগুলো জানিয়েছে, তাদের ওপর মুক্তির মুহূর্ত পর্যন্ত নির্যাতন অব্যাহত ছিল।
ফিলিস্তিনের কতৃপক্ষও ফিলিস্তিনি বন্দীদের অবস্থা শোচনীয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। জানা গেছে তারা বছরের পর বছর ধরে দখলদার ইসরায়েলের কারাগারে নারকীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের সবগুলো নিউজ চ্যানেল মুক্তিপ্রাপ্ত ইসরায়েলি বন্দীদের ছবি প্রকাশ করেছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো বলে মূল্যায়ন করেছে।
এছাড়াও, ইসরায়েল সরকারের চিকিৎসা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস থেকে প্রাপ্ত সকল ইসরায়েলি বন্দীর শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো।
ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার আগে হামাস তাদের পরিবারকে ভিডিও কল করার এবং তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবহিত করার অনুমতিও দিয়েছিল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে।
এমনকি যখন ইসরায়েলি বাহিনী কতৃক ফিলিস্তিনি বন্দীদের অমানবিক ও উন্মাদ আচরণের মর্মান্তিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় তখনও এই ইসরায়েলি বন্দীদের নিজেদের হেফাজতে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেছে হামাস।
কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি বন্দীরা তাদের দেহে ইহুদি দখলদারদের নির্যাতনের চিহ্ন বহন করছে। তাদের যন্ত্রণা দেখে কারাগারে তাদের ওপর অমানবিক আচরণ এবং অপমানের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলা হয়। এসময় তাদের যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে চোখ বন্ধ করে এবং পিঠ বাঁকিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। তারপরো দখলদার বাহিনী তাদের "বিপজ্জনক সন্ত্রাসী" বলে অভিহিত করে।
এখন পর্যন্ত প্রায় এগারো হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের কারাগারে নির্যাতন, ক্ষুধা এবং চিকিৎসা অবহেলার শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থা এবং ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের মতে, তাদের অনেকেই এসব কারাগারেই মারা গেছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলার মতে অপারেশন আল-আকসার পর ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য উপচে পড়া ইহুদি কারাগারের অবস্থা আরও ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দীরা বর্ণনা করেছেন যে, এই কারাগারে তাদের বিভিন্ন উপায়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেখানে তারা চিকিৎসা সেবা এবং পর্যাপ্ত খাবার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এছাড়া হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, “যুদ্ধাপরাধী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা ও হত্যার প্রচেষ্টার মধ্যেও প্রতিরোধ বাহিনী- এসব বন্দীদের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।”
সুলতানা দিনা/