ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙ্গে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত! ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি
Nagad desktop

সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে নেই স্পেন

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৩ এএম
সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে নেই স্পেন
স্পেনের সামরিক বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর তালিকায় নজর দিলে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় তা হলো, প্রায় প্রতিটি দেশেরই সামরিক শক্তি অভাবনীয়। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে অথবা কথিত সেই দুঃস্বপ্নের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, বিশ্ব মোড়লরা কীভাবে তাদের সামরিক শক্তির ঝুলি দিন দিন আরও ভারী করছে। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় অদৃশ্য এক কোণে বসে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের দিকে কিছুটা অর্থপূর্ণ দৃষ্টি রাখার প্রচেষ্টাই ‘সামরিক শক্তির আদ্যোপান্ত’ সিরিজ। এই সিরিজে আজ থাকছে স্পেনের সামরিক শক্তির বিস্তারিত-

ইউরোপের প্রেক্ষাপটে স্পেনের সামরিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্রাজ্যবাদের আমল থেকে অসংখ্য সংস্কার ও পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সামরিক অবস্থানে পৌঁছেছে দেশটি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
স্পেনের সামরিক বাহিনীর ইতিহাস খুললে ইউরোপীয় মধ্যযুগে ফিরে যেতে হয়। ইউরোপের খ্রিষ্টান রাজাদের জোট ১৪৯২ সালে আইবেরিয়ান উপদ্বীপে মুসলিম দখলদারত্ব হটাতে ‘দ্য রিকন্সটিকা’ নামের সামরিক বাহিনী গঠন করে। সেই সময় থেকেই স্পেনের সামরিক শক্তির উত্থান।

১৬ শতকের শুরু থেকে প্রায় ২০০ বছর স্প্যানিশ আর্মাডা নৌবাহিনীর মাধ্যমে আমেরিকা ও ইউরোপের প্রায় পুরোটা এবং এশিয়ার আংশিক অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন।

তবে ১৫৮৮ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্মাডার পরাজয়ের পর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতার সুযোগ হারায় দেশটি।

ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং উপনিবেশের দখল হারানোয় স্পেন আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ফ্রান্সের নেপোলিয়ন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও বেশ কয়েকটি গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এদিকে ১৮৯৮ সালে স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধে কিউবা, পুয়ের্তো রিকো ও ফিলিপিনের দখল হারিয়ে সামরিক পরাশক্তির তালিকায় স্পেনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

তবে ১৯৭৫ সালে জেনারেল ফ্রান্সিস্কো ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর স্পেনের সামরিক খাতে ব্যাপক সংস্কার ঘটে। ১৯৮২ সালে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শক্তিধর দেশের সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমা আধুনিক সামরিক প্রথায় অংশ নেয় স্পেন। এ পরিবর্তনের কারণে দেশটির সামরিক বাহিনীতে ইতিবাচক সংযোজন ও রদবদল ঘটে।

বর্তমান সামরিক সক্ষমতা
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্সের (জিএফপিআই) তথ্যানুযায়ী, স্পেনের বর্তমান সামরিক অবস্থান ১৮৫টি দেশের মধ্যে ২০তম। দেশটির সামরিক গঠন সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশেষ কার্যকরী। দেশের প্রতিরক্ষা, ন্যাটোর সামরিক দায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক শান্তি বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করে স্পেনের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী।

দেশটিতে মোট এক লাখ ২০ হাজার সামরিক সদস্য সরাসরি কর্মরত। প্রায় ১৫ হাজার সদস্য রাখা হয়েছে সংকটকালীন সহায়তার জন্যে।

বছরে জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ২৮ শতাংশ বরাদ্দ পায় স্পেনের সামরিক খাত। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ন্যাটোর নিয়ম অনুযায়ী, সদস্যদের বার্ষিক ২ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হয়। স্পেন এই মাত্রা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সম্প্রতি বরাদ্দ বাড়ানোর আলোচনা চলছে দেশটির পার্লামেন্টে।

সেনাবাহিনী
স্পেন সেনাবাহিনীর আধুনিক অস্ত্রের বহরে রয়েছে লেপার্ড-২-এর মতো শক্তিশালী ট্যাংক। গোলাবারুদের ভাণ্ডারে আছে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বেশকিছু বিস্ফোরক। এ ছাড়া দেশে তৈরি পিজ্জারো ইনফ্যান্ট্রি ভেহিকলস (পিঠে বহনকারী হালকা অস্ত্র) সম্মুখযুদ্ধে বেশ কার্যকরী হওয়ায় বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

নৌবাহিনী
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে স্পেনের নৌ-সক্ষমতা বেশ প্রশংসিত। এজিস কমব্যাট প্রযুক্তিসম্পন্ন এফ-১০০ ক্ল্যাসিক নৌযানের পাশাপাশি হুয়ান কার্লোস-১-এর মতো যুদ্ধজাহাজ আছে দেশটির নৌবহরে।

দেশের প্রতিরক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত ন্যাটোর নৌ মিশন, জলদস্যুবিরোধী অভিযান এবং ভূমধ্যসাগরীয় সুরক্ষা অভিযানে অংশ নেওয়ায় আন্তর্জাতিক সামরিক প্রেক্ষাপটে স্পেন শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

বিমানবাহিনী
দেশটির বিমানবহরে রয়েছে ইউরোফাইটার টাইফুন ও এফ/এ-১৮ হর্নেট ফাইটারের মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। এ ছাড়া সামরিক রসদ বহনের উদ্দেশ্যে তাদের রয়েছে বিশেষায়িত বিমান এ৪০০এম।

আকাশসীমার কার্যকর নজরদারি ও সুষ্ঠু গঠনগত বিস্তারের উদ্দেশ্যে বিমানবাহিনীর যোগাযোগব্যবস্থায় আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সমন্বয় করেছে স্পেন। 

ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্পিত দায়িত্ব
ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে স্পেন অন্যতম। দেশে রোটা নৌঘাঁটি এবং মরন বিমানঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়ে ন্যাটোর সংকটাপন্ন অবস্থায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সহজ সমাধান দিয়েছে স্পেন। 

পশ্চিম ইউরোপে ন্যাটোর শক্ত অবস্থান নিশ্চিতে বাল্টিক ওয়ার পুলিশিং মিশনেও অংশগ্রহণ করছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা মিশন সমন্বয়ে কাজ করছে তারা। 

পরমাণু নীতি
পারমাণবিক প্রত্যাহার নীতির কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্পেন ১৯৭০ সালে  নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফেরাশন ট্রিটি (এনপিটি) চুক্তি স্বাক্ষর করে।

পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশটি নিজের সার্বভৌম অঞ্চলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

স্পেনের সংবিধানে সহিংসতার শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়টি উল্লিখিত রয়েছে।

এদিকে এনপিটি স্বাক্ষর করলেও আঞ্চলিক ও জাতীয় প্রতিরক্ষা নিশ্চিতে ন্যাটোর পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে স্পেন। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও ন্যাটোর সহযোগী দেশগুলোর পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহারে বাধা নেই সংবিধানে।

সামরিক শক্তির গঠনগত বিবর্তন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সমসাময়িক আক্রমণ ঠেকাতে স্পেনের সামরিক গঠনে কার্যকরী বিবর্তন দেখা গেছে। সাইবার হামলা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মতো সমস্যা সমাধানে সামরিক ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে তারা। 

প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি 
ন্যাটোর দেওয়া বার্ষিক জিডিপির ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা বরাদ্দ বাস্তবায়নে কাজ করছে স্পেন। অস্ত্রের বহরের আধুনিকায়ন, নৌ-সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সাইবার সুরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। 

আঞ্চলিক বাধা
ভূপ্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থরিতা মোকাবিলায় স্পেনের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ও উত্তর আফ্রিকার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে স্পেনের সামরিক বাহিনীর সতর্ক দৃষ্টি আবশ্যক।

এক্ষেত্রে পশ্চিম সাহারা অঞ্চলকে ঘিরে মরক্কোর সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করে দেয়।

সাইবার সুরক্ষায় স্পেনের পদক্ষেপ
সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের ময়দান সাইবারস্পেস পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাইবারস্পেসে কঠোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থাপনের পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেনের সামরিক বাহিনী।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সামরিক পদক্ষেপ
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ু সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সামরিক সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই দুর্যোগকালীন ত্রাণ সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

আন্তর্জাতিক সহাবস্থান
ভবিষ্যতে দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে স্পেন ইতোমধ্যেই ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আটলান্টিক নৌ-অঞ্চলে নিজেদের প্রতিপত্তি নিশ্চিত করতে রোটা নৌঘাঁটি ব্যবহার করার চিন্তা করছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

স্পেনের সামরিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে ঐতিহাসিক সক্ষমতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যের তুলনায় আকারে ছোট হলেও অস্ত্রের আধুনিকায়ন, শক্তিশালী নৌবহর এবং আঞ্চলিক দাপটের মাধ্যমে স্পেন নিজেদের অবস্থান ক্রমেই শক্ত করে তুলছে। সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় স্পেনের সামরিক বাহিনী শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করবে বলেই প্রত্যাশা।

সূত্র: গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স (জিএফপিআই), ন্যাটো ওয়েবসাইট, দ্য ডিফেন্স পোস্ট, স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই), মিনিস্টেরিও ডি ডিফেন্সা (স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়), ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডিফেন্স পলিসি ডকুমেন্টস।

নাইমুর/পপি/অমিয়/

বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ
প্রতীকী ছবি

ডেটে গিয়ে এক তরুণীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ানোর পর সেই খরচ ‘উসুল’ করার জন্য যৌন সুবিধা চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের গুরুগ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু জাংরা। 

একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শোতে দেওয়া তার সেই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চাকরি হারাতে হয়েছে তাকে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমাংশু কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের একটি অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শো চলাকালে প্রণীতের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি নিজের একটি ডেটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

হিমাংশুর দাবি, তিনি এক তরুণীকে নিয়ে ডেটে গিয়েছিলেন এবং দুজনে প্রায় ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। রাতের খাবারের পর ওই তরুণী যখন তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তখন তিনি নাকি বলেন যে খাবারের জন্য খরচ হওয়া ৩৭০ টাকা ‘উসুল’ করতে চান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বললাম, যে ৩৭০ টাকা খরচ হয়েছে, সেটা তো উসুল করবই।’

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হিমাংশু। অনেকেই তার মন্তব্যকে নারীর প্রতি অসম্মানজনক ও আপত্তিকর বলে আখ্যা দেন।

জানা গেছে, হিমাংশু ‘স্টারভিক ডিজাইন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

হিমাংশুর বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একাংশ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।

এ ঘটনার পর স্টারভিক ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা বিবেক বিশ্বকর্মা একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা হিমাংশুকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছি। ভুলের পরিণতি ভোগ করতেই হয়। তবে আমরা আশা করি, এই ধরনের ঘটনা আত্মসমালোচনা, শিক্ষা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করবে। পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে, হিমাংশু তার মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরও। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অমিয়/

ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’
ইংজি। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার ভিন্ন ফ্যাশন সচেতনতা, তারুণ্যদীপ্ত মনোভাব এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

সাদা চুল এবং চমৎকার শারীরিক গঠনের অধিকারী এই প্রবীণ নারীর নাম ইংজি (Yingzi)। নেটিজেনরা তাকে ভালোবেসে 'তরুণী দাদী' (গার্লিস গ্রেন্ডমা) বলে ডাকছেন।

হাই হিল পরে শহরের রাস্তায় তার নাচ ও ক্যাটওয়াকের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ ফলোয়ার অর্জন করেছে এবং এগুলোর ভিউ ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

ইংজি জানান, তার চিরসবুজ অবয়বের মূল রহস্য হলো নিজের স্টাইল ধরে রাখা। তিনি তরুণদের পছন্দের রঙচঙে পোশাক থেকে শুরু করে পপ, পাংক এবং গার্ল-গ্রুপ ফ্যাশনের পোশাকও দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরেন।

শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা যোগব্যায়াম করেন এবং বিকেল ৫টার পর আর কোনো খাবার খান না।

আশির দশকে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে জাপানে থাকার সময় তিনি একটি রেস্তোরাঁ চালাতেন, যেখানে তার সৌন্দর্যের কারণে একটি সুপরিচিত জাপানি ম্যাগাজিনেও তার ছবি ছাপা হয়েছিল।

পরবর্তীতে চীনে ফিরে 'রিয়েল এস্টেট' ব্যবসায় সফল হয়ে তিনি নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেন এবং দাতব্য সংস্থায় লাখ লাখ ইউয়ান দান করেন।

৭০ বছর বয়সে তিনি প্রবীণ নারীদের একটি ফ্যাশন গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপটি নারীদের মনে সাহস জোগাতে, বয়সকে জয় করার পরামর্শ দিতে এবং পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

সম্প্রতি তিনি সাংহাই ডিজনিল্যান্ডের একটি ফ্যাশন শোতে হেঁটে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

ইংজির মতে, বয়স কোনো বাধা নয়, বরং একটি সম্পদ। তিনি ১২০ বছর বয়স পর্যন্ত এভাবেই সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তার এই ভিন্ন ধারার জীবনযাত্রা প্রবীণদের নিয়ে প্রচলিত সমাজিক ধারণা ভেঙে নতুন প্রজন্মকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আজহার/অমিয়/

পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
ছবি: এআই

চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষা ‘গাওকাও’ সামনে রেখে বহু শিক্ষার্থী হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, অক্সিজেন থেরাপি মস্তিষ্ককে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং পরীক্ষাজনিত উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

গাওকাও হলো চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, যা প্রতি বছর ৬ থেকে ৮ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। 

দেশটিতে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়, কারণ এর ফলাফলই মূলত নির্ধারণ করে দেয় একজন শিক্ষার্থী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাওকাও পরীক্ষার্থীদের জন্য অক্সিজেন থেরাপির উপকারিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, এই থেরাপি ঘুমের মান উন্নত করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত হাসপাতালের হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বারে পরিচালিত এই চিকিৎসা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পূর্ব চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইয়ংফেং কাউন্টি পিপলস হাসপাতাল গত ২৩ মে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে এই সেবা চালু করে। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এই সেবা নিয়েছেন।

৯০ মিনিটের একটি সেশনের জন্য খরচ পড়ে ৯৬ ইউয়ান (প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেবাটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তাদেরও বিস্মিত করেছে।

হাসপাতালের হাইপারবারিক চেম্বার মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক দাই ফানবিং বলেন, উচ্চ ঘনত্বের অক্সিজেন গ্রহণের ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার বা মেরামতে সহায়তা করতে পারে। সাধারণত রক্ত সঞ্চালন বা অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত রোগের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরের হুয়াক্সি নং-৪ হাসপাতালও কয়েক বছর ধরে গাওকাও পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেবা দিয়ে আসছে।

এক শিক্ষার্থী জানায়, অক্সিজেন থেরাপি নেওয়ার পর তার ঘুম ভালো হচ্ছে এবং দিনের বেলায় মনোযোগও বেড়েছে।

এক অভিভাবক বলেন, তার সন্তান চার বার এই থেরাপি নিয়েছে এবং এর ফলাফলে সন্তুষ্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী হাইপারবারিক চেম্বারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে লিখেছেন, ‘চেম্বারের ভেতর ছিল একদম শান্ত। শুধু নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ি। বের হওয়ার পর মনে হয়েছে, যেন আমার মস্তিষ্ক নতুন করে চালু হয়েছে এবং চিন্তাভাবনা আরও পরিষ্কার হয়েছে।’

তবে চিকিৎসক দাই ফানবিং সতর্ক করে বলেছেন, হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি সবার জন্য উপযোগী নয় এবং এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তিনি জানান, এমফাইসিমা, টিম্পানাইটিস এবং গুরুতর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই থেরাপি উপযুক্ত নয়।

দাই আরও বলেন, ‘এই প্রবণতার বিষয়ে আমি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গাওকাও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অক্সিজেন থেরাপিকে এক ধরনের জাদুকরী সমাধান হিসেবে দেখছেন, যা বাস্তবসম্মত নয়।’

জিয়াংসি প্রদেশের মনোবিজ্ঞানী উ পেইশুয়ে বলেন, পরীক্ষার চাপ কমানোর জন্য আরও সহজ ও বৈজ্ঞানিক উপায় রয়েছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, রোদে সময় কাটানো এবং ব্যক্তিগত শখ চর্চা উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, ‘গাওকাও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তথাকথিত অলৌকিক সমাধানের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস না রাখাই ভালো। এসব বিষয় অনেক সময় কেবল প্ল্যাসিবো প্রভাব সৃষ্টি করে। বাহ্যিক উপায়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অধিক কার্যকর।’ সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

অমিয়/

এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য
ছবি: প্রতীকী

বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস এবং মের্ক-এর তৈরি এইচআইভির নতুন ওষুধ তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

এই চিকিৎসাপদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এটি প্রতিদিন সেবন করতে হবে না; সপ্তাহে মাত্র এক বার খেলেই চলবে।

ওষুধটি কীভাবে কাজ করে?

নতুন ট্যাবলেটটিতে মের্কের তৈরি আইসল্যাট্রাভির এবং গিলিয়াডের তৈরি লেনাক্যাপাভিরের উপাদানকে সমন্বয় রয়েছে। এটি এইচআইভি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির বিভিন্ন ধাপকে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে। ফলে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভাইরোলজিক্যালি সাপ্রেসড’ হিসেবে পরিচিত।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, টানা ৪৮ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য এই ট্যাবলেট রোগীদের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। বর্তমানে বাজারে থাকা প্রতিদিন সেবনযোগ্য জনপ্রিয় ওষুধগুলো শরীরকে যতটুকু সুরক্ষা দেয়, সপ্তাহে মাত্র একটি ট্যাবলেটও ঠিক ততটুকুই কার্যকর ও শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ সেবন করতে হয়। অনেক সময় ওষুধ খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়া বা প্রতিদিন ওষুধ সেবনের কারণে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

গিলিয়াড সায়েন্সেসের কর্মকর্তা ড. জ্যারেড বেটেন বলেন, সপ্তাহে মাত্র এক বার ওষুধ সেবনের এই সুবিধা এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি তাদের জীবনযাত্রায় আরও বেশি স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

ওষুধটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ট্রায়ালের সব তথ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে এটিই হবে এইচআইভি চিকিৎসায় বিশ্বের প্রথম সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য ওষুধ। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ
প্রতীকী ছবি

নতুন পরীক্ষামূলক ওজন কমানোর ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এটি বিক্রি করা অবৈধ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক আইন অমান্য করেই রোগীদের এই ওষুধ দিতে শুরু করেন।

রেটাট্রুটাইড এলি লিলি কোম্পানির তৈরি একটি ওষুধ। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি ওজেম্পিক বা মাউঞ্জারোর চেয়েও দ্রুত এবং বেশি (প্রায় ২৮ শতাংশ) ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সমস্যা হলো, এফডিএ এখনও যাচাই করে দেখেনি যে, ওষুধটি মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ ও কার্যকর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এই ওষুধের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধটি অনুমোদন পাবেই। তাই রোগীদের দ্রুত উপকার করার উদ্দেশ্যে তারা এখনই এটির পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেক ওষুধের দোকান ও ক্লিনিক এটিকে ‘গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য’ বলে লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করছে, যাতে আইন এড়িয়ে যাওয়া যায়। সঠিক নিয়ম ও তদারকি ছাড়া ইন্টারনেট বা অননুমোদিত ক্লিনিক থেকে এই ওষুধ কিনে ব্যবহার করায় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে এই ওষুধ-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই মারাত্মক বমি, তীব্র ডায়রিয়া, পেটে শক্ত চাকা তৈরি হওয়া এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

এফডিএ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে এই অবৈধ বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলি লিলি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এই ওষুধ বিক্রি করা বেআইনি। সূত্র: সিবিএস নিউজ

তামান্না রুপা/অমিয়/