একটানা বৃষ্টির জেরে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয় প্রতি বছরই। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে। যার ফলে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়। রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের বিপর্যয়ের কথা এ ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ভূমিধসের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও রাস্তা বিরাট প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে থাকে। এ পরিস্থিতির জন্য কেবল বৃষ্টি নয়, বেআইনি নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানের ভঙ্গুর ভূতাত্ত্বিক কাঠামো সমানভাবে দায়ী। তবে মূল সমস্যা হলো মনুষ্য সৃষ্ট কার্যকলাপ। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন সড়ক, নদীর তীরে অজস্র বাড়ি, রিসোর্ট নির্মাণ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে। এর ফলে নদীর প্রবাহের জায়গা কমে গেছে। একই সঙ্গে, প্রায় সারা বছর ট্যুরিজম সিজন চলার কারণে ভারী যানবাহন চলাচল করে, যা মাটির বাঁধনকে দুর্বল করে। এর কুফল সারা বছরই অল্পবিস্তর অনুভূত হলেও, লাগাতার বর্ষণের জেরে এর ভয়াল রূপ প্রকট হয়। সাধারণ মানুষ, বন্যপ্রাণী এবং বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে- এ ক্ষতি অপূরণীয়। এ ভয়াবহ বিপর্যয় স্পষ্ট বার্তা কি দিচ্ছে না, বাংলাদেশজুড়ে পর্যটনশিল্পের নামে চলা অবাধ নির্মাণের ওপর প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ জারি করা অত্যাবশ্যক। সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতের জন্য আরও ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করে আছে। তাই নয় কি?
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]