পাকিস্তানের চাগাই জেলার নোকুন্ডি শহরে অবস্থিত আধাসামরিক বাহিনী্ ফ্রন্টিয়ার কর্পসের (এফসি) সদর দপ্তরে রবিবার রাতে যে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয় তাতে যুক্ত ছিলেন একজন নারী। তিনিই এ হামলা পরিচালনা করেন বলে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, রাত ৮:৪০ মিনিটে আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে একজন নারী ‘আত্মঘাতী বোমা হামলা চালান’। তাকে জিনাত রফিক হিসেবে শনাক্ত করে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট বোমা হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করেছে।
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুই প্রদেশে সোমবার (১ ডিসেম্বর)পৃথক আত্মঘাতী হামলায় দুই জন আধাসামরিক সেনা এবং একজন পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত রবিবার রাতে প্রথম ঘটনাটি ঘটে যখন একজন আক্রমণকারী দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশের নোকুন্ডি শহরে আধাসামরিক ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) বাহিনীর সদর দপ্তরে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে যায়। এই নোকুন্ডি চাঘি জেলায় বিশ্বের বৃহত্তম অব্যবহৃত তামা ও সোনার মজুদ, রেকো ডিক অবস্থিত।
দ্বিতীয় আত্মঘাতী হামলাটি ঘটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে, যেখানে একজন আক্রমণকারী লাক্কি মারওয়াত জেলায় একটি পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
বেলুচিস্তান সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে(কারণ তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার অনুমতি পাননি) আরব নিউজকে বলেন, " সেখানে তিনজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।দুইজন সৈন্য শহীদ হয়েছেন এবং আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।"
গত রবিবার রাত ৮:২০ মিনিটের দিকে বেলুচিস্তানে হামলাটি ঘটে বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের পর হামলাকারীরা আধাসামরিক বাহিনীর উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এফসি সদস্যরা আক্রমণকারীদের সঙ্গে লড়াই করার সময় একাধিক বিস্ফোরণের খবরও পাওয়া গেছে।
নোকুন্ডিতে এফসি সদর দপ্তরে হামলার দায় স্বীকার করেছে বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ), একটি জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী।
বেলুচিস্তান কয়েক দশক ধরে জাতিগত বালুচ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আক্রমণ বাড়িয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর সকালে পেশোয়ারের সদর এলাকায় বাহিনীর সদর দপ্তরে এরকম একটি হামলার পর পাঁচজন ফেডারেল কনস্টেবুলারি (এফসি) সদস্য নিহত হন। এছাড়া, আরও এগারো জন আহত হন।
পেশোয়ারে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি (এফসি)-এর সদর দপ্তরে সোমবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি একটি বেসামরিক আধাসামরিক বাহিনী যার মূল নাম ফ্রন্টিয়ার কনস্টাবুলারি, জুলাই মাসে সরকার এই নামকরণ করে। এই বাহিনীর সদর দপ্তর পেশোয়ারের একটি জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত। পাশেই একটি সেনানিবাস আছে।
সদর দপ্তরে ব্যারাক, হাসপাতাল এবং আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের সমাবেশ মূল কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে।
সুলতানা দিনা/