ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত জামালপুরে পুলিশের চাকরি দেওয়ার চুক্তি, ২ প্রতারক গ্রেপ্তার সাঙ্গু নদে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি ১৬ ঘণ্টায়ও ঝিনাইদহে রেললাইন-মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের ব্রাজিলের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে স্বকীয়তায় ফেরার আহ্বান ম্যাকগিনের রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ

তেহরানে বিক্ষোভে গুলিতে ২০০ জনের বেশি নিহত: চিকিৎসকের দাবি

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
তেহরানে বিক্ষোভে গুলিতে ২০০ জনের বেশি নিহত: চিকিৎসকের দাবি
তেহরানে মানুষের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকে ব্যাপক আকার ধারণ করলে বহু স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায়। তেহরানের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’কে জানান, রাজধানীর মাত্র ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে—যাদের বেশির ভাগই নিহত হয়েছেন জীবন্ত গুলিতে।

এই মৃত্যুসংখ্যা নিশ্চিত হলে তা হবে ভয়াবহ দমন-পীড়নের স্পষ্ট ইঙ্গিত, যার আভাস সরকার বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দেশজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ও ফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে দিয়েছিল। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প ওই দিনই সতর্ক করে বলেছিলেন, ২৮ ডিসেম্বর থেকে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষদের হত্যা করা হলে ইরানি সরকারকে “চরম মূল্য দিতে হবে”।

বর্তমানে বিক্ষোভ ইরানের সব ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। শুরুতে এটি ছিল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা রূপ নেয় ১৯৭৯ সাল থেকে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে শাসন করে আসা ইসলামী শাসনব্যবস্থা উৎখাতের দাবিতে। 


বিক্ষোভগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ হলেও যেখানে “স্বাধীনতা” ও “স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক” স্লোগান শোনা গেছে এবং বেশ কিছু সরকারি ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি বিক্ষোভকারী কর্তৃত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও গুলি চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

চিকিৎসক জানান, শুক্রবার হাসপাতাল থেকে লাশ সরিয়ে নেওয়া হয়। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন তরুণ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে নিরাপত্তা বাহিনী মেশিনগানের গুলিবর্ষণ করলে সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, ওই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো শুক্রবার চিকিৎসকের দেওয়া সংখ্যার তুলনায় কম মৃত্যুসংখ্যা জানিয়েছে। এই পার্থক্যের কারণ হিসেবে ভিন্ন রিপোর্টিং পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে। 

ওয়াশিংটনভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (যারা কেবল শনাক্ত হওয়া নিহতদের হিসাব করে) বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে ৪৯ জন বেসামরিক নাগরিক।

এদিকে সরকার থেকে একের পর এক কঠোর বার্তা আসতে থাকে। শুক্রবার প্রচারিত এক ভাষণে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ট্রাম্পকে “খুশি করতে চাওয়া” “ভাঙচুরকারীদের” সামনে ইসলামী প্রজাতন্ত্র কখনোই পিছু হটবে না। একই সময়ে তেহরানের প্রসিকিউট ঘোষণা দেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের এক কর্মকর্তা অভিভাবকদের সন্তানদের বিক্ষোভ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি গুলি লাগে, তাহলে অভিযোগ করবেন না।”

বিক্ষোভের প্রথম ১১ দিনে সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটি কুর্দি শহরে দায়িত্বরত কালো পোশাকের এক দাঙ্গা-পুলিশ কর্মকর্তা বুধবার টাইমকে বলেন, শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের দমন-পীড়ন চালানো হবে কি না—এ নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেই তীব্র মতবিরোধ চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “দাঙ্গা পুলিশের ভেতর শতভাগ বিভ্রান্তি রয়েছে।”

তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এমন সব বৈঠকে নেওয়া হচ্ছে, যার কিছুই তার মতো কর্মকর্তাদের জানানো হচ্ছে না। “আমি এখানে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, অথচ কী হচ্ছে আমি জানি না। সবকিছু গোপনে করা হচ্ছে, আর আমরা সামনে কী আসছে তা নিয়ে আতঙ্কে আছি,” তিনি বলেন।

“শহরে, ঘরে, রাস্তায়—সবখানেই বিশৃঙ্খলা। এমনকি পুলিশের মধ্যেও,” তিনি যোগ করেন। “আমার থানার সব কর্মকর্তাই মনে করেন, এই শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।”

তবে শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রক্তাক্ত ছবির সঙ্গে সরকারের খোলাখুলি হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দেয়, কঠোর নির্দেশ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিভিত্তিক ইরান বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হোসেইন হাফেজিয়ান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে, যেহেতু বিক্ষোভ মধ্যবিত্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে, সরকার আগের মতোই নির্মম শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।” তার মতে, “এই মুহূর্তে বিষয়টি তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এখন থেকে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।” তবে যোগ করেন, “যদি ট্রাম্প কয়েকটি দাঙ্গা-পুলিশ ব্যারাকে হামলা চালান, তাহলে পরিস্থিতি আমূল বদলে যেতে পারে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তারের ঘটনা—এই দুটোই বিক্ষোভের শুরুর দিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের অস্থির ও অসম প্রতিক্রিয়ার একটি ব্যাখ্যা হতে পারে। 

ইরানের পশ্চিম ইলামের মালেকশাহি শহরে বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর একটি ভবনের সামনে গুলিতে অন্তত পাঁচ বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে প্যারিসভিত্তিক কুর্দিস্তান হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে। অথচ বিক্ষোভের সূতিকাগার তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার, যা ঐতিহ্যগতভাবে সরকারের সমর্থনকেন্দ্র, নিরাপত্তা বাহিনী মূলত টিয়ার গ্যাস ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমেই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছে, গুলি চালায়নি।

অনেকে মনে করছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র এখন একাধিক সংকটে জর্জরিত। 


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অধ্যাপক ও ইরান বিষয়ে দুটি বইয়ের লেখক আফশোন ওস্তোভার বলেন, “এটি এখনো একটি শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা। কিন্তু চারদিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পরের সময়ের তুলনায় প্রায় সব দিক থেকেই এটি এখন সবচেয়ে দুর্বল।”

গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয় এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বড় ধাক্কা খায়। এসময় যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের নির্দেশে বি-২ বোমারু বিমান পাঠিয়ে ইসরায়েলকে সহায়তা করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত মুদ্রা, পানির সংকট ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট—যা দেশজুড়ে সংকটের অনুভূতি আরও তীব্র করেছে।

হাফেজিয়ান বলেন, “তারা নিজেদের জনগণের ন্যূনতম অর্থনৈতিক কল্যাণও নিশ্চিত করতে পারছে না। এখন তারা কেবল টিকে থাকার চেষ্টা করছে।”

এই সংকটকে আরও জটিল করেছে বিক্ষোভের সামাজিক ভিত্তি। ২০২২ সালে ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলনের বিপরীতে, বর্তমান বিক্ষোভ শুরু হয় বাজারের ব্যবসায়ীদের হাত ধরে এবং পরে ছড়িয়ে পড়ে শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে—যাদের ক্ষুব্ধ করতে সরকার বরাবরই সতর্ক থাকে বলে জানান তেহরানভিত্তিক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 


তিনি বলেন, “শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন দমন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য বেশি কঠিন।” তবে তিনি যোগ করেন, “কিছু জায়গায় কঠোর আচরণ দেখা গেছে… আর বিক্ষোভ যত ছড়াবে, সরকারের সংযমের মাত্রা ততই পরীক্ষার মুখে পড়বে।”

ইরানের শাসন কাঠামোও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। এর শীর্ষে রয়েছেন খামেনি, যিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসহ পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রকাশ্যে কিছুটা সমঝোতামূলক সুর নিলেও তার মন্ত্রিসভা দমন-পীড়নের পক্ষেই ঝুঁকছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মন্ত্রী জানিয়েছেন।

একজন বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সদস্য মনে করছেন, বিক্ষোভ শক্ত হাতে দমন করা উচিত, কারণ তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেখছেন।”

আরেক মন্ত্রীর মতে, খামেনি ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় আত্মগোপনে যাওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার সরাসরি বৈঠক বন্ধ রয়েছে। “এখন তিনি একাধিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করেন,” তিনি বলেন।

ইরান সরকারের জনসংযোগ উপদেষ্টা মাশাল্লাহ শামসোলভায়েজিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন “ইরানিদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করতে চায় এবং পরে জনগণকে বাঁচানোর অজুহাতে ভেনেজুয়েলার মডেলে ইরানে হামলা চালাতে চায়।” তিনি জানান, সরকার ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ পদ্ধতিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে যেমন: বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন এবং আগামী চার মাস প্রতিটি ইরানিকে মাসে ১০ লাখ তুমান (প্রায় ৭ ডলার) দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সময় কেনার চেষ্টা করেছে।

শামসোলভায়েজিন আরও বলেন, সরকার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের বিষয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে। শাসকগোষ্ঠী আশা করছে, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে, তিনি বলেন।

বৃহস্পতিবার রাতের রক্তপাতের আগে বিশ্লেষকেরা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কয়েকটি অনিশ্চিত বিষয় তুলে ধরেছিলেন। এর একটি হলো—মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির আরও বেশি মানুষ এবং সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী সহিংসতার আশঙ্কা সত্ত্বেও বিক্ষোভে যোগ দেয় কি না। অনেকেই ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের বড় ছেলে রেজা পাহলভির পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পাহলভি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি ইরানে ফিরে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন।

কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকেও আলাদা আহ্বান আসে। কুর্দিস্তান হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্কের বোর্ড সদস্য রেবিন রহমানি বলেন, অনেক ইরানি কুর্দ রাস্তায় নেমেছেন, কারণ তাদের হারানোর কিছু নেই এবং তারা বুঝতে পারছেন সরকার দুর্বল। “এই উপলব্ধি ভয় কমিয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের সাহস বাড়িয়েছে,” তিনি বলেন।

তবু এক কুর্দি বিক্ষোভকারী মনে করেন, বড় পরিবর্তন আসবে না, যদি না বড় শহরগুলোর আরও বেশি মানুষ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি জড়িত হন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “আমাদের আশা ট্রাম্পের ওপর। তিনি ইরানের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার মতোই আচরণ করুন।”

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হয়তো নিরাপত্তা বাহিনী নিজেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের বিদ্রোহের লক্ষণ নেই, তবে প্রতিটি বিক্ষোভেই আরও বেশি সাধারণ পুলিশ ও বাসিজ সদস্য দমন-পীড়নে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

“আমার নিজের পরিবার আমাকে ইউনিফর্ম খুলে এই চাকরি ছেড়ে দিতে বলছে,” দাঙ্গা-পুলিশ কর্মকর্তা বলেন। “আমি ভয় পাচ্ছি, যেদিন কমান্ডাররা গুলি চালানোর নির্দেশ দেবেন।”

তিনি যোগ করেন, “আমি আদেশ অমান্য করলে ওরাই আমাকে মেরে ফেলবে।” “আমি এই বাহিনীতে আছি জীবিকার জন্য,” তিনি বলেন, “মানুষ মারার জন্য নয়।” সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন

মাহফুজ/

সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যেতেই পারে। কিন্তু শুধুমাত্র সম্পর্ক ভেঙে গেছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই তাকে ধর্ষণ বলা যায় না। সম্প্রতি এক ধর্ষণ মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে চলা ওই মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও বাতিল করে দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি বিবেককুমার সিং তার ৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগকারিণী যদি প্রতিবারই নিজের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যায় না। 

আদালতের মতে, মামলার নথি ও প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র বিয়ে হয়নি বলেই ধর্ষণের অভিযোগ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। 

এই পরিস্থিতিতে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার এবং সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করে আদালত।

কী ছিল মামলার ঘটনা?

২০১৯ সালে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে গেলে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় তাকে থাকার জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। সেই সূত্রে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তরুণীর দাবি ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু যখনই তিনি বিয়ের কথা তুলতেন, তখন তাকে মারধর করা হতো। পাশাপাশি, একসঙ্গে থাকার সময় তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেলও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২০ সালে পুলিশ চার্জশিট জমা দেয় এবং ২০২১ সালে নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে অভিযুক্ত ওই মামলা খারিজের আবেদন নিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুনানির সময় তরুণী আদালতকে জানান, ধর্ষণের অভিযোগ করার পর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের একটি ‘প্রতীকী বিয়ে’ও হয়েছিল। এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত মন্তব্য করে, অভিযুক্তকে বিয়েতে রাজি করানোর উদ্দেশ্যেই ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষায় তরুণীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে মারধরের অভিযোগেরও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি বলে আদালত উল্লেখ করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনাকে তখনই ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যখন প্রমাণিত হবে যে অভিযুক্ত শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা রাখতেন না এবং শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বর্তমান মামলায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালত জানিয়েছে। বরং পাঁচ বছর ধরে চলা সম্পর্কের ভিত্তিতে আদালতের মত, এটি ছিল দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যা পরে ভেঙে যায়।

ফলে আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে না হওয়া বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণ হিসেবে দেখা যাবে না। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং অভিযুক্তের উদ্দেশ্য বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সূত্র: এইসময়

অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর এইচ৫ স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসটি এখন বিশ্বের সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। 

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি অভিবাসী সামুদ্রিক পাখি—ব্রাউন স্কুয়ার মধ্যে রোগটি পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনাতেও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাসটি হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম।

কলিন্স বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, যদিও এটি হতাশাজনক। বর্তমানে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এ ঘটনাটি উদ্বেগজনক এবং আমার সরকার রোগটির বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তিচুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারেন।

লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ার খবরের মাঝেই এক নাটকীয় মন্তব্য সামনে এসেছে।

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমান উন্মোচনের পর ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং তার এই কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।"

তবে অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা রসিকতা ও সতর্কতার সুরে বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, তবে আমাদের তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তারা আমাকে সম্মান করে এবং আমি যা বলি তা শোনে।"

গত ১ জুন এক ফোনালাপে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গালমন্দ করেছিলেন।

গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ও যুদ্ধবিরতি:

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে চান।

এদিকে, চরম উত্তেজনার মাঝেই গত শুক্রবার আমেরিকা ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ রাখলেই কেবল তারা এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন, যেটিকে তিনি 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হ্যাঙ্গারের ভেতরে বিমানটি উন্মোচনের সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান উপহার পেয়ে উপসাগরীয় আমিরাতের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি উপহার দেওয়ায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, 'এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা বোকামি। এটি যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি দূরত্বে এবং দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। বিমানটি আমার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।'

এতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন বিমানটি ৪ জুলাই ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি ফ্লাইওভারে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত এই বিমানগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে করে ‘আমি বস’ মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল রসিকতা করেছিলেন। নিজেকে অন্যদের ওপর কর্তৃত্বশীল হিসেবে বুঝাতে চাইনি।

অ্যাক্সিওস শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু মজা করছিলাম। বস হওয়ার চেষ্টা করিনি।’

তিনি জানান, মন্তব্যটি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সবাই কক্ষে বসে ছিলেন। আমি ঢুকে তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি বস’। এটি নিছক রসিকতা ছিল। কিন্তু বিষয়টি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি শুধু মজা করার চেষ্টা করেছিলাম।”

গত বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনের এক বৈঠকে প্রবেশের সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সে সময় অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারা নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাম্পের এ  মন্তব্যে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্যটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন বলে মনে হয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যে করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো আছি, ধন্যবাদ।’

এদিকে, ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে ইরান, ইউক্রেন, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো পর্যায়ক্রমে সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। কানাডার কাছ থেকে এ বছরের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, আর ২০২৭ সালে দায়িত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সের র‌্যামবুইয়েতে প্রথম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সে সময় ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একত্রিত হন। পরের বছর কানাডা যোগ দিলে জোটটি জি-৭ নামে পরিচিতি পায়। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/