ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’
Nagad desktop

একতাবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলোর

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৫৩ পিএম
একতাবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। ছবি : পিআইডি

দেশের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলো ভারতীয় আগ্রাসন ও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সৃষ্ট জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে একমত পোষণ করেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তারা সরকারের পাশে থাকবে।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৪০টির বেশি রাজনৈতিক দল এ বৈঠকে অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ১৪ দলসহ গত নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই বৈঠক বিকেল সোয়া ৪টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শেষ হয়।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বসবেন। সংলাপে অংশ নিতে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করে। 

অন্যরা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম অংশ নেন। 

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি করলাম, তারা এটাকে মুছে দিয়ে আগেরটায় ফিরে যেতে চায়। মুখে বলছে না যে আগেরটা, কিন্তু ভঙ্গি হলো আগেরটা ভালো ছিল। তাদের শক্তি এত বেশি যে তারা মানুষকে এর ভেতরে ভেড়াতে পারছে। তাদের কল্পকাহিনির কারণে মানুষ সন্দেহ প্রকাশ করছে যে এটা কী ধরনের সরকার হলো।’

বহির্বিশ্বের মিডিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার তাদের বলছি যে আপনারা আসেন এখানে, দেখেন, এখানে কোনো বাধা নেই। কিন্তু না, তারা ওখান থেকেই কল্পকাহিনি বানিয়ে যাচ্ছেন। এখন আমাদের সারা দুনিয়াকে বলতে হবে যে আমরা এক, আমরা যেটা পেয়েছি সেটা একজোট হয়ে পেয়েছি, কোনো মতবাদের কারণে পাইনি, ধাক্কাধাক্কি করে পাইনি, যারা আমাদের ওপর চেপে ছিল, তাদের উপড়ে ফেলেছি। এটাই সবার সামনে তুলে ধরতে হবে, সবাই মিলে যেন এটা করতে পারি। আমাদের নতুন বাংলাদেশের যাত্রাপথে এটা মস্তবড় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, অস্তিত্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জানা গেছে, বৈঠকে মূলত আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলা, বাংলাদেশের পতাকা অবমাননা এবং দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের আন্তর্জাতিকভাবে যে গল্প শোনানো হচ্ছে, এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চাওয়া হয়। বৈঠকে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন নেতারা। এগুলো হলো বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের দূতাবাসে আগের সরকারের নিয়োগপ্রাপ্তদের সরিয়ে বিপ্লবের পক্ষের শক্তিকে নিয়োগ দেওয়া, আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ বছর ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছে তা প্রকাশ করা এবং স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল করাসহ ক্ষতিপূরণ আদায়, জাতীয় ঐক্যের প্রতীকী সংহতি দিবস হিসেবে একদিন পালন করা এবং এই দিন যার যার অবস্থান থেকে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন, আন্তর্জাতিক মহলের প্রোপাগান্ডা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয়ভাবে পাবলিক রিলেশন সেল গঠন করা এবং তা বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে প্রকাশ করার পক্ষে মত দেন।

সংলাপে এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু যেকোনো একদিন জাতীয় ঐক্যের প্রতীকী সংহতি হিসেবে সর্বস্তরের নাগরিকদের সারা দেশে একযোগে একই সময়ে যার যার অবস্থানে জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী কর্মসূচির প্রস্তাব দেন। তার এই প্রস্তাবকে অধিকাংশ দলের নেতারা সমর্থন জানান। এ ছাড়া সংলাপে বিএনপির বক্তব্যের প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তবে কয়েকটি দলের উত্থাপিত দাবি এ আলোচনার বিষয়ে তিনি ইতিবাচকভাবে নেননি। 

সূত্র জানায়, বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা ভারতসহ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডার কঠোর জবাব দিতে আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দূতাবাস এবং দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের সহযোগী যারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন তাদের সরিয়ে দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কারণ এদের রেখে বিপ্লব সফল হবে না। গণ অধিকার পরিষদ জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলে অন্য দলগুলো তাতে সম্মত হয়নি। বেশ কয়েকটি দল মাঝে মাঝে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টাকে বৈঠক করার পরামর্শ দেয়। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের সমঝোতা দলিল প্রণয়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাসহ সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার লক্ষ্যে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ভলান্টিয়ার গঠন। সরকারের পক্ষে থেকে বলা হয়, দেশের জনগণকে নিরাপত্তা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশ ঐক্যবদ্ধ আছে। কেউ যদি আমাদের ক্ষতি করে তাহলে সেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সরকারের জাতীয় ঐক্যের আহ্বানে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে সার্বিক সংস্কারের পর রোডম্যাপ ঘোষণা করে দ্রুত নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আমরা ঐকমত্য প্রকাশ করেছি, যেভাবে সবাই মিলে জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেছি, সেভাবেই ছাত্র-জনতা মিলে ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্রও মোকাবিলা করব।’

বিএনপি জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য ও নির্বাচনি রোডম্যাপ চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পতিত সরকার আজকে বিদেশে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। বিদেশের যেসব দেশ পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগিতা করছে- বৈঠকে তাদের বিরুদ্ধে সবাই আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি।’ 

তিনি বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারা দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। এখন প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হলে আর কেউ ষড়যন্ত্রের সাহস পাবে না।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এই সরকার জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ওয়াদাবদ্ধ। তাই আমরা অতি দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ দিতে বলেছি। যাতে জনগণ রোডম্যাপ পেলে নির্বাচনমুখী হয়।’

বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ভারতের সঙ্গে গত ১৫ বছরে যত চুক্তি হয়েছে তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রামপালসহ যত ক্ষতিকারক চুক্তি হয়েছে তা বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে শক্তিহীন, দুর্বল ও নতজানু ভাবার কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় আমরা সবাই একজোট। যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও উসকানির বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়, একতাবদ্ধ ও সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকব।’

ভারতীয় অপপ্রচার মোকাবিলায় গোটা জাতির ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি একটি সমাবেশ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই এক জায়গায় ঐকমত্য হয়েছি যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো ছাড় নয়, এ ক্ষেত্রে আমরা সিমেন্টের মতো ঐক্যবদ্ধ। যেমন অতীতে ছিলাম, ৫ আগস্টে ছিলাম, ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। চরমপন্থা যেদিক থেকেই আসুক, বরদাশত করা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমরা প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কই রাখতে চাই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ভূমিকা উসকানিমূলক ও সহিংস বলেই মনে হচ্ছে। তারা মিথ্যা তথ্যের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশকে কলুষিত করার জন্য, এ দেশের জনগণ ও সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য অপপ্রয়াস ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা আশা করি, ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে চূড়ান্ত সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে দেশ। চূড়ান্ত সফলতা না আসা পর্যন্ত আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল হক বলেন, ‘ভারত যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে ভারতকেও বিপদে পড়তে হবে। তাদের আগুন নিয়ে না খেলার আহ্বান জানাই। ভারত ও বাংলাদেশ ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে সবাই একমত হয়েছেন।’

গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘সারা দেশে জাতীয় ঐক্য প্রকাশে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সমাবেশ করার আহ্বান করা হয়েছে। একটি জাতীয় কাউন্সিল করার আহ্বান আমরা জানিয়েছি।’

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বর্তমান সভাপতি শাহ আলম, বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ১২-দলীয় জোটের প্রধান নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম, সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হক হুদা, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, খেলাফত মজলিসের আবদুল বাসিত আজাদ ও জাহাঙ্গীর হোসেন, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, জাতীয়তাবদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের ফয়জুল হাকিম লালা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জাসদ, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য প্রমুখ বৈঠক অংশ নেন।

তবে বৈঠকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং তাদের জোট শরিক ও সহযোগী কোনো দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে রাজনীতিবিদদের নামের তালিকায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম না থাকায় তিনি ফিরে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আবেদন অনুমোদন পাওয়া প্রায় ছয় হাজার নাগরিকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দূতাবাসের মাধ্যমে এসব এনআইডি সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বুধবার (১৭ জুন) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৬ হাজার ৭১৫ জন প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৮ জনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিতদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৭ জনের এনআইডি বর্তমানে প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার মায়ামি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডি কার্যক্রম শুরু হয়। এর আওতায় নিউইয়র্কের ৪ হাজার ১৭০ জন, ওয়াশিংটনের ৪৩০ জন, মায়ামির ৩৬৫ জন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪৪২ জনের এনআইডি পাঠানো হচ্ছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রবাসী ইতোমধ্যে এনআইডি পেয়েছেন।

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। বিশেষ কিছু উপজেলার নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্রও দাখিল করতে হয়।

ইসি আরও জানায়, প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন অনুমোদন করে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের এনআইডি সরবরাহ করা হয়।

ইসি/এলিস/আমান

নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেড থেকে নির্মিত হচ্ছে পাঁচটি রিভারাইন পেট্রল ভেসেল।

বুধবার (১৭ জুন) নারায়ণগঞ্জে ডিইডব্লিউ চত্বরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য ওই পাঁচটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ডগুলো সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ধারাবাহিকতায় বুধবার ডিইডব্লিউ লিমিটেড থেকে কোস্টগার্ডের জন্য পাঁচটি ‘আরপিভি’ নির্মাণের লক্ষ্যে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তির ওই আরপিভির দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯০ মিটার, গভীরতা ২ দশমিক ৪৫ মিটার এবং ২৩২ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাবিশিষ্ট সক্ষমতায় এটি নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি নৌযান ঘণ্টায় ২৫ মাইল বেগে চলাচল করতে সক্ষম হবে। এতে নৌযানে নেভিগেশন র‍্যাডার, জিপিএস, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজিত থাকবে। কম গভীরতায় চলাচলের উপযোগী ও উচ্চগতি সম্পন্ন এ নৌযানসমূহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বহরে সংযোজনের মধ্য দিয়ে দেশের নদী, মোহনা এবং উপকূলীয় এলাকার সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে অধিক দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নজরদারি জোরদারকরণ, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নদীপথ ব্যবস্থাপনায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আলমগীর হোসেন/নাঈম

টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বুধবার (১৭ জুন) বিকালের দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরিদর্শনের সময় ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের মধ্যে অর্ধশতাধিকের বেশি কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে শোকজের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, 'কারও যদি এখানে চাকরি করতে ইচ্ছে না হয়, তাহলে অন্য জায়গায় চলে যাবে।'

প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তাকে ঘিরে ধরেন। তারা হাসপাতালের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি প্রায় পরিত্যক্ত ঘোষণার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতালে কীভাবে মাদকসেবী ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটছে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেন।

পরিচালককে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হঠাৎ করে পরিদর্শনে আসার উদ্দেশ্যই ছিল প্রকৃত অবস্থা দেখা। আমরা এটাকে উন্নত করব, জায়গা আছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। হাসপাতালে যদি নেশা বা মাদক গ্রহণের পরিবেশ থাকে, তাহলে সেটা আর হাসপাতাল থাকে না। এতে কেউ নিরাপদ নয়, রোগীরাও অনিরাপদ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে অনেক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সেগুলোর সত্যতা পেয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম দূর করে মানুষের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ আবুবকর সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল ও টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন।

জুয়েল রানা/এসএন

আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিলির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগণের হাতেই এ দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে গেলাম।

তিনি বলেন, গত এক যুগ মানুষের ভোট ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। ৫ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়। কাজ চায়। ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা চায়, শিক্ষার সুযোগ চায়।

তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রাতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এ সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে, না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।

তিনি বলেন, আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিল? ৮৬ সালে কী করেছিল? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহিদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ।

পুলক পুরকায়স্থ/নাঈম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং তাদের নিজভূমি মায়ানমারে প্রত্যাবাসন অনেকাংশেই মায়ানমার সরকারের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ছয় ধাপে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে দেশটি এবং ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে ‘পূর্বে মায়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনিরাপদ পরিবেশে কাউকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর, কক্সবাজারে বিশেষ স্টেকহোল্ডার সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে, যা ১০৫টি দেশের সমর্থন পেয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মাধ্যমে ৫ হাজার ৭১২ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) মাধ্যমে ৬৯৭ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন উন্নত দেশে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র সমাধান।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে খুনের ঘটনা ছিল ৬৬টি, যা ২০২৫ সালে কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয়টিতে।

এলিস/এসএন