বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে সরকারি কলেজগুলো সাধারণ ও নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের প্রধান ভরসাস্থল। সাম্প্রতিক সময়ে ফরম পূরণ ও পরীক্ষার নামে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা একটি পদ্ধতিগত সংকটে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলো এইচএসসি পরীক্ষার জন্য যে ফি নির্ধারণ করেছে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করছে। এ নৈরাজ্যের পেছনে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রায়ই সরকারি বরাদ্দের অভাব এবং নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের অজুহাত দেয়। তবে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় আইনত দণ্ডনীয়। টিআইবির মতে, প্রায় ৩৮ ভাগ শিক্ষার্থী এ অননুমোদিত ফির শিকার হচ্ছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রসারে বড় বাধা। উচ্চমূল্যস্ফীতির এ সময়ে অতিরিক্ত ফির চাপে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মাঝপথে শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ছে। শিক্ষা কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি একটি অধিকার। একটি বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে হলে প্রতিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন অঙ্কুরেই বিনষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
মো. সাইদুর রহমান
শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]