ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী ৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন অফিসে ঝামেলা সামলানোর ৭টি টিপস রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চীন ও তারেক রহমানের সফর চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ৭০ ছাড়িয়েছে স্বপ্নের চাকরির খোঁজে তরুণদের ভিড়, ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী জব ফেয়ার সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র
Nagad desktop

ঢাকায় ভারতের ভিসা সেন্টারে কার্যক্রম শুরু

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৩ এএম
আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
ঢাকায় ভারতের ভিসা সেন্টারে কার্যক্রম শুরু
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতের ভিসা সেন্টারে নিয়মিত কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) এই ভিসা সেন্টারে ভিসা আবেদনসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে গতকাল বুধবার নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের ভিসা কেন্দ্রের (আইভেক) কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে দেশটির হাইকমিশন। 

এ বিষয়ে ভিসা সেন্টার এক বার্তায় সংবাদমাধ্যমকে জানায়, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, আমরা আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাতে চাই, ঢাকায় আইভিএসি–জেএফি বুধবার দুপুর ২টায় বন্ধ থাকবে। আজ জমা দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা সমস্ত আবেদনকারীকে পরবর্তী সময়ে একটি স্লট দেওয়া হবে।

অমিয়/

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু
ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে/ খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদীরদি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের পরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১২০ জন নারীর হাতে তুলে দেয়া হয় ফ্যামিলি কার্ড। এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে শুরু হল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম। এরপর ধারাবাহিকভাবে জেলার অন্য সব উপজেলার ইউনিয়নে দেয়া হবে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হেলিন জেরিন খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এসএম রকিবুল হাসানসহ আরও অনেকেই।

এন কে/আমান

জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় সংসদসহ দেশের সব খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক দলসহ দেশের বিভিন্ন সেক্টরেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। গার্মেন্টস শিল্পসহ দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি জানান, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন সদস্য বাজেট অধিবেশন থেকে কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শুরু করেছেন। চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা এখন সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে স্পিকার আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।

অস্বচ্ছল নারীদের ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গৃহিণীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ সময় ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহ বলেন, নারী অধিকার সুরক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিভিন্ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ নবনিতা সিনহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এলিস/নাঈম

হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি: খবরের কাগজ

দেশে হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১০৭৭ টি শিশু।

বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগ আক্রান্ত হয়েছে ১১১টি শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৬৩৪ জন। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৩ হাজার ২৭৭ জন। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৬৯ হাজার ৬৮৮ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৫৬৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আমান/ 

১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

আজকে আমাদের সরকার চা বাগানের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছে। আজ আমরা হয়ত সবাইকে কার্ড দিতে পারিনি, কিন্তু আগামী একবছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জন্য আজ অনেক আনন্দের দিন। আজ থেকে কয়েকমাস আগে আমি যখন নির্বাচনি প্রচারণায় সিলেটে আসি, তখন হবিগঞ্জে আমি বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় তাহলে আমরা চা শ্রমিক মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজ আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আজ আমাদের সরকার চা বাগানের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছে। আজ আমরা সবাইকে হয়ত কার্ড দিতে পারিনি কিন্তু আগামী একবছরের মধ্যে সব চা শ্রমিককে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব।

বাংলাদেশে মোট চার কোটির মতো পরিবার রয়েছে, পর্যায়ক্রমে আমরা সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। আজকে আমরা শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, পাশাপাশি নারী চা শ্রমিকদের কাছে ঘর নির্মাণের জন্য ৫০ জনকে দুই লাখ টাকা করে দিয়েছি। এর বাইরেও চা শ্রমিকদের সন্তানরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য তাদের প্রায় ১৫০ চা শ্রমিক সন্তানদেরকে বিশেষ স্কলারশিপ দিয়েছি। আজ আমরা প্রতিবন্ধীদেরও আর্থিক সহায়তা দিয়েছি।

আগামী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেব, এর জন্য আমরা বাজেটে বিশেষ বরাদ্দও রেখেছি।

এ ছাড়া ধর্মীয় গুরুরা মানবেতর জীবনযাপন করেন, আমরা নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ধর্মীয় গুরুদের আমরা সম্মানিত ব্যবস্থা করবো। আমরা আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিও ধীরে ধীরে পূরণ করছি। আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, মানুষকে সহযোগিতা করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে পত্রিকাগুলো দেখেন। আমরা দেখছি, আমরা যে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটে সব কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ালেখা ও খেলাধুলার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছি। সারাদেশের কোটি কোটি মানুষ যাতে সঠিকভাবে চিকিৎসা পেতে পারে সেজন্য আমরা প্রতি উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১ বছরের মধ্যে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করেছি, যাতে উপজেলার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন। কিন্তু বাজেটের পরে নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন, যেই আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, অনেকে বলেছে এই বাজেট তারা মানে না। যেই বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যেই বাজেটের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করে, যেই বাজেটে জনগণের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধার অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, কৃষক ভাইদের জন্য বরাদ্দ রেখেছি, আমাদের সন্তানরা যাতে ভালোভাবে লেখাপড়া শিখতে পারে তার সর্বোচ্চ বাজেট রেখেছি, সেই বাজেটকে তারা বলে গণবিরোধী বাজেট।

এই দেশের যারা শিল্পোদ্যোক্তা আছে, যারা মিল ফ্যাক্টরি তৈরি করতে পারে, যার ফলে আমার দেশের বেকার যুবকদের যাতে কর্মসংস্থান হয় সেজন্য আমরা এই দেশে যেসব দ্রব্য তৈরি হয় সেই একই দ্রব্য যদি কেউ বিদেশ থেকে আমদানি করে তার উপরে আমরা শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছি। যাতে করে বাংলাদেশের মিল কারখানাগুলো রক্ষা পায়। দেশের মিল কলকারখানাগুলো যদি চলে তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে চাকরি করতে পারবে। সেইজন্যেই আমরা দেশের মিল কলকারখানাকে বাজেটে সুরক্ষা দিয়েছি। আমরা সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনির ওপর আরোপিত পূর্বের সব শুল্ক উঠিয়ে দিয়েছি যাতে করে জিনিসের দাম না বাড়ে। জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে দিয়েছি। যেই বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়, সেই বাজেটকে একটি দল বলে গণবিরোধী বাজেট।

এখন জনগণের জন্য যেই বাজেটে সব ব্যবস্থা রেখেছি, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটি সংসদের ভেতরে হোক কিংবা বাইরেই হোক, তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে কারণ এসব লোকেরা, এসব দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায় তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারবো না। এ দলগুলো যদি দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে তাহলে আমরা জনগণকে দেওয়া সুবিধাগুলো জারি রাখতে পারবো না। যারা এসব কাজে বাধা দেবে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল, যতবারই এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, যতবার মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে, প্রত্যেকবার মানুষ ধানের শীষকে বিজয়ী করেছে এবং মৌলভীবাজারে যত বড় বড় স্কুল কলেজ, রাস্তাঘাট হয়েছে সবই বিএনপির নেতা মরহুম সাইফুর রহমানের সময়েই হয়েছিল। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কারা নষ্ট করেছিল আমরা সেটি ভালো করে জানি। আমরা দেখেছি, দেশ স্বাধীনের সময়, দেশ স্বাধীনের আগে এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র বিনষ্টকারী, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়্‌যন্ত্রকারীরা একসঙ্গে ছিল। মুখে মুখে বলতো আমরা একসঙ্গে নাই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা একসঙ্গে কাজ করেছে এবং সবসময় বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যে বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি সেইজন্য বিএনপি সবসময় বলে জনগণই আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময় যখন দেশে জনগণ গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য ফুঁসে ওঠে, তখন আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি বিভিন্ন জনকে বিদেশে চলে যেতে। খালেদা জিয়া আপনাদেরকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক, তাই আমাদের সবার প্রথম ও শেষ ঠিকানা হচ্ছে বাংলাদেশ। আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।

প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন টিপে ফ্যামিলি কার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীগন নগদ অর্থ সহায়তা উদ্বোধন করেন। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, হায়াতুন বিবি, জখাতুন বিবি, সুলতানা আক্তার, রাশেদা বেগম, অনিতা রানী দাশ, সবিতা চন্দ, শিউলি দাশ, বাসনা দাশ চৌধুরী, ওয়াজেদা বেগম, আয়মনা বিবির হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দুরারোগ্যব্যাধীতে আক্রান্ত সুধাংশু সূত্রধর, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য ও কান্তা সবরের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
এ ছাড়াও তিনি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিক্ষার্থী রাখী সিনহা, প্রভা দেববর্মা ও নিপামনি দেবীকে শিক্ষা সহসহায়তার অনুদানের চেক তুলে দেন।
পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অর্চনা মুন্ডা, ললিতা গঞ্জু, কাজলী গঞ্জুকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। 

তিনি চা শ্রমিকদের টেকসই আবাসন সহায়তার জন্য ভগবতী ভর, কীর্তিমান শীল ও হালিমা বেগমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ ছাড়া দুঃস্থ অসহায় প্রতিবন্ধীদের বিশেষ অনুদান বাবদ কেশব আচার্য ও সিজিয়া খাতুনের কাছে চেক তুলে দেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ২৭৫ জনকে সহায়তা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুভ/নাঈম

রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা
রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হো‌সেন বকুল। ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল, এমনকি উপজেলা পর্যায়েও ধাপে ধাপে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে দরিদ্র রোগীরা স্বল্প খরচে নিজ এলাকার কাছেই ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারেন।

তিনি বলেন, “আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ মারা যাক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে।”

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের জন্য একটি সমন্বিত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তৈরি করতে হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে এবং হাসপাতালের মর্গে ফ্রিজার সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার মান, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসক সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা এখন একটি কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণের সুযোগও বাড়ানো হবে।”

মন্ত্রী জানান, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে সম্প্রতি ১৪ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে ৬ জন এখনো যোগদান করেননি। এছাড়া একজন নারী চিকিৎসক দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে অন্যত্র প্র্যাকটিস করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে সাত দিনের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের বাইরে প্রদর্শিত ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট বাস্তবে চালু না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু আইসিইউ নয়, ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটও স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে সভা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের কাজ চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “এবারের বাজেটে ডায়ালাইসিস সেবার খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে মানুষ নিজ এলাকার কাছেই স্বল্প খরচে চিকিৎসা নিতে পারে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), ভেন্টিলেটর, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, সি-প্যাপ ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সরবরাহ করা হয়েছে।”

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর‌শেদ, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ এবং রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন।

সুমন বিশ্বাস/এসএন