ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত! ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

বারে বারে: নতুন আসে দ্বারে

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
বারে বারে: নতুন আসে দ্বারে
শিহাব শাহরিয়ার

যখন বাঙালির একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে গেছে, সমাজ কাঠামোর ভেতরে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, তখন আপনাকে চিন্তা করতে হবে, আপনি একা এবং এই একা একজন শক্তিধর মানুষ। আপনার সাহস, আপনার মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা ও ধীশক্তিই আপনার পাথেয়। আপনি ছুটে চলুন নতুনকে আহ্বান জানিয়ে, নতুন আলো অন্যরকম। তাকান, দেখুন আপনার দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে- নতুন আলো।...

রবীন্দ্রনাথ লিখলেন, ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,/ ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,/ আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা...’ আর নজরুল লিখলেন, ‘ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখির ঝড়।/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর্’!! বাংলা কবিতার এই প্রাতস্মরণীয় দুই মহিরুহ কবিই কি শুধু নতুনের বা তারুণ্যের জয়গান এবং আগমনির প্রবল জোয়ারের কথা বলেছেন? না, নতুন বা নব বা নবীন বা নব্য বা তরুণ বা আধুনিক বা টাটকা’কে আহ্বান জানিয়েছেন, বা জয়গান করেছেন পৃথিবীর সব ক্ষেত্রের সব মনীষীই অর্থাৎ সব মানুষই নতুনকে দেখে চঞ্চল হয়ে ওঠেন। প্রশ্ন যদি করি, কেন নতুন আমাদের চোখে তারুণ্যের হাতছানি দেয়, চঞ্চল করে, শিহরণ জাগায়, আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, অজানা সৌন্দর্যে আক্রান্ত করে? করে এজন্য যে, মানুষের জীবনের প্রবণতাই হলো একটা নান্দনিক ও নিটোল সময় এবং বস্তুকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় এবং তা অনন্ত সময় ধরে। জানি না এটি সৃষ্টির শুরু থেকেই কি না? কারণ, প্রকৃতির মধ্যে এমন অনাবিল সুখ লুকিয়ে থাকে, যা আহরণ করার জন্যই বোধহয় প্রতিটি মানুষের ভেতর থাকে এ প্রবণতা! আবার যদি রবীন্দ্রনাথের কাছেই আসি, দেখবেন (মহাত্মা গান্ধীর দেওয়া উপাধি) গুরুদেব স্বয়ং বলেছেন, ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই...’। ওই যে বললাম, মানুষ তার জীবন নিয়ে সেই প্রবল প্রবণতা অর্থাৎ ভেতরে ভেতরে সবাই বেঁচে থাকতে চায়- যার নাম নতুন, যার নাম টাটকা আর মানুষ পুরোনোকে মলিন ভেবে প্রত্যাখান করতে চায়, জরাজীর্ণকে মুছে ফেলতে চায়, তাই বারবার স্বাগত জানায় নতুনকে। নতুনও আসে বারবার।

নতুনের আকর্ষণ অফুরন্ত। যেমন ধরুন, বাবা তার ছেলে বা মেয়ের জন্য যখন নতুন পোশাক কিনে আনলেন, সেই নতুন পোশাক হাতে নিয়ে সেই ছেলেটি বা মেয়েটি আনন্দে লাফিয়ে ওঠে, তখন তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে সুন্দরের আচরণ। আপনি যদি বৃক্ষের নতুন কচি বা সবুজ পাতার দিকে তাকান তখন আপনার মন ভরে যায়- যায় না? যায়। আবার একই বৃক্ষের পাতারা যখন ঝরে যায়, তখনো আপনার মনে হয়তো সেই ঝরা পাতার মর্মরে নিজের অজান্তেই গেয়ে ওঠেন- ‘ও ঝরা পাতা ও ঝরা পাতাগো/ তোমার সাথে আমার রাত পোহানো কথাগো/ তোমার সাথে আমার দিন কাটানো কথা...’। এই পুরোনো পাতার জন্য বেদনা হলেও, তাকে হারাতেই হয়। এ হারানো থেকে বা পাতার রং হলুদ থেকে চোখ সরিয়ে তাকাতে হয় সবুজ পাতার দিকে। এই যে রঙের খেলা- এটি চিরন্তন। এটি প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম।

আবার আসুন, অতিবাহিত আমাদের প্রতিদিনের কথায়? আমরা কী দেখছি? দেখছি প্রতিদিন সূর্য উঠছে, আলো ছড়াচ্ছে, আমাদের সঞ্চারিত করছে আবার সূর্য অস্ত যাচ্ছে, আমরা বিদায়ও জানাচ্ছি। আরও একবার রবীন্দ্রনাথ হয়ে আসি- অনেকেই জানেন, বাংলাদেশে তিনি যখন জমিদারি কাজে নাগর, ইছামতী ও পদ্মার পাড়ে অবস্থান করেছেন। এ অবস্থানকালে তিনি প্রায়শই পড়ন্ত বিকেলে তার ছোট্ট নৌকাটি নিয়ে নদীতে বেড়াতেন তীরের কাছ ধরে এবং নৌকায় বসেই ওই দিনের সূর্যকে তিনি বিদায় জানাতেন এবং তখনই মনে মনে হয়তো প্রত্যাশা করতেন পরের দিনের নতুন সূর্যটির কথা। এই যে যেমন, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের কথা বললাম, তেমনি বছরও। আমরা বারবার বিদায় জানাই পুরোনো বছরকে আর আহ্বান জানাই নতুন সূর্যের নতুন একটি বছরকে। এই নতুন বছর, বাঙালিদের বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ আর বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে পালিত হয় ইংরেজি নতুন বছর ১ জানুয়ারি। বছর হলো জন্ম আর মৃত্যুর মতো। পুরোনো যে বছরটিকে আমরা হারিয়ে ফেলি, সেটি যেমন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মতো আমাদের জীবন থেকে একবারে মুছে যায়- আমরা কেবল ওই বছরটির জন্য স্মৃতির কোঠাকে নাড়াই। তেমনি ওই যে বললাম, নতুন বছরের আগমনে আমরা নতুন করে জীবনকে সাজাতে চাই।

২. 
বারে বারে: নতুন আসে দ্বারে, হ্যাঁ আরেকটি নতুন বছর এল আমাদের জীবনে। ইংরেজি এই নতুন বছর ২০২৬ আর আমরা পেছনে ফেলে এলাম ২০২৫। আমরা কি প্রতিবারই পুরোনো ও নতুনের অঙ্ক কষি? যদি কষি, সেটা কতটা সফল করি? হয়তো করতে পারি অথবা পুরোটা পারি না। কারণ জীবন অঙ্ক কষে কষে হয় না। কেউ হয়তো বছরে কিছুটা সফল হয়, কেউ হয়তো পারে না। এতে দুঃখ নেই। কেননা, আমরা কেউ চেষ্টার ত্রুটি করি না। চেষ্টা যে করতে হয়, পরিকল্পনাও থাকতে হয়, থাকতে হয় আশা, থাকতে হয় স্বপ্ন। আর নতুন বছরকে নিজের ভেতরের রং দিয়ে সাজাতে হয়। এ সাজানোটা হবে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, পড়শির জন্য, সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য। নিজেকে সুন্দর করে তোলার মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রকে সুন্দর করা- নাগরিক হিসেবে মনে করি আপনার, আমার দায়িত্ব। কারণ, আপনার জীবনকে আপনাকেই সাজাতে হবে। আপনি তো আর দুবার জন্মগ্রহণ করতে পারবেন না? তাই, একবার এক জীবনকে উপভোগ করা বা আনন্দ আয়োজনের মাধ্যমে সুন্দর করে কাটিয়ে দেওয়াটাই নতুনের অঙ্ক কষা। ধরুন, আপনার জীবন একটা ট্রেন। একটি ট্রেন একটা স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে, যেতে যেতে অন্য একটি স্টেশনে থামে আবার সেখান থেকে যাত্রা করে। এই ট্রেন ধাবমান ও গতিময় একটি যান। আপনি যদি চলন্ত বা ধাবমান ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে তাকান, দেখবেন- দুপাশে শালবন, সবুজ প্রান্তর, নদী, পাহাড়, সমুদ্র কিংবা অবারিত শস্যভূমি আর দিগন্তজুড়ে সাদা-কালো মেঘের খেলা। এই বিচিত্র খেলা, চারপাশের প্রকৃতি ও নিসর্গের সৌন্দর্য আপনাকে অন্যরকম শিহরণ দেয়। ওই শিহরণই জীবন। কবিতা করে বলি- জীবনানন্দ দাশ থেকে নিয়ে- ‘যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে’/ পথের পাতার মতো তুমিও তখন/ আমার বুকের ’পরে শুয়ে রবে?/ অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন/ সেদিন তোমার!/ তোমার এ জীবনের ধার/ ক্ষ’য়ে যাবে সেদিন সকল’?

৩.
অনেকেই বলে- অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎকে সাজাতে হয়। কথাটাকে লক্ষ্য করেই আমরা যদি আগাই তাহলে, বিগত বছরের সব ব্যর্থতা, না পাওয়া ইত্যাদি থেকে উতরিয়ে সামনের নতুন বছরকে সাজাতে হবে এবং সফল হতে হবে। এ সাফল্য আনতে হবে, কেননা জীবন গতিময়, জীবন কখনো থেমে থাকে না, ছুটে চলে সময় ও নদীর মতো। পেছনের পিছুটান, ব্যর্থতা, না পারা কিংবা পুরোনো স্মৃতিকে আঁকড়ে না ধরে থেকে নতুন স্রোতের সঙ্গে এগিয়ে চলাই জীবন। কারণ আপনি ভাবুন, যে পথ একবার হেঁটে পেছনে ফেলে এসেছেন, সেই পেছনের পথে গেলে আপনার সময় কি আগাবে না পেছাবে? সুতরাং সময়কে বা বয়সকে ধরে রাখতে হলে আপনাকে যতটুকু পথ হেঁটে এসেছেন, তা পেছনে রেখে আপনাকে সামনের পথটুকুই শেষ করতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, পেছনের পথে যতটুকু পেয়েছেন, দেখেছেন বা অর্জন করেছেন, তা অর্জিত হয়েছে, কাজেই সামনেরটুকু অর্জন করুন। সামনেও আছে অনেক অনেক অনেক কিছু। সেখানেও আছে আনন্দ। তবে সামনেও সমস্যা থাকতে পারে, পথ সব সময় মসৃণ নয়, পথ কখনো কণ্টকাকীর্ণ, কখনো শত্রু-সংকুল হতে পারে? সে সমস্যা মোকাবিলা করে, পথের কাঁটা শক্ত হাতে সরিয়ে এগিয়ে চলাই জীবনের জয়। এবং সেই জয়টুকু নিয়ে আপনাকে তৃপ্ত থাকতে হবে। আপনি কারোর কাছে কিছু আশা করবেন না? কারুর সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করবেন না? যখন বাঙালির একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে গেছে, সমাজ কাঠামোর ভেতরে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, তখন আপনাকে চিন্তা করতে হবে, আপনি একা এবং এই একা একজন শক্তিধর মানুষ। আপনার সাহস, আপনার মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা ও ধীশক্তিই আপনার পাথেয়। আপনি ছুটে চলুন নতুনকে আহ্বান জানিয়ে, নতুন আলো অন্যরকম। তাকান, দেখুন আপনার দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে- নতুন আলো।   

লেখক: কবি

স্বাস্থ্য খাতে যথাযথ পদক্ষেপ চাই

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
স্বাস্থ্য খাতে যথাযথ পদক্ষেপ চাই

গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই দিনে ছয়জন নবজাতকের মৃত্যু হয়। এটাকে অঘটন বলার কোনো সুযোগ নেই। অবশ্যই হাসপাতালের ত্রুটির জন্যই হয়েছে। কিন্তু এই ত্রুটি তো একদিনে হয়নি। ধীরে ধীরে ত্রুটি ছোট থেকে বড় হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটা অবশ্যই দায়িত্বের প্রতি অবহেলা ছিল। কিন্তু কেন? যেখানে মানুষের জীবন-মৃত্যুর লড়াই, সেখানে অবহেলা কেন? এর দায় যে শুধু হাসপাতালের, তা নয়। এর দায় রাষ্ট্রেরও। বাংলাদেশে ১৫ হাজার বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৬ হাজারের কাছাকাছি নিবন্ধিত। এ ছাড়া এগুলোর বড় অংশরই লাইসেন্স নবায়ন নেই। তাহলে স্বাস্থ্য খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাজ কী? নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব এসব তদারকি করা। কিন্তু লাইসেন্স প্রদান করাই যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ, তখন এভাবে মানুষের মৃত্যু হওয়াটা স্বাভাবিক। দেশে বর্তমান বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশে যত্রতত্র ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকে কি আদৌ যথাযথ সেবা নিশ্চিত হয়? হয় না। এসব ক্লিনিকের রিপোর্টও যথাযথ হয় না। ফলে ভুল চিকিৎসা হওয়া স্বাভাবিক। এর শিকার দেশের অশিক্ষিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী। সরকারের স্বাস্থ্যনিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত সরকারিসহ, বেসরকারি হাসপাতালের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে দেশের ক্লিনিক ব্যবসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। যেখানে মানুষের বাঁচা-মরার লড়াই, অন্তত সেই জায়গায় উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। 

মোজাহিদ হোসেন  
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]

প্রিপেইড মিটার: প্রযুক্তির অগ্রগতি নাকি নতুন জনভোগান্তি?

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
প্রিপেইড মিটার: প্রযুক্তির অগ্রগতি নাকি নতুন জনভোগান্তি?

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা মানুষের জীবন সহজ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় সেই প্রযুক্তিই সাধারণ মানুষের জন্য নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জে প্রায় ২০০ ডিজিটের দীর্ঘ টোকেন নম্বর চালু হওয়ার ঘটনায় এমন বাস্তবতাই সামনে এসেছে। এতদিন গ্রাহকরা মাত্র ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার করে সহজেই প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে পারতেন। কিন্তু নতুন ট্যারিফ বা বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের পর অনেক গ্রাহকের মোবাইলে প্রায় ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ এই নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই খাতায় নম্বর লিখে ধীরে ধীরে মিটারে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছেন। কেউ আবার অন্যের সহায়তা নিচ্ছেন। প্রশ্ন হলো–প্রযুক্তি কি মানুষের কাজ সহজ করার জন্য, নাকি নতুন জটিলতা তৈরির জন্য?
দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী এখনো প্রযুক্তি ব্যবহারে পুরোপুরি দক্ষ নয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষের জন্য ২০০ ডিজিটের নম্বর টাইপ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব পদ্ধতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ভবিষ্যতে স্ক্যানিং, অ্যাপভিত্তিক আপডেট কিংবা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করা জরুরি। কারণ প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের ভোগান্তি কমানো, বাড়ানো নয়।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তাই দ্রুত কার্যকর ও সহজ সমাধান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ 
লেখক ও জনকল্যাণ বিশ্লেষক
[email protected]

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক

সময়ের পরিক্রমায় ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আমাদের অতি সন্নিকটে। স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের এ জমকালো আয়োজন। আগের আসরগুলোতে ৩২টি দল খেললেও এবারই প্রথম ৪৮টি সেরা দল ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে। ১৬টি শহরের ১৬টি স্টেডিয়ামে আয়োজিত হবে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ। শিরোপার সোনার হরিণকে হাতের মুঠোয় আনতে চূড়ান্ত পারফরম্যান্সে টিকে থেকে মাঠে নামবেন বিশ্বের বাঘা বাঘা খেলোয়াড়রা। দর্শক-সমর্থকরা আকাঙ্ক্ষার পারদ তুঙ্গে নিয়ে মাঠে এবং স্ক্রিনে তাদের প্রিয় তারকাদের খেলা দেখবে। বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে এই জমকালো আয়োজন নিয়ে মাতামাতি, বাজি এবং সর্বোপরী উৎসাহ-উদ্দীপনা একটু বেশিই পরিলক্ষিত হয়। কখনো কখনো অপ্রীতিকর ঘটনারও সাক্ষী আমরা হয়েছি এই দুই হটডগের সমর্থনকে কেন্দ্র করে। দেশের প্রগতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার সুবিধার্তে ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখার বিনীত অনুরোধ রইল প্রশাসন ও সমর্থকদের প্রতি।

হারুন অর রশীদ 
পূর্ব নলছিয়া, বিনোদটঙ্গী, মাদারগঞ্জ, জামালপুর
[email protected]

বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয়

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয়

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে প্রতিবারের মতো এবারেও আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একপ্রকার উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা শুরু হয়েছে। বিনোদন হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের মাঝে এক অপার আনন্দ বয়ে আনে। কিন্তু দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, প্রতিবছরই বিশ্বকাপ উন্মাদনা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গাছের মগডালে, কিংবা ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ ছাদে প্রিয় দলের পতাকা টানাতে গিয়ে এ বছর ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনায় কয়েকজনের প্রাণ গেছে। বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে একজন। এ ছাড়া বিভিন্ন দলের সমর্থকরা বিতর্ককে ঘিরে সংঘর্ষে জড়ায়। এর ফলে দেশের নানা জায়গায় আহত ও নিহতের ঘটনা শোনা যায়। বিশ্বকাপ ঘিরে এমন রেষারেষি পরিচিতদের মধ্যেও অনেক সময় বিরোধ তৈরি করে, যা এক ধরনের সামাজিক ক্ষতি। সর্বোপরি, আসন্ন বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয় এবং কোনো সামাজিক ক্ষতি না করে, সে ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

মো. জাহিদ হাসান
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া 
[email protected]

টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব

আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ভৌগোলিক দূরত্ব কমিয়ে ঘরে বসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার এই প্রযুক্তিগত পদ্ধতি বর্তমানে অত্যন্ত অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীর চিকিৎসা এবং সেবাদানের একটি উন্নত ডিজিটাল চিকিৎসাসেবা পদ্ধতি। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহামারির সময় চিকিৎসার সেরা বিকল্প টেলিমেডিসিন। করোনা রোগী হাসপাতালের চেয়ে বেশি সেবা পেয়েছে এই বিকল্প পন্থায়। করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে এটি একটি সফল মাধ্যম ছিল। একই সঙ্গে এটি শুধু বর্তমানেই নয়, ভবিষ্যতেও এর চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। মূলত, টেলিমেডিসিনে ভিডিও কল, ফোন কল বা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে রোগী ও ডাক্তারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এভাবে চিকিৎসক ও রোগী শারীরিকভাবে একই স্থানে না থেকেও যোগাযোগ করতে পারে এবং চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারে। চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায় টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ভিডিও কনফারেন্স বা অনলাইনের বিভিন্ন কলিং সফটওয়্যার যেমন–হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো প্রভৃতি। টেলিমেডিসিন সেবা খুব শিগগিরই স্বাস্থ্যসেবার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে। আমাদের এই বিশ্বে চিকিৎসার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সার্থক অবদান রয়েছে। এই তথ্যপ্রযুক্তিগুলো ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড, টেলিহেলথ সার্ভিস, মোবাইল টেকনোলজির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে যোগাযোগের সময় রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইন মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়। সুতরাং এই তথ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থাকে।

মো. জাহিদুল ইসলাম 
নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
[email protected]