রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে চাঁদে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। ২০৩৩ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস এ ঘোষণা দেয়। চাঁদের বুকে নিজস্ব ঘাঁটি গড়ে তুলতে ওই চুল্লি সহায়ক হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছে রসকসমস।
২০২১ সালে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সিএনএসএ ও রসকসমস জানিয়েছিল, চাঁদের বুকে তারা যৌথ ঘাঁটি গড়ে তুলতে আগ্রহী। প্রস্তাবিত ওই ঘাঁটির নাম দেয় ‘ইন্টারন্যাশনাল লুনার রিসার্চ স্টেশন (আইএলআরএস)’। সেই সময় তারা জানায়- শুধু নিজেদের ব্যবহারের জন্য নয়, বিশ্বের অন্যান্য আগ্রহী ও সহযোগী দেশ চাইলে ওই ঘাঁটি থেকে চাঁদের বুকে গবেষণা চালাতে পারবে।
যদিও আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশচারীদের সেখানে প্রবেশ নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। এদিকে চীন ও রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সঙ্গে দূরত্ব বেড়েই চলেছে নাসার। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয় আমেরিকা। এর জেরে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের আরও অবনতি হয়। রাশিয়া ২০২৫ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন ছাড়তে চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাঁদের গবেষণা কেন্দ্রে নাসার মহাকাশচারীদের প্রবেশের অধিকার থাকবে না বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
৫ মার্চ রসকসমস জানায়, চাঁদের বুকে গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিদ্যুতেরও প্রয়োজন হবে। এ জন্য চীনের সঙ্গে যৌথভাবে একটি পারমাণবিক চুল্লি গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান ইউরি বোরিসভ বলেছেন, ‘আমরা ২০৩৩ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। এই প্রকল্পে আমাদের সঙ্গে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা কাজ করবে।’
বোরিসভ আরও বলেন, ‘এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মানুষের স্পর্শ ছাড়াই স্থাপন করা হবে। এ জন্য আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত মালবাহী মহাকাশযান তৈরির পরিকল্পনাও করছি।’ চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি গড়ে তোলা মোটেই সহজ হবে না। তবে রাশিয়া স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই কাজ বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছে। নির্মাণকাজে মানুষের প্রয়োজন পড়বে না। চাঁদে পৌঁছানোর জন্য যে প্রযুক্তির প্রয়োজন, তাও প্রায় তৈরি বলে জানিয়েছে তারা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে একটি বিশেষ পারমাণবিক রকেট তৈরি করবে। এই রকেটটি চাঁদে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হবে। তবে এই অভিযানে পারমাণবিক শক্তিচালিত মালবাহী মহাকাশযানের ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে তারা।
পৃথিবীর হিসাবে এক চন্দ্রদিবস সমান প্রায় ২৮ দিন। অর্থাৎ চাঁদে টানা ১৪ দিন সূর্যালোক ও ১৪ দিন অন্ধকার থাকে। তাই সৌর প্যানেল বসিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে ভাবনাচিন্তা করেই পারমাণবিক চুল্লি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে শুধু চীন বা রাশিয়াই নয়, গত বছর সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরাও চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনার কথা জানান। আগামী দিনের অভিযানের কথা মাথায় রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে বলে নাসার তরফ থেকে জানানো হয়েছে। রাশিয়া ও চীনের এই যৌথ প্রকল্পটি মহাকাশ গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: লাইভ সায়েন্স
এ.জে/জাহ্নবী