আদনান সাহেব ট্যাক্সিতে চেপে বাসার সামনে থামলেন। সদরঘাট থেকে এসেছেন। এমনিতে বাসে চলাচল করেন কিন্তু আজ বরিশাল থেকে বৃদ্ধ মা এসেছেন। তাকে আনার জন্য ট্যাক্সি নিতে হয়েছে।
দাদিকে পেয়ে আদনান সাহেবের একমাত্র ছেলে তুতুন খুব খুশি। একটু আগে সালাম করে দাদির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছে। আসলে সালামির ওসিলায় কম্পিউটার কেনার জন্য দাদি তাকে টাকাটা দিয়েছে।
তুতুন টাকা পেয়ে খুব খুশি। আইডিবিতে তার এক বন্ধুর দোকান আছে। সেদিন বিকেলেই তুতুন তার বন্ধুর দোকানে হাজির হলো। দাদির দেওয়া পুরো টাকাটা খরচ করে লেটেস্ট মডেলের কম্পিউটার নিয়ে ফেলল। অতঃপর দুই ঘণ্টা লাগিয়ে এটা সেটা নানা সফটওয়্যার ইনস্টল করে বাসায় এসে হাজির হলো।
তুতুনকে ফিরতে দেখে বৃদ্ধ দাদি খুশি হলেন। সময় নষ্ট না করে তুতুন কম্পিউটারের পার্টসগুলো জোড়া দিতে শুরু করল। জোড়া দিতে দিতে পাশে দাঁড়ানো দাদিকে ইনস্ট্রাকশন দিতে লাগল।
‘বুঝলা দাদি, এটা হলো মাউস। এটার হুইল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কার্সার নড়াচড়া করতে হয়। খুব কাজের জিনিস।’ বলল তুতুন। ব্যাপারটা খুব বুঝতে পেরেছে এমনটা ভাব করে মাথা ঝাঁকাল দাদি।
মনিটর দেখিয়ে তুতুন বলল, ‘দাদি, এটা কি জানো? আচ্ছা তুমি জানবে কীভাবে—এটা হচ্ছে মনিটর। অনেকটা টিভির মতো জিনিস। এখানে সবকিছু দেখা যায়। মুভি, গেমস থেকে শুরু করে টেক্সট ফাইল—সব।’ দাদি এবার একটু কপাল কুঁচকে বলল, আচ্ছা আচ্ছা।
সিপিইউ দেখিয়ে তুতুন তার দাদিকে বলল, ‘এটা হচ্ছে মূল জিনিস। নাম সিপিইউ। হাজার রকম জটিল কাজ এটার মধ্যেই সমাধান হয়ে থাকে।’
দাদি এবারও কপাল কুঁচকে মাথা ঝাঁকালেন।
কি-বোর্ডের কানেকশন দিতে দিতে তুতুন দাদিকে বলল, ‘এটা কি-বোর্ড। এটার অনেক কাজ। খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এটা। টাইপ করা, গেমস খেলা আরও অনেক কাজে এটা দরকার।’
তুতুনের কথা শুনে এবার আর দাদি চুপ থাকতে পারলেন না। হুংকার দিয়ে বললেন, ‘এটা কি-বোর্ড, ওটা মাউস, সেটা মনিটর, তাহলে কম্পিউটার কোনডা?’